📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রাচ্যবিদদের ব্যাপারে আমার শেষ কথা

📄 প্রাচ্যবিদদের ব্যাপারে আমার শেষ কথা


সামরিক ও রাজনৈতিক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে যখন ধর্মযুদ্ধের অবসান হলো, তখন থেকেই ইসলাম ও মুসলিমদের উপর ভিন্ন পন্থায় প্রতিশোধ গ্রহণ করার আক্রমণাত্মক চিন্তা-ভাবনা পশ্চিমাবিশ্ব প্রস্তুত রেখেছিল। তারা প্রথম যে পন্থা অবলম্বন করেছিল, তা হলো ইসলামি স্টাডি ও তার সমালোচনা। মধ্যযুগীয় সময় পাশ্চাত্যে খ্রিস্টসমাজ এই দৃষ্টিভঙ্গির নেতৃত্ব দিচ্ছিল। ইসলাম যখন রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভ করতে আরম্ভ করল, তখন ইসলামি দেশগুলোর উপর শক্তি ও ক্ষমতার দিক থেকে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তারা উঠে-পড়ে লেগে যায়।
পশ্চিমারা ইসলামি বিশ্বের উপর একের পর এক, এক দেশের পর অন্য দেশে আক্রমণ শুরু করল। এমনকি তারা ইসলামি বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপর কর্তৃত্ব অর্জন করল। এক সময় ইসলাম ও তার ইতিহাস সম্পর্কে পাশ্চাত্যের স্টাডির সূচনা ঘটল। এক পর্যায়ে রাজনৈতিক ধ্বংস সাধনের মধ্য দিয়ে এই জাতির উপর ঔপনিবেশিকতা বৃদ্ধি পেতে থাকল।
এভাবে বিগত শতাব্দিতে ইসলামি জ্ঞানশাখার সর্বদিক — ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে তারা আপন স্টাডিকে পূর্ণতায় পৌছেছে। স্বভাবগতভাবে এই স্টাডি হকের স্পর্শ থেকে (আলো) আবৃত থাকে দুটি পর্দার মাধ্যমে। যথা:
এক. ধর্মীয় বিদ্বেষ, যা ইউরোপের শাসন ক্ষমতায় চির বিরাজমান। আর তার নেতৃত্বাধীন সমমনা সৈন্যবাহিনী যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করল, তখন 'লর্ড আলনাবির'১২৯ একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা আজও সকলের মুখে মুখে। আর তা হলো, এখন ধর্মযুদ্ধের অবসান হলো১৩০।
ইসলাম ও তার সভ্যতা-সংস্কৃতি বিষয়ক ধর্মীয় বিদ্বেষ এখনো অনেক পশ্চিমাদের লেখায় বিদ্যমান। পশ্চিমা ধর্মীয় গবেষক, সাহিত্যিক ও বিজ্ঞজনদের নিকট ইসলাম ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ন্যায় আচরণ যতুটুক আমি পাই তার একটি দৃষ্টান্ত حضارة العرب গ্রন্থ হতে দিব। বইটির সংকলক হলেন গোস্তাফ লে বোন।
পশ্চিমাদের লেখা এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, যাতে ইসলাম ও তার সংস্কৃতির ব্যাপারে ইনসাফের প্রতি লক্ষ রেখে আলোচনা-পর্যালোচনা করা হয়েছে। গোসতাফ লোবুন একজন জড়বাদী দার্শনিক। তিনি কোন ধর্মমতে বিশ্বাস রাখেন না। এ কারনেই তিনি এমন মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি ইনসাফ করার আরেকটি কারণ হলো, তিনি দগ্ধ পশ্চিমাদের মধ্যযুগীয় সীমাবদ্ধ জ্ঞান ও গবেষণার প্রতি নির্ভর করেননি (বরং তিনি ইসলামি মৌলিক জ্ঞান কুরআন-হাদিস নির্ভর গবেষণা করেছেন)।
অবশ্যই তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম একজন ঐতিহাসিক ও সমাজবিদ; তা সত্ত্বেও পশ্চিমা ও ইউরোপিয়ানগণ তাঁর উপর আক্রমণ করেন, বিশেষকরে ফ্রান্সের প্রাচ্যবিদগণ।
দুই. পশ্চিমারা বস্তুবাদী ও তাত্ত্বিক শক্তিকে আঠারো ও উনিশ শতকে অর্জন করেছে। এ কারণে তাদের জ্ঞানী-গুণী, ঐতিহাসিক ও লেখকদের একটি বড় অংশের অন্তরে প্রবঞ্চনা ও ধোঁকা স্থান করে নিয়েছে। এমনকি তারা এখন বিশ্বাস করছে, (মুশরিকবাদে) ইতিহাসের সকল সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূল হলো পশ্চিমারা। আর পশ্চিমা বুদ্ধিমত্তা, মানসিকতা-ই হলো সূক্ষ্মদর্শিতা মানবতার পরিচায়ক, যা সঠিক গবেষণা ও চিন্তা-ভাবনা করতে সক্ষম। এ ছাড়া অন্য যেসব জাতি ও তাদের চিন্তাধারা রয়েছে—বিশেষকরে ইসলাম তাদের মানসিকতা অতি সাধারণ ও সাদাসিধে। এর চেয়েও বেশি স্পষ্ট উক্তি করেছেন প্রাচ্যবিদ এইচ. এ. আর. গিব তাঁর রচিত “জেহ্‌য়াতুল ইসলাম” গ্রন্থে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো, ইসলামি মানসিকতা সকল বিষয় উপলব্ধি করে আংশিক ও সংকীর্ণতার মধ্য দিয়ে; ব্যাপক ভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়।
ঔপনিবেশিকতার খড়গ পরিচালিত জাতির উপর প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ জীর্ণ-শীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে এ রকম উদ্ভট মন্তব্য করে থাকেন। কারণ পশ্চিমা ও ইউরোপিয়াগণ যাদের উপর নেতৃত্ব ও ঔপনিবেশিকতার স্টীমরোলার চালিয়েছেন সে সময় তারা ছিল জ্ঞানহীন অন্ধত্বের মাঝে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা ছিল পশ্চাৎপদ।

