📄 বিচারের প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতি
রাশিদুন যুগে বিচারব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এবং বাস্তবধর্মী প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করেই আমরা এই আলোচনার ইতি টানব। এই অনুচ্ছেদটি আমাদের পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত।
রাশিদুন যুগের বিচারব্যবস্থা ছিল সহজ-সরল। জটিলতা-সহ সব ধরনের কৃত্রিম কর্মপদ্ধতি থেকে মুক্ত। সে-সময় মৌখিকভাবেই অভিযোগ দায়ের করা হতো। বাদী-বিবাদী উভয়েই একসাথে বিচারকের কাছে উপস্থিত হতো। কিংবা বিচারক নিজ উদ্যোগে বিবাদীকে ডেকে পাঠাতেন। সরাসরিই উভয়ের কথা শুনতেন এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। উভয় পক্ষেরই আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকত। বিচারক প্রমাণ পেশ করতে বলতেন। তবে সেরেস্তাদার বা কেরানি ব্যবহার করতেন না। বিচারালয়ের মুনশিও কমই কাজে লাগত।
বিচারকের সামনে সত্য স্পষ্ট হয়ে গেলে কোনো রকম দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই অবিলম্বে রায় দিয়ে ফেলতেন। তবে বিধানের ক্ষেত্রে সন্দেহ দেখা দিলে অথবা প্রমাণ না থাকলে রায় প্রদানে বিলম্ব হতো। আবু মূসা -এর উদ্দেশ্যে উমর এ-এর লিখিত পত্রের আলোচনায় আমরা যেমনটা দেখেছি। বিচারের রায় লিখে রাখার প্রচলনও ছিল না। কিছু রায় খলিফার অবগতি বা পরামর্শের জন্য তাঁর কাছে এবং রাজধানীতে পাঠানো হতো। অথবা উদ্দেশ্য থাকত শরীয়তের বিধান বর্ণনা করা বা সংশয়পূর্ণ হলে পরামর্শ চাওয়া। নয়তো বিধান কুরআন-সুন্নাহর মাঝে সুস্পষ্টভাবে থাকলে বিচারক তৎক্ষণাৎ রায় দিয়ে দিতেন। পূর্বোল্লেখিত বিধানের উৎপত্তি এবং পত্রাবলির আলোচনা থেকে আমাদের এমনটাই বুঝে আসে।
সন্ধি বিষয়ক কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্য এবং উমর-এর পত্রের কারণে বিচারক সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন উভয় পক্ষ যেন আপসে সমঝোতা করে ফেলে। তা ছাড়াও ফয়সালা আর বিধানের মাধ্যমে উভয় পক্ষের দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে থাকে। বিচারের ফয়সালা করার পর বিচারক তা যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতেন। সাধারণত বিচারক নিজেই তার রায়ের বাস্তবায়ন করতেন। কিংবা তার তত্ত্বাবধানে রায় বাস্তবায়িত হতো।
ন্যায় এবং ইনসাফপূর্ণ বা এর কাছাকাছি হওয়ার শর্ত সাপেক্ষে খলিফা বা প্রাজ্ঞ ব্যক্তি কিংবা বিচারক নিজেই প্রদত্ত রায়ের পর্যালোচনা করতেন। যেমনটা উমর এক পত্রে লিখেছিলেন, 'সুপথপ্রাপ্ত হয়ে আগের দিনের যে রায় থেকে আপনি মনে মনে ফিরে এসেছেন, তা প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো রকম সংকোচ বোধ করবেন না।... বাতিল নিয়ে টালবাহানা করার চেয়ে হকের পথে প্রত্যাবর্তন করা শ্রেয়।'
সুস্পষ্ট বক্তব্য বা ইজমার পরিপন্থি না হলে রায় প্রত্যাহার করা হতো না। এজন্যই উমর বলেছিলেন, 'আগে আমরা যা বলেছি সেটা ছিল আমাদের অতীত ফয়সালা। আর বর্তমানে আমরা যা করব সেটাই হবে এখনকার ফয়সালা।'
রাশিদুন যুগে ওকালতি পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল। আলি বিরোধের ক্ষেত্রে তাঁর ভাই আকিলকে উকিল নিয়োগ করতেন। আকিলের বয়স বেড়ে গেলে আলি তখন নিজের ভাতিজা আবদুল্লাহ ইবনু জাফরকে বিচারের সময় উকিল নিয়োগ করতেন। তিনি বলতেন, 'আমার উকিলের পক্ষে ফয়সালাই আমার পক্ষের ফয়সালা। আর উকিলের বিপক্ষে যে ফয়সালা হবে, সেটা আমারই বিপক্ষের ফয়সালা।'
টিকাঃ
[৩০৮] শারহু নাহজিল বালাগাহ: ১২/১৫৫; উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ, পৃ. ৭০
📄 রাশিদুন যুগের বিচারব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
আমরা বিভিন্ন কারণে রাশিদুন যুগে বিচার বিভাগের ইতিহাসের ওপর একটু বিস্তারিত আলোচনা করেছি। নববি যুগের চেয়ে এই যুগটি ত্রিশ বছরেরও অধিক দীর্ঘ। রাশিদুন যুগে ইসলামি রাষ্ট্রের আয়তন এবং জনসংখ্যা নববি যুগে ইসলামি রাষ্ট্রের আয়তন এবং জনসংখ্যা অপেক্ষা দশগুণেরও বেশি ছিল। প্রশাসনিক এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ যুগের গুরুত্ব অনেক বেশি। পরবর্তী যুগে রাশিদুন যুগের যে প্রভাব রয়েছে, সেদিক থেকেও এ যুগ বিরাট গুরুত্ব বহন করে।
নববি যুগের বিচারব্যবস্থা হচ্ছে ইসলামি বিচারব্যবস্থার শিকড়। সে হিসেবে রাশিদুন যুগের বিচারব্যবস্থাও নববি যুগের বিচারব্যবস্থার দ্বিতীয় স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে। রাশিদুন যুগের বিচারব্যবস্থা একদিকে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এবং একটি ব্যাপক প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে। অপরদিকে ইসলামি বিচারব্যবস্থার জন্য তা এক উজ্জ্বল মাইলফলক। যাকে পরবর্তী ইসলামি যুগের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি রোল মডেল তথা আদর্শ আর নমুনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
আমরা এখানে রাশিদুন যুগের বিচারব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি সংক্ষেপে কেবল ইঙ্গিত প্রদান করেই ক্ষান্ত থাকছি।
১. মূলত রাশিদুন যুগের বিচারব্যবস্থা ছিল নববি যুগের বিচারব্যবস্থার একটি সুদীর্ঘ চিত্র। কারণ রাশিদুন যুগ আঁকড়ে ধরেছিল নববি যুগকে। নববি যুগকে আদর্শরূপে গ্রহণ করেছিল। রাশিদুন যুগে দ্বীনি শিক্ষা ব্যাপক প্রসার লাভ করেছিল। নববি যুগের ঈমান-আকীদার সাথে এ যুগের ছিল নিবিড় সম্পর্ক। বিশ্বাস আর চেতনার সাথে ছিল গভীর বন্ধন। এ যুগের লোকেরা ধর্মীয় অনুশাসন এবং ইনসাফের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের মামলা-মোকদ্দমা চলত একেবারেই সাদাসিধাভাবে। বিচার প্রক্রিয়া হতো একদমই সংক্ষিপ্ত। রাষ্ট্রের ব্যাপক সম্প্রসারণ, জনসংখ্যার আধিক্য, উত্তম পন্থায় বিচারক নিয়োগ এবং বিচারের পরিপূর্ণ শর্তাবলি থাকার পরও মামলা-মোকদ্দমা এবং ঝগড়া-বিবাদ ছিল নিতান্তই কম।
২. রাশিদুন যুগ ছিল ইসলামি বিচারব্যবস্থার একটি সঠিক, প্রকৃত এবং পূর্ণাঙ্গ চিত্র। এ কারণেই গবেষকদের গবেষণার উৎস ছিল এই রাশিদুন যুগ। সমস্ত ফকিহের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল এ যুগের ওপর। রাশিদুন যুগের বিচারের বিধিবিধান ও প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থা ছিল শারঈ বিধানাবলি, বিচারের কৌশল, গবেষণা, বিভিন্ন যুগে ইসলামি আইন শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান উৎস। এমনকি সাহিত্যগত দিক থেকেও এই যুগ সমস্ত আলিম এবং সর্বশ্রেণির কাছে সমাদৃত। অবশ্য শাখাগত এবং বিস্তারিত কোনো কোনো বিষয়ে কিছুটা মতপার্থক্য থাকলেও মৌলিক বিষয়ে কারোরই দ্বিমত নেই। এ কারণেই সাহাবিদের কথা দলিল হবে কি হবে না, তা নিয়ে ফিকহবিদদের মাঝে মতভিন্নতা দেখা যায়। ইসলামি ফিকহের মূলনীতি, হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা এবং ইসলামি আইনের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
