📄 একাধিক বিচারকের পদ
আব্বাসি যুগে বিচারব্যবস্থায় যে বিষয়টি নতুন সংযোজিত হয়েছিল, তা হলো একই পদে একাধিক বিচারক। পূর্বে এমনটা ছিল না। এর পদ্ধতি ছিল এমন যে, একই সময়ে একাধিক বিচারক নিয়োগ দেওয়া হতো। এই নিয়োগ দানের পদ্ধতি ছিল তিন রকমের। এক ধরনের পদ্ধতি ছিল বিরল এবং তার বিধান কী হবে—তা নিয়ে ফকিহগণ একাধিক মত ব্যক্ত করেছেন। এক ধরনের পদ্ধতি যে বৈধ—এ ব্যাপারে ফকিহগণ একমত। আরেক ধরনের পদ্ধতি ঐতিহাসিক অবস্থা অনুসারে আবশ্যক ছিল, কিন্তু বর্তমানে তার প্রয়োজনীয়তা নেই।
ক. দলবদ্ধভাবে বিচার করা
একটি মোকদ্দমার জন্য দুই বা ততোধিক বিচারক একসাথে নিযুক্ত হওয়া। বিচারকার্য পরিচালনার সুস্পষ্ট শারঈ বিধান অনুসারে এই পদ্ধতিটি বৈধ হবে কি না—তা নিয়ে ফকিহগণ দুই ধরনের মত ব্যক্ত করেছেন। অবশ্য এমনটা খুব কমই সংঘটিত হতো। সাধারণভাবে ইসলামের ইতিহাসে এবং বিশেষভাবে আব্বাসি যুগে এমন ঘটনার সংখ্যা নগণ্য। কেবল দুয়েকটা ঘটনার কথাই আমরা জানতে পেরেছি।
প্রথম ঘটনা: উমর ইবনু আমির আস-সুলামির জীবনীতে ওয়াকি লিখেছেন, বসরার প্রশাসক সুলাইমান ইবনু আলি ১৩৭ হিজরিতে বসরার বিচারক আব্বাদ ইবনু মানসুরকে পদচ্যুত করে তার জায়গায় উমর ইবনু আমির এবং সাওয়্যার ইবনু আবদিল্লাহকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা দুজনই একসাথে এজলাসে বসতেন। উমর বাদী-বিবাদীর সাথে কথা বলতেন, আর সাওয়্যার নীরব থাকতেন। একবার তাদের কাছে একটি মোকদ্দমা আসে। মোকদ্দমাটি ছিল বিক্রিত পণ্য ত্রুটিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে। ইবনু আমির তখন মদীনাবাসীদের অনুসরণে ত্রুটিযুক্ত পণ্যের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ফয়সালা করেন। পক্ষান্তরে সাওয়্যার বলেন, এ ক্ষেত্রে বিক্রীত পণ্য ফেরত দেওয়া হবে। উভয়ের ফয়সালা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় প্রশাসক সুলাইমান তখন সাওয়্যারকে অপসারণ করে উমরকে বহাল রাখেন।
দ্বিতীয় ঘটনা: খতিব বাগদাদি বর্ণনা করেছেন, আল-মাহদি একবার একসাথে দুজন বিচারক নিয়োগ দিয়েছিলেন। সাওয়্যার ইবনু আবদিল্লাহ আল-আনবারির পর উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান বসরার বিচারক নিযুক্ত হয়েছিলেন। উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান এবং উমর ইবনু আমির একসাথে বসরার বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। উভয়ে একসাথে এজলাসে বসতেন এবং একসাথে ফয়সালা করতেন। এরপর খতিব বাগদাদি ত্রুটিযুক্ত বিক্রিত পণ্যের ঘটনা আলোচনা করেছেন। যা থেকে বুঝে আসে, পূর্বোল্লেখিত এবং বর্তমান ঘটনা—উভয়টিই অভিন্ন।
তৃতীয় ঘটনা: হারুন ইবনু ইবরাহীমের জীবনীতে আল-কিন্দি লিখেছেন, ‘তারপর হারুন ইবনু ইবরাহীমকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে তার নিয়োগপত্রটি আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক আল-জাওহারি এবং আহমাদ ইবনু আলি আল-মাদায়িনির কাছে পেশ করা হয়।... এরপর তারা উভয়েই নির্দেশনাটি মেনে নেন। এটা ছিল ৩১৩ হিজরির ৯ রবিউল আউয়াল জুমুআর দিনের কথা। সেদিন লোকদের সামনে নিয়োগপত্রটি পড়ে শোনানো হয়। এরপর ৩১৩ হিজরির যিলহজ মাসে আবদুর রহমান এবং ইবনু ইসহাককে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য এককভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অবশ্য অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় বিচারকার্য পরিচালনার জন্য চার মাযহাবের বিচারকদের একসাথে নিয়োগ দেওয়া হতো। এমন ক্ষেত্রের বর্ণনা আমরা সামনে উল্লেখ করব।
