📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 আবু বকর

📄 আবু বকর


তাঁর প্রকৃত নাম আবদুল্লাহ ইবনু উসমান। তিনি ছিলেন কুরাইশের শাখা তামিম গোত্রের লোক। তাঁর উপনাম আবু বকর এবং উপাধি ছিল সিদ্দিক আর আতিক। ইবনু আবি কুহাফা নামেও তিনি পরিচিত। পুরুষদের মাঝে তিনিই সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ -এর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। নবি -এর কাছ থেকে যে দশজন সাহাবি একসাথে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন, তাঁদের অন্যতম এবং প্রথম ছিলেন তিনি।
হস্তীবাহিনীর ঘটনার আড়াই বছর পর হিজরতের ৫১ বছর আগে ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কুরাইশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। বিভিন্ন গোত্রের বংশপরিচয় এবং আরবের নানান সংবাদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। ধনী ছিলেন এবং ব্যবসা করতেন। জাহিলি যুগেও কখনো মদপান করেননি। নবি নবুওয়ত লাভের আগ থেকেই তাঁর সাথে সুসম্পর্ক ছিল। মাক্কি জীবনে তিনি কখনোই নবিজি থেকে দূরে ছিলেন না। এমনকি হিজরতের সময়ও তাঁর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হননি। তাঁর সাথে সমস্ত যুদ্ধাভিযানে অংশগ্রহণও করেছেন। দ্বীনের পথে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করেছেন। এমনকি নিজের সর্বস্ব ব্যয় করেছেন আল্লাহর পথে। সাহাবিদের অনেকেই তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি যেমন বিশুদ্ধভাষী বক্তা ছিলেন, তেমনি ছিলেন সাহসী। দয়া, সহনশীলতা এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর খ্যাতি ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি অনন্য আর শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।
মৃত্যুশয্যায় নবি তাঁঁকে নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। রাসূল -এর ইন্তেকালের পর মুসলিমরা তাঁঁকে খলিফা হিসেবে মেনে নেন। তখন তিনি মুরতাদ এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। আরব উপদ্বীপে ইসলাম প্রতিষ্ঠা, শাম আর ইরাক অভিমুখে বাহিনী প্রেরণ, উপযুক্ত সেনাপতি নির্বাচন, উপদেষ্টা পরিষদ বাছাইকরণ এবং কুরআন সংকলন ছিল তাঁর অমর কীর্তি। জীবন সায়াহ্নে উমর-কে পরবর্তী খলিফা নিযুক্ত করে তাঁকে উপদেশ এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
১৩ হিজরি মোতাবেক ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে আবু বকর মদীনায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহর রাসূল-এর পাশেই তিনি সমাহিত হন।

টিকাঃ
[১৭৬] আবু বকর এ তাঁর ওসিয়তনামাতে লিখিয়েছিলেন, 'এটা আবু কুহাফার পুত্র আবু বকরের ওসিয়তনামা, যখন সে দুনিয়া ছেড়ে আখিরাতে প্রবেশ করতে চলেছে। বস্তুত এই সময়টা এতটাই কঠিন এক মুহূর্ত, যার কষ্ট ও ভয়াবহতায় কাফিরও মুমিন হতে চায়, পাপাচারী ব্যক্তি নেককার হতে চায় এবং মিথ্যাবাদী সত্য গ্রহণের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। আমার পরে উমর ইবনুল খাত্তাবকে তোমাদের খলিফা নিযুক্ত করছি। তার কথা তোমরা শোনো এবং মেনো। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল, তাঁদের মনোনীত দ্বীন ইসলাম, মুসলিম এবং মানবজাতির ব্যাপারে আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত ছিল, তা উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে ন্যস্ত করতে কমতি করিনি।'- তবাকাতু ইবনি সাদ: ৩/১৯৯
[১৭৭] আল-ইসাবাহ: ৪/১০১; উসুদুল গাবাহ: ৩/৩০৯; তবাকাতু ইবনি সাদ: ৩/১৬৯

