📄 বরখাস্তকরণ এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগ
উমাইয়া যুগে বিচারকদের ব্যাপক রদবদল দেখা গিয়েছিল। বিচারকদের বরখাস্ত করা অথবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ ছিল এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়াও আরও অনেক কারণ ছিল।
পূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি, প্রাদেশিক শাসকরা বিভিন্ন শহর এবং উপশহরে বিচারক নিয়োগের দায়িত্ব পালন করতেন। এটাই ছিল বিচারকদের বরখাস্ত করা বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার অন্যতম প্রধান কারণ। সে-সময় প্রাদেশিক শাসকরাও ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতো। কারণ তখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং প্রশাসনিকভাবে রাজনৈতিক আন্দোলন হতো। বিভিন্ন দল এবং উপদলে বিপ্লবের উত্থান ঘটত। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছিল সাধারণ ঘটনা। এ কারণেই প্রশাসকদের রদবদল করা হতো। বিশেষত নতুন কোনো প্রশাসক আসলেই আগের বিচারককে বরখাস্ত করে নতুন বিচারক নিয়োগের প্রচলন ছিল। কখনো-সখনো আগের বিচারককে বহাল রাখা হতো।
কিন্দি বলেন, মারওয়ান ইবনু মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হাওসারা ইবনু সুহাইল আল-বাহিলি মিশরে এল। তারা সেখানকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের হত্যা করল। একপর্যায়ে বরখাস্ত করল বিচারক খাইর ইবনু নুআইমকে। হাসসান ইবনু আতাহিয়া তখন হাওসারাকে বললেন, 'আপনি তো হাদরামাউতের জন্য এই নেতা (অর্থাৎ খাইর ইবনু নুআইম) ছাড়া আর কাউকেই অবশিষ্ট রাখেননি। এখন তাকে শেষ করে দেওয়া মানে এই অঞ্চলকেই (উমাইয়াদের থেকে) বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।' হাওসারা অবশেষে খাইর ইবনু নুআইমকে বরখাস্ত করে তার জায়গায় আবদুর রহমান ইবনু সালিমকে নিয়োগ দিলেন।
সায়েব ইবনু হিশামের ইতিহাসে হাফিজ ইবনু হাজার লিখেন, 'মাসলামা ইবনু মাখলাদ তাকে মরক্কোর বিচারের দায়িত্বের পাশাপাশি মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্বও প্রদান করেন। আর এটা ছিল সুলাইম ইবনু আনরের পর মুআবিয়া -এর যুগের ঘটনা। আর সুলাইমই ছিল সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যাকে মুআবিয়া এবং মাসলামা দুজনই নিয়োগ দিয়েছিলেন।' ইবনু হাজার আরও লিখেন, 'তারপর মাসলামার কাছে এ খবর পৌঁছল যে, সুলাইম বলেন, "আমিরের দরজায় যাওয়া বিচারকের উচিত নয়। বরং বিচারকের দরজায় আমিরের যাওয়া উচিত।" মাসলামা তখন সুলাইমকে বরখাস্ত করে দেয়।'
ওয়াকি বলেন, ১২৫ হিজরিতে হিশাম ইবনু আবদিল মালিক ইন্তেকাল করলে ওয়ালিদ ইবনু ইয়াজিদ ক্ষমতায় আসেন। তখন তিনি হিশাম ইবনুল ওয়ালিদকে শহরে প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করে সে জায়গায় ইউসুফ ইবনু খালিদকে নিয়োগ দেন। ইউসুফকে অবশ্য আগেই বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। পরে তাকে বরখাস্ত করেন। এভাবেই শহরে কোনো নতুন প্রশাসক নিয়োগ হলে তিনি নতুন বিচারক নিয়োগ দিতেন এবং সাবেক বিচারককে বরখাস্ত করতেন।