৩. খুলাফায়ে রাশিদুন এবং বিভিন্ন শহরের প্রশাসকগণ ঝগড়া-বিবাদের বিচার পরিচালনা করেছেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিচারকার্যও পরিচালনা করতেন। তাঁরা পরিপূর্ণ গুরুত্ব দিতেন দুর্নীতি দমন এবং তদন্তের প্রতি।
৪. খুলাফায়ে রাশিদুন রাষ্ট্রের অন্য কোনো দায়িত্বের জন্য নয়, বরং বিচারের জন্য সর্বপ্রথম এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অধিকাংশ ইসলামি শহরে বিচারক নিয়োগ দিয়েছিলেন। সর্বপ্রথম বিচার বিভাগকে অন্যান্য বিভাগ থেকে পৃথক করেছিলেন। তাঁরা এ নীতিও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন যে, বড় বড় শহরে নিয়োগকৃত বিচারকদের ওপর প্রশাসকদের কোনো কর্তৃত্ব চলবে না। আর যে সমস্ত অঞ্চলে প্রশাসকদেরকে বিচারের ক্ষমতা-সহ নিয়োগ দিয়েছেন, সেখানে তারা উভয় দায়িত্বই পালন করবেন।
৫. রাশিদুন যুগের বিচারকগণ ছিলেন মুজতাহিদ তথা গবেষক। তাঁরা সরাসরি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কাজ করতেন। উত্থাপিত ঘটনার সমাধান কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে খুঁজে না পেলে পূর্বসূরিদের বিচারের আলোকে এবং সমকালীন আলিমদের পরামর্শ অনুসারে নিজেরা ইজতিহাদ করে ফয়সালা করতেন।
৬. নববি যুগের বিচার পদ্ধতি অনুকরণ করে রাশিদুন যুগে অনেক নতুন নতুন ধারা-উপধারা উদঘাটিত হয়। পরবর্তীকালে সেগুলোই হয়ে গেছে বিচারিক বিধিবিধানের মৌলিক উৎস। সেসব হচ্ছে: আল-কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস তথা সাদৃশ্যলব্ধ সিদ্ধান্ত, পূর্ববর্তী বিচারাচার এবং শূরা পরিষদের অভিমত।
৭. রাশিদুন যুগে নিখুঁত বিচার বিভাগ ও সুগঠিত প্রশাসন ছিল। বিচারের যাবতীয় বিষয় পরিচালনা এবং বিচারের সাংবিধানিক নীতিমালার বর্ণনা দিয়ে উমর এবং আলি বিচারক ও প্রশাসকদের বরাবর চিঠি প্রেরণ করেছিলেন। ইতিহাসের পাতায় সেগুলো অমর হয়ে আছে। এসব চিঠি প্রেরণের পাশাপাশি খলিফাগণ বিচারকদের নজরদারিতে রাখতেন। তাদের সাথে মতবিনিময় করতেন। তাদের খবরাখবর এবং বিচারাচার সম্পর্কে জানতে চাইতেন জনসাধারণের কাছে। বিভিন্ন জটিল, নাজুক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা-মোকদ্দমা পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশ দিতেন। এটা ছিল আমিরুল মুমিনীন উমর-এর খিলাফতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উসমান -এর সময় তা কিঞ্চিৎ শিথিল হয়ে যায়। আর আলি-এর খিলাফতকালে অস্থিতিশীল পরিবেশ, নানা ধরনের ফিতনা, ব্যাপক গৃহযুদ্ধ, একাধিক সরকারি আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও শাম এবং প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বাধীনতা ও বিদ্রোহের ফলে এই বৈশিষ্ট্য আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
৮. সমস্ত ঘটনাপ্রবাহে বিচারকের ক্ষমতা ছিল। বিচারকের ক্ষমতা থাকত সর্বব্যাপী এবং বিস্তৃত। বিচারক পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতেন। এ যুগে বিচারকদের ধরন বা প্রকার নির্দিষ্ট করার পদ্ধতি চালু হয়েছিল। কিছু বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ছোটখাটো মামলা-মোকদ্দমা দেখার জন্য। আবার গুরুতর বিচার পরিচালনার জন্য কিছু বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খলিফাগণ বিভিন্ন অপরাধ এবং দণ্ডবিধি সংক্রান্ত বিচার পরিচালনা করতেন। কোনো কোনো প্রশাসকও এই দায়িত্ব পালন করতেন। তদ্রূপ মদীনা মুনাওয়ারা, কুফা, বসরা এবং ইয়ামানের মতো বৃহৎ অঞ্চলগুলোতে একই সময়ে একাধিক বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ঠিক তেমনি প্রথমবারের মতো আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল সামরিক বাহিনীর বিচারককে।