বিচারকদের সম্মিলিত রায়ের কথা পাওয়া যায়—এমন অনেক ঘটনার বিবরণও ইতিহাসে আছে। যেমন ঈসা ইবনুল মুসাইয়াব আল-বাজালির জীবনীতে ইবনু সাদ লিখেছেন, ‘ঈসা ছিলেন খালিদ ইবনু আবদিল্লাহ আল-কাসরির পক্ষ থেকে নিযুক্ত কুফার বিচারক। তিনি বয়স্ক হয়ে যাওয়ায় জাবির ইবনু ইয়াজিদ আল-জুফি তার সাথে এজলাসে বসতেন। আবু জাফরের খিলাফতকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আল-ইকদুল ফারীদ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে যাফির আল-কাসিমি লিখেছেন, ‘খলিফা আল-হাদি পশ্চিম দিকের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নূহ ইবনু দাররাজ এবং হাফস ইবনু গিয়াসকে একসাথে নিয়োগ দিয়েছিলেন। অবশ্য এটা অসম্ভব। কারণ ওয়াকির বর্ণনামতে কাসিম ইবনু মা’নের মৃত্যুর পর নূহ ইবনু দাররাজকে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য খলিফা হারুন নিয়োগ দিয়েছিলেন। এরপর তাকে পদচ্যুত করে হাফস ইবনু গিয়াসকে নিয়োগ দান করেছিলেন। ১৯৪ হিজরিতে বসরায় তার মৃত্যু হয়।
আল-কাসিমি এটাও বর্ণনা করেছেন, ‘মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ এবং ইবনু ইয়াজিদকে খলিফা আল-মাহদি একত্রে বিচারকার্যের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তারা দুজন একসাথে রুসাফার মসজিদের বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। কিন্তু এ বর্ণনা থেকে উভয়ের এক রায় দেওয়ার কথা স্পষ্ট হয় না। বরং তাদের দুজনের একসাথে মসজিদে থাকার কথা প্রমাণিত হয়। সামনে এ বিষয়টি আমরা আলোচনা করব। অবশ্য আল-কাসিমি নিজেও আগের পৃষ্ঠাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
খ. এক দেশে একাধিক বিচারক
এমনটা হওয়ার অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। বিচারক দুজন দেশের দুই অংশে দায়িত্ব পালন করার শর্তে এভাবে বিচারক নিয়োগ দেওয়া ফকিহদের সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ। যেমন একজন বিচারককে বাগদাদের পূর্ব অংশে, আর অপরজনকে পশ্চিম অংশে নিয়োগ দেওয়া হতো। খলিফা আল-মাহদির সময় বাগদাদে এবং অন্যান্য শহরে এটা হয়েছিল। ওয়াকির বর্ণনায় পাওয়া যায়, ২৫৩ হিজরিতে বাগদাদের পূর্ব অংশ খলিফা মানসুর কর্তৃক নির্মিত মাদীনাতুস সালামে ইবরাহীম ইবনু ইসহাক বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। সে-সময় পশ্চিম অংশের বিচারক ছিলেন সাদ ইবনু ইবরাহীম।
একই প্রদেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশ থাকলে এর বিধান কী হবে—তা নিয়ে ফকিহদের ইখতিলাফ রয়েছে। তবে বৈধ হওয়ার মতটিই প্রাধান্য দেওয়ার মতো। যেমন, মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ এবং আফিয়াহ ইবনু ইয়াজিদের জীবনীতে ওয়াকি লিখেছেন, ‘খলিফা আল-মাহদি এরপর মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহকে আল-মাহদি সেনানিবাসে বিচারকার্য পরিচালনায় নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার সাথে আফিয়াহ ইবনু ইয়াজিদকেও দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ইবনু সাঈদ বলেছেন, আলি ইবনুল জাদ আমাকে জানিয়েছেন, “তাদের দুজনকে আমি রুসাফার জামে মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করতে দেখেছি। একজন এপাশে ছিলেন, আরেকজন ছিলেন ওপাশে।”