অনেক সময় বিচারকদের সাথে সম্পৃক্ত কিছু কারণেও বরখাস্ত করা হতো। যেমন উমর ইবন আবদিল আজিজ এক বিচারককে এজন্য বরখাস্ত করেছিলেন যে, মামলার মীমাংসার ক্ষেত্রে বাদী-বিবাদীর তুলনায় সে বেশি কথা বলত। কোনো ত্রুটি, সুন্নাহ এবং ইজমার বিরোধিতা, শরীয়তের বিধি-নিষেধ বা বিচারের নিয়ম অমান্য করা, আমানতদারিতার ব্যাপারে অভিযোগ, কিংবা অধিকাংশ জনগণের অভিযোগের কারণেও অনেক সময় বিচারককে বরখাস্ত করা হতো।
আবার বিচারকরাও অনেক সময় বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব থেকে সরে যেতেন। যেমন বিচারপতি শুরাইহ বার্ধক্যজনিত কারণে হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফের কাছে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। উমাইয়া যুগে খাইর ইবনু নুআইম দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছিলেন। কারণ আমির মিশরের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের হত্যা করেন। আব্বাসীয় যুগেও তিনি আরও এক বার বিচারের দায়িত্ব থেকে সরে যান। কেননা তিনি অভিযোগের কারণে একজন সৈন্যকে বন্দি করেছিলেন। কিন্তু আমির সেই সৈন্যটিকে ছেড়ে দেয়। খাইর তখন সৈন্যটিকে পুনরায় বন্দি করার জন্য পীড়াপীড়ি করেন। অবশেষে তার কথা মানা হচ্ছে না দেখে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যান।
বিচারক ইমরান ইবনু আবদিল্লাহরও এমনই একটি ঘটনা আছে। একবার তার কাছে সাক্ষ্য দেওয়া হয় যে, আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল মালিকের একজন মুনশি নেশা করেছে। তখন তিনি সেই মুনশির বিচার করতে চাইলে প্রশাসক আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল মালিক তাকে বাধা দেয়। তখন বিচারক ইমরান বলেন, 'বেশ, আমি বিচারের দায়িত্বও পালন করব না। আবার তাকে শাস্তিও দেবো না।' যে কথা সেই কাজ। তিনি বিচার তো করলেনই না; এমনকি বিচারের দায়িত্ব থেকেও সরে গেলেন।
**টিকাঃ**
[৩৮৫] আল-উলাতু ওয়াল-কুদ্দাহ: ১/৩৫২
[৩৮৬] রাফউল ইসর আন কুদ্দাতি মিশর: ২/২৪৪; আল-উলাতু ওয়াল-কুদ্বাহ: ১/৩১২
[৩৮৭] আখবারুল কুদ্দাহ: ১/১৮৭। প্রশাসক রদবদল এবং শহরের বিচারক বরখাস্ত করার উদাহরণ দেখতে আখবারুল কুদ্দাহ: ১/১১৪-১২০ দেখুন।
[৩৮৮] বিচারক বরখাস্ত করার ঐতিহাসিক উদাহরণ দেখতে নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআতি ওয়াত তারীখ, পৃ. ১৭০ দেখুন।
[৩৮৯] আখবারুল কুদ্দাহ: ২/৪০৮; নিযামুল হুকমি, পৃ. ১৭৯
[৩৯০] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ১৭৮; আল-উলাতু ওয়াল-কুদ্বাহ, পৃ. ৩৫২
[৩৯১] নিযামুল হুকমি, পৃ. ১৭৮
📄 মসজিদ এবং অন্যান্য জায়গায় বিচার-সালিশ
অধিকাংশ ইসলামি শহরে বিচারের কার্যক্রম মসজিদেই পরিচালিত হতো। যেসব বিচারকদের নিয়োগ দেওয়া হতো, মসজিদেই তাদের শপথগ্রহণ হতো।
উমাইয়া যুগে বিচারকগণ অধিকাংশ বিচার জামে মসজিদে কিংবা মসজিদের মূল ফটকে করতেন। মদীনার বিচারক আবু বকর ইবনু হাযাম মসজিদেই বিচারের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তার কাছেই চাবুক হাতে প্রহরীরা দাঁড়ানো থাকত।
বিচারক ইয়াস বসরার বাজারে বিচার করতেন। আর এ ধরনের বিচার জামে মসজিদের বিচারের মতোই হতো।
বসরার অপর বিচারক আবু বুরদাহ তার বাসভবনে বিচার করতেন। শাবি বিচার করতেন কুফার জামে মসজিদে। সেখানেই শান্তি বাস্তবায়ন করতেন।
আবদুল্লাহ ইবনু নাওফ আত-তাইমি বিচার করতেন কুফার কেন্দ্রীয় মসজিদে। ইবনু আবি লাইলা মসজিদেই দণ্ডবিধি প্রয়োগ করতেন।
