📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারব্যবস্থার সহজতা

📄 বিচারব্যবস্থার সহজতা


নববি যুগে বিচারের ব্যবস্থাপনা ছিল সহজসাধ্য। বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব ও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে জনগণের ওপর শারঈ আইন আর বিধিমালা প্রয়োগে রাসূল -এর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ছিল। মামলার ফয়সালা, কলহ নিরসন, বিধিবিধান বর্ণনা এবং বিরোধের নিষ্পত্তি—সবকিছুই রাসূল সামলাতেন। সত্য আর ন্যায় স্পষ্টকরণ, সমস্যার ক্ষেত্রে অধিকার প্রদান এবং বিচারের মধ্যে শাস্তি নির্ধারণে আল্লাহর রাসূল ছিলেন একমাত্র উৎস। লোকদের মধ্যে বিবাদ দেখা দিলে, তাদের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে গেলে, তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে, যে-কোনো ঘটনা ঘটলে তারা নির্দ্বিধায় আল্লাহর রাসূলের কাছে ছুটে যেত। স্বেচ্ছায় তাঁর কাছে বিচার প্রার্থনা করত। তখন তিনি অবতীর্ণ হওয়া ওহি অনুসারে বা নিজের গবেষণা অনুসারে তাদের মাঝে ফয়সালা করে দিতেন। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন শহরে বিচারক নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাদেরও দায়িত্ব ছিল একই কাজ করা।
নবি যুগে বিচারব্যবস্থার কোনো বিশেষ পদ্ধতি ছিল না। তা ছিল সব ধরনের জটিলতা, আনুষ্ঠানিকতা এবং বাহ্যিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত। বিচারের ধরন ছিল সহজসাধ্য। কারণ সে যুগে মামলা-মোকদ্দমা আর কলহ-বিবাদের আধিক্য ছিল না। মানুষের মাঝে ছিল আধ্যাত্মিক শিক্ষা। ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করত। পক্ষান্তরে এই যুগে বেশির ভাগ মামলা-মোকদ্দমা আর কলহ-বিবাদ জাহিলি যুগের বিভিন্ন প্রাচীন কারণে হয়ে থাকে। যেমন পুরোনো জমি বা নতুন উত্তরাধিকার নিয়ে বিবাদ হয়। কিংবা যিহার এবং নারীকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো জাহিলি যুগের ঘটনা নতুন করে ঘটে।

