📄 নিয়োগের পদ্ধতি
নবি যাদের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করতেন, তারা উপস্থিত থাকলে তাদেরকে মৌখিকভাবে নিয়োগ দিতেন। বিচারব্যবস্থার নিয়মকানুন এবং বিচারকের বৈশিষ্ট্য জানিয়ে দিয়ে তাদেরকে যাবতীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করতেন। মুআয ইবনু জাবাল এবং আলি ইবনু আবি তালিব-কে নিয়োগ দেওয়ার সময় তিনি এমন করেছিলেন।
পক্ষান্তরে অনুপস্থিত ব্যক্তিকে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে নবি তার উদ্দেশ্যে পত্র লিখতেন। যা-তে তার থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ-সহ বিচারব্যবস্থার মূলনীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকত। আমর ইবনু হাযম-কে ইয়ামানে প্রেরণের সময় এবং আল- আলা ইবনুল হাদরামি-কে বাহরাইনের বিচারক নিযুক্তির সময় তিনি এমন পত্র লিখেছিলেন。
📄 বিচারের পরিধি নির্দিষ্টকরণ
পেছনে উল্লেখকৃত উদাহরণগুলো থেকে নববি যুগে নির্দিষ্ট বিচারকের বিষয়টি যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনি তাদের বিচারকার্য পরিচালনার নির্দিষ্ট এলাকাও স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন আত্তাব ইবনু উসাইদ-কে মক্কার প্রশাসক ও বিচারক নিযুক্ত করার সময় তিনি মক্কা নগরী এবং মক্কার পার্শ্ববর্তী এলাকা তার জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। বাহরাইন ছিল আল-আলা ইবনুল হাদরামি-এর নির্দিষ্ট জায়গা। ইয়ামানে নিযুক্ত সাহাবিদের প্রত্যেকেরই ইয়ামানের নির্দিষ্ট অংশ বা নগরীর দায়িত্ব ছিল। নবিজির নির্ধারিত বিচারকদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিধিতে দায়িত্ব পালন করতেন।
তদ্রূপ বিচারের ধরন কী হবে এবং প্রকার কেমন হবে, সেটাও নির্দিষ্ট ছিল। বিচারক সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় দেখবেন, নাকি যে-কোনো বিষয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন, সেটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হতো। আলি, আবু মূসা আশআরি এবং মুআয ইবনু জাবাল-এর নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তারা রক্তপণ, সম্পদ, দণ্ডবিধি, দৈহিক বিধানাবলি এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিস্থিতির বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। যেমন: বিবাহ, তালাক, বংশ প্রমাণিতকরণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি।
আবার কোনো কোনো মামলার ক্ষেত্রে বিচারকের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকত। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর বিচারকের কার্যকারিতা এবং নিযুক্তির সময় উত্তীর্ণ হয়ে যেত। যেমন আমর ইবনুল আস-এর কাছে মামলা দায়ের করা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উকবা ইবনু আমির আল-জুহানি এবং হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান -এর বিচার করার ঘটনা। তবে বিচারক সাধারণভাবে সব বিষয়ে বিচার পরিচালনা করবেন—এটাই ইসলামি বিচারব্যবস্থার মূল নিয়ম। রাসূল এবং বড় বড় বিচারকগণও এমনটাই করেছেন। এজন্যই আমরা দেখতে পাই, রাসূল যেমন রক্তপাতের বিষয়ে ফয়সালা করেছেন, তেমনি দণ্ডবিধিও কার্যকর করেছেন। সম্পদ ও সম্পদ-সংক্রান্ত অধিকারের বিচারের মতো দৈহিক অধিকার এবং বন্দির বিধান সংক্রান্ত বিচারও তিনি পরিচালনা করেছেন。
📄 নববি যুগে বিচারব্যবস্থার উৎস
