📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 নবিজির বিচারকার্য পরিচালনা

📄 নবিজির বিচারকার্য পরিচালনা


রাসূল ছিলেন ইসলামি রাষ্ট্রের প্রথম বিচারক। ইসলামি বিচারব্যবস্থার সর্বপ্রথম পরিচালক ছিলেন তিনি। তাঁর বিচারই হচ্ছে আদর্শ বিচারের মডেল আর নমুনা। কারণ, আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত বিচারের বিধান তাঁর কাছেই নাযিল হতো। কুরআনের যেসব আয়াতে তাঁকে বিচারের গুরুভার আর পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, সেসবের বাস্তবায়ন তিনিই করতেন। তাঁর বিচার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা ততক্ষণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের মাঝে সৃষ্ট বিবাদের বিচারক্ষমতা আপনার ওপর ন্যস্ত না করবে; তারপর আপনার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা না রেখে সন্তুষ্টচিত্তে তা মেনে নেবে।
فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ অতএব আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুসারে তাদের মাঝে আপনি ফয়সালা করুন। আপনার কাছে যে সত্য এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না।
إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَبَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرْبكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَا بِنِيْنَ خَصِيمًا আমি তো আপনার প্রতি সত্য-সহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আল্লাহ আপনাকে যা জানিয়েছে সে অনুসারে লোকদের মাঝে আপনি ফয়সালা করেন। আর আপনি খিয়ানতকারীদের পক্ষে তর্ককারী হবেন না।
রাসূল ছিলেন মদীনা মুনাওয়ারার সমাজে বিভিন্ন গোত্র, দল এবং ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সৃষ্ট সব সমস্যার সমাধান এবং সমস্ত বিবাদ নিরসনের একমাত্র জায়গা। হিজরতের পরপরই মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝে রাসূল কৃত চুক্তির আলোচনায় এ সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়েছে। সে চুক্তির একটা ধারা ছিল এমন— 'এই চুক্তির অধীনে থাকা দল এবং গোত্রের লোকদের মাঝে যেসব কলহ-বিবাদ, তর্ক-বিতর্ক এবং মামলা-মোকদ্দমার কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে, তা নিরসনের জন্য সবাই আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দ্বারস্থ হবে।'
সুতরাং পূর্বোল্লেখিত আয়াতগুলোর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ কলহ-বিবাদ নিরসন এবং ফয়সালার ব্যাপারে আল্লাহর তরফ থেকে আদিষ্ট ছিলেন। চুক্তি অনুসারে ঐক্যের তাগিদে এই দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত থাকায় কার্যত তিনিই সেটা পরিচালনা করেছেন। ঝগড়া-বিবাদের ফয়সালা তিনিই করতেন। মানুষের সম্পদ, উত্তরাধিকার সম্পত্তি ও অধিকার প্রদান করতেন। ঋণ ও লেনদেনের বিচার করতেন। দাবিদাওয়া মেটাতেন। মতবিরোধের নিষ্পত্তি, দোষীকে শাস্তি প্রদান এবং ইসলামের দণ্ডবিধি কার্যকর করা ছিল তাঁর দায়িত্ব। মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান তিনিই করতেন। জায়গা-জমি, পানি-সেচ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি-সহ সকল ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা আমরা আলোচনা করব।

টিকাঃ
[১৬] সূরা নিসা, ৪: ৬৫
[১৭] সূরা মায়িদা, ৫:৪৮
[১৮] সূরা নিসা, ৪:১০৫
[১৯] সীরাতু ইবনি হিশাম: ১/৫০৪