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি

📄 অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি


অভিযোগ লিখিত আকারে দায়ের করতে হবে—এমন কোনো শর্ত নববি যুগে ছিল না। বরং মৌখিকভাবেই অভিযোগ গ্রহণ করা হতো। সরাসরি অভিযোগ দায়ের করা হতো, জিজ্ঞাসাবাদ হতো সামনাসামনি এবং আলোচনা থাকত স্পষ্ট। বাদী বা তার প্রতিনিধি যে পদ্ধতি ও শব্দে অভিযোগ দায়ের করতে সক্ষম ছিল, সেভাবেই বিষয়টি উপস্থাপন করত। সাধারণত উভয় পক্ষই রাসূল কিংবা প্রশাসক বা দায়িত্বরত বিচারকের কাছে সরাসরি চলে আসত। কখনো বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে বিচারক তাকে উপস্থিত করার আদেশ দিতেন এবং বাদীর সাথে উপস্থিত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন।
মামলা পরিচালনার কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল অনন্য। যেমন: (ক) মামলার উপস্থাপন ছিল সরাসরি এবং সামনাসামনি; (খ) মামলার বিষয়টি ছিল যাচাইসাপেক্ষ; (গ) উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তদনুযায়ী ফয়সালা করা হতো; (ঘ) রায় দিতে কোনো ধরনের গড়িমসি বা বিলম্ব করা হতো না এবং মামলা ঝুলিয়ে রাখার চল ছিল না; (ঙ) প্রমাণ এবং দলিল উপস্থাপনের পর দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই ফয়সালা শুনিয়ে দেওয়া হতো; (চ) বাদী-বিবাদী স্বেচ্ছায় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা সমন জারি করা ছাড়াই রাসূলুল্লাহ -এর কাছে বা তাঁর নিযুক্ত বিচারকের কাছে চলে আসত। আর এটাই ছিল সে যুগের বিচারব্যবস্থা। যা ছিল সালিশি বিচারব্যবস্থার মতো। আর মামলার সিদ্ধান্ত দেওয়া ছিল অনেকটা ফতোয়া দেওয়ার মতো।
রাসূল কর্তৃক নির্দেশিত বিচারব্যবস্থার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু নীতিমালার বিশদ ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে ইসলামি আইনবিদগণ করেছেন। যেমন,
ক. বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের মাঝে সমতা রক্ষা করা।
খ. উভয় পক্ষ বিচারকের সামনাসামনি বসা।
গ. বাদী আগে কথা বলা শুরু করবে।
ঘ. যে বিচারকের সামনে বাদী-বিবাদী হাজির আছে, তিনিই বৈঠক নিয়ন্ত্রণ করবেন।
ঙ. উভয় পক্ষের প্রত্যেকেই জোরদারভাবে নিজের দাবি উপস্থাপন করবে। যাতে বিপক্ষের কাছে বিচারক তার ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।
তদ্রূপ মামলার উপস্থাপন, দলিল শুনানির পদ্ধতি, রাগান্বিত অবস্থায় বিচার না করা এবং পরামর্শ সাপেক্ষে ফয়সালা প্রদান ও রায় জারি করা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও আল্লাহর রাসূল -এর নির্দেশনা আছে। ইসলামি আইনশাস্ত্রের বিচারব্যবস্থাপনা এবং বিচারের বিধিমালার মাধ্যমে সেগুলো জানা যায়।

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 নববি যুগে প্রমাণ সাব্যস্ত করার পদ্ধতি

