📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 উমাইয়া যুগে কুফার বিচারকগণ

📄 উমাইয়া যুগে কুফার বিচারকগণ


সে যুগে কুফা ছিল জ্ঞানতৎপরতায় সর্বাধিক চাঞ্চল্যে ভরপুর নগরী। উমর -এর যুগে কুফা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সেটা ছিল তৎপর, গতিমুখর এবং জ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র। আলি এ শহরকে ইসলামি খিলাফতের রাজধানী বানিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য অনেক বিচারক এখানে ছিলেন, যারা এই শহরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। উরওয়া ইবনুল জাদি আল-বারীকি, সালমান ইবনু রবীআ আল-বাহিলি, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, জাবর ইবনুল কাসআম আল-কিনদি, শারহাবিল ইবনু জাবর এবং আবু কুররা আল-কিনদি ছিলেন তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য। আবু কুররার নাম কেউ কেউ সালামা ইবনু মুআবিয়া বলেছেন। এদের প্রত্যেকেই ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব-এর যুগের বিচারক। আমিরুল মুমিনীন সর্বশেষে শুরাইহকে কুফার বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি রাশিদুন যুগের দীর্ঘসময় বিচারের দায়িত্ব পালন করেন। উমাইয়া যুগেও শুরাইহ দীর্ঘকাল বিচারের দায়িত্ব পালন করেন। ৩৫ বছরের চেয়েও বেশি সময় তিনি বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মাঝে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর এবং আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের মধ্যকার ফিতনার সময় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপর প্রশাসক হাজ্জাজের কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইলে ৭৮ হিজরিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর আরও কয়েকজন বিচারক কুফার বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের কথা আমরা এখানে আলোচনা করব।

১. মাসরুক ইবনুল আজদা আল-হামাদানি: মুআবিয়া কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসক যিয়াদের অধীনে বিচারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম। তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে থাকা কোনো জিনিসের ব্যাপারে দুজন ব্যক্তি দাবি করেছে—এমতাবস্থায় উভয়ের প্রমাণ সমান হলে জিনিসটা উভয় দাবিদারের মাঝে বণ্টন করে দিতেন।

২. আবদুর রহমান ইবনু আবি লাইলা: হাজ্জাজ কুফায় আগমন করে তাকে বিচারক নিযুক্ত করেন। ফয়সালা প্রদানের পূর্বে পরামর্শ করার জন্য সাঈদ ইবনু জুবায়রকে সাথে নিয়ে তিনি বিচার করতে বসতেন।

৩. আমির ইবনু আবদুল্লাহ ইবনি কায়স: আবু বুরদা ইবনু আবি মূসা আশআরি নামে তিনি পরিচিত। ইবনু আবি লাইলার পর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ তাকে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিয়োগ দিয়েছিল। আবু বুরদা নিজের বাড়িতে বসেই বিচার করতেন। তিন বছর দায়িত্ব পালন করার পর তিনি হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফের কাছে অব্যাহতি চাইলে হাজ্জাজ তাকে অব্যাহতি দিয়ে তার ভাই আবু বকর ইবনু আবি মূসাকে তার স্থলাভিষিক্ত করে।

ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি শাবির কাছে কোনো কিছু জানতে চাইলে তাকে আবু বকর ইবনু মূসার কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবু বকর ইবনু মূসা তখন বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। উমর ইবনু আবদিল আজিজ বসরার প্রশাসক হওয়ার আগ পর্যন্ত আবু বকর ইবনু মূসা বসরায় বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন।

৪. আমের ইবনু শারাহিল শাবি : উমর ইবনু আবদিল আজিজ তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। শাবি ছিলেন বসরার অন্যতম খ্যাতিমান বিচারক। অনেকবার বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েও অবশেষে ১০৩ হিজরি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কেউ কেউ অবশ্য ১০৪ হিজরির কথা বলেছেন। তার অনেক প্রসিদ্ধ বিচারকার্য রয়েছে। বিচারকার্যে তার চমৎকার আচরণ আজও প্রশংসনীয়।