টিকাঃ
১২৯. লর্ড আলনবির-এডমন্ড হেনরি হানম্যান অ্যলেনবাই (Edmund Henry Hyniman Allenby)। ২৩ এপ্রিল ১৮৬১ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন ও ১৪ মে ১৯৩৬ সালে লন্ডনে মৃত্যু বরণ করেন। অ্যলেনবাই একজন যোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ ও দার্শনিক। তিনি ১৮৮০ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি ব্রিটেনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
الآن انتهت الحروب الصليبية أي من الناحية العسكرية . 200
১৩০. ১৩১. গোসতাফ লে বোন-(Gustave Le Bon)। লে বোন ৭ মে ১৮৪১ সালে ফ্রান্সে তার জন্ম হয় ও ১৩ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে ফ্রান্সের মারনিয়াহ লাকোকিয়া শহরে মারা যান। পেশায় তিনি একজন ডাক্তার ও ইতিহাসবিদ। প্রাচ্যবিদদের মাঝে যারা ন্যায়-নীতিবান হিসাবে প্রসিদ্ধ, তিনি তাদের অন্যতম। তার রচিত অন্যতম গ্রন্থ হলো,
حضارة العرب وحضارات الهند (١٨٨٤) وحضارة العرب في الأندلس وسر تقدم الأمم. وروح الاجتماع.
এছাড়া তিনি ফরাসি ভাষায় অসংখ্য বই রচনা করেন। তিনি অন্যতম প্রাচ্যবিদ, যিনি আরব জাতি ও ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির ন্যায়-সঙ্গত মতামত দিয়েছেন। লে বোনের মতে, 'মুসলিমগণ ইউরোপকে সভ্য বানিয়েছে'। কিন্তু অন্য অন্য ইউরোপিয়ানগণ তার এ মন্তব্যকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সাথে আমাদের মিশ্রণ

