📄 এখনই সময় স্বকীয়তা ও উন্নত চেতনা তৈরীর
আমি স্বীকার করি, আমরা এমন এক যুগ পার করেছি, যখন আমরা আমাদের ইতিহাস, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিচয় লাভ করার জন্য পশ্চিমাদের জ্ঞানকোষ ও তাদের অধ্যাপনার প্রতি নির্ভরশীল হলাম; অথচ আমাদের পূর্বপুরুষদের সংকলিত ও লিপিবদ্ধ গ্রন্থাবলি ছাড়া তাদের মৌলিক কোনো উৎসগ্রন্থ নেই। ইতিপূর্বে আমরা এ ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলাম। আর ধর্মীয় উৎসগ্রন্থের ব্যাপারে লজ্জাজনক অন্ধত্ব হতে আমাদের ললাটকে সু-উচ্চ করার এখনই সময়।
ধর্মীয় গ্রন্থাবলি বোঝা ও অধুনাবন করা, আরবিভাষা শিক্ষা, বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাস উপলব্ধি ও ধর্মীয় আলেমদের বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে পশ্চিমাদের জ্ঞান-বুঝের উপর নির্ভরশীল হওয়া অপমানজনক। বিদ্বেষী প্রাচ্যবিদ ও পশ্চিমা গবেষকরা আশা করছেন আমরা যেন আমাদের দীন- ধর্ম, আলেম-ওলামাদের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় ও কুধারণার মধ্যে থাকি। আর এখনই উপযুক্ত সময় এসেছে আমরা সকল ধুলা-বালি ঝেড়ে ফেলে কাজ করতে থাকব এবং আমাদের গচ্ছিত গবেষণালব্ধ ধনভাণ্ডারগুলোর প্রচার-প্রসার করব। এর দ্বারা একটি স্বকীয় ব্যক্তিত্ব, উন্নত চেতনা ও মন- মানসিকতা আমাদের মাঝে স্থান পাবে।
এরপরও যে ব্যক্তি আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ও মতামতকে বিশ্বাস করে, সে যেন অতিরিক্ত السنة ومكانتها في التشريع الاسلامي ficiale gas is abo
ও এ ধরনের আরো গ্রন্থ অধ্যয়ন করে নেয়। উক্ত গ্রন্থে আমি প্রাচ্যবিদগণ ও তাদের সাথে আমার ও তাদের বিভিন্ন মতামত নিয়ে পর্যালোচনা করেছি, যা দ্বারা ঐসকল প্রাচ্যবিদের ষড়যন্ত্রের নীলনকশা প্রকাশ ও প্রকৃত গুপ্তরহস্য উন্মেচিত হয়েছে।
আমরা বিকৃতি সাধনকারী ও বিপথগামীতার পথপ্রদর্শকদের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করব; তবে যেসব প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ আমাদের পুরাতন মূল্যবান গ্রন্থগুলো প্রকাশের ব্যাপারে ন্যায় ও ইনসাফের ভূমিকা পালন করেছেন এবং সত্যানুসন্ধানের গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তাদেরকে আমরা অবমূল্যায়ন করছি না। কারণ, ইসলামি জ্ঞান এমন নয় যে, তা থেকে এক শ্রেণির লোক এক চেটিয়া সুবিধা ভোগ করবে আর অন্য শ্রেণি বঞ্চিত হবে।
ইসলাম আল্লাহর মনোনীত সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এটা সম্ভব নয় যে, দীনের চিন্তা-চেতনা ও বুঝ দ্বারা শুধু নির্দিষ্ট সম্প্রদায় লাভবান হবে। এ আলোচনা হতে যে যতটুকু চায় যেন বুঝে নেয়। তবে (ইসলাম ও ইসলামি জীবনব্যবস্থার মৌলিক উৎস কুরআন-সুন্নাহ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য) শর্ত হলো, ইসলামিয়্যাত অধ্যয়নকারীকে প্রকৃত জ্ঞানীদের গুণাবলিতে সজ্জিত হতে হবে। আর তা হলো ন্যায়-নীতির দৃষ্টিভঙ্গি ও সত্যের প্রতি নির্ভেজাল একনিষ্ঠতা অর্জন করা; পাশাপাশি প্রকৃতির তাড়না, অবাধ্যতা ও অন্যায় আচরণ বর্জন করতে হবে।
টিকাঃ
১৩২. অর্থাৎ পশ্চিমাদের জীবনব্যবস্থা, ধর্ম ও সভ্যতার একটি বাস্তব রূপ তাদের তৈরী মূলনীতি দিয়ে বিশ্বাবাসীর কাছে পেশ করা হবে। এতে তারা যতটুকু মুসলিদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর জন্য চেষ্টা করেছে তার থেকে হাজার গুণ তাদের অপকর্ম ও অসভ্যতা ফুটে উঠবে। যদি বাস্তব পর্যালোচনায় এমনটি উঠে আসে, তা হলে তাদের মত অসত্য ও ভ্রান্ত নীতিমালা অবলম্বন করলে কী অবস্থা দাঁড়াবে একবারও কি তারা ভেবে দেখেছে?
১৩৩. এই বইয়ের ভূমিকায় পঁচিশটির বেশি পুস্তিকা ও গ্রন্থের আলোচনা করা হয়েছে। একই বিষয় প্রিয় শায়খ সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদবি রহ. 'আল-ইসলাম ওয়াল মুসতাশরিকুন' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন। সংক্ষিপ্তভাবে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের কর্মতৎপরতার ব্যাপারে ধারণা উক্ত বইটিতে পাওয়া যাবে।