📄 সামরিক বাহিনীর বিচার
আব্বাসি যুগে চালু হওয়া আরেকটি পদ ছিল সামরিক বাহিনীর বিচারক। সামরিক বাহিনীর নিজেদের মধ্যকার বিরোধ কিংবা অন্যদের সাথে তাদের ঘটে যাওয়া বিরোধ নিরসনের জন্য বিচারক তাদের সাথেই থাকতেন।
সামরিক বাহিনীর বিচারক পদ্ধতি চালু হয়েছিল প্রথম আব্বাসি যুগে। ওয়াকি এ সংক্রান্ত প্রথম ঘটনাটি সাদ ইবনু ইবরাহীম আয-যুহরির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। সাদ ইবনু ইবরাহীম ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবি আবদুর রহমান ইবনু আউফ -এর বংশধর। বাগদাদের পূর্বাঞ্চলে তিনি বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। আল-মানসুর ইবনুল মাহদির ফিতনার সময় সাদকে পদচ্যুত করা হয়। সে-সময় আল-মুরতাদ্বা নাম দিয়ে ইবনুল মাহদির খিলাফতের জন্য মিম্বরে দুআ করা হতো। পদচ্যুতির পর সাদ গিয়ে হাসান ইবনু সাহলের সাথে মিলিত হন। ইবনু সাহল ছিলেন খলিফা আল-মামুনের মন্ত্রী। তিনি সাদকে সামরিক বাহিনীর বিচারক নিযুক্ত করেন। এটা হিজরি ২০১ সালের কথা।
খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ১৫১ হিজরিতে আল-মাহদি রায় নগরীতে নিজেই সামরিক বাহিনীর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি কেবল সৈন্যদের মাঝে কলহ মিটিয়ে দেওয়ার কাজ করতেন। অন্যদের ব্যাপারে তার কোনো কাজ ছিল না।
সামরিক বাহিনীর বিচারক একটি ভালো জায়গা করে নেয়। বিভিন্ন স্থানে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। আবুল আব্বাস আল-কালকাশান্দি তার সুবহুল আ’শা গ্রন্থে ধর্মীয় দায়িত্ব সংক্রান্ত আলোচনায় লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় প্রকার ধর্মীয় দায়িত্ব হচ্ছে সামরিক বাহিনীর বিচারকার্য পরিচালনা করা। এটা এক সম্মানজনক প্রাচীন দায়িত্ব, যা সুলতান সালাহুদ্দিন ইউসুফের সময় চালু ছিল। এ দায়িত্ব পালনকারী মিশরে বিচারকদের সাথে বিচারালয়ে উপস্থিত থাকতেন। সুলতানের সফরকালে তারা সাথে থাকতেন। তারা তিনজন যথাক্রমে শাফিয়ি, হানাফি এবং মালিকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। সেখানে হাম্বলি মাযহাবের কেউ থাকতেন না। বিচারালয়ে তারা ছাড়াও চারজন বিচারক থাকতেন। পরবর্তীকালে হাম্বলি মাযহাবের বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়।
সামরিক বাহিনীর বিচারকদের অন্যতম ছিলেন ওয়াহাব ইবনু ওয়াহাব ইবনি কাসির আল-আনসারি। খলিফা আর-রাশিদ তাকে আল-মাহদির বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইসমাঈল ইবনু ইসহাক ২৫৫ হিজরি পর্যন্ত আল-মাহদির সেনানিবাসে বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন। এরপর তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যান।
টিকাঃ
[৬৪০] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২৫৮; আল-কাদ্বাউল ইদারি, পৃ. ৫৯
[৬৪১] আখবারুল কুদ্বাহ: ৩/২৬৯
[৬৪২] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ৯৬
[৬৪৩] আখবারুল কুদ্বাহ: ৩/২৮০
📄 বিচারকের ভাতা
আব্বাসি খলিফাগণ কর্তৃক বিচারকদের ভাতা বৃদ্ধি করার বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। খলিফা মানসুর মিশরে আবদুল্লাহ ইবনু লাহিআহকে বিচারক নিযুক্ত করার সময় তার মাসিক ভাতা ৩০ দিনার নির্ধারণ করেছিলেন।