৫. আবদুল মালিক ইবনু উমাইর আল-লাখমি: শাবির পর কে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, আবদুল মালিক। আবার কারও কারও মতে, আল-কাসিম। আবদুল মালিক ছিলেন অত্যন্ত বিশুদ্ধভাষী, ধীশক্তির অধিকারী।

৬. কাসিম ইবনু আবদুর রহমান: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ-এর নাতি। তিনি বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব বাবদ কোনো ভাতা নিতেন না। উমর ইবনু আবদিল আজিজ এ সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইতেন। তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী। স্বাধীন ব্যক্তিকে অপবাদ আরোপ করায় একজন ক্রীতদাসকে তিনি ৮০ ঘা চাবুক মেরেছিলেন। মোকদ্দমায় শপথ করা থেকে তিনি বিরত থাকতেন।

উমর ইবন হুবায়রা বসরার প্রশাসক হওয়ার পর আল-কাসিমকে বরখাস্ত করে তার জায়গায় হুসাইন ইবনু হাসান আল-কিনদিকে বিচারক নিযুক্ত করলেন। তারপর খালিদ ইবন আবদিল্লাহ আল-কুসারি প্রশাসক হয়ে হুসাইনকে পদচ্যুত করে তার জায়গায় সাঈদ ইবন আশওয়াকে বিচারক নিযুক্ত করলেন। তারপর নিয়োগ দেন ঈসা ইবনুল মুসাইয়াব আল-বাজালিকে। ঈসা ছিলেন সাঈদের অন্যতম সহযোগী। কেউ কেউ বলেন, সাঈদকে বরখাস্ত করে খালিদ তার জায়গায় হাকাম ইবনু উতাইবা আল-ইজলিকে নিয়োগ দেন। তারপর পর্যায়ক্রমে আবদুল্লাহ ইবনু নাউফ আত-তাইমিকে এবং মুহারিব ইবনু দিসার আস-সাদুসিকে। আবু বকর এবং উমর-এর প্রতি ভালোবাসা রাখে না-এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য মুহারিব গ্রহণ করতেন না। এরপর আবদুল্লাহ ইবনু শুবরুমাহকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আব্বাসি যুগ অবধি দায়িত্ব পালন করেন। ১৪৪ হিজরিতে তার ইন্তেকাল হয়।

তার অব্যাহতির পরই কুফার বিচারব্যবস্থার দায়িত্বে আসেন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনি আবি লাইলা। ইউসুফ ইবনু উমর আস-সাকাফি যাকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন কুফাবাসীদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ফকিহ। ইলম এবং জীবনযাত্রায় তিনি ছিলেন ইবনু শুবরুমাহর সহযাত্রী। কুফার বিচারকার্য পরিচালনায় হাজ্জাজ ইবনু মানসুর আল-মুহারিবিকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারপর নিয়োগ দেওয়া হয় মানসুর ইবনু মুতামিরকে। তিনি ছিলেন উমাইয়া যুগে সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

**টিকাঃ**
[৫১০] আখবারুল কাদ্ধা: ২/১৮৪; তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ৩১। আলি -ও কুফাতে কয়েকজন বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন। অবশেষে শুরাইহ সেখানে স্থির হন। (আখবারুল কাদ্বা: ২/৩৯৯)
[৫১১] রাওদ্বাতুল কুদ্ধাহ: ৪/১৪৯৮
[৫১২] আখবারুল কুদ্বাহ: ২/৪০৭
[৫১৩] আখবারুল কুদ্বাহ: ২/৪০৬, ৪০৮, ৪১২, ৪১৩
[৫১৪] আখবারুল কুদ্ধাহ: ২/৪১৩; আল-আলাম: ৪/১৮; রাওদ্বাতুল কুদ্ধাহ: ৪/১৪৯৭; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৩১
[৫১৫] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/৩
[৫১৬] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/৬ এবং ৭
[৫১৭] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/১৬-৪০
[৫১৮] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/১৭৪