বাগদাদের পশ্চিম অংশে যারা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, ওয়াকি তাদের কথা পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন। তাদের আখ্যায়িত করেছেন মানসুরের নগরীর বিচারক হিসেবে। শাইখ মুহাম্মাদ আরনুস বলেছেন, ‘ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি যে, বড় বড় অঞ্চলে একাধিক বিচারক দায়িত্ব পালন করতেন। বাগদাদ অনেক সময় একজন বিচারকের অধীনে ছিল। আবার অনেক সময় দুজন বিচারকও সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গ. একাধিক মাযহাবের বিচারক
নববি যুগ, রাশিদুন যুগ এবং উমাইয়া যুগের বিচারকরা ছিলেন মুজতাহিদ। শরীয়তের মৌলিক উৎস অনুসারে কৃত নিজেদের ইজতিহাদের মাধ্যমে তারা মোকদ্দমা, বিরোধ এবং কলহ নিষ্পত্তি করতেন। কিন্তু আব্বাসি যুগে অনেক ফিকহি মাযহাব চালু হয়। চারটি মাযহাব স্থিতি লাভ করে। অনেক মাযহাব আবার বিলুপ্তও হয়ে যায়। স্থিতি লাভ করা মাযহাবগুলো ভৌগোলিকভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিচারকরা সাধারণত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বক্তব্য এবং তাদের অঞ্চলে থাকা নির্ভরযোগ্য মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। সে হিসেবে শামের বিচারকরা আওযায়ি-এর মাযহাব অনুসারে ফয়সালা করতেন। এই মাযহাব বিলুপ্ত হয়ে গেলে তারা শাফিয়ি মাযহাব অনুসরণ করতে থাকেন। মিশরেও শাফিয়ি মাযহাবের প্রচলন ছিল। খোরাসানে শাফিয়ি এবং হানাফি—উভয় মাযহাবই চলত। বাগদাদে এবং ইরাকে চার মাযহাবের অনুসারীই ছিলেন। তবে বিচারকরা সাধারণত আবু ইউসুফ-এর সময় থেকে হানাফি মাযহাব অনুসরণ করতেন। ইবনু সুরাইজ এবং আবু হামিদ আল-আসফারাইনির মতো শাফিয়ি মাযহাবের বিচারক, আবদুল ওয়াহাব মালিকির মতো মালিকি মাযহাবের বিচারক এবং আবু ইয়ালা আল-ফাররার মতো হাম্বলি মাযহাবের বিচারক বাগদাদে এবং ইরাকে বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন।
মাযহাবের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হওয়ায় বিচারকার্যের ফয়সালার মাঝেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। এই মতভিন্নতার কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় অসুবিধাজনক হয়ে পড়ত। যেমন, মিশরে ওয়াকফ ব্যবস্থা হানাফি এবং শাফিয়ি মাযহাব অনুসারে চলত। তারপর হানাফি মাযহাব অনুসারে তা নিষিদ্ধের রায় দেওয়া হয়। শপথ এবং কসম অনুসারে ফয়সালা করার ক্ষেত্রে ভিন্নতা, পড়শির জন্য অগ্রে ক্রয়াধিকারের ফয়সালার ক্ষেত্রে মতভিন্নতা, ত্রুটিযুক্ত বিক্রিত পণ্য ফেরত দেওয়া হবে নাকি জরিমানা দেওয়া হবে—এ সংক্রান্ত মতপার্থক্য-সহ আরও নানান জটিলতা দেখা দেয়।
প্রথম আব্বাসি যুগের সময় বিচারকরা দেশে এবং শহরে প্রচলিত মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। দ্বিতীয় যুগের সময় প্রথম যুগে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানকল্পে চার মাযহাবের চারজন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়। এটা হয়েছিল মিশরে আল-মালিকুষ যাহির বারকুক-এর শাসনামলে। কিন্তু অনেক আলিমই নব আবিষ্কৃত এ পন্থাটি পছন্দ করেননি। কেউ কেউ তো একে মুসলিম ভূমিতে মুসলিমদের মাঝে আপসে বিভক্তির কারণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ কারণেই মিশরের প্রধান বিচারপতি তাজুদ্দিন আবদুল ওয়াহাব শাফিয়ি (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি)-এর জীবনীতে