আর-রাশিদের যুগে বিচারক প্রধান প্রধান নগরীগুলোতে বার্ষিক ১ হাজার দিনারের কমে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতেন না। আল-মুফাদদল ইবনু ফাদ্বালাহকে খলিফা মাসিক ৩০ দিনারের বিনিময়ে মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন।
১৯৮ হিজরিতে খলিফা আল-মামুনের সময় ১৬৮ দিনারের বিনিময়ে আল-ফাদল ইবন গানিমকে মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন এমন ভাতা ধার্য করা প্রথম বিচারক। মিশরের বিচারক ইবনু হারবুইয়াহ’র মাসিক ভাতা ছিল ১২০ দিনার। এরপর বিচারকের জন্য প্রতিদিন সাত দিনার ধার্য করা হয়। এরপর আবুল জায়শ তার বিচারক মুহাম্মাদ ইবনু আবদিহি ইবনি হারব (মৃত্যু ৩১৩ হিজরি) -এর জন্য মাসে ৩ হাজার দিনার ধার্য করেন। পর্যটক নাসির খসরুর সূত্রে আহমাদ আমিন বর্ণনা করেছেন, ‘মিশরে প্রধান বিচারপতির মাসিক ভাতা ছিল ২ হাজার দিনার।’
সাধারণভাবে বিচারক নিযুক্তির প্রধান কারণ ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সকলের অধিকার সুরক্ষা এবং দ্বীন ও শরীয়ত কার্যকর করা। এ কারণেই বিচারকদের কাছে পারিশ্রমিকের বিষয়টা ছিল গৌণ। ভাতা গ্রহণ করা তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না। এ কারণে অনেকেই বেতন গ্রহণ থেকে বিরত থাকতেন। ধর্মীয় কর্তব্য বিবেচনা করে স্বেচ্ছাশ্রম দিতেন তারা। ঈসা ইবনু আবান এভাবে দশ বছর (২১১ থেকে ২২১ হিজরি পর্যন্ত) বসরার বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন। খলিফা আল-হাদি মূসা কর্তৃক নিযুক্ত কাসিম ইবনু মা’ন ছিলেন তাদের অন্যতম। অপরদিকে বিচারকগণ যে তাদের কাজের বিনিময়ে অনেক সম্পদশালী হয়ে গিয়েছিলেন—এমনটাও নয়। বরং তাদের অনেকেই কেবল পরিবারের ভরণপোষণ চালানোর নিমিত্তে অন্য কোনো কাজ করতেন। এই বাস্তবতার স্বীকৃতি দিয়ে ঐতিহাসিক ইবনু খালদুন লিখেছেন, ‘ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারী যেমন বিচারক, ফতোয়াদাতা, শিক্ষক, ইমাম, খতিব এবং মুয়াযযিন—সাধারণভাবে এদের অবস্থা কখনোই স্বচ্ছল হয় না।... নিজেদের কর্মের জন্য মানুষের মাঝে তারা শ্রেষ্ঠত্ব রাখেন। নিজেদেরও তারা এমনটাই মনে করে থাকেন। তাই পদমর্যাদার অধিকারীদের কাছে নতিস্বীকার করে অধিক সম্পদ সঞ্চয়ের পথে তারা অগ্রসর হন না। আসলে তারা যে মহান কর্মে মশগুল আছেন, এর মর্যাদাই তাদেরকে পার্থিব ক্ষমতার পেছনে দৌড়ানো থেকে বিরত রাখে। কারণ এমন করাটা তাদের জন্য শোভনীয় নয়। এজন্যই বিত্তশালী হওয়াটা সাধারণত তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ... আমার হাতে খলিফা আল-মামুনের হিসাব দফতরের কিছু ছিন্নপত্র আছে, যা-তে তৎকালীন আয়-ব্যয়ের অনেক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। বিচারক, ইমাম এবং মুয়াযযিনের ভাতার যে হিসাব আমি দেখলাম, তা থেকে আমার ওপর্যুক্ত কথাই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।
বিচারকদের ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়া হতো। তবে এটা সত্য যে, আব্বাসি যুগের দ্বিতীয়ার্ধে কিছু সময় এ অবস্থার অবনতি হয়েছিল। কোনো কোনো বিচারক নিজেদের কর্মকে সম্পদ জমানোর কাজে লাগিয়েছিল। ট্যাক্স বসিয়ে আপামর সাধারণ মানুষের সম্পদ লুটে নিত। এ নিয়ে আমরা সামনে আলোচনা করব।
টিকাঃ
[৬৪৪] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৩৬৯; যুহরুল ইসলাম: ২/২৫১; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২১৩