**টিকাঃ**
[৩৯২] আল-ইসলামু ওয়াল হাদ্বারাতুল আরাবিয়্যাহ: ২/১৬৯; আল-কাদ্বাউল ইদারি, পৃ. ৪৬; আখবারুল কুদ্দাহ: ১/১৪৫ ও ৩৩৯
[৩৯৩] আখবারুল কুদ্বাহ: ২/৩২৮, ৪১২ এবং ৪১৪
[৩৯৪] আখবারুল কুদ্বাহ: ৩/২৪
[৩৯৫] আখবারুল কুদ্বাহ: ৩/১৩৫
📄 বিচারকের পদ থেকে দূরে থাকা
উমাইয়া যুগে আলিম এবং ফকিহদের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার বিষয়টি ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। এর পেছনে অনেক কারণ ছিল। গুরুত্বপূর্ণ দুয়েকটি কারণ এখানে উল্লেখ করা হলো:
১. রাজনৈতিক দিক: সে-সময় কিছু আলিম উমাইয়া-বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষণ করতেন। উমাইয়া যুগেই এ সকল আন্দোলনের উত্থান ঘটে। এ আন্দোলনের অনেক আহ্বায়ক তৈরি হয়। অনেক আলিম প্রত্যক্ষভাবে এসব আন্দোলনকে সমর্থন না করলেও এসবের প্রতি তারা একধরনের টান অনুভব করতেন। এগুলোর প্রতি তারা সংবেদনশীল ছিলেন। এ কারণেই তারা বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। যাতে তাদেরকে উমাইয়া প্রশাসনের লোক মনে করা না হয়। কেউ যাতে তাদেরকে প্রশাসনের সমর্থক না ভাবে। কিছু আলিম তো এমনও ছিলেন, সরকার-বিরোধী আন্দোলনের সাথে যাদের কোনো সম্পর্কই ছিল না, কিন্তু উমাইয়াদের কিছু রাজনৈতিক পলিসি নিয়ে তারা ছিলেন বেশ ক্ষুব্ধ। উমাইয়াদের কিছু রাজনৈতিক পলিসি ছিল রাশিদুন যুগের রাজনীতি থেকে আলাদা। যেমন, পরবর্তী শাসক নিযুক্ত করে যাওয়া। উমাইয়ারা ইসলামি রাজনীতির তুলনায় পার্থিব রাজনীতির দিকে একটু বেশিই ঝুঁকে পড়েছিল। নেককার পূর্বসূরিদের আদর্শের সাথে তাদের খুব বেশি মিল ছিল না। তাই আলিম সমাজ এবং উমাইয়া শাসকদের মাঝে একটি ফাটল তৈরি হয়েছিল। এসব কারণে তারা বিচারকের পদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।
২. আধ্যাত্মিক দিক: এটাও ছিল আলিমদের বিরত থাকার অন্যতম কারণ। বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব কতটা নাজুক, আলিমরা সেটা বুঝতে পারতেন। এ ব্যাপারটিকে তারা ভীষণ ভয় করতেন। তারা মনে করতেন, এ এমন এক পরীক্ষা, যার পরিণাম তাদের অজানা। তাদের ভয় থাকত, পাছে জাহান্নামি বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান কি না! না-জানি জালিম আর অন্যায় বিচারক হতে হয়। কিংবা তারা মনে করতেন, সুচারুরূপে বিচারের দায়িত্ব পালন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। কারণ এ পথে রয়েছে প্ররোচনাদায়ক নানান জিনিস, কুপ্রবৃত্তির চাহিদা, ঘুস-সহ বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপের হাতছানি। এখানে শাসক এবং প্রশাসকের মুখোমুখি হতে হবে। সামাজিক সমালোচনার সামনে তারা টিকে থাকতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে মানুষ কেবল সে-সকল ন্যায়পরায়ণ বিচারকদেরই বরদাস্ত করে, যারা সকল শ্রেণির এবং সমস্ত স্তরের মানুষের মাঝে অকপটে শরীয়তের বাস্তবায়ন ঘটায় এবং বিচারের বিধান প্রয়োগ করে।
উমাইয়া যুগে আলিমগণের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার অনেক দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বর্ণিত আছে। সেখান থেকে মাত্র কয়েকটা আমরা এখানে উল্লেখ করব।
