📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 আব্বাসি খলিফাগণ এবং অন্যায়ের বিচার

📄 আব্বাসি খলিফাগণ এবং অন্যায়ের বিচার


আব্বাসি খিলাফতকালে প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করা এবং অপসারণের দায়িত্ব থেকে খলিফাদের সরে যাওয়ার কথা শুনলে মনে হতে পারে, তারা বুঝি বিচারকার্য সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন, সত্য এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না। অথচ বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিচারব্যবস্থার প্রতি পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে তারা ভীষণ যত্নবান ছিলেন। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য বিচারক এবং প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছিলেন। অপরদিকে বিচারব্যবস্থার এমন দিকে তারা নিজেরা মনোনিবেশ করেছিলেন, যা বাস্তবায়ন করতে ন্যায়পরায়ণতার পাশাপাশি প্রশাসকের ক্ষমতারও দরকার পড়ে। সেটা হলো অন্যায় দমন সংক্রান্ত বিচার। আব্বাসি খলিফাগণ প্রথম থেকেই এর প্রতি বিশেষ মনোযোগী ছিলেন।
উমাইয়া যুগে শাসকগোষ্ঠী, প্রশাসক এবং নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে হওয়া দুর্নীতি আর অন্যায়ের বিচারকার্যের জন্য সপ্তাহে একদিন বরাদ্দ ছিল। পরবর্তীকালে কোনো কোনো খলিফা এই নীতির ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে আব্বাসি যুগের খলিফাগণ এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অনেক সময় তারা নিজেরাই এ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। আবার কখনো-বা কোনো মন্ত্রী বা বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হতো।
সরকারি কর্মকর্তাদের দেখভাল করা এবং তাদের ন্যায়পরায়ণতার ওপর নজরদারি করার ব্যাপারে খলিফা মানসুর নিজেই উদ্যোগ নেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে এক দানিকের হিসাবও তিনি গ্রহণ করতেন। এজন্য তাকে ‘আবুদ দাওয়ানিক’ বা প্রধান ব্যবস্থাপক বলা হতো। মানসুরের পর অন্যায়ের বিচারের জন্য খলিফা আল-মাহদি নিজেই এজলাসে বসতে শুরু করেন। আব্বাসি খলিফাদের মাঝে এ রীতি তিনিই প্রথম চালু করেছিলেন। তিনি এত বিপুল পরিমাণে দান-খয়রাত শুরু করেন যে, খলিফা মানসুরের সঞ্চয়কৃত সম্পদ শেষ হয়ে যায়। দুর্নীতি দমন আর অন্যায়ের বিচার করার জন্য তিনি বিশেষ প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত দফতরও খুলেছিলেন। যা ‘দিওয়ানুল মাযালিম’ বা মজলুমদের অধিদপ্তর নামে পরিচিত ছিল। তার পর এজলাসে বসেন খলিফা আল-হাদি। এরপর খলিফা আর-রাশিদ এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অনেকটা সময় এই কাজে ব্যয় করতেন। যার পেছনে অনুঘটক ছিল আবু ইউসুফ -এর হিতাকাঙ্ক্ষাসূচক পত্র। যা-তে খলিফার উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছিলেন, ‘ন্যায়পরায়ণতা, অত্যাচারিতের প্রতি সুবিচার এবং অত্যাচার থেকে বিরত থাকলে দেশ আবাদ হবে। ... আমিরুল মুমিনীন! আপনি মাসে কিংবা দুই মাসে এক বার প্রজাদের সাথে হওয়া অন্যায় নিয়ে বসলে ভালো হবে। উক্ত বৈঠকে আপনি মজলুমের কথা শুনবেন এবং জালিমকে শাস্তি দেবেন।’
খলিফাদের মাঝে আর-রাশিদই প্রজাদের ব্যাপারে অধিক খোঁজখবর রাখতেন। এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন বেশি যত্নবান। এ ক্ষেত্রে তিনিই সর্বাধিক দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দিয়েছিলেন।