[৬৪৫] আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৪৮
[৬৪৬] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ৩৭৭
[৬৪৭] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ৪২১; যুহরুল ইসলাম: ২/২৫১; আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৪৮
[৬৪৮] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ২৩৩, ২৪১
[৬৪৯] যুহরুল ইসলাম: ২/২৫১
[৬৫০] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২১৪
[৬৫১] আখবারুল কুদ্ধাহ: ২/১৭১-১৭২। মৃত্যুকালে সন্তানের জন্য তিনি কিছু রেখে যাননি।
[৬৫২] আখবারুল কুদ্ধাহ: ২/১৭৫, ১৭৭
[৬৫৩] ইবনু খালদুন, আল-মুকাদ্দিমাহ, পৃ. ৩৯৩-৩৯৪
[৬৫৪] আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৪৮
📄 বিচারের স্থান
আব্বাসি যুগে বিচারকার্য পরিচালনার কোনো নির্ধারিত স্থান ছিল না। অনেক বিচারক নিজের ঘরে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। এদের অন্যতম ছিলেন খায়র ইবনু নুআইম। ১২০ হিজরি থেকে ১২৭ হিজরির মাঝামাঝি সময়টাতে তিনি মিশরের বিচারক ছিলেন।
রাজধানী কিংবা বড় বড় শহরে বিচারালয় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও সর্বত্র তা যথেষ্ট পরিমাণে ছিল না। বিচারব্যবস্থা সকলের জন্য উন্মুক্ত। তাই বিচারকরা সাধারণত মসজিদে বা মসজিদের দরজায় বসতেন। খায়র ইবনু নুআইম মসজিদে বসে মুসলিমদের বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, আর খ্রিষ্টানদের বিচার করতেন মসজিদের দরজায় বসে। খলিফা আল-মামুন ২১৭ হিজরিতে মিশরে এসে ইয়াহইয়া ইবনু আকসামকে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য মসজিদে বসতে বললে তিনি শনিবারে সেখানে বসতে শুরু করলেন।
২১৭ হিজরির রমজান মাসে হারুন ইবনু আবদিল্লাহকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োগ দিয়ে তার কর্মক্ষেত্র মসজিদে নির্ধারণ করলেন। হারুন শীতকালে কিবলার দিক পেছনে রেখে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে মসজিদের সামনে বসতেন। আর গ্রীষ্মকালে বসতেন মসজিদের ভেতরে।
আল-মুফাদদাল ইবন ফাদ্বালাহ মসজিদের ভেতর জুমুআর পর থেকে আসর পর্যন্ত বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। এরপর দুআয় মনোনিবেশ করতেন। হিজরি তৃতীয় শতকের মাঝামাঝি সময়ে খলিফা আল-মুতাদিদ মসজিদের ভেতরে বিচারককে বসতে নিষেধ করেন। তবে এই নিষেধাজ্ঞাটি সর্বজনীন ছিল না বিধায় তা পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়িতও হয়নি। অনেক বিচারক মসজিদেই বিচারকার্য পরিচালনা করতে থাকেন।
টিকাঃ
[৬৫৫] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৩৫১; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৪৭৪
[৬৫৬] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৩৫০ এবং ৩৯০
[৬৫৭] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৪৪১-৪৪২
[৬৫৮] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৪৪৩; যুহরুল ইসলাম: ২/২৫০
[৬৫৯] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/২৮০
[৬৬০] যুহরুল ইসলাম: ২/২৫০
📄 একাধিক বিচারকের পদ