ইবনুস সুবকি লিখেছেন, ‘তার সময়ে আল-মালিকুয যাহির বাইবার্স প্রথমে কায়রোতে, তারপর দামিস্কে নতুন তিনজন বিচারক নিয়োগ দেন। এ বিষয়টি ছিল কেবল শাফিয়ি মাযহাব কেন্দ্রিক। তারা ছাড়া অন্য কেউ মিশরে বিচারকার্য পরিচালনা করার কথা জানা যায় না। ২৮৪ হিজরিতে আবু যুরআহ মুহাম্মাদ ইবনু উসমান মিশরের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আয-যাহিরের সময় অবধি এ অবস্থা চালু ছিল। তবে মোকদ্দমার অংশবিশেষের ক্ষেত্রে কিছু শাফিয়ি মাযহাবের বিচারক স্থলবর্তী হয়ে কার্য পরিচালনার বিষয়টি ছিল ভিন্ন। দামিস্কেও একই অবস্থা ছিল। আবু যুরআহর পর সেখানে কেবল শাফিয়ি মাযহাবই চালু ছিল। কারণ তিনি এমনটাই নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে তুর্কি আত-তালাশাউনি অল্প কিছুদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি উমাইয়া মসজিদে নতুনভাবে হানাফি ইমাম নিয়োগ দিতে চাইলে দামিস্কের লোকেরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেয় এবং বিচারককে পদচ্যুত করে। ফলে উমাইয়া মসজিদ শাফিয়িদের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। যেমনটা ছিল ইমাম শাফিয়ি-এর জীবদ্দশায়। শামের বিচারক এবং উমাইয়া মসজিদের খতিব ও ইমাম নির্ধারণ আওযায়ি -এর মাযহাব অনুসারেই চলত। অবশেষে শাফিয়ি মাযহাব ছড়িয়ে পড়লে সেটাই সেখানে কার্যকর হয়। অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতে মিশর, হিজাজ এবং শামের এই অঞ্চলগুলোতে শাফিয়ি মাযহাব ছাড়া অন্য কোনো মাযহাব চলবে না। অন্য কোনো মাযহাবের শাসক ক্ষমতায় আসলে দ্রুতই তার পতন হবে। এই অঞ্চলের জন্য এটাই আল্লাহর নির্ধারণ। তদ্রূপ মরক্কো ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর জন্য মালিকি মাযহাব এবং বুখারা-সমরকন্দের জন্য হানাফি মাযহাব নির্ধারিত।’
এরপর ইবনুস সুবকি লিখেছেন, ‘তিনজন বিচারককে একত্র করার কথা শুনে আবু শামা মাকদিসি বলেছিলেন, “এমনটা কখনো হয়েছে বলে মনে হয় না।” তিনি সত্যই বলেছেন। পূর্বে এমনটা কখনোই হয়নি। এটার মাধ্যমে মাযহাবগুলোর মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং ফকিহগণ ফিতনায় পতিত হয়েছেন।
সুয়ূতি তারীখু মিশর গ্রন্থে ইবনু মুয়াসসার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ‘৫০৫ হিজরিতে আবু আহমাদ ইবনুল আফদাল বিচারকার্য পরিচালনার জন্য চারজন বিচারক নিয়োগ দিয়েছিলেন। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব মাযহাব অনুসারে ফয়সালা করতেন। ... এখন আমাদের যুগেও চার মাযহাবের ভিত্তিতে চারজন বিচারক রয়েছেন।
আয-যাহির কর্তৃক একাধিক বিচারক নিয়োগ দানের পর শাফিয়ি মাযহাবের বিচারককে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে ইবনুস সুবকি লিখেন, ‘নতুন বিচারকদের শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারী বিচারকের সাথে মিলানোর পর শাফিয়ি মতাবলম্বীদের জন্য স্বতন্ত্র ওয়াকফ বিভাগ, রাষ্ট্রীয় কোষাগার, ইয়াতিমের তত্ত্বাবধান-সহ আরও নানান অধিদপ্তর চালু করেন এবং তাদের উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেন। এতদসত্ত্বেও তিনি অনুতপ্ত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তার মৃত্যুর পর এক ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখল। লোকটি তার হালত জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন: চারজন বিচারক নিয়োগ দেওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা আমাকে ভীষণ শাস্তি দিয়ে বলেছেন, “তুমি মুসলিমদের মধ্যকার ঐক্য বিনষ্ট করেছ।”