📄 পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সাথে আমাদের মিশ্রণ


বর্তমান শতাব্দিতে (উনিশ শতক) পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সাথে আমাদের মিশ্রণ ঘটতে শুরু করেছে। আমাদের ও তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমান সময়ের এমন কোন সুসভ্য শিক্ষাবিদ পাওয়া যাবে না (ওলামায়ে কিরাম ব্যতীত) যাদের সম্মুখে আমাদের পুরাতন ধাঁচের গ্রন্থাবলি পথনির্দেশক রূপে রয়েছে। তবে অবশ্যই তাদের সম্মুখে রয়েছে ঐসব (ইহুদি-খ্রিস্টান) প্রাচ্যবিদদের লেখা গ্রন্থাবলি, যারা আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করার জন্য সাধারণ পাঠাগারগুলোর ভাণ্ডার থেকে উৎস অনুসন্ধান করতে আপন জীবন বিলীন করে দিয়েছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ আমাদের সভ্যতা-সংস্কৃতির সকল দিক নিয়ে (কুরআন, হাদিস, ইতিহাস, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ভূগোল, রাষ্ট্র প্রভৃতি) গবেষণামূলক গ্রন্থ লিখতে জীবনের বিশটি বছর ব্যয় করেছেন। আমাদের পূর্বর্তী আলেমদের পুরাতন যত উৎসগ্রন্থ রয়েছে সবগুলোই তারা মুরাজায়াত (বারবার অধ্যয়ন) করেছেন।
তাদের বিজ্ঞজনদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, পূর্ণ সময় নির্ধারণ, ঔপনিবেশিকতার ধর্মীয় চেতনার প্রতি আগ্রহ তাদের এমন দীর্ঘ স্টাডি করতে বাধ্য করেছে। তারা সক্ষম হয়েছে আমাদের শিক্ষাবিদদের কাছে আমাদের ইসলামি সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে সুবিন্যাস্ত করে উপস্থাপন করতে। সক্ষম হয়েছে আমাদের সু-সভ্যদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে।
বিশেষ করে যখন তারা আমাদের পুরনো গ্রন্থাবলির বিন্যাস ও প্রাচ্যবিদদের গবেষণা বিন্যাসের সাথে তুলনা করবে, তখন অবশ্যই তারা তাদের (প্রাচ্যবিদদের) জ্ঞান ও গবেষণার প্রশস্ততায় অভিভূত হয়ে প্রাচ্যবিদদের গ্রন্থাবলির দিকে উদ্দীপ্ত ও তাড়িত হবে। এ ধারণা করবে যে, হ্যাঁ, তারা সত্যই বলেছেন। আর যেসব বিষয় তারা আমাদের ওলামায়ে কিরামের বিরোধিতা করেছেন সেগুলোর ব্যাপারে তারা মনে করে প্রাচ্যবিদরাই সঠিক হুকুম দিয়েছেন। তাদের মতই সঠিক। কেননা, তারা অতি সূক্ষ্ম-বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতিতে এ পথে চলছেন। তারা অনিরপেক্ষও নন। এভাবেই ঐসব পাশ্চাত্য ও ইউরোপিয়ান গবেষকদের গবেষণামূলক আলোচনা দ্বারা নতুন জীবনধারা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতামতের উপর আস্থাশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 আমাদের শিক্ষাবিদ ও সুসভ্য ব্যক্তিবর্গ