সে যুগে কুফা ছিল জ্ঞানতৎপরতায় সর্বাধিক চাঞ্চল্যে ভরপুর নগরী। উমর -এর যুগে কুফা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সেটা ছিল তৎপর, গতিমুখর এবং জ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র। আলি এ শহরকে ইসলামি খিলাফতের রাজধানী বানিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য অনেক বিচারক এখানে ছিলেন, যারা এই শহরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। উরওয়া ইবনুল জাদি আল-বারীকি, সালমান ইবনু রবীআ আল-বাহিলি, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, জাবর ইবনুল কাসআম আল-কিনদি, শারহাবিল ইবনু জাবর এবং আবু কুররা আল-কিনদি ছিলেন তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য। আবু কুররার নাম কেউ কেউ সালামা ইবনু মুআবিয়া বলেছেন। এদের প্রত্যেকেই ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব-এর যুগের বিচারক। আমিরুল মুমিনীন সর্বশেষে শুরাইহকে কুফার বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি রাশিদুন যুগের দীর্ঘসময় বিচারের দায়িত্ব পালন করেন। উমাইয়া যুগেও শুরাইহ দীর্ঘকাল বিচারের দায়িত্ব পালন করেন। ৩৫ বছরের চেয়েও বেশি সময় তিনি বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মাঝে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর এবং আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের মধ্যকার ফিতনার সময় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপর প্রশাসক হাজ্জাজের কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইলে ৭৮ হিজরিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর আরও কয়েকজন বিচারক কুফার বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের কথা আমরা এখানে আলোচনা করব।

১. মাসরুক ইবনুল আজদা আল-হামাদানি: মুআবিয়া কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসক যিয়াদের অধীনে বিচারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম। তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে থাকা কোনো জিনিসের ব্যাপারে দুজন ব্যক্তি দাবি করেছে—এমতাবস্থায় উভয়ের প্রমাণ সমান হলে জিনিসটা উভয় দাবিদারের মাঝে বণ্টন করে দিতেন।

২. আবদুর রহমান ইবনু আবি লাইলা: হাজ্জাজ কুফায় আগমন করে তাকে বিচারক নিযুক্ত করেন। ফয়সালা প্রদানের পূর্বে পরামর্শ করার জন্য সাঈদ ইবনু জুবায়রকে সাথে নিয়ে তিনি বিচার করতে বসতেন।

৩. আমির ইবনু আবদুল্লাহ ইবনি কায়স: আবু বুরদা ইবনু আবি মূসা আশআরি নামে তিনি পরিচিত। ইবনু আবি লাইলার পর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ তাকে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিয়োগ দিয়েছিল। আবু বুরদা নিজের বাড়িতে বসেই বিচার করতেন। তিন বছর দায়িত্ব পালন করার পর তিনি হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফের কাছে অব্যাহতি চাইলে হাজ্জাজ তাকে অব্যাহতি দিয়ে তার ভাই আবু বকর ইবনু আবি মূসাকে তার স্থলাভিষিক্ত করে।

ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি শাবির কাছে কোনো কিছু জানতে চাইলে তাকে আবু বকর ইবনু মূসার কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবু বকর ইবনু মূসা তখন বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। উমর ইবনু আবদিল আজিজ বসরার প্রশাসক হওয়ার আগ পর্যন্ত আবু বকর ইবনু মূসা বসরায় বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন।

৪. আমের ইবনু শারাহিল শাবি : উমর ইবনু আবদিল আজিজ তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। শাবি ছিলেন বসরার অন্যতম খ্যাতিমান বিচারক। অনেকবার বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েও অবশেষে ১০৩ হিজরি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কেউ কেউ অবশ্য ১০৪ হিজরির কথা বলেছেন। তার অনেক প্রসিদ্ধ বিচারকার্য রয়েছে। বিচারকার্যে তার চমৎকার আচরণ আজও প্রশংসনীয়।