আব্বাসি যুগে বিচারব্যবস্থায় যে বিষয়টি নতুন সংযোজিত হয়েছিল, তা হলো একই পদে একাধিক বিচারক। পূর্বে এমনটা ছিল না। এর পদ্ধতি ছিল এমন যে, একই সময়ে একাধিক বিচারক নিয়োগ দেওয়া হতো। এই নিয়োগ দানের পদ্ধতি ছিল তিন রকমের। এক ধরনের পদ্ধতি ছিল বিরল এবং তার বিধান কী হবে—তা নিয়ে ফকিহগণ একাধিক মত ব্যক্ত করেছেন। এক ধরনের পদ্ধতি যে বৈধ—এ ব্যাপারে ফকিহগণ একমত। আরেক ধরনের পদ্ধতি ঐতিহাসিক অবস্থা অনুসারে আবশ্যক ছিল, কিন্তু বর্তমানে তার প্রয়োজনীয়তা নেই।
ক. দলবদ্ধভাবে বিচার করা
একটি মোকদ্দমার জন্য দুই বা ততোধিক বিচারক একসাথে নিযুক্ত হওয়া। বিচারকার্য পরিচালনার সুস্পষ্ট শারঈ বিধান অনুসারে এই পদ্ধতিটি বৈধ হবে কি না—তা নিয়ে ফকিহগণ দুই ধরনের মত ব্যক্ত করেছেন। অবশ্য এমনটা খুব কমই সংঘটিত হতো। সাধারণভাবে ইসলামের ইতিহাসে এবং বিশেষভাবে আব্বাসি যুগে এমন ঘটনার সংখ্যা নগণ্য। কেবল দুয়েকটা ঘটনার কথাই আমরা জানতে পেরেছি।
প্রথম ঘটনা: উমর ইবনু আমির আস-সুলামির জীবনীতে ওয়াকি লিখেছেন, বসরার প্রশাসক সুলাইমান ইবনু আলি ১৩৭ হিজরিতে বসরার বিচারক আব্বাদ ইবনু মানসুরকে পদচ্যুত করে তার জায়গায় উমর ইবনু আমির এবং সাওয়্যার ইবনু আবদিল্লাহকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা দুজনই একসাথে এজলাসে বসতেন। উমর বাদী-বিবাদীর সাথে কথা বলতেন, আর সাওয়্যার নীরব থাকতেন। একবার তাদের কাছে একটি মোকদ্দমা আসে। মোকদ্দমাটি ছিল বিক্রিত পণ্য ত্রুটিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে। ইবনু আমির তখন মদীনাবাসীদের অনুসরণে ত্রুটিযুক্ত পণ্যের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ফয়সালা করেন। পক্ষান্তরে সাওয়্যার বলেন, এ ক্ষেত্রে বিক্রীত পণ্য ফেরত দেওয়া হবে। উভয়ের ফয়সালা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় প্রশাসক সুলাইমান তখন সাওয়্যারকে অপসারণ করে উমরকে বহাল রাখেন।
দ্বিতীয় ঘটনা: খতিব বাগদাদি বর্ণনা করেছেন, আল-মাহদি একবার একসাথে দুজন বিচারক নিয়োগ দিয়েছিলেন। সাওয়্যার ইবনু আবদিল্লাহ আল-আনবারির পর উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান বসরার বিচারক নিযুক্ত হয়েছিলেন। উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান এবং উমর ইবনু আমির একসাথে বসরার বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। উভয়ে একসাথে এজলাসে বসতেন এবং একসাথে ফয়সালা করতেন। এরপর খতিব বাগদাদি ত্রুটিযুক্ত বিক্রিত পণ্যের ঘটনা আলোচনা করেছেন। যা থেকে বুঝে আসে, পূর্বোল্লেখিত এবং বর্তমান ঘটনা—উভয়টিই অভিন্ন।
তৃতীয় ঘটনা: হারুন ইবনু ইবরাহীমের জীবনীতে আল-কিন্দি লিখেছেন, ‘তারপর হারুন ইবনু ইবরাহীমকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে তার নিয়োগপত্রটি আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক আল-জাওহারি এবং আহমাদ ইবনু আলি আল-মাদায়িনির কাছে পেশ করা হয়।... এরপর তারা উভয়েই নির্দেশনাটি মেনে নেন। এটা ছিল ৩১৩ হিজরির ৯ রবিউল আউয়াল জুমুআর দিনের কথা। সেদিন লোকদের সামনে নিয়োগপত্রটি পড়ে শোনানো হয়। এরপর ৩১৩ হিজরির যিলহজ মাসে আবদুর রহমান এবং ইবনু ইসহাককে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য এককভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অবশ্য অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় বিচারকার্য পরিচালনার জন্য চার মাযহাবের বিচারকদের একসাথে নিয়োগ দেওয়া হতো। এমন ক্ষেত্রের বর্ণনা আমরা সামনে উল্লেখ করব।
