📄 উসমান ইবনু আফফান
উসমান ইবনু আফফান-এর উপনাম ছিল আবু আমর। উপাধি ছিল যুন্নুরাইন। কুরাইশের শাখা গোত্র বনু উমাইয়ার সদস্য ছিলেন তিনি। পূর্বের খলিফা দুজনের মতো তিনিও ছিলেন একসাথে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন ব্যক্তির অন্যতম।
হিজরতের ৪৭ বছর আগে ৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক যুগেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ধনাঢ্য এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। সস্ত্রীক হাবাশায় দু'বার হিজরত করার পর অবশেষে মদীনায় গমন করেন। নবিজির কন্যা রুকাইয়া-এর ইন্তেকালের পর তাঁর বোন উম্মু কুলসুম-কে বিবাহ করেন তিনি। এজন্যই যুন্নুরাইন উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
তিনি হাত খুলে দান করতেন। তাবুক যুদ্ধের সময় মুসলিম বাহিনীকে নিজ খরচে প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন। বদর যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো যুদ্ধে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। তিনি ছিলেন উমর কর্তৃক ওসিয়তকৃত ৬ সদস্যের উপদেষ্টা বোর্ডের অন্যতম সদস্য। ২৪ হিজরির প্রথম দিকে খলিফা মনোনীত হন। তাঁর যুগে অনেক দেশ বিজিত হয়। সংকলিত কুরআনের কপি থেকে আরও অনেক কপি তৈরি করে বিভিন্ন নগরীতে তা প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুন নববির সম্প্রসারণ সর্বপ্রথম তিনিই করেছিলেন। বিচারব্যবস্থা পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র কক্ষের ব্যবস্থা তাঁর যুগেই চালু হয়। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ফকিহ।
আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ প্রদান করা-সহ তাঁর কিছু কাজের বিপক্ষে লোকেরা সরব হয়ে ওঠে। ফিতনা দানা বাঁধতে শুরু করে। বিদ্রোহীরা মদীনা ঘিরে ফেলে। একসময় ঘরে ঢুকে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় তাঁকে শহীদ করে দেওয়া হয়। এটা ৩৫ হিজরি মোতাবেক ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের কথা। এর পর থেকে ফিতনা আরও ছড়িয়ে যায়।
টিকাঃ
[১৭৮] আল-ইসাবাহ: ৪/২২৩; উসুদুল গাবাহ: ৩/৫৮৪; আল-ইসতীআব: ৩/৬৯
📄 আলি ইবনু আবি তালিব
আমিরুল মুমিনীন আলি ইবনু আবি তালিব ছিলেন রাশিদুন যুগের চতুর্থ খলিফা। বীরত্ব এবং বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে তাঁর প্রসিদ্ধি ছিল বিশ্বজোড়া। নবিজির যুগে নিযুক্ত বিচারকদের আলোচনায় তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। খারিজিদের পরামর্শ অনুসারে হতভাগা আবদুর রহমান ইবনু মুলজিম এই মহান সাহাবিকে শহীদ করে দেয়। ফলে ৪০ হিজরি মোতাবেক ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে ত্রিশ বছর ধরে চলা রাশিদুন যুগের সমাপ্তি ঘটে। সর্বজনীনভাবে ইসলামি ইতিহাসের এবং বিশেষভাবে বিচারব্যবস্থার ওপর এই যুগের প্রভাব অনস্বীকার্য।