📄 নববি যুগে প্রমাণ সাব্যস্ত করার পদ্ধতি


বিচারকের সামনে গ্রহণযোগ্য এবং শরীয়ত অনুমোদিত প্রমাণ পেশ করার উপায় ও পদ্ধতি কী হবে, রাসূলুল্লাহ তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে গিয়েছেন। যার প্রয়োগ হবে তাত্ত্বিক এবং মৌখিক আইনি পদ্ধতির সাথে ব্যবহারিক এবং বাস্তবসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে। বিচারব্যবস্থার বিশেষজ্ঞ আলিমগণ দলিল-প্রমাণ সাব্যস্তকরণের ব্যাপারে স্বতন্ত্র আলোচনা করেছেন। আমাদের মনে হয়, এখানে সেদিকে কেবল সংক্ষিপ্ত কিছু ইঙ্গিত করাটাই যথেষ্ট। আগ্রহী পাঠক যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা জানতে পারবেন। নববি যুগে প্রমাণ সাব্যস্তকরণের আইনি পদ্ধতিগুলো নিম্নরূপ:
১. সাক্ষ্য: দলিল-প্রমাণ এবং মামলার বিষয়বস্তু হিসেবে এই সাক্ষ্য বিভিন্ন স্তরে, নানান ধাপে এবং বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চারজন পুরুষের সাক্ষ্য, দুজন পুরুষের সাক্ষ্য, একজন পুরুষ ও দুজন নারীর সাক্ষ্য, একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও কসম এবং মহিলাদের বিষয়ে কেবল নারীদের সাক্ষ্য।
২. কসম: এটা বিভিন্ন প্রকারের হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিবাদীর কসম, অস্বীকারকারীর কসম, বাদীর কসম, প্রমাণবিহীন হত্যার ঘটনায় নিহতের অভিভাবকদের কসম এবং লিআনের ক্ষেত্রে কসম।
৩. লেখা: নববি যুগে আক্ষরিক শিক্ষার প্রচলন কম থাকায় মামলা লেখার প্রচলন কম ছিল। লেখার চল সাধারণত ছিল না বললেই চলে। তবে অধিকার প্রমানিতকরণ এবং বিচারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু লেখার ব্যবহার অবশ্য পাওয়া যায়।
৪. স্বীকারোক্তি: স্বীকারোক্তি হচ্ছে সব দলিল-প্রমাণের মূল। এর মাধ্যমে দণ্ড কার্যকর হয়। কিসাস, শাস্তি, বিরোধ, অর্থনৈতিক অধিকার লঙ্ঘন এবং ব্যক্তি পর্যায়ের বিভিন্ন অবস্থার বিচার করা হয়। এটি অপরাধীর নিজের বিরুদ্ধেও একটি দলিল বটে।
৫. সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ: বিতর্ক এবং বিরোধের স্থান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা। বিচারক বা তার প্রতিনিধি মামলার বিষয়ে সরাসরি অনুসন্ধান ও তত্ত্বতালাশ করবেন।
৬. ইঙ্গিতপূর্ণ দলিল: এ জাতীয় প্রমাণ অনেক। সন্তানের বংশপরিচয় নিয়ে সংশয় হলে বংশ প্রমাণে 'কাফা' এবং 'কিয়াফা' তথা অনুসন্ধান করা, বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের সমস্ত কার্যকলাপের প্রতি গভীর দৃষ্টি রাখা, কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের ক্ষেত্রে তার বিবরণ দেখা, ব্যভিচারের কারণে গর্ভধারণ, সংশয়যুক্ত এবং অপবাদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক ও ইঙ্গিতপূর্ণ দলিল এর অন্তর্ভুক্ত।
৭. লটারি: পূর্বের দলিল-প্রমাণ যদি না পাওয়া যায়, কিংবা সমস্ত প্রমাণ যদি একাকার হয়ে যায়, অথবা উভয় পক্ষের দাবি যদি বরাবর হয় এবং অভ্যন্তরীণ ও গোপন জিনিস ছেড়ে দিয়ে কেবল বাহ্যিক বিষয়ের ওপর প্রমাণ নির্ভরশীল হলে এসব ক্ষেত্রে বাদী-বিবাদী উভয়ের মাঝে লটারি করা হবে।
লটারি-সংক্রান্ত বিচারের একটি ঘটনা: আলি যখন ইয়ামানে বিচারব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলেন, তখনকার কথা। একবার তার কাছে তিনজন লোক এল। তাদের প্রত্যেকেই একটি নবজাতক শিশুর জন্মদাতা হওয়ার দাবি করছিল। আলি তখন তাদের প্রত্যেক দুজনকে বললেন, 'তোমরা দুজন তোমাদের তৃতীয়জনের জন্য শিশুটির দাবি ছেড়ে দাও।' কিন্তু তাদের কেউই দাবি ছেড়ে দিতে সম্মত হলো না। অগত্যা আলি তাদের মাঝে লটারি দিলেন। লটারিতে যার নাম উঠল, আলি শিশুটি তাকে দিয়ে দিলেন। আর বাকি দুজনের জন্য ধার্য করলেন দুই-তৃতীয়াংশ দিয়ত তথা রক্তপণ। আলি কৃত এই বিচারের সংবাদ রাসূলুল্লাহ -এর কাছে আসলে তিনি এমনভাবে হেসেছিলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল।

টিকাঃ
[১২৯] এ ব্যাপারে সবিস্তারে জানতে আমাদের 'ওয়াসাইলুল ইসবাতি ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ' গ্রন্থটি দেখা যেতে পারে।
[১৩০] ইলামূল মুওয়াক্বিয়ীন: ১/২২২