চার মাযহাবের বিচারকদের প্রত্যেকেই ছিলেন স্ব-স্ব মাযহাবের প্রধান বিচারপতি পর্যায়ের। দেশে স্থলবর্তী নিয়োগ দেওয়া, বিচারক নিয়োগ দান এবং পদচ্যুতির খোঁজখবর রাখতেন এবং তাদের অবস্থা নজরদারি করতেন। অনেক সময় চার মাযহাবের বিচারকগণ একত্র হয়ে হত্যা, কিসাস এবং হদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় মোকদ্দমাগুলো দেখতেন। মাসালিকুল আবসার গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে কাযি মাহমুদ আরনুস লিখেছেন, ভিন্ন ভিন্ন বিচারক থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ মোকদ্দমাগুলো চারজন বিচারকের সামনেই পেশ করা হতো। দামিস্কের মসজিদের বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘এখানে চারজন বিচারক এবং আলিমরা এমন সব জটিল মোকদ্দমা নিয়ে বসতেন, কোনো বিচারকের পক্ষে একাকী যেগুলো নিরসন করা সম্ভব নয়। সুলতানের প্রতিনিধির নির্দেশনা অনুসারে তারা একত্রে বসে সেগুলো নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করার পর সর্বসম্মতিক্রমে ফয়সালা করতেন।
টিকাঃ
[৬৬১] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৯১; উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ, ৮৯
[৬৬২] আখবারুল কুদ্দাহ: ২/৫৫
[৬৬৩] তারীখু বাগদাদ: ১০/৩০৭
[৬৬৪] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্দাহ, পৃ. ৪৮২-৪৮৩
[৬৬৫] আখবারুল কুদ্দাহ: ২/৫৫; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ১৪৩
[৬৬৬] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ১৪৪
[৬৬৭] আখবারুল কুদ্দাহ: ২/১৮২, ২/১৮৪, ২/২৮৫
[৬৬৮] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ১৪০
[৬৬৯] আখবারুল কুদ্দাহ: ৩/১৯৮
[৬৭০] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৯১
[৬৭১] আখবারুল কাদ্ধা: ৩/২৬৫; তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ৯২
[৬৭২] তারীখুল কাঙ্গা, পৃ. ৯১
[৬৭৩] এই এলাকাটি বর্তমানে রুসাফা নামে পরিচিত। (মারাসিদুল ইত্তিলা: ২/৬৪১)
[৬৭৪] আখবারুল কুদ্বাহ: ৩/২৬৯
[৬৭৫] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/৩৬২; তারীখুল কাদ্বা, পৃ ৯৩
[৬৭৬] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৯৩
[৬৭৭] তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩১৯-৩২০; হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৫-১৬৬; আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়্যাহ, পৃ. ৬৮
[৬৭৮] তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩২১
[৬৭৯] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৫; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ১০৫
[৬৮০] তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩২০, ৩২১
[৬৮১] আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়্যাহ, পৃ. ৬৮
[৬৮২] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ৯৬; উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ, পৃ. ৯০
📄 বিচারকার্য এবং মোকদ্দমার পদ্ধতি
আব্বাসি যুগে নতুন চালু হওয়া বিচারকার্য এবং মোকদ্দমা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব। এর মাধ্যমেই তৎকালীন বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কথা শেষ হবে।