১. আবদুল্লাহ ইবনু উতবা ইবনি মাসউদ আল-হুযালি: মুসআব ইবনুয যুবাইরের সময় তিনি ছিলেন কুফাবাসীদের বিচারক। আস্থাভাজন বিচারক হিসেবে সবাই তাকে চিনত। উমাইয়া যুগে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তাকে ডাকা হলে তিনি বিরত থাকলেন। তখন একজন লোক গোপনে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, 'তোমার কাছে আমার একটি প্রয়োজন আছে।' লোকটি জানতে চাইল, 'কী প্রয়োজন?' তিনি বললেন, 'তুমি এই অঙ্গারের মধ্যে একটি আঙুল রাখো তো দেখি।' লোকটি অবাক হয়ে বলল, 'সুবহানাল্লাহ, এ কী বলছেন আপনি!' তিনি বললেন, 'দুনিয়াতে একটি আঙুল বাঁচাতে তুমি কতটা সতর্ক। অথচ (দায়িত্ব নিলে) জাহান্নামে আমার গোটা শরীরই যে জ্বলবে!'
২. মুসাইয়াব ইবনু রাফেকে উমর ইবনু হুবাইরা: তাকে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ডাকলে তিনি বললেন, 'বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করলে যদি তোমাদের মসজিদের এই চৌহদ্দি স্বর্ণে পরিণত হয়ে যায়, তবুও সেটা আমার কাছে পছন্দনীয় হবে না।'
৩. হাফ ইবনুল হারিস আল-ইয়ামানি: সিমনানি বর্ণনা করেন, হাফ ইবনুল হারিসকে খলিফা আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান বিচারের দায়িত্ব দিতে চাইলে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং বিরত থাকেন। তখন খলিফা তাকে আর জোরাজুরি করেননি।
৪. মাকহুল: তিনি ছিলেন তৎকালীন (১১৩ হিজরি) শামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ। বিচারকের পদ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, 'বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ অপেক্ষা আমার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।' তিনি আরও বলেন, 'আমাকে যদি বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং আমার গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে যে-কোনো একটা বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে আমার গর্দান উড়িয়ে দেওয়াটাই আমি পছন্দ করব।'
৫. হাইওয়া ইবনু শুরাইহ: ইয়াজিদ ইবনু হাতিম তাকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল। তখন হাইওয়া সাফ জানিয়ে দেন-'আমি এটা পারব না। এখন আপনি যা ইচ্ছা করতে পারেন।' তখন ইয়াজিদ ইবনু হাতিম তাকে ছেড়ে দিয়ে আবু খুযাইমা ইবরাহীম ইবনু ইয়াজিদকে বিচারের দায়িত্ব দিলো। এই ঘটনার পর হাইওয়া সবসময় বলতেন, 'আবু খুযাইমা আমার চেয়ে উত্তম। তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে। আর সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।' আবু খুযাইমার বিচারের দায়িত্ব গ্রহণের কারণ সম্পর্কে ওয়াকি বলেছেন, 'সালিহ ইবনু আলি নামক এক ব্যক্তিকে বিচারের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আবু আউন পরামর্শ করলে তাকে তিনজন ব্যক্তির ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হলো। সেই তিনজন হলেন যথাক্রমে হাইওয়া ইবনু শুরাইহ, আবু খুযাইমা এবং আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস আল-গাসসানি। আবু খুযাইমাকে ইস্কান্দারিয়ায় ডেকে আনা হলো। বাকি দুজনকে ডাকা হলে তারাও এলেন। প্রথমে হাইওয়াকে দায়িত্ব দিতে চাওয়া হলে তিনি গ্রহণে অসম্মতি জানালেন। এরপর তাকে ভয় দেখানোর জন্য তরবারি এবং চামড়ার মাদুর আনা হয়। এটা দেখে হাইওয়া সাথে থাকা একটি চাবি বের করে বললেন, 'এটা আমার ঘরের চাবি। আমি তো আমার শেষ ঠিকানা জান্নাতের প্রতি আগ্রহী।' হাইওয়ার এমন দৃঢ়চেতা মনোভাব দেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। তখন হাইওয়া তাদের বলে দিলেন, 'তার অপর সঙ্গী দুজনের কাছে যেন তার অস্বীকৃতির বিষয়টি প্রকাশ না করা হয়। তাহলে আমি যা করেছি তারাও সেটাই করবে।' এভাবেই হাইওয়া বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বেঁচে গেলেন। সুয়ূতি বলেন, তারপর আবু খুযাইমাকে ডেকে বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হলে তিনিও অসম্মতি প্রকাশ করেন। তখন তার সামনেও তরবারি এবং চামড়ার মাদুর আনা হলে তার অন্তর দুর্বল হয়ে যায়। এটা বরদাস্ত করতে না পেরে তিনি বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে নেন। ফলত তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। তারপর তিনি কর্মক্ষেত্রে চমৎকার দক্ষতার পরিচয় দিতে লাগলেন।
৬. আবু হানিফা : মারওয়ান ইবনু মুহাম্মাদ কর্তৃক নিযুক্ত ইরাকের প্রশাসক ছিল ইয়াজিদ ইবনু হুবায়রা। সে ইমাম আবু হানিফা -কে ডেকে বিচারের দায়িত্ব দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণে অসম্মতি প্রকাশ করেন। যার কারণে তাঁকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এর কারণ সম্ভবত এটাও ছিল যে, যায়িদ ইবনু আলি ১২২ হিজরিতে কুফায় বনু উমাইয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার আগে আবু হানিফা -এর পক্ষ থেকে যায়িদ ইবনু আলির ব্যাপারে প্রশংসামূলক কিছু বক্তব্য পাওয়া গিয়েছিল। তাই ইবনু হুবায়রার ইচ্ছা ছিল, ইমাম আবু হানিফাকে উমাইয়াদের পক্ষ থেকে বিচারের দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা। এরপরও তাঁর অসম্মতি দেখে তাঁকে শাস্তিও দিয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা আবু হানিফা -এর সাথে বেশ কয়েকবার ঘটেছে। ১২৭ হিজরিতে আবদুল্লাহ ইবনু জাফরের নাতি আবদুল্লাহ ইবনু মুআবিয়া যখন উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, ইবনু হুবায়রা তখন আবু হানিফা -কে পুনরায় পরীক্ষা করে। একপর্যায়ে তাঁকে প্রহারও করা হয়। কারণ ইমাম আবু হানিফা যে বনু উমাইয়ার আদর্শ থেকে সরে গেছেন, সেটা ইবনু হুবায়রা ধরতে পেরেছিল। মূলত এটাই ছিল তাঁকে প্রহার করার কারণ। বিচারের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে প্রহার করা হয়েছিল—বিষয়টি এমন নয়। আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ যখন আব্বাসীয় খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন ইমাম আবু হানিফার সাথে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সে-সময় কুফা ছিল এই আন্দোলনের বড় কেন্দ্র। সেখানেই আবুল আব্বাসের বাইয়াত সম্পন্ন হয়।
৭. আবদুর রহমান ইবনু আমর আল-আওযায়ি : তিনি ছিলেন শামের প্রখ্যাত ফকিহ। ইয়াজিদ ইবনুল ওয়ালিদ এক মজলিসে বসে তাঁকে বিচারের দায়িত্ব অর্পণ করে। তখন তিনি অব্যাহতি চাইলে তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসকরা মুসলিম উম্মতের স্বার্থেই বড় বড় আলিমদের দায়িত্ব প্রদানে আগ্রহী ছিল। ন্যায়, ইনসাফ এবং সততা রক্ষার্থে প্রশাসকরা উম্মতের সূর্যসন্তান তথা ফকিহ এবং আলিমদের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করত।