আমিরুল মুমিনীন আল-মামুন প্রতি রবিবার অন্যায়ের বিচার করতে বসতেন। অন্যায়কারী কর্মকর্তাদের শাস্তি খলিফা কিংবা উজিরদের সামনেই কার্যকর হতো।
খলিফা হওয়ার পর আল-ওয়াসিক বিল্লাহ বনু উমাইয়ার দখলকৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আল-মুহতাদি বিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়াসিক খলিফা হলে তিনি চারটি দরজাবিশিষ্ট একটি গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেন। যার নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘কুব্বাতুল মাযালিম’ তথা অত্যাচার দমনের গম্বুজ। খলিফা নিজেই সাধারণ এবং বিশেষ শ্রেণির নাগরিকের বিচারকার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেখানে বসতেন। আব্বাসি খলিফাদের মাঝে তিনিই ছিলেন সর্বশেষ, যিনি সেখানে অন্যায় দমনের উদ্দেশ্যে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতেন। অবশেষে উপযুক্ত ব্যক্তিদের হাতে রাজত্ব চলে যায়।
প্রথম মন্ত্রী বা সুলতান অথবা কোনো বিচারক অন্যায় দমনের জন্য বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। এরপর খলিফা আয-যাহির বি আমরিল্লাহও মজলুমের কাছে তার হক ফিরিয়ে দিতেন।
সাধারণত সৈনিকরা তাদের বেতন কমিয়ে দেওয়া কিংবা বেতন প্রদানে বিলম্ব হওয়ার যে অভিযোগ করত, তা দেখা ছিল অন্যায় দমন সংক্রান্ত বিচারকের দায়িত্ব। যদিও এর সমাধান করা সাধারণ বিচারকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
বাগদাদের আব্বাসি খিলাফত থেকে যেসব অঞ্চল পৃথক হয়ে গিয়েছিল, সেসব অঞ্চলেও অন্যায় ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত বিচারে নজরদারি করার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছিল। মিশরে তুলুনি রাজবংশ, ইখশিদি রাজবংশ এবং ফাতিমি খিলাফতের সময়ও অন্যায় আর দুর্নীতি দমন বিষয়ক অধিদপ্তর ছিল। ফাতিমি খলিফাগণ অন্যায় ও দুর্নীতির বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। এর আগে ৩৪০ হিজরি সালে মুহাররম মাসের শুরুতে প্রত্যেক শনিবারে কাফুর আল-ইখশিদিও দুর্নীতির বিচার করতে বসতেন।
দুর্নীতি-সংক্রান্ত আদালতের কার্যক্রম চলত খলিফা, মন্ত্রী, প্রশাসক কিংবা এ সংক্রান্ত বিচারকের নেতৃত্বে। এ আদালতে পাঁচটি ইউনিটের কাজ ছিল। ইউনিটগুলো এবং তাদের কাজ ছিল এমন,
ক. রক্ষীবাহিনী এবং তাদের সহযোগী। যাদের কাজ ছিল সহিংসতা করতে বা পালাতে চাওয়া লোকদের নিয়ন্ত্রণ করা।
খ. প্রশাসক এবং বিচারক। বিচারের রায় পরিপূর্ণরূপে জেনে হকদারের কাছে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের দলিল-প্রমাণ পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের ওপর শারঈ আইন বাস্তবায়ন করার জন্য এরা থাকতেন।
গ. ফকিহগণ। শারঈ কোনো মাসআলায় জটিলতা তৈরি হলে তার সমাধানকল্পে পরামর্শের জন্য তারা উপস্থিত থাকতেন।
ঘ. মুনশি। এ ইউনিটের কাজ ছিল পক্ষে-বিপক্ষের দলিল-প্রমাণ এবং বক্তব্য লিখে রাখা।
ঙ. বাদী-বিবাদী এবং বিচারকের ফয়সালার ব্যাপারে সাক্ষী হিসেবে একটি ইউনিট থাকত।
অনেক সময় খলিফা নির্দিষ্ট একটি দিনে বিচারপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বসতেন। বিচার নিয়ে লোকেরা তার কাছে আসত। আবার অনেক সময় নির্ধারিত ব্যক্তির অন্যায় বা দুর্নীতির বিচার করতে ডাকা হতো। প্রতিদিনই এরকম কার্যক্রম চলমান ছিল। দুর্নীতি ও অন্যায় দমনে আব্বাসি যুগের চমৎকার সব উদাহরণ রয়েছে। সেগুলোর প্রতিটির ধরনে যেমন ভিন্নতা ছিল, তেমনি সেসবের গভীরতাও ছিল চমকপ্রদ। তবে এখানে তা আলোচনা করা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য।