নববি যুগে বিচারব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিধান ছিল ওহির ওপর নির্ভরশীল। যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হওয়া চিরসতেজ কুরআন কারীমের আকৃতিতে প্রকাশ পেত। কখনো-বা প্রকাশ পেত রাসূল থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে। যিনি কখনোই প্রবৃত্তি-তাড়িত হয়ে কথা বলতেন না। বরং তাঁর প্রতিটি কথাই ছিল আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত ওহি। কখনো গবেষণার আকৃতিতে স্বয়ং রাসূল বা সাহাবিদের থেকে তা বিকশিত হতো। তবে সবগুলোই ছিল ওহির অধীন। শরীয়ত আর দ্বীনের সমর্থিত বিষয়কে ওহিও স্বীকৃতি দিত। পক্ষান্তরে শরীয়ত আর দ্বীনের সাথে বিরোধপূর্ণ বিষয় ওহি যে শুধু খণ্ডন করত তা-ই নয়, সেটা বাতিল আখ্যা দিয়ে সঠিক বিষয় বাতলেও দিত। মোটকথা, নববি যুগে বিচারব্যবস্থার উৎস ছিল তিনটি।
প্রথমত: কুরআন কারীম, যা মুহাম্মাদ-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া আল্লাহর কালাম। কোনো ঘটনা, প্রশ্ন এবং দাবির আগে যেমন তা অবতীর্ণ হতো, তেমনি সেসবের পরেও বিবরণ এবং সঠিক নির্দেশনা নিয়ে অবতীর্ণ হতো। কোনো মোকদ্দমা সামনে এলে নবি দুটি কাজের কোনো একটি অবশ্যই করতেন। হয়তো পূর্বে নাযিল হওয়া বিধানের আলোকে ফয়সালা করে দিতেন, নয়তো নাযিল হয়নি—এমন বিধানের ক্ষেত্রে ওহির অপেক্ষায় থাকতেন। অবশেষে ওহি নাযিল হওয়ার পরে বিধানটি সর্বত্র প্রচার করে দিতেন। যেমনটা ঘটেছিল উহুদ যুদ্ধে সাদ ইবনুর রবি শহীদ হওয়ার পরে। সাদের ভাইয়েরা তার মেয়েদের বঞ্চিত করে সব সম্পত্তি নিয়ে নেন। সাদের স্ত্রী তখন নবি -এর কাছে এ বিষয়ে মোকদ্দমা দায়ের করলে তিনি অপেক্ষা করার নির্দেশ দিলেন। অবশেষে উত্তরাধিকারের বিধান সংবলিত আয়াত নাযিল হওয়ার পরে সে অনুসারে ফয়সালা করলেন।
আরেকবার জনৈক মহিলার স্বামী তার সাথে যিহার করলে নবি তাকেও বিধান নাযিল হওয়ার অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। অবশেষে এ সংক্রান্ত বিধান অবতীর্ণ হয়। এমন আরও অনেক ঘটনা আছে।
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ। অর্থাৎ নবি যা বলেছেন, করেছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন। এর মূল ভিত্তি হলো ওহি। কারণ তিনি প্রবৃত্তি-তাড়িত হয়ে কোনো কথা বলেননি। এ হিসেবে সুন্নাহও মর্মগত দিক থেকে ওহি। জিবরীলের নির্দেশনায় কিংবা সরাসরি আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে তা আসত। নবি তা কার্যকর করতেন এবং সাহাবিগণ তার বুঝ ধারণ করতেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন কিতাবে হাদিস ও সুন্নাহ সংকলন করা হয়।
তৃতীয়ত: কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই—এমন বিষয়ে গবেষণা করা। সেটার পদ্ধতি হলো বিধানযুক্ত বিষয়কে বিধানবিহীন সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের সাথে তুলনা (কিয়াস) করার জন্য বিবেক-বুদ্ধি কাজে লাগানো। এর উদ্দেশ্য হলো সমতা প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায় প্রতিহত করা।
এই উৎস তিনটি সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃত এবং দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। যেমন পূর্বে মুআয-এর হাদিস আলোচনা করা হয়েছে। ফয়সালা করার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, 'আমি গবেষণা করব; কোনো রকম কমতি করব না।' তখন বিচারব্যবস্থার এই সঠিক পদ্ধতিটিকে আল্লাহর নবি শুধু স্বীকৃতিই দেননি; বরং সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছিলেন। ইসলামি বিচারব্যবস্থার এই পদ্ধতি অন্যান্য সাহাবি এবং মুসলিমদের সবাই বুঝে নিয়েছেন।