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারক নিয়োগ প্রদান

📄 বিচারক নিয়োগ প্রদান


রাসূল নিজে মদীনায় যেমন বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, তেমনি কোথাও গেলে বা অবস্থান করলে সেখানেও করতেন। আবার কিছুসংখ্যক সাহাবিকেও তিনি বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন। তাদের অনেকে ছিলেন বিভিন্ন এলাকায় বিচারক। আবার তাঁর নিযুক্ত প্রশাসকদের কাজও ছিল বিচারকার্য পরিচালনা এবং মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করা। সামনে আমরা কিছু উদাহরণ উল্লেখ করব।
(ক) কিছুসংখ্যক সাহাবিকে রাসূল কর্তৃক বিচারক নিযুক্তকরণ: তাদের কতক ছিলেন ইসলামি এলাকার দায়িত্বে, অনেকে ছিলেন এলাকার একাংশের দায়িত্বে, আবার কেউ কেউ ছিলেন নির্দিষ্ট শহরের দায়িত্বে। এদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হলো।
১. আলি-কে বিচারক বানিয়ে ইয়ামানে প্রেরণ করা হয়।
২. মাকিল ইবনু ইয়াসার-কে ইয়ামানের বিচারক নিযুক্ত করে পাঠানোর সময় তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বিচারকার্য ভালো পারি না।' উত্তরে নবি বললেন, 'আল্লাহ বিচারকের সাথে থাকেন, যতক্ষণ না স্বেচ্ছায় সে অন্যায় করে।'
৩. আবদুল্লাহ ইবনু উমর-কে খলিফা উসমান বললেন, 'যাও, লোকদের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা করো।' আবদুল্লাহ আরজ করলেন, 'আমিরুল মুমিনীন! আমাকে কি মাফ করা যায়?' খলিফা বললেন, 'এ পদটি তুমি অপছন্দ করছ, অথচ তোমার বাবা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন!' উত্তরে আবদুল্লাহ বললেন, 'রাসূলুল্লাহ-কে এই কথা বলতে আমি শুনেছি— "কোনো ব্যক্তি বিচারক নিযুক্ত হয়ে যদি ইনসাফের সাথে ফয়সালা করে, তবুও বরাবর আমল নিয়ে প্রত্যাবর্তন করা কঠিন ব্যাপার।” এরপর আমি আর কী আশা করতে পারি!'
অন্য বর্ণনামতে আবদুল্লাহ বলেছিলেন, 'আমার বাবা তো জটিল বিষয়ে নবিজির শরণাপন্ন হতেন। আর নবি জটিল বিষয়ে জিবরীল-কে জিজ্ঞেস করতেন। আমি তো শরণাপন্ন হওয়ার মতো কাউকে পাচ্ছি না, আর আমি আমার বাবার মতো যোগ্যও নই।'
দাউদ ইবনু আমির বলেছেন, 'এই উম্মতের বিচারক চারজন। তারা হলেন উমর, আলি, যায়িদ এবং আবু মূসা আশআরি।'
(খ) ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া নগর এবং এলাকাতে নবি প্রশাসক নিযুক্ত করতেন: বিচারকার্য পরিচালনা, লোকদের মোকদ্দমা নিষ্পত্তি, শরীয়ত প্রতিষ্ঠা এবং দ্বীনি বিধান কার্যকর করা ছিল এই প্রশাসকদের দায়িত্ব। এসব প্রশাসকের অনেকেই ছিলেন বিচারক। কিন্তু এ ব্যাপারে তারা প্রসিদ্ধি লাভ করেননি। যেমন তায়িফের প্রশাসক উসমান ইবনু আবিল আস, সানআর প্রশাসক মুহাজির ইবনু আবি উমাইয়া, খাওলানের প্রশাসক ইয়ালা ইবনু উমাইয়া, হাদরামাউতের প্রশাসক যিয়াদ ইবনু লাবিদ। এবং ইয়ামানে প্রেরিত আমর ইবনু হাযম। আমর-এর নিয়োগের ব্যাপারে নবি পত্রও লিখেছিলেন।
(গ) কোনো কোনো সাহাবিকে কিছু অঞ্চলের প্রশাসক ও বিচারক—উভয়টিই বানিয়ে পাঠানো হলেও তারা ইতিহাসে বিচারক হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। যেমন,
১. মুআয ইবনু জাবাল -কে নবি জানাদ-এ পাঠিয়েছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল লোকদের কুরআন ও শরীয়তের তালিম প্রদান এবং ইয়ামানের যাকাত উসুলকারীদের থেকে যাকাতের সম্পদ কালেক্ট করা। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার গুরুত্বের কারণে বিশেষভাবে সেটাও তাকে পরিচালনা করতে হতো। তাকে বিদায় দেওয়ার সময় নবি এই বিষয়টির প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছিলেন। আশ্বস্ত হওয়ার জন্য পরীক্ষামূলক প্রশ্ন করেছিলেন, 'তোমার কাছে কোনো মোকদ্দমা আনা হলে কিসের ভিত্তিতে বিচার-ফয়সালা করবে?' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কিতাব মোতাবেক।' নবি বললেন, 'যদি আল্লাহর কিতাবে এর কোনো ফয়সালা না পাও?' মুআয বললেন, 'তাহলে আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ অনুসারে।' নবি বললেন, 'যদি রাসূলের সুন্নাহতে বা আল্লাহর কিতাবে সেটার ফয়সালা না পাও?' তখন মুআয বললেন, 'তাহলে আমি গবেষণা করব; কমতি করব না।' নবি তখন মুআযের বুক চাপড়ে বলেছিলেন, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলের প্রতিনিধিকে আল্লাহর রাসূলের মনঃপূত কাজ করার তাওফিক দিয়েছেন।'