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 উমর ফারুক

📄 উমর ফারুক


উমর ইবনুল খাত্তাব ছিলেন কুরাইশের শাখা গোত্র বনু আদির সদস্য। সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফকিহ এবং একসাথে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবির অন্যতম। তিনিই সর্বপ্রথম আমিরুল মুমিনীন উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। দিওয়ান তথা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, হিজরি সনের প্রচলন এবং বাইতুল মাল তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগার পদ্ধতি তাঁর অমর কীর্তি। তিনি ইসলামি রাষ্ট্রের পরিধি বৃদ্ধির পর শাসনব্যবস্থার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা চালু করেছিলেন। তাঁরই নির্দেশে কুফা এবং বসরা নগরী গড়ে ওঠে। নবি-এর যুগে বিচারকার্য পরিচালনা এবং আবু বকর-এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। সে আলোকে নিজ যুগের বিচারব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন।
মক্কায় উমর-এর জন্ম হয় হিজরতের ৪০ বছর আগে ৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। জাহিলি যুগে তিনি কুরাইশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অন্যতম ছিলেন। তাদের মাঝে তিনি দূতালির কাজও করতেন। ইসলাম এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন খড়গহস্ত। অবশেষে নবুওয়তের ৬ষ্ঠ বছরে আল্লাহ তাঁকে ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দান করেন। তাঁর মাধ্যমে ইসলাম শক্তিশালী হয়। তিনি প্রকাশ্যে হিজরত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ তাঁর উপনাম রেখেছিলেন আবু হাফস এবং উপাধি দিয়েছিলেন ফারুক। সমস্ত অভিযানেই তিনি অংশগ্রহণ করেন। তাঁর জ্ঞান, উপলব্ধি, দুনিয়াবিমুখতার ব্যাপারে সবাই একমত। মুসলিমদের সাথে নম্র আচরণ এবং তাদের প্রতি কল্যাণকামিতা ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য। নিজের কাজ বারবার যাচাই-বাছাই করতেন। সত্যের পক্ষে তাঁর অবস্থান গ্রহণ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। এ ছাড়া আরও অনেক গুণের আধার ছিলেন তিনি।
১৩ হিজরি মোতাবেক ৬৩৪ হিজরিতে যেদিন আবু বকর-এর ইন্তেকাল হয়, সেদিনই তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মুসলিমরা সবাই তাঁর হাতে বাইয়াত হন। আবু বকর-এর উপদেশ এবং পদ্ধতি অনুসারে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। তাঁর যুগে আল্লাহ তাআলা অনেক নগরী মুসলিমদের অধীন করে দিয়েছিলেন। ইসলাম বিস্তার লাভ করে। বিভিন্ন স্থানে নিযুক্ত প্রশাসক এবং বিচারকদের উদ্দেশ্যে পত্র লেখা, তাদের খোঁজখবর রাখা এবং যাচাই-বাছাই করা ছিল তাঁর অভ্যাস। হিজরি ২৩ সাল মোতাবেক ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর পরবর্তী খলিফা নিযুক্তির জন্য ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ডের কাছে তিনি দায়িত্ব অর্পণ করেন। সবুজ গম্বুজের নিচে প্রিয়তম রাসূল-এর পাশেই তিনি সমাহিত আছেন। তাঁর মহান কীর্তিগুলো কিয়ামতের দিন পর্যন্ত অমর হয়ে থাকবে।

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 উসমান ইবনু আফফান

📄 উসমান ইবনু আফফান


উসমান ইবনু আফফান-এর উপনাম ছিল আবু আমর। উপাধি ছিল যুন্নুরাইন। কুরাইশের শাখা গোত্র বনু উমাইয়ার সদস্য ছিলেন তিনি। পূর্বের খলিফা দুজনের মতো তিনিও ছিলেন একসাথে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন ব্যক্তির অন্যতম।
হিজরতের ৪৭ বছর আগে ৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক যুগেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ধনাঢ্য এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। সস্ত্রীক হাবাশায় দু'বার হিজরত করার পর অবশেষে মদীনায় গমন করেন। নবিজির কন্যা রুকাইয়া-এর ইন্তেকালের পর তাঁর বোন উম্মু কুলসুম-কে বিবাহ করেন তিনি। এজন্যই যুন্নুরাইন উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
তিনি হাত খুলে দান করতেন। তাবুক যুদ্ধের সময় মুসলিম বাহিনীকে নিজ খরচে প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন। বদর যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো যুদ্ধে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। তিনি ছিলেন উমর কর্তৃক ওসিয়তকৃত ৬ সদস্যের উপদেষ্টা বোর্ডের অন্যতম সদস্য। ২৪ হিজরির প্রথম দিকে খলিফা মনোনীত হন। তাঁর যুগে অনেক দেশ বিজিত হয়। সংকলিত কুরআনের কপি থেকে আরও অনেক কপি তৈরি করে বিভিন্ন নগরীতে তা প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুন নববির সম্প্রসারণ সর্বপ্রথম তিনিই করেছিলেন। বিচারব্যবস্থা পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র কক্ষের ব্যবস্থা তাঁর যুগেই চালু হয়। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ফকিহ।
আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ প্রদান করা-সহ তাঁর কিছু কাজের বিপক্ষে লোকেরা সরব হয়ে ওঠে। ফিতনা দানা বাঁধতে শুরু করে। বিদ্রোহীরা মদীনা ঘিরে ফেলে। একসময় ঘরে ঢুকে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় তাঁকে শহীদ করে দেওয়া হয়। এটা ৩৫ হিজরি মোতাবেক ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের কথা। এর পর থেকে ফিতনা আরও ছড়িয়ে যায়।

টিকাঃ
[১৭৮] আল-ইসাবাহ: ৪/২২৩; উসুদুল গাবাহ: ৩/৫৮৪; আল-ইসতীআব: ৩/৬৯

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 আলি ইবনু আবি তালিব

📄 আলি ইবনু আবি তালিব


আমিরুল মুমিনীন আলি ইবনু আবি তালিব ছিলেন রাশিদুন যুগের চতুর্থ খলিফা। বীরত্ব এবং বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে তাঁর প্রসিদ্ধি ছিল বিশ্বজোড়া। নবিজির যুগে নিযুক্ত বিচারকদের আলোচনায় তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। খারিজিদের পরামর্শ অনুসারে হতভাগা আবদুর রহমান ইবনু মুলজিম এই মহান সাহাবিকে শহীদ করে দেয়। ফলে ৪০ হিজরি মোতাবেক ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে ত্রিশ বছর ধরে চলা রাশিদুন যুগের সমাপ্তি ঘটে। সর্বজনীনভাবে ইসলামি ইতিহাসের এবং বিশেষভাবে বিচারব্যবস্থার ওপর এই যুগের প্রভাব অনস্বীকার্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00