উম্মু সালামা বর্ণনা করেছেন, দুজন ব্যক্তি মিরাস এবং পুরাতন জিনিসের ব্যাপারে মামলা নিয়ে হাজির হলে নবি তাদের বললেন, 'এ সম্পর্কে আমার কাছে কোনো হুকুম অবতীর্ণ না হওয়ায় আমি আমার মতানুযায়ী ফয়সালা করে দেবো।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেছেন, 'কারও কাছে মোকদ্দমা পেশ করা হলে সে যেন আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফয়সালা করে। আল্লাহর কিতাবে নেই এমন বিষয় উপস্থাপিত হলে নবি-এর বিচারকার্য অনুপাতে ফয়সালা করবে। যদি এমন মোকদ্দমা সামনে আসে যার বিবরণ আল্লাহর কিতাবেও নেই এবং নবি -ও তেমন বিচারকার্য পরিচালনা করেননি, তবে নেককার ব্যক্তিদের কথা অনুসারে ফয়সালা করবে। আর যদি এমন মোকদ্দমা সামনে আসে-যার বিবরণ আল্লাহর কিতাবেও নেই, নবিজির সুন্নাহতেও নেই, এমনকি নেককার ব্যক্তিরাও সে ব্যাপারে কিছু বলেননি, তাহলে নিজের ইজতিহাদ তথা গবেষণা অনুপাতে ফয়সালা করবে। কেউ যদি ভালোমতো গবেষণা করতে না পারে, তাহলে লজ্জা না করে বিষয়টি স্বীকার করে নেবে।'
অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেছেন, 'হারাম সুস্পষ্ট এবং হালালও সুস্পষ্ট। উভয়ের মাঝে কিছু সংশয়পূর্ণ বিষয় আছে। সুতরাং সন্দেহপূর্ণ বিষয় ছেড়ে সন্দেহাতীত বিষয় গ্রহণ করো।'
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব আলি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, 'আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! এমন অনেক বিষয় আমাদের সামনে আসে, যে সম্পর্কে কুরআনে কিছু অবতীর্ণ হয়নি, এমনকি সে বিষয়ে আপনার কোনো সুন্নাহও পাওয়া যায় না।” উত্তরে তিনি বললেন, "আলিমদের বা ইবাদতগুজার মুমিনদের একত্র করে তোমাদের উপদেষ্টা বানিয়ে নেবে। তবে একজনের মতের মাধ্যমে অপরের মত খণ্ডন করবে না।”'
বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণের পর আলি-এর কাছে এমন এক মোকদ্দমা এল, যার সমাধান তিনি কুরআন-সুন্নাহয় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তখন তিনি বললেন, 'আমি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দিচ্ছি। তোমরা সন্তুষ্ট হলে সেটাই হবে চূড়ান্ত ফয়সালা। অন্যথা বিষয়টি আমি মুলতুবি রাখব। তখন তোমরা মোকদ্দমাটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ-এর কাছে যাবে।'
দেখা গেল, আলি কৃত ফয়সালা তারা মেনে নিতে পারেনি। অবশেষে তারা হজের সময় আল্লাহর রাসূল-এর কাছে গেল। তখন তিনি মাকামে ইবরাহিমের কাছে অবস্থান করছিলেন। সব শুনে তিনি আলি কৃত ফয়সালা বহাল রেখে বললেন, 'সে তোমাদের মাঝে যে ফয়সালা করেছে, সেটাই চূড়ান্ত।' সুতরাং বোঝা গেল, বিচারের ফয়সালা শরীয়ত মোতাবেক ও ওপরের তিনটি উৎস থেকে গ্রহণ করা উচিত।
টিকাঃ
[১১৭] আসবাবুন নুযূল লিল ওয়াহিদি: ১২২ দ্রষ্টব্য।
[১১৮] সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং: ৩৫৯২
[১১৯] সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং: ৩৫৮৫
[১২০] আল-মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন, হাদিস নং: ৭০৩০
[১২১] সুনানুদ দারিমি, হাদিস নং: ১৬৭
[১২২] ইলামুল মুওয়াকিয়ীন (ইলনিয়্যাহ): ১/৫২
[১২৩] মুসনাদু আহমাদ, হাদিস নং: ৫৭৩; যাদুল মাআদ: ৫/১৪; তবাকাতু ইবনি সাদ: ১/৯৫
📄 অভিযোগের তদন্ত এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত বিচার
অভিযোগের তদন্ত বলতে এখানে শাসক, বিচারক ও দায়িত্বশীল কর্তৃক জনসাধারণের অধিকার পুরোপুরি রক্ষা এবং নাগরিকের প্রতি জুলুম করা থেকে বিরত রাখা উদ্দেশ্য। আর দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত বিচার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সৎ কাজের আদেশ পরিত্যাগ করা হলে তা জারি করা এবং ছড়িয়ে পড়া অসৎ কাজ থেকে মানুষকে নিষেধ করা।
নববি যুগে এই দুই ধরনের বিচারব্যবস্থাই পাওয়া যায়। কিন্তু সে যুগে এসব ছিল সাধারণ বিচারব্যবস্থার অধীনে। এসবের পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা পরবর্তী যুগে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার জন্য আমরা কিছু উদাহরণ দেখতে পারি। রাশিদ ইবনু আবদিল্লাহ -কে নবিজি যখন বিচারক নিযুক্ত করেন, তখন অভিযোগের তদন্ত করার বিষয়টি সর্বপ্রথম সামনে আসে। নবি বলেছিলেন, 'কারও থেকে আমি সম্পদ নিয়ে থাকলে এই রইল আমার সম্পদ। এখান থেকে নিয়ে নাও। আর যদি কারও পিঠে আঘাত করে থাকি, তাহলে আমার পিঠে আঘাত করে তার বদলা নিয়ে নাও।'