২. ৮ম হিজরিতে মক্কা বিজিত হয়। সেখান থেকে চলে আসার সময় তিনি আত্তাব ইবনু উসাইদ -কে মক্কাবাসীদের প্রশাসক ও বিচারক নিযুক্ত করেন।
৩. আল-আলা ইবনুল হাদরামি -কে নবি বাহরাইনের প্রশাসক ও বিচারক নিযুক্ত করেন। প্রেরণের সময় নবি তাকে একটি দীর্ঘ পত্রও দিয়েছিলেন। সে পত্রের কিছু অংশ হলো:
'পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। এটা মুহাম্মাদ ইবন আবদিল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। যিনি উম্মি নবি, যিনি কুরাইশি বংশোদ্ভূত, হাশেমি গোত্রীয়, যিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল এবং নবি। আল-আলা ইবনুল হাদরামি এবং তার সাথে থাকা মুসলিমদের উদ্দেশ্যে। তোমাদের থেকে আমি এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করছি: হে মুসলিমগণ! তোমরা সাধ্যমতো আল্লাহকে ভয় করবে। তোমাদের কাছে আমি আল-আলা ইবনুল হাদরামিকে প্রেরণ করেছি। তার প্রতি আমার নির্দেশ থাকছে সে যেন এক আল্লাহকে ভয় করে, যার কোনো শরিক নেই। সে যেন তোমাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়। তোমাদের মাঝে সে যেন উত্তমভাবে চরিত্র গঠন করে। তোমাদের-সহ যার সাথে দেখা হবে, তার সাথে সে যেন আল্লাহর নাযিলকৃত ইনসাফের পদ্ধতি অনুসারে ফয়সালা করে। সুতরাং সে যখন বণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত আচরণ করবে এবং অসহায়ের প্রতি দয়ার্দ্র হবে, তখন তার কথা শোনা এবং মানার জন্য তোমাদের আদেশ করছি। তোমরা তাকে সবরকম সাহায্য-সহযোগিতা করবে।'
এই পত্রটি হিজরতের ৪র্থ বছর যিলকদ মাসের ৩ তারিখ লেখা হয়েছিল। রাসূল বসা অবস্থায় সাহাবিদের উপস্থিতিতে মুআবিয়া ইবনু আবি সুফইয়ান পত্রটি লিখেছিলেন এবং উসমান ইবনু আফফান তার কপি তৈরি করিয়েছিলেন।
৪. ইয়ামানের জাবেদ, এডেন-সহ আরও কিছু অংশের প্রশাসন ও সেখানকার বিচার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে আবু মূসা আশআরি-কে নবি পাঠিয়েছিলেন। ওয়াকি সূত্রে বর্ণিত আছে, আবু মূসা-কে নবি ইয়ামানের অর্ধেক দায়িত্ব এবং অবশিষ্ট অর্ধেকের দায়িত্ব মুআয ইবনু জাবাল -কে দিয়েছিলেন।
(ঘ) কোনো বিশেষ ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সাহাবিকে বিচারের দায়িত্ব প্রদান করা।
১. উকবা ইবনু আমির সূত্রে বর্ণিত আছে, একবার দুজন লোক নবি -এর কাছে মোকদ্দমা নিয়ে এলে তিনি বললেন, 'যাও, উকবা! ওদের মাঝে ফয়সালা করে দাও।' উকবা আরজ করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার তুলনায় আপনি তো এ কাজের অধিক উপযুক্ত।' নবি তখন বললেন, 'তা হোক। তুমিই ওদের মাঝে ফয়সালা করে দাও। গবেষণা করে সঠিক বিচার করলে ১০টি সওয়াব পাবে। আবার গবেষণা করার পরও ভুল করলে একটি সওয়াব তুমি পেয়েই যাবে।
২. হারিসা ইবনু যাফুর থেকে বর্ণিত আছে, দুজন ভাইয়ের যৌথ মালিকানায় একটি ঘর ছিল। ঘরটির মাঝামাঝি তারা একটি বেড়া দিয়ে নিয়েছিল। একসময় তাদের দুজনের মৃত্যু হয়ে যায়। উভয়ের ওয়ারিশই বেড়াটির মালিকানা দাবি করে। একপর্যায়ে বিষয়টি নবি -এর কাছে উপস্থাপন করা হলো। তিনি মীমাংসার জন্য হুযাইফা-কে পাঠালেন। বেড়ার কাছে থাকা যে দড়ি দিয়ে কুঁড়েঘরটি বাঁধা হয়েছিল, তার মালিকের সপক্ষে বেড়ার মালিকানার ফয়সালা দিলেন। ফিরে এসে নবি -কে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন, 'সঠিক ফয়সালা করেছ।' অন্য বর্ণনামতে তিনি 'চমৎকার ফয়সালা করেছ' বলেছিলেন।