বিচারকদের সম্মিলিত রায়ের কথা পাওয়া যায়—এমন অনেক ঘটনার বিবরণও ইতিহাসে আছে। যেমন ঈসা ইবনুল মুসাইয়াব আল-বাজালির জীবনীতে ইবনু সাদ লিখেছেন, ‘ঈসা ছিলেন খালিদ ইবনু আবদিল্লাহ আল-কাসরির পক্ষ থেকে নিযুক্ত কুফার বিচারক। তিনি বয়স্ক হয়ে যাওয়ায় জাবির ইবনু ইয়াজিদ আল-জুফি তার সাথে এজলাসে বসতেন। আবু জাফরের খিলাফতকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আল-ইকদুল ফারীদ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে যাফির আল-কাসিমি লিখেছেন, ‘খলিফা আল-হাদি পশ্চিম দিকের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নূহ ইবনু দাররাজ এবং হাফস ইবনু গিয়াসকে একসাথে নিয়োগ দিয়েছিলেন। অবশ্য এটা অসম্ভব। কারণ ওয়াকির বর্ণনামতে কাসিম ইবনু মা’নের মৃত্যুর পর নূহ ইবনু দাররাজকে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য খলিফা হারুন নিয়োগ দিয়েছিলেন। এরপর তাকে পদচ্যুত করে হাফস ইবনু গিয়াসকে নিয়োগ দান করেছিলেন। ১৯৪ হিজরিতে বসরায় তার মৃত্যু হয়।
আল-কাসিমি এটাও বর্ণনা করেছেন, ‘মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ এবং ইবনু ইয়াজিদকে খলিফা আল-মাহদি একত্রে বিচারকার্যের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তারা দুজন একসাথে রুসাফার মসজিদের বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। কিন্তু এ বর্ণনা থেকে উভয়ের এক রায় দেওয়ার কথা স্পষ্ট হয় না। বরং তাদের দুজনের একসাথে মসজিদে থাকার কথা প্রমাণিত হয়। সামনে এ বিষয়টি আমরা আলোচনা করব। অবশ্য আল-কাসিমি নিজেও আগের পৃষ্ঠাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
খ. এক দেশে একাধিক বিচারক
এমনটা হওয়ার অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। বিচারক দুজন দেশের দুই অংশে দায়িত্ব পালন করার শর্তে এভাবে বিচারক নিয়োগ দেওয়া ফকিহদের সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ। যেমন একজন বিচারককে বাগদাদের পূর্ব অংশে, আর অপরজনকে পশ্চিম অংশে নিয়োগ দেওয়া হতো। খলিফা আল-মাহদির সময় বাগদাদে এবং অন্যান্য শহরে এটা হয়েছিল। ওয়াকির বর্ণনায় পাওয়া যায়, ২৫৩ হিজরিতে বাগদাদের পূর্ব অংশ খলিফা মানসুর কর্তৃক নির্মিত মাদীনাতুস সালামে ইবরাহীম ইবনু ইসহাক বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। সে-সময় পশ্চিম অংশের বিচারক ছিলেন সাদ ইবনু ইবরাহীম।
একই প্রদেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশ থাকলে এর বিধান কী হবে—তা নিয়ে ফকিহদের ইখতিলাফ রয়েছে। তবে বৈধ হওয়ার মতটিই প্রাধান্য দেওয়ার মতো। যেমন, মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ এবং আফিয়াহ ইবনু ইয়াজিদের জীবনীতে ওয়াকি লিখেছেন, ‘খলিফা আল-মাহদি এরপর মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহকে আল-মাহদি সেনানিবাসে বিচারকার্য পরিচালনায় নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার সাথে আফিয়াহ ইবনু ইয়াজিদকেও দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ইবনু সাঈদ বলেছেন, আলি ইবনুল জাদ আমাকে জানিয়েছেন, “তাদের দুজনকে আমি রুসাফার জামে মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করতে দেখেছি। একজন এপাশে ছিলেন, আরেকজন ছিলেন ওপাশে।”
