📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইজমার ভিত্তিতে

📄 ইজমার ভিত্তিতে


বিচারব্যবস্থার বৈধতার ব্যাপারে মুসলিমগণ একমত। এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত করেননি। সাহাবায়ে কেরাম বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়ে এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপও করেছেন। অনেকে তো এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অপরের থেকে তা প্রত্যাশাও করেছেন। ইসলামি রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র-সহ যেসব জায়গায় ঈমান এবং ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল, খুলাফায়ে রাশিদিন এবং তাঁদের পরবর্তী শাসকেরা সেসব স্থানে বিচারক নিয়োগ দিয়েছিলেন।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আবু বকর খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর উমর -কে বিচারের দায়িত্ব প্রদান করে বলেন, 'আপনি লোকদের মাঝে বিচারকার্য সম্পাদন করবেন। কারণ আমি তো একটি কাজ নিয়ে আছি।'
খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর উমর অনেক সাহাবি এবং তাবিয়িকে বিভিন্ন স্থানে বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন। আবুদ দারদা -কে প্রথমে মদীনার বিচারক নিযুক্ত করলেও পরে দামিস্কে পাঠিয়ে দেন। আবু মূসা আশআরি -কে বসরার বিচারক এবং শুরাইহ ইবনুল হারিস আল-কিন্দি -কে কুফার বিচারক নিযুক্ত করেন। শুরাইহ সেখানে দীর্ঘ ষাট বছর যাবৎ বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। বিচারকার্য পরিচালনা এবং মোকদ্দমা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আলি ছিলেন বিশেষভাবে পারদর্শী। খুলাফায়ে রাশিদিনের যুগের পর উমাইয়া যুগ, আব্বাসি যুগ-সহ ইসলামি খিলাফতের শেষ অবধি এভাবেই নানান স্থানে বিচারক নিযুক্তির প্রচলন ছিল। এ ব্যাপারে আমরা অচিরেই আলোচনা করব।
আলিমদের অনেকেই বিচারব্যবস্থার বৈধতা-সংক্রান্ত বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। উমর-এর একটি পত্রে তিনি লিখেছিলেন, 'বিচারব্যবস্থা একটি শক্তিশালী আবশ্যক বিধান এবং অনুসরণীয় রীতি।' অর্থাৎ এই বিধানটি রহিত হয়নি। আর কেউ এর বিরোধিতাও করেননি।
ইবনু কুদামা বলেছেন, 'বিচারক নিয়োগ দেওয়া এবং লোকদের মাঝে ফয়সালা করার ব্যাপারে মুসলিমদের মাঝে ইজমা রয়েছে। খতিব শারবীনি বলেছেন, 'বিচারব্যবস্থা কার্যকরের ব্যাপারে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলেই একমত।'

টিকাঃ
[৭৬] আল মুগনি: ১০/৩২
[৭৭] মুগনিল মুহতাজ: ৪/৩৭২

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 যুক্তির নিরিখে

📄 যুক্তির নিরিখে


সমাজবদ্ধতা মানুষের স্বভাব। মানুষের জীবন সমাজকেন্দ্রিক। স্বাভাবিকভাবেই একটি বিচারব্যবস্থার প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের মধ্যকার বিবাদ নিষ্পত্তি করবে। কারণ মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই স্বার্থপর, বিজয়লিঙ্গু এবং লোভী। তীব্র লালসার কারণে একে অপরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। এ কারণেই সে অন্যের ওপর হামলা করে, পরস্পরে ঝগড়া হয় এবং একজন অন্যজনের ওপর অত্যাচার করে। শরীয়ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার গুরুত্ব-সংক্রান্ত আলোচনায় এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সুতরাং এগুলোর মাধ্যমে যৌক্তিকভাবে একটি বিচারব্যবস্থার অস্তিত্ব অত্যাবশ্যক প্রমাণিত হয়। যা মানুষের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করে। এটাই হচ্ছে যুক্তির দাবি।
বাস্তবতা হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রমাণ এবং ইতিহাস হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষী। সুতরাং সুবিচার প্রতিষ্ঠায় এবং শরীয়তের বিধিবিধান বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। প্রয়োজন এমন বিচারক, যিনি নিপীড়িত মজলুমের সাথে ইনসাফ করবেন। অন্যথায় মানুষের অধিকার খর্ব হবে। এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেছেন, 'মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্য একজন (ন্যায়পরায়ণ) বিচারকের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00