**টিকাঃ**
[৩৯৬] আলিম এবং ফকিহদের বিচারকার্যের দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মতি বিষয়ে আত-তুরাস পত্রিকার ৩য় বর্ষের ১১তম সংখ্যার ১৪০তম পৃষ্ঠায় আমাদের আলোচনা পড়ুন।
[৩৯৭] তবাকাতু ইবনি সাদ: ৬/১২০; আখবারুল কুদ্দাহ: ২/৪০২, ৪০৬
[৩৯৮] আখবারুল কুদ্ধাহ: ১/২৪
[৩৯৯] রাওদ্বাতুল কুদ্ধাহ: ৪/১৫০০
[৪০০] আখবারুল কুদ্ধাহ: ১/২৪; আল-আলাম: ৮/২১২
[৪০১] আখবারুল কুদ্দাঃ ৩/২৩২-২৩৩
[৪০২] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ৩/১৩৯; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৭৪। পূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি, ইয়াস প্রথমে দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মতি জানালেও পরে গ্রহণ করেছিলেন।
[৪০৩] তারীখু কুদ্দাতিল উনদুলুস, পৃ. ১১; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৭২; রাওদ্বাতুল কুদ্দাঃ ৪/১৪৯৭
[৪০4] আখবারুল কুদ্দাহ: ৩/২০৭
📄 বিচারকদের বেতন-ভাতা
উমাইয়া যুগে বিচারকদের ব্যাপকভাবে মাসিক বেতন-ভাতা দেওয়ার প্রচলন ছিল। মূলত এটা দেওয়া হতো তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে। বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে তারা অনেক সুবিধা লাভ করতেন। তবে দেশ, শহর এবং পরিবেশ-পরিস্থিতির বিচারে বেতনের পরিমাণ নির্ধারিত হতো।
মালিক ইবনু আনাস সূত্রে ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনু আবদিল আজিজ মদীনায় আসার পর এক ব্যক্তিকে লোকদের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করেন এবং তার জন্য মাসিক ভাতা দুই দিনার নির্ধারণ করেন।
বসরার বিচারক ইয়াস ইবনু মুআবিয়ার বেতন ছিল ১০০ দিরহাম। আবু খুযাইমা যখন বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন প্রতি মাসে তার নির্ধারিত ভাতা ছিল দশ দিনার। তিনি জুমুআর দিনের জন্য কোনো ভাতা গ্রহণ করতেন না। তিনি বলতেন, 'আমি তো মুসলিমদের একজন শ্রমিক মাত্র। তাদের কোনো কাজ না করলে তো তাদের থেকে পারিশ্রমিক নিতে পারি না।' ওয়াকি বলেন, মিশরের একজন আমাকে বলল যে, সে মিশরের নথিতে এক টুকরা কাগজে লেখা পেয়েছে, 'বিচারক আবু খুযাইমা যে দিনগুলোতে বিচারের জন্য বসেননি, সেসব দিনের পাঁচ দিরহাম তিনি বাইতুল মালে ফিরিয়ে দিয়েছেন।'
ইউসুফ ইবনু উমর ১২১ হিজরি থেকে ১২৬ হিজরি অবধি ইরাকের গভর্নর ছিলেন। আবদুর রহমান ইবনু আবি লাইলার ছেলে মুহাম্মাদকে তিনি বললেন, 'কুফাবাসীদের মাঝে তোমাকেই আমি বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি। তোমার জন্য মাসে ১০০ দিরহাম ভাতা চালু করেছি। সুতরাং তুমি সকাল-সন্ধ্যা জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য বসবে। কেননা তুমি মুসলিমদের একজন খাদিম মাত্র।' ওয়াকি বলেছেন, 'ইবনু আবি লাইলাকে ইউসুফ ইবনু উমর কুফায় সর্বপ্রথম বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং মাসে তার জন্য ১৫০ দিরহাম ভাতা নির্ধারণ করেছিলেন।
বিচারক শুরাইহ সূত্রে শাবি বর্ণনা করেছেন, শুরাইহ বিচারকার্যের পরিচালনার জন্য মাসে ৫০০ দিরহাম নিতেন। তিনি বলতেন, 'আমি জনগণকে পরিপূর্ণ সময় দিই এবং পরিপূর্ণ পারিশ্রমিক গ্রহণ করি।' তিনি আরও বলতেন, 'জনগণের বিচারের জন্যই আমি বসি। আমি নিজেকে এ কাজেই নিয়োজিত রাখি। আর আমাকে ভাতা দেওয়া হবে না, এটা কেমন কথা!'