বাগদাদের পশ্চিম অংশে যারা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, ওয়াকি তাদের কথা পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন। তাদের আখ্যায়িত করেছেন মানসুরের নগরীর বিচারক হিসেবে। শাইখ মুহাম্মাদ আরনুস বলেছেন, ‘ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি যে, বড় বড় অঞ্চলে একাধিক বিচারক দায়িত্ব পালন করতেন। বাগদাদ অনেক সময় একজন বিচারকের অধীনে ছিল। আবার অনেক সময় দুজন বিচারকও সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গ. একাধিক মাযহাবের বিচারক
নববি যুগ, রাশিদুন যুগ এবং উমাইয়া যুগের বিচারকরা ছিলেন মুজতাহিদ। শরীয়তের মৌলিক উৎস অনুসারে কৃত নিজেদের ইজতিহাদের মাধ্যমে তারা মোকদ্দমা, বিরোধ এবং কলহ নিষ্পত্তি করতেন। কিন্তু আব্বাসি যুগে অনেক ফিকহি মাযহাব চালু হয়। চারটি মাযহাব স্থিতি লাভ করে। অনেক মাযহাব আবার বিলুপ্তও হয়ে যায়। স্থিতি লাভ করা মাযহাবগুলো ভৌগোলিকভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিচারকরা সাধারণত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বক্তব্য এবং তাদের অঞ্চলে থাকা নির্ভরযোগ্য মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। সে হিসেবে শামের বিচারকরা আওযায়ি-এর মাযহাব অনুসারে ফয়সালা করতেন। এই মাযহাব বিলুপ্ত হয়ে গেলে তারা শাফিয়ি মাযহাব অনুসরণ করতে থাকেন। মিশরেও শাফিয়ি মাযহাবের প্রচলন ছিল। খোরাসানে শাফিয়ি এবং হানাফি—উভয় মাযহাবই চলত। বাগদাদে এবং ইরাকে চার মাযহাবের অনুসারীই ছিলেন। তবে বিচারকরা সাধারণত আবু ইউসুফ-এর সময় থেকে হানাফি মাযহাব অনুসরণ করতেন। ইবনু সুরাইজ এবং আবু হামিদ আল-আসফারাইনির মতো শাফিয়ি মাযহাবের বিচারক, আবদুল ওয়াহাব মালিকির মতো মালিকি মাযহাবের বিচারক এবং আবু ইয়ালা আল-ফাররার মতো হাম্বলি মাযহাবের বিচারক বাগদাদে এবং ইরাকে বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন।
মাযহাবের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হওয়ায় বিচারকার্যের ফয়সালার মাঝেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। এই মতভিন্নতার কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় অসুবিধাজনক হয়ে পড়ত। যেমন, মিশরে ওয়াকফ ব্যবস্থা হানাফি এবং শাফিয়ি মাযহাব অনুসারে চলত। তারপর হানাফি মাযহাব অনুসারে তা নিষিদ্ধের রায় দেওয়া হয়। শপথ এবং কসম অনুসারে ফয়সালা করার ক্ষেত্রে ভিন্নতা, পড়শির জন্য অগ্রে ক্রয়াধিকারের ফয়সালার ক্ষেত্রে মতভিন্নতা, ত্রুটিযুক্ত বিক্রিত পণ্য ফেরত দেওয়া হবে নাকি জরিমানা দেওয়া হবে—এ সংক্রান্ত মতপার্থক্য-সহ আরও নানান জটিলতা দেখা দেয়।
প্রথম আব্বাসি যুগের সময় বিচারকরা দেশে এবং শহরে প্রচলিত মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। দ্বিতীয় যুগের সময় প্রথম যুগে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানকল্পে চার মাযহাবের চারজন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়। এটা হয়েছিল মিশরে আল-মালিকুষ যাহির বারকুক-এর শাসনামলে। কিন্তু অনেক আলিমই নব আবিষ্কৃত এ পন্থাটি পছন্দ করেননি। কেউ কেউ তো একে মুসলিম ভূমিতে মুসলিমদের মাঝে আপসে বিভক্তির কারণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ কারণেই মিশরের প্রধান বিচারপতি তাজুদ্দিন আবদুল ওয়াহাব শাফিয়ি (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি)-এর জীবনীতে ইবনুস সুবকি লিখেছেন, ‘তার সময়ে আল-মালিকুয যাহির বাইবার্স প্রথমে কায়রোতে, তারপর দামিস্কে নতুন তিনজন বিচারক নিয়োগ দেন। এ বিষয়টি ছিল কেবল শাফিয়ি মাযহাব কেন্দ্রিক। তারা ছাড়া অন্য কেউ মিশরে বিচারকার্য পরিচালনা করার কথা জানা যায় না। ২৮৪ হিজরিতে আবু যুরআহ মুহাম্মাদ ইবনু উসমান মিশরের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আয-যাহিরের সময় অবধি এ অবস্থা চালু ছিল। তবে মোকদ্দমার অংশবিশেষের ক্ষেত্রে কিছু শাফিয়ি মাযহাবের বিচারক স্থলবর্তী হয়ে কার্য পরিচালনার বিষয়টি ছিল ভিন্ন। দামিস্কেও একই অবস্থা ছিল। আবু যুরআহর পর সেখানে কেবল শাফিয়ি মাযহাবই চালু ছিল। কারণ তিনি এমনটাই নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে তুর্কি আত-তালাশাউনি অল্প কিছুদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি উমাইয়া মসজিদে নতুনভাবে হানাফি ইমাম নিয়োগ দিতে চাইলে দামিস্কের লোকেরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেয় এবং বিচারককে পদচ্যুত করে। ফলে উমাইয়া মসজিদ শাফিয়িদের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। যেমনটা ছিল ইমাম শাফিয়ি-এর জীবদ্দশায়। শামের বিচারক এবং উমাইয়া মসজিদের খতিব ও ইমাম নির্ধারণ আওযায়ি -এর মাযহাব অনুসারেই চলত। অবশেষে শাফিয়ি মাযহাব ছড়িয়ে পড়লে সেটাই সেখানে কার্যকর হয়। অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতে মিশর, হিজাজ এবং শামের এই অঞ্চলগুলোতে শাফিয়ি মাযহাব ছাড়া অন্য কোনো মাযহাব চলবে না। অন্য কোনো মাযহাবের শাসক ক্ষমতায় আসলে দ্রুতই তার পতন হবে। এই অঞ্চলের জন্য এটাই আল্লাহর নির্ধারণ। তদ্রূপ মরক্কো ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর জন্য মালিকি মাযহাব এবং বুখারা-সমরকন্দের জন্য হানাফি মাযহাব নির্ধারিত।’
এরপর ইবনুস সুবকি লিখেছেন, ‘তিনজন বিচারককে একত্র করার কথা শুনে আবু শামা মাকদিসি বলেছিলেন, “এমনটা কখনো হয়েছে বলে মনে হয় না।” তিনি সত্যই বলেছেন। পূর্বে এমনটা কখনোই হয়নি। এটার মাধ্যমে মাযহাবগুলোর মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং ফকিহগণ ফিতনায় পতিত হয়েছেন।
সুয়ূতি তারীখু মিশর গ্রন্থে ইবনু মুয়াসসার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ‘৫০৫ হিজরিতে আবু আহমাদ ইবনুল আফদাল বিচারকার্য পরিচালনার জন্য চারজন বিচারক নিয়োগ দিয়েছিলেন। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব মাযহাব অনুসারে ফয়সালা করতেন। ... এখন আমাদের যুগেও চার মাযহাবের ভিত্তিতে চারজন বিচারক রয়েছেন।
আয-যাহির কর্তৃক একাধিক বিচারক নিয়োগ দানের পর শাফিয়ি মাযহাবের বিচারককে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে ইবনুস সুবকি লিখেন, ‘নতুন বিচারকদের শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারী বিচারকের সাথে মিলানোর পর শাফিয়ি মতাবলম্বীদের জন্য স্বতন্ত্র ওয়াকফ বিভাগ, রাষ্ট্রীয় কোষাগার, ইয়াতিমের তত্ত্বাবধান-সহ আরও নানান অধিদপ্তর চালু করেন এবং তাদের উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেন। এতদসত্ত্বেও তিনি অনুতপ্ত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তার মৃত্যুর পর এক ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখল। লোকটি তার হালত জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন: চারজন বিচারক নিয়োগ দেওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা আমাকে ভীষণ শাস্তি দিয়ে বলেছেন, “তুমি মুসলিমদের মধ্যকার ঐক্য বিনষ্ট করেছ।”
