📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষেত্রে ফয়সালা

📄 স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষেত্রে ফয়সালা


আয়িশা সূত্রে বর্ণিত, হিন্দা নবি-কে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আবু সুফইয়ান তো একজন কৃপণ ব্যক্তি। আমার ও আমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খরচ তিনি দেন না; তবে তার অজান্তে আমি (চাইলে) নিতে পারি।' তখন নবি বললেন, 'তোমার এবং তোমার সন্তানের প্রয়োজন অনুসারে ন্যায়সংগত পরিমাণ তুমি নিতে পারবে।'
ইবনুল কাইয়িম তার শাইখ ইবনু তাইমিয়্যাহর নিম্নোক্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। 'নবি এবং খুলাফায়ে রাশিদিনের কেউই স্ত্রীর মাহর-সংক্রান্ত অপরাধে স্বামীকে বন্দি করেননি। ... যখন থেকে স্ত্রীর বিলম্বিত পরিশোধের দাবিতে স্বামীকে আটকে রাখার প্রচলন শুরু হয়েছে, তখন থেকেই সব ধরনের ক্ষতি, বিশৃঙ্খলা-সহ নানান ঝামেলা দেখা দিচ্ছে।'

টিকাঃ
[১৪৭] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং: ৫৩৬৪
[১৪৮] আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ৬৫

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 হত্যার ক্ষেত্রে ফয়সালা

📄 হত্যার ক্ষেত্রে ফয়সালা


আনাস সূত্রে বর্ণিত আছে, জনৈক ইহুদি একটি বাঁদির মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে থেঁতলে দিয়েছিল। তখন বাঁদিকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'তোমার এ দশা কে করেছে? অমুক ব্যক্তি, অমুক ব্যক্তি?' অবশেষে ইহুদির নাম বলা হলে বাঁদিটি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ-সূচক ইশারা করল। ইহুদিকে তখন লোক পাঠিয়ে ধরে আনা হলো। সে কৃত অপরাধ স্বীকার করলে নবি-এর নির্দেশে তার মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে থেঁতলে দেওয়া হলো।

টিকাঃ
[১৪৯] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং: ২৪১৩; সুনানুদ দারিমি, হাদিস নং: ২৩৯৪

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 পানি সেচ দেওয়ার ক্ষেত্রে ফয়সালা

📄 পানি সেচ দেওয়ার ক্ষেত্রে ফয়সালা


আবদুল্লাহ ইবনুষ যুবাইর থেকে বর্ণিত, আনসারদের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ -এর সামনে যুবাইর -এর সাথে মদীনার হাররা অঞ্চলের নালা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হলো। এই নালার পানি দিয়ে তারা খেজুর বাগানে সেচ দিত। আনসারি বলল, 'পানি ছেড়ে দাও, তা প্রবাহিত হতে থাকুক।' যুবাইর তা মানলেন না। শেষে তারা রাসূলুল্লাহ -এর কাছে বিষয়টি পেশ করলে তিনি যুবাইরকে বললেন, 'হে যুবাইর! তুমি পানি ব্যবহার করে তোমার পড়শির জন্য ছেড়ে দিয়ো।' আনসারি লোকটি রেগে গিয়ে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! যুবাইর আপনার ফুফাতো ভাই বলেই কি (এই ফয়সালা)!' এ কথা শুনে নবি -এর চেহারার রং বদলে গেল। তিনি বললেন, 'যুবাইর! তুমি সেচ দাও। পানি আইল পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তা আটকে রাখবে।
যুবাইর বলেন, আল্লাহর কসম! আমার মনে হয় এ ঘটনা সম্পর্কেই নিম্নের আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে:
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা ততক্ষণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের মাঝে সৃষ্ট বিবাদের বিচারক্ষমতা আপনার ওপর ন্যস্ত না করবে; তারপর আপনার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা না রেখে সন্তুষ্টচিত্তে তা মেনে নেবে।

টিকাঃ
[১৫০] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৩৫৭; সহিহুল বুখারি, হাদিস নং: ৪৫৮৫
[১৫১] সূরা নিসা, ৪:৬৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00