টিকাঃ
[১০০] হাদিসটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং: ৩৫৮২ দ্রষ্টব্য।
[১০১] মুসনাদু আহমাদ, হাদিস নং: ২০৩০৫; আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস নং: ৬৫০৮
[১০২] সুনানুত তিরমিযি, হাদিস নং: ১৩২২; ইমাম তিরমিযি বলেন, ইবনু উমর-এর হাদিসটি গারীব। আমার মতে এ হাদিসের সনদ পরস্পর সংযুক্ত নয়।
[১০৩] মুসনাদু আবদ ইবনি হুমাইদ: ১/৪৭
[১০৪] তবাকাতু ইবনি সাদ: ২/৩৫১
[১০৫] আল-ইসাবাহ: ৪/২২১
[১০৬] সীরাতু ইবনি হিশাম: ২/৬০০
[১০৭] প্রাগুক্ত
[১০৮] আস সীরাতুন নববিয়‍্যাহ: ২/৫৯৪
[১০৯] ইয়ামানের একটি প্রদেশ। সেখানে ইয়ামানের প্রশানিক দপ্তর ছিল। সানআ থেকে জানাদ-এর দূরত্ব ৫৮ ফারসাখ তথা ১৭৫ মাইল। মারাসিদুল ইত্তিলা: ১/৩৫০
[১১০] সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং: ৩৫৯২
[১১১] সুবুলুস সালাম: ৪/১৬১
[১১২] আল- মাত্বালিবুল আলিয়া বিযাওয়ায়িদিল মাসানীদিস সামানিয়া, হাদিস নং: ২১৭১
[১১৩] সিয়ারু আলামিন ন্যবালা: ২/৩৮১-৩৮২
[১১৪] আসবারুল কুরাত: ১/১০০-১০১
[১১৫] সুনানুদ দারাকুতনি, হাদিস নং: ৪৪৫৯
[১১৬] সুনানুদ দারাকুতনি, হাদিস নং: ৪৫৪৪