চার মাযহাবের বিচারকদের প্রত্যেকেই ছিলেন স্ব-স্ব মাযহাবের প্রধান বিচারপতি পর্যায়ের। দেশে স্থলবর্তী নিয়োগ দেওয়া, বিচারক নিয়োগ দান এবং পদচ্যুতির খোঁজখবর রাখতেন এবং তাদের অবস্থা নজরদারি করতেন। অনেক সময় চার মাযহাবের বিচারকগণ একত্র হয়ে হত্যা, কিসাস এবং হদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় মোকদ্দমাগুলো দেখতেন। মাসালিকুল আবসার গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে কাযি মাহমুদ আরনুস লিখেছেন, ভিন্ন ভিন্ন বিচারক থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ মোকদ্দমাগুলো চারজন বিচারকের সামনেই পেশ করা হতো। দামিস্কের মসজিদের বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘এখানে চারজন বিচারক এবং আলিমরা এমন সব জটিল মোকদ্দমা নিয়ে বসতেন, কোনো বিচারকের পক্ষে একাকী যেগুলো নিরসন করা সম্ভব নয়। সুলতানের প্রতিনিধির নির্দেশনা অনুসারে তারা একত্রে বসে সেগুলো নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করার পর সর্বসম্মতিক্রমে ফয়সালা করতেন।
টিকাঃ
[৬৬১] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৯১; উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ, ৮৯
[৬৬২] আখবারুল কুদ্দাহ: ২/৫৫
[৬৬৩] তারীখু বাগদাদ: ১০/৩০৭
[৬৬৪] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্দাহ, পৃ. ৪৮২-৪৮৩
[৬৬৫] আখবারুল কুদ্দাহ: ২/৫৫; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ১৪৩
[৬৬৬] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ১৪৪
[৬৬৭] আখবারুল কুদ্দাহ: ২/১৮২, ২/১৮৪, ২/২৮৫
[৬৬৮] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ১৪০
[৬৬৯] আখবারুল কুদ্দাহ: ৩/১৯৮
[৬৭০] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৯১
[৬৭১] আখবারুল কাদ্ধা: ৩/২৬৫; তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ৯২
[৬৭২] তারীখুল কাঙ্গা, পৃ. ৯১
[৬৭৩] এই এলাকাটি বর্তমানে রুসাফা নামে পরিচিত। (মারাসিদুল ইত্তিলা: ২/৬৪১)
[৬৭৪] আখবারুল কুদ্বাহ: ৩/২৬৯
[৬৭৫] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/৩৬২; তারীখুল কাদ্বা, পৃ ৯৩
[৬৭৬] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৯৩
[৬৭৭] তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩১৯-৩২০; হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৫-১৬৬; আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়্যাহ, পৃ. ৬৮
[৬৭৮] তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩২১
[৬৭৯] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৫; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ১০৫
[৬৮০] তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩২০, ৩২১
[৬৮১] আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়্যাহ, পৃ. ৬৮
[৬৮২] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ৯৬; উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ, পৃ. ৯০