টিকাঃ
[৬২৪] এক দিরহাম তথা রৌপ্যমুদ্রার ছয় ভাগের এক ভাগকে এক দানিক বলা হয়।
[৬২৫] তারীখুল খুলাফা, পৃ. ২৫৯; আল-ইসলামু ওয়াল হাদ্বারাতুল আরাবিয়্যাহ : ২/২০১; আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১২৭
[৬২৬] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৭৮; তারীখুদ দাওলাতিল আব্বাসিয়্যাহ, পৃ. ৯৪; আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৩৬; আল-কাদ্বা ফিল ইসলাম, পৃ. ৯৪
[৬২৭] আল-খারাজ, পৃ. ১১১ এবং ১১২
[৬২৭] আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৪০; আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৭৮
[৬২৮] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৭৮; আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৬৭
[৬২৯] আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৭০
[৬৩০] মুরূজুয যাহাব: ২/৪৩১; আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৭৫; আল-ইসলামু ওয়াল হাদ্বারাতুল আরাবিয়্যাহ: ২/২৪৫
[৬৩১] সুবহুল আ’শা: ৩/৪৯৭, ৩/৫২৫, ৪/৪৪, ৫/১৪৪, ৬/২০২, ৬/২০৪ এবং ৬/২০৭ দ্রষ্টব্য
[৬৩২] আল-ইসলামু ওয়াল হাদ্বারাতুল আরাবিয়্যাহ: ২/২৬৫
[৬৩৩] আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ৭১; সুবহুল আ’শা: ৩/৪৯৭; আল-কাদ্বা ফিল ইসলাম, পৃ. ১৯৫
[৬৩৪] আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ৭১; আল-কাদ্বাউল ইদারি, পৃ. ১৩৭
[৬৩৫] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৭৯
[৬৩৬] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৮৪, ৮৫, ৯০ এবং ৯১। আরও দেখতে পারেন, আল-কাদ্বাউল ইদারি, পৃ. ১৪৬; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ১৮৩, ৫৫৩, ৫৬১ এবং ৫৮৫।

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 আব্বাসি যুগে ‘হিসবাহ’ বিচার