📄 আমাদের শিক্ষাবিদ ও সুসভ্য ব্যক্তিবর্গ


পশ্চিমা গবেষক ও প্রাচ্যবিদেরা যেসব ইসলামি উৎস গ্রন্থগুলোর সহায়তায় অধ্যয়ন করেছেন— ‘আলোচিত শিক্ষাবিদ’, ‘সুসভ্য ব্যক্তিদের’ সেগুলো মুরাজায়াত (ইসলামের মৌলিক বাণী কুরআন, হাদিস ও ফিক্‌হ প্রভৃতি)। যেগুলোর সহায়তায় পূর্ববর্তী প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ গবেষণাপত্র-গ্রন্থ তৈরি করেছেন) করার সুযোগ তাদের হয়ে ওঠে না।
উল্লিখিত সময়ে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের ইসলামি মৌলিক গবেষণাগ্রন্থ থেকে বিমুখ হবার কিছু কারণ নিম্নরূপ—
১. হয়তোবা আমাদের উৎস গ্রন্থগুলো মুরাজায়াত করা দুঃসাধ্য হবার দরুন।
২. অথবা দ্রুত গবেষণার ফলাফল বের করতে আগ্রহী হবার কারণে।
৩. অথবা আমাদের দীন এবং ইলমি গবেষণার বিরোধিতা করার প্রবৃত্তিগত তাড়না পূরণের জন্য।
৪. আর পশ্চিমা গবেষকদের বিপরীতে অনির্ভরশীলতা দুর্বলতা ও অসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের উপর এক নির্যাতনের স্টিমরোলার ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাচ্যবিদদেরকে সম্মান করা, তাদেরকে বড় ভাবা, তাদের প্রতি সর্বদা সুধারণা রাখা প্রভৃতি এরই ধারাবাহিকতার নামান্তর।
যখন আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে রাজনৈতিক চেতনার আন্দোলনের সূচনা হলো, পশ্চিমাদের কর্তৃত্ব হতে বের হয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক স্বকীয়তার প্রারম্ভ হলো, চিন্তা ও ভাবধারাগত স্বকীয়তার বীজ বপন হলো, তখন আমাদের কাছে গচ্ছিত পুরনো পাণ্ডুলিপি, আকিদা-বিশ্বাস ও আইন কানুন প্রভৃতির পরিচয় লাভের জন্য প্রাচ্যবিদদের উপর নির্ভর করা লজ্জা ও হতাশাজনক অবস্থান ছাড়া আর কিছুই না। দীনি ও গাইরে দীনি বিষয়- এই চেতনাবোধটি মধ্যপন্থী শিক্ষাবিদ ও সু-সভ্যদের মাঝে পৌঁছে গেছে। ফলে প্রকৃত বাস্তবতাকে আমরা উন্মোচিত করতে পারব। প্রাচ্যবিদগণের গবেষণা ও আলোচনার পিছনে তাদের দীনি ও ঔপনিবেশিক লক্ষ-উদ্দেশ্যের বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হতে থাকব ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের শক্তি-সামর্থ্য ও স্বকীয়তা পূর্ণতায় পৌছাবে না। কেননা, আল্লাহর নীতি সকল বস্তুর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