ক. মোকদ্দমা এবং বাদী-বিবাদীর ধারাবাহিকতা
বিরোধকারীরা একটি কাগজে বাদী এবং বিবাদীর নাম আদালতের উদ্দেশ্যে লিখে জমা দিত মুনশির কাছে। মুনশি তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের ধারাক্রম অনুসারে নামগুলো সাজিয়ে নিত। এরপর বিচারক আগমন করলে তার কাছে সেগুলো পেশ করত। তারপর ধারাবাহিকভাবে বাদী-বিবাদীকে ডাকা এবং মীমাংসা করার কাজ চলতে থাকত। এ ক্ষেত্রে পদমর্যাদা বা সামাজিক অবস্থানের কারণে কিংবা বিত্তশালী হওয়ায় কাউকে আগে সুযোগ দেওয়ার প্রচলন ছিল না। তবে দূর থেকে আগত ব্যক্তিদের আগে সুযোগ দেওয়া হতো। যাতে তার ফিরে যেতে অসুবিধা না হয়। এভাবেই সমস্ত স্লিপ শেষ হওয়া অবধি আদালতের কার্যক্রম চলত। কোনো দিন সময় সংক্ষিপ্ত হলে অবশিষ্ট কার্যক্রম পরদিন শেষ করা হতো।
খ. সাক্ষী যাচাই
জীবনের ব্যাপ্তির সাথে বিচারব্যবস্থার কর্মপরিধি ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে চলছিল। সময়ের সঙ্গে মিথ্যা সাক্ষ্যরও প্রচলন ঘটে। তাই বিচারকরা সাক্ষীকে যাচাই করে নিতে শুরু করেন। সাক্ষীর ন্যায়পরায়ণতা ও তার সম্পর্কে আপত্তিজনক কিছু না জানা গেলেই কেবল তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হতো। সাক্ষীর অবস্থা অজানা থাকলে তার সাক্ষ্য বিচারক গ্রহণ করতেন না। সাক্ষী অজ্ঞাত হলে তার পড়শি কিংবা পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে তার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতো। আব্বাসি যুগে এভাবেই সাক্ষীদের যাচাইকরণ পদ্ধতি চালু হয়। পাশাপাশি তৈরি হয় তদন্ত কর্মকর্তাদের একটি টিম। সহকারী বিচারক সংক্রান্ত আলোচনায় আমরা এর উল্লেখ করেছি।
খলিফা মানসুরের সময় মিশরে গাউস ইবনু সুলাইমান সর্বপ্রথম সাক্ষীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। এর আগে মানুষ যাকে ভালো বলে জানতেন, তার সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন। যার সম্পর্কে জানা থাকত না, বাহ্যিক অবস্থার বিচারে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন না। একসময় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া শুরু হয়। গাউসের সময় তা ব্যাপক হয়ে যাওয়ায় তিনি সাক্ষীদের সম্পর্কে গোপনে খোঁজ নিতে শুরু করেন। বিষয়টি তখন এভাবেই চলছিল।
বিচারক আল-মুফাদদাল ইবনু ফাদ্বালাহ ১৭৪ হিজরিতে মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সাক্ষীদের যাচাই করার জন্য এক ব্যক্তিকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন।
মুহাম্মাদ ইবনু মাসরুক ১৯৭ হিজরিতে খলিফা হারুনুর রাশিদের পক্ষ থেকে মিশরে বিচারক নিযুক্ত হয়ে আসেন। এ কাজের জন্য একটি টিমকে তিনি অফিসিয়ালি নিযুক্ত করে সাধারণ মানুষকে তা জানিয়ে দেন। এরপর ১৮৫ হিজরিতে মিশরে খলিফা হারুনুর রাশিদের পক্ষ থেকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবদুর রহমান ইবনু আবদিল্লাহ আল-উমরি। সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনিও মাসরুকের অনুসরণ করেন। তবে তিনি এর পাশাপাশি সাক্ষীদের নাম লিখে রাখতে শুরু করেন। তিনিই ছিলেন সর্বপ্রথম নথিভুক্তকারী। পরবর্তী বিচারকরাও তাকে অনুসরণ করতে থাকেন।
শাইখ মুহাম্মাদ আল-খিদ্বরি বর্ণনা করেছেন, ৬৩৫ হিজরিতে শামসুদ্দিন আহমাদ আল-জুনি দামিস্কের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনিই শহরের মাঝে সর্বপ্রথম সাক্ষীদের জন্য অফিস চালু করেন। এর আগে সাক্ষী নির্ধারণের জন্য ন্যায়পরায়ণ লোকদের ঘরে যাওয়ার প্রচলন ছিল।