📄 আব্বাসি যুগে ‘হিসবাহ’ বিচার


আমরা ইতিপূর্বে হিসবাহ-এর সংজ্ঞা উল্লেখ করেছি। সেখানে আমরা এটাও স্পষ্ট করেছি যে, এর বীজ নববি যুগেই অঙ্কুরিত হয়েছিল। খুলাফায়ে রাশিদুন নিজেরাই হিসবাহ পরিচালনা করতেন। তাঁরা নিজেরাই বাজার পর্যবেক্ষণ করতেন। কিংবা বাজার পরিদর্শনের জন্য কাউকে নিযুক্ত করতেন। উমর রাতে-দিনে বাজার এবং সাধারণ মানুষের অবস্থা পরিদর্শন করতেন। উমাইয়া যুগের খলিফাগণ, এমনকি আব্বাসি যুগের অনেক প্রশাসকও নিজেরাই এই কাজ করতেন।
তবে আব্বাসি যুগে নতুন যে বিষয়টি চালু হয়েছিল তা হলো স্বাধীন হিসবাহ সংক্রান্ত বিচারব্যবস্থা। যার ফলে এর একটি বিশেষ অবকাঠামো গড়ে ওঠে। এটি পরিণত হয় বিশেষ রাষ্ট্রীয় বিচার বিভাগে। একজন বিশেষ বিচারক এটার দায়িত্ব পালন করতেন। এটা প্রথমবারের মতো হয়েছিল ১৫৮ হিজরিতে আব্বাসি খলিফা আল-হাদির শাসনামলে। তারপর গোটা আব্বাসি সাম্রাজ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। হিসবাহ-এর বিশেষ দফতর তৈরি করা হয়। চালু হয় স্বতন্ত্র বিভাগ। যা বিলায়াতুল হিসাবাহ তথা হিসবাহ ব্যবস্থাপনা নামে পরিচিতি লাভ করে। এ বিভাগ থেকে পরিচালিত হওয়া বিভিন্ন কার্যাবলির মাঝে একটি হলো বিচারকার্য। খলিফা আল-মাহদির অভ্যাস ছিল রাষ্ট্রের জটিল জটিল সব বিষয় দেখাশোনা করে সেসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। তাই নিজের খিলাফতের সময় তিনি হিসবাহ-সহ আরও অনেক নতুন কিছুর প্রচলন করেছিলেন।
হিসবাহকে বিচারব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কারণ মুহতাসিব বা হিসবাহ পরিচালকের কাজ ছিল— সৎ কাজ করা হচ্ছে না দেখলে সৎ কাজের আদেশ করা এবং অন্যায় কাজ হতে দেখলে বাধা প্রদান করা। আদেশলঙ্ঘনকারীকে তিনি বিচারের মুখোমুখি করবেন এবং শাস্তি দেবেন। প্রয়োজনবোধে তাকে বন্দি করবেন। তিনি নিজে অথবা নিজের সহযোগীদের মাধ্যমে সরাসরি অন্যায় প্রতিহত করবেন। কারও পক্ষ থেকে মোকদ্দমার ওপর নির্ভর না করে শারঈ নীতির প্রতি লক্ষ রেখে জনগণের মাঝেই তার বিচার করবেন। হালাল-হারাম, বৈধ-অবৈধ বিধানের প্রতি তার দৃষ্টি থাকবে। আল্লাহর হক যেমন মনে রাখবেন, তেমনি জাতি, সমাজ এবং ব্যক্তির অধিকার ভুলে যাবেন না।
আসলে হিসবাহ ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল। কারণ সাধারণ বিচারব্যবস্থা দরকার পড়ে কেউ যদি অন্যের অধিকারের ব্যাপারে অন্যায় করে। দুই ব্যক্তির মাঝে কোনো বিবাদ হলে সুনির্দিষ্ট জায়গায় বিচারক এবং বিচারালয়ের প্রয়োজন পড়ে। যা বাদীর আবেদন এবং মামলা দায়েরের ওপর নির্ভরশীল। উভয় পক্ষের কেউ কোনো দিক থেকে দুর্বল হলে বা সাধারণ বিচারের কোনো একটি শর্ত হারিয়ে গেলে বিচারব্যবস্থা আর কোনো কাজ করতে পারে না। এ দিকগুলো থেকে বিচারালয় বেকার হয়ে যায়। দুর্বল হয়ে পড়ে বিচারব্যবস্থা।