৭২ হিজরিতে খলিফা আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান নাখিলা এলাকায় এসে শুরাইহ সম্পর্কে মানুষের কাছে খোঁজখবর নিলেন। তিনি জানতে পারলেন, ইবনুয যুবাইরের বিদ্রোহের সময় শুরাইহ বিচারের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। তখন খলিফা শুরাইহকে ডেকে বললেন, 'আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন। আপনি বিচারের দায়িত্ব পালন করে যান। আমি আপনার জন্য ১০ হাজার দিরহাম এবং ৩০০ জারিব দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।' শুরাইহ এটা গ্রহণ করেন এবং ৭৮ হিজরি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
কিছু বিচারক ছিলেন, যারা বিচারকার্য পরিচালনার জন্য কোনো বেতন নিতেন না। আল্লাহর শরীয়ত বাস্তবায়নের জন্য এর প্রতিদান তারা আল্লাহর কাছে আশা করতেন। তাদের একজন হলেন বিচারক ও মুফতি মাসরুক ইবনুল আজদা। মৃত্যু ৬৩ হিজরিতে। মাসরুক বিচারের ক্ষেত্রে শুরাইহের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন। আর শুরাইহ ছিলেন বিচারের ক্ষেত্রে মাসরুকের চেয়ে বেশি দূরদর্শী। মাসরুকের স্ত্রী বলেছেন, 'মাসরুক বিচারকার্য পরিচালনার বিনিময়ে কোনো ভাতা নিতেন না।' কাসিম বলেন, 'মাসরুক বিচারের জন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না।' মাসরুক নিজেও বলতেন, 'আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে এক বছর পাহারা দেওয়ার চেয়ে একদিন ইনসাফের সাথে বিচার করা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ -এর নাতি কাসিম ইবনু আবদির রহমান-ও বিচারকার্য পরিচালনার বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক নিতেন না। তিনি বলতেন, 'চারটি কাজে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক নেওয়া যায় না। সেগুলো হচ্ছে: বিচারকার্য পরিচালনা, আযান, হিসাব-নিকাশ এবং কুরআন। আর হিসাব-নিকাশই হচ্ছে বণ্টন।
দামিস্কের বিচারক ছিলেন যুরআহ ইবনু আইয়ুব। তিনিও বিচারকার্য পরিচালনার বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক নিতেন না। তিনি সিগনেচার করার সময় লিখতেন, لِكُلِّ عَمَلٍ قَوَابٌ অর্থাৎ প্রত্যেক কাজের একটি প্রতিদান আছে। তিনি বিচারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন খলিফা ওয়ালিদের যুগে। তাকে ২০০ দিনার ভাতা গ্রহণের জন্য পীড়াপীড়ি করা সত্ত্বেও তিনি গ্রহণ করেননি।
খলিফা ওয়ালিদ পীড়াপীড়ি করে তাকে আবাদি জমি দেন। তারপর কসম করে বলেন, এটা তার পৈতৃক সম্পদ থেকে দেওয়া হয়েছে। তখন যুরআহ বললেন, 'আপনার থেকে আমি এটা গ্রহণ করলাম। আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই জমির তিন ভাগের এক ভাগ আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিলাম। আরেক ভাগ আমার কওমের ইয়াতিম ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দ করলাম। আর এক ভাগ ওই নেককার ব্যক্তিদের জন্য, যারা এসব