৫. আবদুল মালিক ইবনু উমাইর আল-লাখমি: শাবির পর কে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, আবদুল মালিক। আবার কারও কারও মতে, আল-কাসিম। আবদুল মালিক ছিলেন অত্যন্ত বিশুদ্ধভাষী, ধীশক্তির অধিকারী।

৬. কাসিম ইবনু আবদুর রহমান: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ-এর নাতি। তিনি বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব বাবদ কোনো ভাতা নিতেন না। উমর ইবনু আবদিল আজিজ এ সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইতেন। তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী। স্বাধীন ব্যক্তিকে অপবাদ আরোপ করায় একজন ক্রীতদাসকে তিনি ৮০ ঘা চাবুক মেরেছিলেন। মোকদ্দমায় শপথ করা থেকে তিনি বিরত থাকতেন।

উমর ইবন হুবায়রা বসরার প্রশাসক হওয়ার পর আল-কাসিমকে বরখাস্ত করে তার জায়গায় হুসাইন ইবনু হাসান আল-কিনদিকে বিচারক নিযুক্ত করলেন। তারপর খালিদ ইবন আবদিল্লাহ আল-কুসারি প্রশাসক হয়ে হুসাইনকে পদচ্যুত করে তার জায়গায় সাঈদ ইবন আশওয়াকে বিচারক নিযুক্ত করলেন। তারপর নিয়োগ দেন ঈসা ইবনুল মুসাইয়াব আল-বাজালিকে। ঈসা ছিলেন সাঈদের অন্যতম সহযোগী। কেউ কেউ বলেন, সাঈদকে বরখাস্ত করে খালিদ তার জায়গায় হাকাম ইবনু উতাইবা আল-ইজলিকে নিয়োগ দেন। তারপর পর্যায়ক্রমে আবদুল্লাহ ইবনু নাউফ আত-তাইমিকে এবং মুহারিব ইবনু দিসার আস-সাদুসিকে। আবু বকর এবং উমর-এর প্রতি ভালোবাসা রাখে না-এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য মুহারিব গ্রহণ করতেন না। এরপর আবদুল্লাহ ইবনু শুবরুমাহকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি আব্বাসি যুগ অবধি দায়িত্ব পালন করেন। ১৪৪ হিজরিতে তার ইন্তেকাল হয়।

তার অব্যাহতির পরই কুফার বিচারব্যবস্থার দায়িত্বে আসেন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনি আবি লাইলা। ইউসুফ ইবনু উমর আস-সাকাফি যাকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন কুফাবাসীদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ফকিহ। ইলম এবং জীবনযাত্রায় তিনি ছিলেন ইবনু শুবরুমাহর সহযাত্রী। কুফার বিচারকার্য পরিচালনায় হাজ্জাজ ইবনু মানসুর আল-মুহারিবিকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারপর নিয়োগ দেওয়া হয় মানসুর ইবনু মুতামিরকে। তিনি ছিলেন উমাইয়া যুগে সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

**টিকাঃ**
[৫১০] আখবারুল কাদ্ধা: ২/১৮৪; তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ৩১। আলি -ও কুফাতে কয়েকজন বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন। অবশেষে শুরাইহ সেখানে স্থির হন। (আখবারুল কাদ্বা: ২/৩৯৯)
[৫১১] রাওদ্বাতুল কুদ্ধাহ: ৪/১৪৯৮
[৫১২] আখবারুল কুদ্বাহ: ২/৪০৭
[৫১৩] আখবারুল কুদ্বাহ: ২/৪০৬, ৪০৮, ৪১২, ৪১৩
[৫১৪] আখবারুল কুদ্ধাহ: ২/৪১৩; আল-আলাম: ৪/১৮; রাওদ্বাতুল কুদ্ধাহ: ৪/১৪৯৭; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৩১
[৫১৫] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/৩
[৫১৬] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/৬ এবং ৭
[৫১৭] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/১৬-৪০
[৫১৮] আখবারুল কুদ্ধাহ: ৩/১৭৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00