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারের রায়

📄 বিচারের রায়


নববি যুগে বিচারের রায় ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি এবং শারঈ বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিচারকার্য পরিচালনা করা হতো সরাসরি কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে কিংবা নববি সুন্নাহর মাধ্যমে। নয়তো রাসূল -এর ইজতিহাদ, সাহাবি এবং নবি কর্তৃক নিযুক্ত বিচারক ও প্রশাসকদের ইজতিহাদের মাধ্যমে। আর এসব বিচারের বৈধতায় থাকত আল্লাহ তাআলার সমর্থন। ফলে নিশ্চিতভাবে বলা যেত যে, এটাই আল্লাহ তাআলার বিধান।
মামলা-মোকদ্দমার ফয়সালা, বিবাদ-বিরোধের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত, বিশেষভাবে ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কৃত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং জানতে চাওয়া ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রাসূল -এর ব্যাখ্যা প্রদান, সমাধান, এবং নির্দেশনা একদিক থেকে বিচার এবং অপরদিক থেকে ফতোয়া। আবার অন্যদিক থেকে সাহাবায়ে কেরাম-সহ সমস্ত মুসলিমের জন্য তা আল্লাহর পক্ষ হতে ঐশী বিধান। এ ব্যাপারে আল্লামা ইবনুল কাইয়িম বলেছেন, 'রাসূল কৃত সমস্ত বিশেষ বিচারই সর্বজনীন বিধান।'
নববি যুগে বিধিবিধান প্রথমে পর্যবেক্ষণ করা হতো। তারপর সেটা উচ্চ আদালতে পেশ করা হতো। আর পর্যবেক্ষণ ও দিক-নির্দেশনা প্রথম সংঘটিত হতো আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে ওহির মাধ্যমে। তারপর রাসূল পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রদান করতেন। যেমন হুযাইফা -এর হাদিস পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বেড়ার বিষয়ে তিনি ফয়সালা করেছিলেন যে, 'বেড়ার সাথে লাগানো দড়িটি যার, বেড়াটিও তারই হবে।' এরপর রাসূল -এর কাছে ফয়সালাটি পেশ করা হলে তিনি সেটার অনুমোদন দিলেন। বললেন, 'সঠিক ফয়সালা করেছ।' অথবা বললেন, 'তুমি চমৎকার ফয়সালা করেছ।'
তেমনিভাবে ইয়ামানে চার ব্যক্তি নিহত হওয়ার ব্যাপারে আলি একটি ফয়সালা দিয়েছিলেন। একে অন্যকে ধরে ফেলার কারণে 'যুবয়াতুল আসাদ' নামক একটি কূপে পড়ে তাদের মৃত্যু ঘটেছিল। পরবর্তীকালে আলি কৃত ফয়সালাটি রাসূল -এর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি বলেছিলেন, 'আলি যে ফয়সালা করেছে, সেটাই ঠিক আছে।'
আরেক বর্ণনায় আছে, কূপের পাড়ে যারা ভিড় করেছিল, আলি তাদের ওপর দিয়ত ধার্য করেছিলেন। রাসূল -ও সেটার অনুমোদন দিয়েছিলেন।
সুতরাং এটা বুঝে আসে, আলি -এর ফয়সালা শরীয়ত-বিরোধী হলে নবি অবশ্যই সেটা বাতিল করে এ ব্যাপারে বিধান বাতলে দিতেন; যেমনটা জনৈক কর্মচারীর ঘটনায় করেছিলেন। ঘটনাটির বিবরণ আমরা সামনে উল্লেখ করব।
আলি -এর নিজস্ব ইজতিহাদ নবি কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার আরেকটি ঘটনা আছে। একবার রাসূলুল্লাহ -এর একজন দাসী ব্যভিচার করেছিল। নবিজি তখন বাঁদিকে বেত্রাঘাত করার জন্য আলি -কে আদেশ দিলেন। ঘটনাক্রমে দাসীটি তখন সদ্য গর্ভবতী। আলি তখন ভয় পেলেন—এমতাবস্থায় বেত্রাঘাত করলে দাসীটি হয়তো মারা যাবে। এই ভেবে তিনি আর বেত্রাঘাত করলেন না। তারপর নবি -এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, 'তুমি ভালো করেছ।' অন্য বর্ণনামতে তিনি বলেছিলেন, 'বেশ, সে সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও।'

টিকাঃ
[১৩১] যাদুল মাআদ: ৫/৫
[১৩২] সুনানুদ দারাকুতনি, হাদিস নং: ৪5৪৪
[১৩৩] যাদুল মাআদ: ৫/১৩; ইলামুল মুওয়াক্ষিয়ীন: ২/২০; মুসনাদু আহমাদ, হাদিস নং: ৫৭৩
[১৩৪] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৭০৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00