📄 অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (Oxford University)
ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে একজন ইহুদি নাগরিককে ইসলামি ও আরবি স্টাডি বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত দেখতে পেলাম। তিনি আরবিভাষায় ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে কষ্ট করে কথা বলছেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লিবিয়াতে ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যমের হয়ে কর্মরত ছিলেন। পরে ইংল্যান্ডে আসেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যায়ে উল্লিখিত বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য। এখানে আমি প্রাচ্যবিষয়ক অধ্যয়নকারীদের সিলেবাস দেখে আশ্চর্য হই। আল্লামা যমাখশারির তাফসিরে কাশশাফ (যদিও এর ইবারতের বিশ্লেষণ অতটা সুন্দর নয়), হাদিসের মধ্যে বুখারি-মুসলিম ও ফিকহের মৌলিক কিতাবগুলো পড়ানো হয়- হানাফি-হামবলি মাযহাবের কিতাব থেকে। আমি তাকে এই স্টাডির তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এর তথ্যসূত্র হলো Gold Ziher, D. S. Margoliouth, J. Schacht এর মত কট্টর, ভ্রান্তবাদি প্রাচ্যবিদদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ভ্রান্তবাদি গবেষণামূলক গ্রন্থাবলি।
📄 ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Cambridge in England)
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম ও আরবিভাষা স্টাডি বিভাগের প্রধান ও প্রসিদ্ধ প্রাচ্যবিদ A. J. Arberry তিনি আরবিভাষায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। তার আলোচনা একটু আগেই অতিবাহিত হয়েছে।
তিনি আমাকে কথার এক পর্যায়ে বলেন, আমরা প্রাচ্যবিদরা ইসলাম বিষয়ক আলোচনা করতে গিয়ে অনেক ভুল-ভ্রান্তির শিকার হই। এজন্য আবশ্যক হলো, এই ময়দানে আমাদের ভাল করে অনুসন্ধানী দৃষ্টি রাখা ও ডুবে থাকা। আর আপনারা আরব মুসলিমগণ, আমাদের থেকে অনেক বেশি গভীরতা ও পাণ্ডিত্য রাখেন এই বিষয়গুলোতে। তার এ বক্তব্য সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার বলে মনে হলো, তবে সঠিক বিশ্বাস রাখার কারণেও এমনটি বলে থাকতে পারেন।
📄 ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় (University of Manchehter in England)
ইংল্যান্ডের প্রফেসর রোবসুন এর সাথে সাক্ষাত হয় ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন তিনি সুনানে আবু দাউদ তার পাণ্ডুলিপির সাথে মিলাচ্ছেন। হাদিসের ইতিহাস নামে তার বেশ কয়েকটি কিতাব রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি জুলুমবাজ প্রাচ্যবিদদের সাথে ঐক্যমত পোষণ করেন। আমি প্রাচ্যীয় স্টাডির আক্রমণাত্মক ও প্রকৃত আলোচনার বহির্ভূত কিছু বিষয় তার সম্মুখে উপস্থাপন করতে আগ্রহী হলাম। এক্ষেত্রে আমি Gold Ziher এর কয়েকটি মন্তব্য উপস্থাপন করলাম এবং তার গবেষণামূলক ও ঐতিহাসিক ভুল-ত্রুটি প্রমাণ করলাম। তখন তিনি এ ব্যাপারে যে উত্তর দিয়েছিলেন তা ছিল নিম্নরূপ-
প্রকাশিত-প্রচারিত ইসলামি উৎসগ্রন্থের ব্যাপারে বর্তমান সময়ের প্রাচ্যবিদগণ গোল্ড যিহার থেকে অধিক অবগত ও সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। ইসলামি গ্রন্থাবলি ও সংকলন হতে স্পষ্টতই বুঝা যায় ইসলামি উৎসগ্রন্থগুলো গোল্ড যিহারের সময় এতো পরিচিত ও প্রসিদ্ধ ছিল না। তখন তাকে বললাম, আমি আশা করছি বর্তমান যুগে আপনাদের গবেষণাপত্রগুলো Gold Ziher ও D. S. Margoliouth ও তাদের সমমনাদের থেকে বেশি ন্যায়-নিষ্ঠ, সত্যের নিকটবর্তী হবে। তিনি বললেন, আমিও অনুরূপ আশা করছি।