এই বিষয়গুলো দৈনন্দিন জীবনে প্রচুর পরিমাণে এবং বারংবার ঘটে থাকে। বিচার বিভাগকে এসব বিষয়ে জড়িত হওয়া থেকে দূরে রাখতে ইসলামে হিসবাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাহলে খলিফা, প্রশাসক, আমির-উমারা এবং বিচারকদের দায়িত্বের বোঝা লাঘব যেমন হবে, তেমনি কাজ বণ্টন হয়ে যাবে। ফলে সমগ্র মুসলিম জাতির ওপর প্রয়োগ হবে পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুরক্ষিত থাকবে তার অধিকার। সর্বসাধারণের অধিকার নজরদারিতে থাকবে।
অনেক সময় মামলায় বাদী পক্ষ থাকে। সে ধরনের মামলায় বাদীর ক্ষতি এবং দাবি তুলনা করে দেখা হয়। তার অধিকার পুনরুদ্ধারে কর্মতৎপরতা দেখা যায় না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অর্জন না হওয়ায় সে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। অপরদিকে অন্যায়কারীর আগ্রাসন বেড়ে যায়। বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে প্রতারণা করে এবং বিধিবিধান লঙ্ঘন করে, সে আরও আশকারা পেয়ে যায়। অন্যায় তখন আগের থেকে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। জুলুম বৃদ্ধি পায় মারাত্মকভাবে। পূর্বের তুলনায় সীমালঙ্ঘন হয়ে যায় আরও গুরুতর। আপামর জনসাধারণের জন্যে যা বিশাল হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহর হক এবং জনসাধারণের অধিকারের ক্ষেত্রে তা বিরাট ঝুঁকি হয়ে যায়। সর্বোপরি তা সমাজের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। নষ্ট হয়ে যায় এর মূল্যবোধ, বিধিবিধান এবং নৈতিকতা।
পরিচালকের দায়িত্ব ছিল এ ক্ষেত্রগুলোকে দেখভাল করা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিজের পরিধির মধ্যে অন্যায় নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি হেঁটে হেঁটে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, সেতু, নদী এবং জনসমাগমের স্থানগুলো পরিদর্শন করার জন্য কাউকে দায়িত্ব দিতেন। নির্মাণ স্থাপনার সমস্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, সমাজের নৈতিকতা এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে বলতেন। অনেক সময় তিনি নিজেই বিষয়টির মীমাংসা করতেন। ভালো কাজের নির্দেশ এবং অন্যায় থেকে নিষেধ করতেন। অত্যাচারী আর আগ্রাসীদের প্রতিহত করতেন। সামাজিক মর্যাদা এবং পবিত্রতা রক্ষায় অনুপ্রেরণা দিতেন। সামাজিক ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর বিরোধগুলো মিটমাট করে দিতেন। এ ব্যাপারে সাধারণ বিচারব্যবস্থার নিয়ম, মামলা, প্রমাণের উপায় তিনি মেনে চলতেন না। কারণ তার বিচার হতো বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। সাধারণ বিচারে বিবাদ ও বিরোধের যে সকল কৌশল অবলম্বন করা হতো, যেসব দলিল-প্রমাণের প্রয়োজন হতো—সেগুলোই তিনি অবলম্বন করতেন। মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা, নৈতিকতা বিরোধী কাজগুলোর ক্ষেত্রে কঠোরতা করা এবং আনুগত্য, ইবাদত আর নৈতিকতাপূর্ণ কাজে উৎসাহ দেওয়া ছিল পরিচালকের দায়িত্ব।