ইয়াতিম ও অসহায়দের দেখাশোনা করে এবং তাদের হক আদায় করে। তারপর আমি এটা পছন্দ করি, আমাকে এ পর্যন্ত আপনি যত বেতন দিয়েছেন, সেগুলি নিয়ে নেবেন। সেগুলো আমার ঘরের তাকে রাখা আছে।' এই বলে তিনি সেসব অর্থ বাইতুল মালে ফিরিয়ে দিলেন। তখন ওয়ালিদ তাকে বললেন, 'আপনি এমন করলেন কেন?' তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাআলা আমাকে যে ইলম দান করেছেন, তার বিনিময়ে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে চাই না।
অনেক সময় বিচারক একসাথে অনেক কাজ করতেন এবং সবগুলির বিনিময়ও গ্রহণ করতেন।
ওয়াকি বলেছেন, আবদুর রহমান ইবনু হুজাইরাহ মিশরে আবদুল আজিজ ইবনু মারওয়ানের সাথে বিচার বিভাগ, অপরাধ বিভাগ এবং বাইতুল মাল দেখাশোনা করতেন। তিনি বিচারকার্যের বিনিময়ে ২০০ দিনার, অপরাধ বিভাগ পরিচালনার জন্য ২০০ দিনার এবং বাইতুল মাল দেখাশোনার জন্য ২০০ দিনার গ্রহণ করতেন। এর বাইরে হাদিয়া থাকত ২০০ দিনার, আবার বাড়তি ২০০ দিনার পেতেন। এভাবে সব মিলিয়ে বছরে তিনি এক হাজার দিনার গ্রহণ করতেন। দেখা যেত, বছর না-পেরোতেই তার ওপর যাকাত ফরজ হয়ে যেত। এভাবেই বিচারের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। অবশেষে ৮৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ থেকে প্রমাণিত হয়, সে-সময় বিচারকদের যথেষ্ট পরিমাণ বেতন-ভাতা দেওয়া হতো। তাদের বেতন মাসের শুরুতে অগ্রিম প্রদান করা হতো। কখনো কখনো দুই মাস বা তার চেয়েও বেশি বেতন অগ্রিম পেয়ে যেতেন।
**টিকাঃ**
[৪০৫] আখবারুল কুদ্দাহ: ১/১৩৪
[৪০৬] আখবারুল কুদ্দাহ: ১/৩৪২
[৪০৭] আখবারুল কুদ্দাহ: ৩/২৩৩
[৪০৮] আখবারুল কুদ্দাহ: ৩/১২৯; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২১১
[৪০৯] পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, শুরাইহের জন্য উমর মাসে ১০০ দিরহাম ধার্য করেছিলেন। ইবনু আবি লাইলা বলেছেন, আলি কুফার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য শুরাইহকে ৫০০ দিরহাম ভাতা প্রদান করতেন। (আখবারুল কুদ্দাহ: ২/২২৭, ৩৯৭)
[৪১০] আখবারুল কুদ্দাহ: ২/৩৯৮; আল-আলাম: ৮/১০৮; তবাকাতু ইবনি সাদ: ৬/৮২
[৪১১] আখবাকল কুদ্দাহ: ৩/৬-৭
[৪১২] আখবারুল কুদ্দাহ : ৩/২০২; আবকারিয়্যাতুল ইসলাম, পৃ. ৪২৩। উমাইয়া যুগে এমন আরও অনেকেই বিচারকার্য পরিচালনার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না। হাসান আল-বাসরি, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ এ-এর পৌত্র কাসিম ইবনু আবদির রহমান এ ছিলেন তাদের অন্যতম। (নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২১৩)
[৪১৩] আখবারুল কুদ্দাহ: ৩/২২৫; রফউল ইসর: ২/৩১৬; নিযামুল হুকমি, পৃ. ৩৫৪; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৩০
[৪১৪] তারীখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ: ২/২১৭; আল-উলাতু ওয়াল কুদ্বাহ, পৃ. ৩৫৪; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৩০