৯. নববি যুগের বিচারিক ফয়সালা ভালোভাবে লক্ষ করা হতে থাকে। ব্যক্তিগত মতামত এবং গবেষণা তখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হতো। কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা সমর্থিত হলেই সেটা অনুমোদিত হতো। কারণ এক গবেষণা অন্য গবেষণার মাধ্যমে বাতিল হয় না। বরং একমাত্র কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হলেই সেটা বাতিল হয়ে যায়।
১০. আরও কিছু বিষয় রাশিদুন যুগে ছিল, যা একেবারেই নতুন। নববি যুগে তার কোনো নজির ছিল না। যেমন: বিচারকদের সরকারি বেতন-ভাতা প্রদান, নিয়মিত রেশন দেওয়া, এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দেওয়া, স্বতন্ত্র বিচারালয় প্রতিষ্ঠা এবং জেলখানার ব্যবস্থা ইত্যাদি। তদ্রূপ বড় বড় সাহাবিদের বিচারের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার বিষয়টিও এ যুগে প্রথমবারের মতো প্রকাশ পেয়েছিল। যেমন আবদুল্লাহ ইবনু উমর -কে খলিফা উসমান বিচারকার্যের দায়িত্ব দিতে চাইলে তিনি সম্মত হননি। কাব ইবনু ইয়াসার -কে উমর মিশরের বিচার বিভাগের দায়িত্ব দিতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। কারও কারও মতে, তিনি অল্প কিছুদিন বিচারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বটে। এরপর স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দিয়ে দেন।
১১. রাশিদুন যুগে বিচার কম হওয়ায় বিচারকার্যের প্রক্রিয়া ছিল নিতান্তই সহজ-সরল। প্রথমে মামলার শুনানি হতো। তারপর পেশ করা হতো দলিল, প্রমাণ এবং যুক্তি। সবশেষে ফয়সালা শোনানো হতো। ফয়সালা প্রদানের পরপরই তা বাস্তবায়িত হয়ে যেত। বিচারকার্যের অন্যতম নীতি ছিল—দুর্বলের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা। দুর্বলের সমর্থন এবং মজলুমের সাহায্য ছিল বিচারের মুখ্য বিষয়। বাদী-বিবাদী উভয়ের প্রতিই ইনসাফ করা হতো। ন্যায় ও আল্লাহর শরীয়ত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের টালবাহানা ছিল না। যদিও সেটা স্বয়ং খলিফা, মুসলিম শাসক বা গভর্নরের বিরুদ্ধে যায় না কেন। ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় উভয় পক্ষ ফয়সালা বাস্তবায়নে বিলম্ব বা গড়িমসি করলে সাধারণত বিচারকই তা বাস্তবায়ন করে দিতেন। ফয়সালা দেওয়ার পর তা বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব করা হতো না।
রাশিদুন যুগে আরও কিছু নতুন প্রশাসনিক বিষয় চালু করা হয়েছিল। যেমন উমর-এর যুগে বিচারকের জন্য মির-মুনশি নিয়োগ দেওয়া হয়। পুলিশ ফোর্স এবং বিচারক ও প্রশাসকের জন্য সহযোগী নিয়োগ দেওয়ার প্রচলন শুরু হয় উসমান-এর যুগে। তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রকৃত সত্য পর্যন্ত পৌঁছতে সাক্ষীদের পৃথক পৃথকভাবে যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা ছিল আলি -এর যুগে প্রবাদতুল্য বৈশিষ্ট্য।
টিকাঃ
[৩৬৭] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ১৭০; আখবারুল কুদ্বাহ: ১/১৭ ও ৩/২২১; আল-উলাতু ওয়াল-কুদ্বাহ, পৃ. ৩০২: হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৩৫