📄 মক্কায় ন্যায় প্রতিষ্ঠার সাংগঠনিক প্রচেষ্টা
কিছু কিছু সমস্যার সমাধানে আরবরা সুশৃঙ্খলভাবে চেষ্টা করেছিল। ঝগড়া-বিবাদের মীমাংসা, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, দুর্বল, অসহায় এবং মজলুম মানুষের পক্ষে লড়াই করার জন্য তারা দৃঢ় প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এ লক্ষ্যে কুরাইশরা ফয়সালার জন্য কয়েকজন লোককে নির্বাচন করেছিল। তাদের মধ্যে বনু সাহামের নেতৃস্থানীয় লোকেরা কুরাইশদের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদ এবং মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করত। আর কুরাইশের সাথে অন্যান্য গোত্রের ঝগড়া-বিবাদ এবং মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তির জন্য বনু আদির কিছু লোককে ঠিক করা হয়েছিল। এ ধরনের বিচার ও সালিশি দায়িত্ব যাদের দেওয়া হয়েছিল, তারা হলেন হাশিম ইবনু আবদি মানাফ, আবদুল মুত্তালিব, আবু তালিব, আবু বকর সিদ্দিক, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং যুল ইসবা আল-উদওয়ানি। এরপর কুরাইশের সবগুলো উপগোত্র হিলফুল ফুজুল নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়। যার উদ্দেশ্য ছিল মক্কা মুকাররমায় থাকা স্বাধীন-দাস, আপন-পর, মুকিম-মুসাফির—এক কথায় সমস্ত মানুষ থেকে জুলুম আর অত্যাচার প্রতিহত করা। সমস্ত মানুষকে সহায়তা করা, তাদের অধিকার রক্ষা, জুলুম-নির্যাতন প্রতিহত করা এবং সবার প্রতি ইনসাফ করার ব্যাপারে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল। রাসূল ﷺ নিজেও তাদের সাথে প্রতিজ্ঞায় অংশ নিয়েছিলেন। সে-সময় তিনি ছিলেন ২৫ বছর বয়সের টগবগে তরুণ। এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন, 'আমি তো আবদুল্লাহ ইবনু জাদআনের ঘরে একটি মৈত্রী চুক্তি দেখেছি। ইসলামের যুগেও যদি আমাকে এ ব্যাপারে আহ্বান করা হয়, তাহলে আমি অবশ্যই সাড়া দেবো। এই সংগঠনের মোকাবিলায় লাল উটও আমার কাছে বেশি পছন্দনীয় নয়। তারা এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল যে, মানুষকে তাদের প্রাপ্য অধিকার দেওয়া হবে; মজলুমের ওপর জালিমের অত্যাচার মেনে নেওয়া হবে না।'
টিকাঃ
[৮৪] তার নাম প্রকৃত হিরসান ইবনুল হারিস। জাহিলি যুগের প্রাজ্ঞ কবি এবং বাহাদুর। তার কবিতায় প্রজ্ঞা, উপদেশ এবং গৌরবগাঁথা থাকত। হিজরতের ২২ বছর আগে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। — আল-আলাম: ২/১৮৪
[৮৫] সীরাতু ইবনি হিশাম: ১/১৩৩-১৩৪