গ. রায় সংরক্ষণ এবং নথিভুক্তকরণ
উমাইয়া যুগেও বিচারের রায় নথিভুক্ত করে রাখার প্রচলন ছিল। তবে সেটা ছিল সীমিত পর্যায়ে এবং স্বল্প পরিসরে। আব্বাসি যুগের বিচারকগণ সাধারণ মানুষের অধিকার সংরক্ষণ এবং বিধানের স্থিতির জন্য বিচারের রায় সংকলন এবং নথিভুক্ত করার প্রচলন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আল-মুফাদদাল ইবনু ফাদ্বালাহ (১৬৮-১৬৯ হিজরি) ওসিয়ত এবং ঋণ সংক্রান্ত ফয়সালা সংরক্ষণ করতে থাকেন। বিচারকদের মাঝে তার নথিই সর্বপ্রথম দীর্ঘ হয়েছিল। যা-তে তিনি রায়গুলো কপি করে রেখেছিলেন। তার আগে কেউ এমনটা করেনি।
১৯৮ হিজরিতে লাহিআহ ইবনু ঈসা আল-হাদরামি মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়াকফ সম্পত্তি সুবিন্যস্ত করে তার হিসাব নথিভুক্ত করেন। এরপর মিশরে থাকা উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাঝে তা বিতরণ করে তাদের জন্য ভাতা চালু করে দেন। তিনি ছিলেন এই পদ্ধতির সর্বপ্রথম প্রবর্তক। তার পর থেকে এই পদ্ধতি চালু হয়ে যায়, যা মানুষের মাঝে ‘লাহিআহর পদ্ধতি’ বলে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে সেটাকে ‘বিচারকের পদ্ধতি’ বলে নামকরণ করা হয়।
এভাবেই আলিমদের মাঝে নথিভুক্তকরণের প্রচলন ঘটে। যা-তে পর্যায়ক্রমে ভিন্নতা আসে এবং ধীরে ধীরে মানুষ তার ওপর নির্ভরশীল হতে থাকে।
ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, ‘মিশরের বিচারকদের মাঝে ফাদল ইবনু ফাদ্বালাহ-ই সর্বপ্রথম নথিপত্রের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুণী মানুষ এবং সজ্জন ব্যক্তি। প্রকৃত অর্থেই তিনি ছিলেন বিদ্বান।
ঘ. বিচারের দফতর
আব্বাসি যুগেই সর্বপ্রথম বিচারের দফতর প্রতিষ্ঠিত হয়। বিচারকার্য পরিচালনা সংক্রান্ত নথি এবং দলিল-দস্তাবেজের নানান কপি সেখানে সংরক্ষণ করা হতো। এই দফতরে মুনশি, রক্ষী এবং বিচারকের সহায়কের মতো বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী চাকরি করতেন। এর সদর দফতর ছিল বাগদাদে। খলিফা আর-রাশিদের যুগে জাফর আল-বারমাকি এই দফতরের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঙ. বিচারকের কোষাগার
আব্বাসি যুগে বিশেষ এলাকা বা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে বিচারকের কোষাগার নামকরণ করা হয়। বিচারক সেখানে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং তত্ত্বাবধান করতেন। এই জায়গা থেকে প্রাপ্ত সুবিধাগুলো যথাস্থানে ব্যয় করা এবং ওসিয়ত বাস্তবায়নের জন্য ওসিয়তকৃত সম্পত্তির দেখাশোনা করা ছিল বিচারকের দায়িত্ব। ইয়াতিম, পাগল, দেউলিয়া এবং নির্বোধের সম্পদের তত্ত্বাবধান, বিতর্কিত উত্তরাধিকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, মালিকের খোঁজ পাওয়া অবধি কুড়িয়ে পাওয়া সম্পত্তির হেফাজত করা এবং ভিনদেশি ব্যক্তি মারা গেলে তার ওয়ারিশ আসার আগ পর্যন্ত তার সম্পত্তি দেখাশোনা করা প্রভৃতির জিম্মাদারিও বিচারককেই পালন করতে হতো। ফলে বিচারকের কাছে আমানতের অনেক সম্পত্তি জমা হয়ে যেত। সেগুলো তিনি এই কোষাগারে জমা করে রাখতেন।