মুহতাসিব বা হিসবাহ পরিচালকের অন্যতম দায়িত্ব ছিল পরিমাপ মনিটরিং, সিন্ডিকেট আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ করা। নির্মাণশিল্প ও উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া। শিল্পের ক্ষেত্রে কে কতটা নিখুঁত—তার গুণমান যাচাই করা। জালিয়াতি প্রতিরোধ, বাজার এবং মসজিদের পরিচ্ছন্নতা তত্ত্বাবধান করা। কর্মচারী এবং মুয়াযযিনদের নজরদারি করা। ওই সময় মুহতাসিবের কর্তৃত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এমনকি বিচারকরা দায়িত্ব পালনে বিলম্ব করলে বা বিচারকার্য পালন না করলেও তাদের কাছে জবাবদিহি করতে হতো।
বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের পেশা এবং পেশাগত ক্ষেত্রে তাদের নৈপুণ্যের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য মুহতাসিবরা তাদের পরীক্ষা করতেন। যাতে তারা অন্যদের শোষণ করতে না পারে। আব্বাসি খলিফা আল-মুতাদিদ বিল্লাহ তৎকালীন প্রধান চিকিৎসক সিনান ইবনু সাবিতকে বাগদাদে থাকা সকল চিকিৎসককে যাচাই করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন সেখানে প্রায় ৮৬০ জন ডাক্তার ছিলেন। মুহতাসিবের প্রতি খলিফার নির্দেশনা ছিল, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ছাড়া একজন চিকিৎসককেও যেন প্র্যাকটিস করতে দেওয়া না হয়। ফার্মাসিস্ট এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও একই বিধান ছিল। কায়রোতে ওজন পরিমাপক দফতরটিতে বিক্রেতারা নির্দিষ্ট সময়ে যাতায়াত করত। তাতে কোনো ধরনের ত্রুটি থাকলে তা পরিবর্তন করা বা সারিয়ে নেওয়ার আদেশ ছিল। আদেশ অমান্যকারীকে শাস্তি দেওয়া হতো। এই দফতরটি মামলুকদের রাজত্বকাল পর্যন্ত বহাল ছিল।
এভাবে হিসবাহ বিভাগ সাধারণ বিচার বিভাগের পাশাপাশি একটি স্বাধীন বিভাগে পরিণত হয়েছিল। প্রকাশ পেয়েছিল এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বই-পুস্তক। যেগুলোতে মুহতাসিবের শর্তাবলি এবং তার এখতিয়ারের সীমার বর্ণনা থাকত। একজন সাধারণ বিচারক এবং দুর্নীতি-সংক্রান্ত বিশেষ বিচারকের মধ্যকার পার্থক্য এবং তাদের ওপর আরোপিত দায়িত্ব নির্ধারণ করাও ছিল হিসবাহর কর্তব্য। অনেক প্রসিদ্ধ আলিম এবং ফকিহ বাগদাদ এবং বাগদাদের বাইরে বিভিন্ন শহরে হিসবাহর দায়িত্বে ছিলেন। আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ আল-আসতাখারি শাফিয়ি ছিলেন তাদের অন্যতম।