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 নিয়োগের পদ্ধতি

📄 নিয়োগের পদ্ধতি


নবি যাদের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করতেন, তারা উপস্থিত থাকলে তাদেরকে মৌখিকভাবে নিয়োগ দিতেন। বিচারব্যবস্থার নিয়মকানুন এবং বিচারকের বৈশিষ্ট্য জানিয়ে দিয়ে তাদেরকে যাবতীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করতেন। মুআয ইবনু জাবাল এবং আলি ইবনু আবি তালিব-কে নিয়োগ দেওয়ার সময় তিনি এমন করেছিলেন।
পক্ষান্তরে অনুপস্থিত ব্যক্তিকে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে নবি তার উদ্দেশ্যে পত্র লিখতেন। যা-তে তার থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ-সহ বিচারব্যবস্থার মূলনীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকত। আমর ইবনু হাযম-কে ইয়ামানে প্রেরণের সময় এবং আল- আলা ইবনুল হাদরামি-কে বাহরাইনের বিচারক নিযুক্তির সময় তিনি এমন পত্র লিখেছিলেন。

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারের পরিধি নির্দিষ্টকরণ

📄 বিচারের পরিধি নির্দিষ্টকরণ


পেছনে উল্লেখকৃত উদাহরণগুলো থেকে নববি যুগে নির্দিষ্ট বিচারকের বিষয়টি যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনি তাদের বিচারকার্য পরিচালনার নির্দিষ্ট এলাকাও স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন আত্তাব ইবনু উসাইদ-কে মক্কার প্রশাসক ও বিচারক নিযুক্ত করার সময় তিনি মক্কা নগরী এবং মক্কার পার্শ্ববর্তী এলাকা তার জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। বাহরাইন ছিল আল-আলা ইবনুল হাদরামি-এর নির্দিষ্ট জায়গা। ইয়ামানে নিযুক্ত সাহাবিদের প্রত্যেকেরই ইয়ামানের নির্দিষ্ট অংশ বা নগরীর দায়িত্ব ছিল। নবিজির নির্ধারিত বিচারকদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিধিতে দায়িত্ব পালন করতেন।
তদ্রূপ বিচারের ধরন কী হবে এবং প্রকার কেমন হবে, সেটাও নির্দিষ্ট ছিল। বিচারক সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় দেখবেন, নাকি যে-কোনো বিষয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন, সেটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হতো। আলি, আবু মূসা আশআরি এবং মুআয ইবনু জাবাল-এর নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তারা রক্তপণ, সম্পদ, দণ্ডবিধি, দৈহিক বিধানাবলি এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিস্থিতির বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। যেমন: বিবাহ, তালাক, বংশ প্রমাণিতকরণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি।
আবার কোনো কোনো মামলার ক্ষেত্রে বিচারকের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকত। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর বিচারকের কার্যকারিতা এবং নিযুক্তির সময় উত্তীর্ণ হয়ে যেত। যেমন আমর ইবনুল আস-এর কাছে মামলা দায়ের করা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উকবা ইবনু আমির আল-জুহানি এবং হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান -এর বিচার করার ঘটনা। তবে বিচারক সাধারণভাবে সব বিষয়ে বিচার পরিচালনা করবেন—এটাই ইসলামি বিচারব্যবস্থার মূল নিয়ম। রাসূল এবং বড় বড় বিচারকগণও এমনটাই করেছেন। এজন্যই আমরা দেখতে পাই, রাসূল যেমন রক্তপাতের বিষয়ে ফয়সালা করেছেন, তেমনি দণ্ডবিধিও কার্যকর করেছেন। সম্পদ ও সম্পদ-সংক্রান্ত অধিকারের বিচারের মতো দৈহিক অধিকার এবং বন্দির বিধান সংক্রান্ত বিচারও তিনি পরিচালনা করেছেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00