📄 আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম


কিন্তু আমরা তো এই পথে চলছি। প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের ধোঁকা ও বিভ্রান্তি থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে সক্ষম হচ্ছি; কিন্তু এমন একদিন আসবে, যেদিন আমাদের সন্তান, নাতি, দৌহিত্ররা প্রাচ্যীয় ষড়যন্ত্রের মাঝে পুরোপুরি ফেঁসে যাবে। তখন তারা বলবে, কীভাবে আমরা ঐসকল প্রাচ্যবিদদের চক্রান্তে ধোঁকার জালে আবদ্ধ হলাম? এমন এক সময় আসছে, যেদিন আমরাই পশ্চিমাদের পাণ্ডুলিপি ও দীন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক তাদের পর্যালোচনার উপর ঝুঁকে পড়ব। সেদিন অচিরেই আসছে, যেদিন আমাদের সন্তানরা পশ্চিমাদের তৈরি করা পর্যালোচনার নীতিমালা অনুসরণ করবে। আকিদা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের পর্যালোচনাই ধর্তব্য ও মাপকাঠি হবে। তখন তা হবে অত্যন্ত সাংঘর্ষিক ও ভয়ংকর। আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আকিদার সাথে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ বর্তমানে যা মিশ্রণ করেছে, ভবিষ্যতে তা আরো বেশি আপত্তিকর ও বিপদজনক হবে।
ভেবে দেখ, যদি মুসলিমগণ কুরআন-হাদিসের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদগণের ব্যবহার করা সমীক্ষা ও সমালোচনাকে মাপকাঠি হিসাবে ব্যবহার করে, তবে তাদের কিতাব ও উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কোন্ ধরনের শিক্ষা বাকি থাকতে পারে? প্রমাণ হিসাবেও বা কী অবশিষ্ট থাকল?
ভেবে দেখ, ভবিষ্যতে মুসলিমগণ যদি প্রাচ্যবিদগণের তথাকথিত গবেষণামূলক পর্যালোচনাকে আমাদের ইতিহাস, সভ্যতার ঐতিহাসিক তাৎপর্য, ইমামদের পর্যালোচনা, পবিত্র বস্তুসমূহ, বিজয় সেনানীগণ, নেতা, নেতৃত্বদানকারীগণ ও আলেমগণ প্রমুখের ব্যাপারে মাপকাঠি বানায়, তা হলে আমাদের সভ্যতা-সংস্কৃতি ও মহান ব্যক্তিদের সম্পর্কে বর্তমানের চেয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মের আরো বেশি খারাপ ধারণা, বীতশ্রদ্ধাপূর্ণ ও সন্দেহ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। তখন মুসলিম সভ্যতা পুরনো ঝলমলে কাপড়ে প্রকাশ পাবে (মানুষ তার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে)।
সাবধান। এ সভ্যতার এক শ্রেণির আলেম, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সাহিত্যিক উজ্জ্বল ও দেদীপ্যমান আকৃতিতে প্রকাশ পাবে, যাদের মাঝে থাকবে না মান-মর্যাদা, উত্তম আদর্শ, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতা। আমি কামনা করছি না যে, আমাদের একটি অংশ এ সভ্যতা ও তার পুরোহিত-পাদ্রীদের সম্পর্কে হুবহু এই পদ্ধতিতে গবেষণার জন্য অবসর সময় বের করবে, যেভাবে প্রাচ্যবিদগণ করে থাকেন। যেমন: অসম্পূর্ণ বর্ণনা অনুসন্ধান, কোনো একটি বিষয়কে তার বাস্তবতার বিপরীত বোঝা বুঝানো, ভালকে মন্দ দ্বারা বদলানো ও প্রত্যেক মঙ্গলজনক বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করা প্রভৃতি। এগুলো সবই পাশ্চাত্য পাণ্ডিতদের থেকে অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। বিষয়টা যদি এমনই হয়, তবে এই সভ্যতা ও তার খ্যাতিমান ব্যক্তিদের এমন এক কুৎসিত অবয়ব প্রকাশ পাবে, যা সকলের পূর্বে প্রাচ্যবিদগণই এর প্রতিবাদ করবে।
তুমি কি আমাদের মাঝে এরকম কাউকে পাবে, যে এই কাজের জন্য প্রস্তুত হবে। প্রাচ্যবিদদের তৈরি করা নিজস্ব নীতিমালাতে তাদের সভ্যতা, আকিদা-বিশ্বাস প্রভৃতি বিষয় নিয়ে তাদের একটি বাস্তব রূপ তুলে ধরবে। এটা প্রাচ্যবিদগণ নিজেরাই শুধু পাঠ করবেন। (যদি প্রাচ্যবিদগণ তাদের তৈরি করা মূলনীতির আলোকে বের করা গবেষণা পত্র-গ্রন্থ গ্রহণে আগ্রহী না হন) তাহলে তারা আমাদের ইতিহাস ও ধর্মীয় চেতনার ব্যাপারে বাস্তবতার পরিচয় লাভের জন্য যে খিদমতের পন্থা অবলম্বন করেছিল তা কীভাবে গ্রহণীয় হতে পারে? প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের ধিক্কার জানাই, হতে পারে এরপর থেকে গবেষণার নামে ক্রমাগত বিভ্রান্তি ও বিকৃতি সাধন ও ধ্বংসাত্মক কর্মতৎপরতা হতে তারা বিরত থাকবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00