টিকাঃ
[৬৩৭] উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়‍্যাহ, পৃ. ২১; নিযামুল হিসবাহ ফিল ইসলাম, পৃ. ৩৩১; আদ-দাওলাতু ওয়া নিযামুল হিসবাহ ইনদা ইবনি তাইমিয়্যাহ, পৃ. ৭৬; আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম, পৃ. ১৩; আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৩৫
[৬৩৮] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ২৪০
[৬৩৯] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ২৪৩; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৫৯৯; আল-কাদ্বাউল ইদারি, পৃ. ২৮৭

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 সামরিক বাহিনীর বিচার

📄 সামরিক বাহিনীর বিচার


আব্বাসি যুগে চালু হওয়া আরেকটি পদ ছিল সামরিক বাহিনীর বিচারক। সামরিক বাহিনীর নিজেদের মধ্যকার বিরোধ কিংবা অন্যদের সাথে তাদের ঘটে যাওয়া বিরোধ নিরসনের জন্য বিচারক তাদের সাথেই থাকতেন।
সামরিক বাহিনীর বিচারক পদ্ধতি চালু হয়েছিল প্রথম আব্বাসি যুগে। ওয়াকি এ সংক্রান্ত প্রথম ঘটনাটি সাদ ইবনু ইবরাহীম আয-যুহরির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। সাদ ইবনু ইবরাহীম ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবি আবদুর রহমান ইবনু আউফ -এর বংশধর। বাগদাদের পূর্বাঞ্চলে তিনি বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। আল-মানসুর ইবনুল মাহদির ফিতনার সময় সাদকে পদচ্যুত করা হয়। সে-সময় আল-মুরতাদ্বা নাম দিয়ে ইবনুল মাহদির খিলাফতের জন্য মিম্বরে দুআ করা হতো। পদচ্যুতির পর সাদ গিয়ে হাসান ইবনু সাহলের সাথে মিলিত হন। ইবনু সাহল ছিলেন খলিফা আল-মামুনের মন্ত্রী। তিনি সাদকে সামরিক বাহিনীর বিচারক নিযুক্ত করেন। এটা হিজরি ২০১ সালের কথা।
খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ১৫১ হিজরিতে আল-মাহদি রায় নগরীতে নিজেই সামরিক বাহিনীর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি কেবল সৈন্যদের মাঝে কলহ মিটিয়ে দেওয়ার কাজ করতেন। অন্যদের ব্যাপারে তার কোনো কাজ ছিল না।
সামরিক বাহিনীর বিচারক একটি ভালো জায়গা করে নেয়। বিভিন্ন স্থানে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। আবুল আব্বাস আল-কালকাশান্দি তার সুবহুল আ’শা গ্রন্থে ধর্মীয় দায়িত্ব সংক্রান্ত আলোচনায় লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় প্রকার ধর্মীয় দায়িত্ব হচ্ছে সামরিক বাহিনীর বিচারকার্য পরিচালনা করা। এটা এক সম্মানজনক প্রাচীন দায়িত্ব, যা সুলতান সালাহুদ্দিন ইউসুফের সময় চালু ছিল। এ দায়িত্ব পালনকারী মিশরে বিচারকদের সাথে বিচারালয়ে উপস্থিত থাকতেন। সুলতানের সফরকালে তারা সাথে থাকতেন। তারা তিনজন যথাক্রমে শাফিয়ি, হানাফি এবং মালিকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। সেখানে হাম্বলি মাযহাবের কেউ থাকতেন না। বিচারালয়ে তারা ছাড়াও চারজন বিচারক থাকতেন। পরবর্তীকালে হাম্বলি মাযহাবের বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়।
সামরিক বাহিনীর বিচারকদের অন্যতম ছিলেন ওয়াহাব ইবনু ওয়াহাব ইবনি কাসির আল-আনসারি। খলিফা আর-রাশিদ তাকে আল-মাহদির বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইসমাঈল ইবনু ইসহাক ২৫৫ হিজরি পর্যন্ত আল-মাহদির সেনানিবাসে বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন। এরপর তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যান।

টিকাঃ
[৬৪০] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২৫৮; আল-কাদ্বাউল ইদারি, পৃ. ৫৯
[৬৪১] আখবারুল কুদ্বাহ: ৩/২৬৯
[৬৪২] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ৯৬
[৬৪৩] আখবারুল কুদ্বাহ: ৩/২৮০