বদরের দিন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে নবি সাহাবিদের কাতার সোজা করছিলেন। দেখলেন, সাওয়াদ ইবনু গাযিয়্যা কাতার থেকে একটু সামনে বেড়ে আছেন। হাতে থাকা তিরের মাথা দিয়ে তার পেটে সামান্য খোঁচা দিলেন তিনি। বললেন, 'সাওয়াদ! কাতার সোজা করো।' সাওয়াদ তখন বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আপনি ব্যথা দিয়েছেন। আল্লাহ তো আপনাকে ন্যায় ও ইনসাফ দিয়ে পাঠিয়েছেন। অতএব আমাকে বদলা নিতে দিন।' আল্লাহর নবি তখন নিজের পেট থেকে কাপড় সরিয়ে দিয়ে বললেন, 'নাও, বদলা নাও।' সাওয়াদ তখন নবিজিকে জড়িয়ে ধরে তাঁর পেটে চুমু দিলেন। নবি অবাক হয়ে বললেন, 'ব্যাপার কী সাওয়াদ?' তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আজকের (অর্থাৎ যুদ্ধের) অবস্থা তো আপনি দেখতেই পাচ্ছেন। তাই আপনাকে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হলো।'
এ ছাড়াও অনেক হাদিস থেকে জানা যায়, নবি যাকাত উসুলের কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের থেকে হিসাব গ্রহণ করতেন। সহিহুল বুখারিতে এ সংক্রান্ত একাধিক বর্ণনা রয়েছে।
তদ্রূপ নববি যুগে দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত বিচারও সংঘটিত হতো। রাসূলুল্লাহ নানান বিষয়ে আপামর জনগণের খোঁজখবর রাখতেন। এজন্য তিনি নিজেই বাজার পরিদর্শন করতেন। দ্রব্যমূল্যের প্রতি তাঁর নজর থাকত এবং মানুষকে প্রতারণা করতে তিনি নিষেধ করতেন।
আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন, একবার স্তূপীকৃত খাদ্যশস্যের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নবি তাতে হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তখন হাতে আর্দ্রতা অনুভব করে তিনি বললেন, 'হে খাদ্যশস্যের মালিক, এটা আবার কী!' সে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! এতে বৃষ্টির পানি পড়েছিল।' রাসূল বললেন, 'ভেজা অংশ খাদ্যশস্যের ওপর দিকে রাখলে না কেন, তাহলে লোকেরা তা দেখতে পেত। যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।'
মক্কা বিজয়ের পর সাঈদ ইবনু সাঈদ ইবনিল আস-কে নবি সেখানকার বাজারের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেছিলেন। সে দায়িত্ব তিনি পালন করতেন। পরবর্তীকালে তায়িফ অভিযানের দিন তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
অভিযোগের তদন্ত আর দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত বিচার সে-সময় সাধারণ বিচারব্যবস্থার বহির্ভূত বিষয় ছিল না। নববি যুগের বিচারকগণ ব্যক্তিবিশেষের মাঝে যেমন ফয়সালা করতেন, তেমনি ক্ষমতাবানদের সীমালঙ্ঘন করতে বাধা দিতেন। সৎ কাজের আদেশ করা এবং তাদের সামনে সংঘটিত হচ্ছে কিংবা হওয়ার সংবাদ পেয়েছেন এমন অসৎ কাজে বাধা প্রদান করা ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ।
টিকাঃ
[১২৪] নবিজির ভাষণের এই অংশটি সীরাতবিদগণ উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন হাদিসে এর মর্ম পাওয়া যায়। প্রয়োজনে সহিহ মুসলিম: ১৬/১৫০; মুসনাদু আহমাদ: ২/২৪৩ ও ৬/৪৫; সুনানুদ দারিমি: ২/৩১৪-৩১৫ এবং তবাকাতু ইবনি সাদ: ২/২৫৫ দেখা যেতে পারে।
[১২৫] সীরাতু ইবনি হিশাম: ২/২৭৮-২৭৯
[১২৬] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং: ১৫০০ ও ৬৯৭৯
[১২৭] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১০২
[১২৮] আল-ইসতীআব ফী মারিফাতিল আসহাব: ২/৬২১