আগে বিচারকরা এসব সম্পত্তি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের জিম্মায় রাখতেন। কিন্তু তাতে বড়সড় গরমিল পরিলক্ষিত হতে থাকে। বিচারক খায়র ইবনু নুআইম যখন দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন আমিরুল মুমিনীন আবু জাফরের নির্দেশে প্রথমবারের মতো ইয়াতিমের সম্পদ কোষাগারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। কোষাগারে যা রাখা হতো এবং সেখান থেকে যা নেওয়া হতো—সবকিছুই লিখে রাখার প্রচলন ছিল।
বিচারকরা নিজেদের সম্পত্তির তুলনায় এসব সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি অধিক যত্নবান ছিলেন। এ ব্যাপারে তারা কোনো ব্যক্তিবিশেষের পরোয়া করতেন না। এমনকি এসব সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের খাতিরে প্রয়োজনবোধে শাসককে উপেক্ষা করার মতো মানসিক প্রস্তুতিও তাদের থাকত। অবশ্য কেউ কেউ যে এসব সম্পত্তির ব্যাপারে লালায়িত ছিল না—এমনটা বলা যায় না। আল-কিন্দি লিখেছেন, ‘বিচারকের কোষাগার থেকে ইবরাহীম ইবনু আবি আইয়ুব ত্রিশ হাজার দিনার চুরি করেছিল। এর বাইরে অনেক অসৎ বিচারকেরও এ ব্যাপারে লালায়িত হওয়ার কথা জানা যায়। রফউল ইসর গ্রন্থে আছে, ‘ইবরাহীম ইবনু মাহমুদের কার্যক্রম প্রশংসনীয় ছিল না। তিনি বিচারের রায় দিতেন, আবার তার জিম্মায় থাকা সম্পত্তিও আত্মসাৎ করতেন।
চ. বিচারকের সিন্দুক
বিচারকরা যাতে কোষাগারের সম্পদ রক্ষা করতে পারেন সেজন্য সিন্দুকের ব্যবস্থা করা হয়। সম্পত্তি সিন্দুকে ভরে সংরক্ষণ করা হতো। আবদুর রহমান ইবনু আবদিল্লাহ আল-উমারি ছিলেন আমানতদার বিচারক। কোষাগারে সিন্দুক রাখার পদ্ধতি তিনিই প্রথম চালু করেছিলেন। আল-কিন্দি লিখেছেন, বিচারক মুহাম্মাদ ইবনু আবিল লাইস কোষাগারের সিন্দুকের দায়িত্ব হারুন ইবনু আবদিল্লাহকে দিয়েছিলেন। হারুন একবার অবিশ্বস্ত লোকের হাতে সিন্দুকের চাবি দেওয়ায় কোষাগারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। বিচারক তখন ইবনু আবদিল্লাহকে ডেকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং শাস্তি দেন।
টিকাঃ
[৬৮৩] আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়্যাহ, পৃ. ৬৯; যুহরুল ইসলাম: ২/২৫০; নিযামূল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৫০০
[৬৮৪] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ২৬১
[৬৮৫] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ৩৮৫
[৬৮৬] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৩৮৯
[৬৮৭] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৩৯৪
[৬৮৮] তারীখুল খুলাফা, পৃ. ৪৬২
[৬৮৯] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ২৭৯
[৬৯০] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৪১৯; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩৬৪
[৬৯১] আদাবুল কাদ্বি: ২/৭৩; আদাবুল কাদ্ধা, পৃ. ৪৯৪
[৬৯২] আখবারুল কুদ্ধদ্বাহ: ৩/২৩৭
[৬৯৩] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ১১৮
[৬৯৪] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ৩৫৫
[৬৯৫] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ১১৮; আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৪৭০
[৬৯৬] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৪৭০। আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ গ্রন্থের ৪০৪ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
[৬৯৭] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৫৩৪
[৬৯৮] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ৪০৫
[৬৯৯] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৪৫০