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারকের ভাতা

📄 বিচারকের ভাতা


আব্বাসি খলিফাগণ কর্তৃক বিচারকদের ভাতা বৃদ্ধি করার বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। খলিফা মানসুর মিশরে আবদুল্লাহ ইবনু লাহিআহকে বিচারক নিযুক্ত করার সময় তার মাসিক ভাতা ৩০ দিনার নির্ধারণ করেছিলেন।
আর-রাশিদের যুগে বিচারক প্রধান প্রধান নগরীগুলোতে বার্ষিক ১ হাজার দিনারের কমে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতেন না। আল-মুফাদদল ইবনু ফাদ্বালাহকে খলিফা মাসিক ৩০ দিনারের বিনিময়ে মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন।
১৯৮ হিজরিতে খলিফা আল-মামুনের সময় ১৬৮ দিনারের বিনিময়ে আল-ফাদল ইবন গানিমকে মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন এমন ভাতা ধার্য করা প্রথম বিচারক। মিশরের বিচারক ইবনু হারবুইয়াহ’র মাসিক ভাতা ছিল ১২০ দিনার। এরপর বিচারকের জন্য প্রতিদিন সাত দিনার ধার্য করা হয়। এরপর আবুল জায়শ তার বিচারক মুহাম্মাদ ইবনু আবদিহি ইবনি হারব (মৃত্যু ৩১৩ হিজরি) -এর জন্য মাসে ৩ হাজার দিনার ধার্য করেন। পর্যটক নাসির খসরুর সূত্রে আহমাদ আমিন বর্ণনা করেছেন, ‘মিশরে প্রধান বিচারপতির মাসিক ভাতা ছিল ২ হাজার দিনার।’
সাধারণভাবে বিচারক নিযুক্তির প্রধান কারণ ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সকলের অধিকার সুরক্ষা এবং দ্বীন ও শরীয়ত কার্যকর করা। এ কারণেই বিচারকদের কাছে পারিশ্রমিকের বিষয়টা ছিল গৌণ। ভাতা গ্রহণ করা তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না। এ কারণে অনেকেই বেতন গ্রহণ থেকে বিরত থাকতেন। ধর্মীয় কর্তব্য বিবেচনা করে স্বেচ্ছাশ্রম দিতেন তারা। ঈসা ইবনু আবান এভাবে দশ বছর (২১১ থেকে ২২১ হিজরি পর্যন্ত) বসরার বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন। খলিফা আল-হাদি মূসা কর্তৃক নিযুক্ত কাসিম ইবনু মা’ন ছিলেন তাদের অন্যতম। অপরদিকে বিচারকগণ যে তাদের কাজের বিনিময়ে অনেক সম্পদশালী হয়ে গিয়েছিলেন—এমনটাও নয়। বরং তাদের অনেকেই কেবল পরিবারের ভরণপোষণ চালানোর নিমিত্তে অন্য কোনো কাজ করতেন। এই বাস্তবতার স্বীকৃতি দিয়ে ঐতিহাসিক ইবনু খালদুন লিখেছেন, ‘ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারী যেমন বিচারক, ফতোয়াদাতা, শিক্ষক, ইমাম, খতিব এবং মুয়াযযিন—সাধারণভাবে এদের অবস্থা কখনোই স্বচ্ছল হয় না।... নিজেদের কর্মের জন্য মানুষের মাঝে তারা শ্রেষ্ঠত্ব রাখেন। নিজেদেরও তারা এমনটাই মনে করে থাকেন। তাই পদমর্যাদার অধিকারীদের কাছে নতিস্বীকার করে অধিক সম্পদ সঞ্চয়ের পথে তারা অগ্রসর হন না। আসলে তারা যে মহান কর্মে মশগুল আছেন, এর মর্যাদাই তাদেরকে পার্থিব ক্ষমতার পেছনে দৌড়ানো থেকে বিরত রাখে। কারণ এমন করাটা তাদের জন্য শোভনীয় নয়। এজন্যই বিত্তশালী হওয়াটা সাধারণত তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ... আমার হাতে খলিফা আল-মামুনের হিসাব দফতরের কিছু ছিন্নপত্র আছে, যা-তে তৎকালীন আয়-ব্যয়ের অনেক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। বিচারক, ইমাম এবং মুয়াযযিনের ভাতার যে হিসাব আমি দেখলাম, তা থেকে আমার ওপর্যুক্ত কথাই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।
বিচারকদের ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়া হতো। তবে এটা সত্য যে, আব্বাসি যুগের দ্বিতীয়ার্ধে কিছু সময় এ অবস্থার অবনতি হয়েছিল। কোনো কোনো বিচারক নিজেদের কর্মকে সম্পদ জমানোর কাজে লাগিয়েছিল। ট্যাক্স বসিয়ে আপামর সাধারণ মানুষের সম্পদ লুটে নিত। এ নিয়ে আমরা সামনে আলোচনা করব।

টিকাঃ
[৬৪৪] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ৩৬৯; যুহরুল ইসলাম: ২/২৫১; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২১৩
[৬৪৫] আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৪৮
[৬৪৬] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ৩৭৭
[৬৪৭] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ৪২১; যুহরুল ইসলাম: ২/২৫১; আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৪৮
[৬৪৮] আল-উলাতু ওয়াল কুদ্ধাহ, পৃ. ২৩৩, ২৪১
[৬৪৯] যুহরুল ইসলাম: ২/২৫১
[৬৫০] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২১৪
[৬৫১] আখবারুল কুদ্ধাহ: ২/১৭১-১৭২। মৃত্যুকালে সন্তানের জন্য তিনি কিছু রেখে যাননি।
[৬৫২] আখবারুল কুদ্ধাহ: ২/১৭৫, ১৭৭
[৬৫৩] ইবনু খালদুন, আল-মুকাদ্দিমাহ, পৃ. ৩৯৩-৩৯৪
[৬৫৪] আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৪৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00