📄 ল্যাডিন ভার্সিটি (Leiden University)
নেদারল্যান্ডের ল্যাডিন ভার্সিটির জার্মানি ইহুদি প্রাচ্যবিদ প্রফেসর J. Schacht এর সাথে সাক্ষাত করি। তিনি ইসলামকে নিষ্পেষিত করার জন্য বর্তমান যুগে Gold Ziher এর পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ইসলামের প্রকৃত বাস্তবতাকে বিকৃত করছেন। আমি গোল্ড যিহারের ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে তার সাথে দীর্ঘ আলোচনায় লিপ্ত হই। আমার দাবি ছিল, ইসলামের মূল বক্তব্যকে (نصوص) গোল্ড যিহার বিকৃত করেছেন। এবং আমাদের বিভিন্ন গ্রন্থ হতেই তা সংকলন করেছেন।
জে. সাচট প্রথমে তা অস্বীকার করেন। পরে সুন্নাহর ইতিহাস গ্রন্থে যা লিখেছেন তার একটি উদাহরণ দিলাম। সে এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাল। আবার গোল্ড যিহারের বইটি দেখে নিল। আমরা তখন তার বিশেষ লাইব্রেরিতে বসে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। গোল্ড যিহার এখানে ভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। আমি বললাম, এটি কি খুব সাধারণ ভুল? এতে তিনি রাগান্বিত ও উত্তেজিত হয়ে বললেন, আপনারা তার প্রতি খারাপ ধারণা কেন করছেন?
তারপর আমি আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান-এর নিকট ইমাম যুহরির অবস্থান বিশ্লেষণের দিকে গেলাম। আমি তার কাছে গোল্ড যিহারের ভ্রান্ত মন্তব্যের বিপরীত বা প্রকৃত ও বাস্তবসম্মত ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইমাম যুহরির অবস্থান ও মর্যাদা তুলে ধরলাম। এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনার পর তিনি বললেন, এটাও গোল্ড যিহারের ভুল। তবে আলেমগণ কি ভুল করেন না? আমি বললাম, গোল্ড যিহার প্রাচ্যীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। যেখানে ঐতিহাসিক ঘটনাবলির নিরিখে ইসলামি আইনের সামাধান প্রনয়ণ করা হয়। যখন তিনি ইমাম যুহরি রহ. সম্পর্কে আলোচনা তুললেন তখন তিনি সেই মাদরাসায় তার সূচনা করলেন না কেন? আর কীভাবেই বা তিনি ইমাম যুহরির ব্যাপারে মসজিদুল আকসার ফজিলত সংক্রান্ত হাদিস আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের পক্ষে আর আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাদি. ১২০ এর বিপরীতে জাল বানানোর অপবাদ আরোপ করলেন? অথচ ইমাম যুহরি ইবনে যুবাইরের মৃত্যুর কয়েক বছর পর আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ানের সাথে দেখা করেন। এর আগে ইমাম যুহরি রহ. এর সাথে খলিফা আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ানের কখনো সাক্ষাত ঘটেনি। সুতরাং তার জন্য জাল হাদিস বানানোর তো প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে জে. সাচট এর মুখমণ্ডল মলিন হয়ে গিয়েছে। তিনি ক্ষোভে এক হাত অন্য হাতের মাঝে নিয়ে মোচড়াচ্ছেন। তার উত্তেজনা ও ক্রোধ বেড়েই চলছিল। আমি তার সাথে আলোচনার ইতি টানলাম এভাবে যে, আপনিও যাকে ভুল বলে স্বীকার করলেন এ রকম অসংখ্য ভুল বিগত শতাব্দীতে প্রচার-প্রসার লাভ করেছে। আর এসব ভুল-ভ্রান্তি আপনাদের একজন থেকে অন্যজন বর্ণনা করছেন এই হিসেবে যে, এগুলো গবেষণামূলক বিশ্লেষণ। আমরা মুসলিমগণ এগুলো পাঠ করি তার সংকলকগণ মৃত্যু বরণ করার পর (তাই এ ব্যাপারে ভাল কোনো সমাধান তাদের জীবদ্দশায় দেয়া সম্ভব হয় না)। আমরা আশাবাদী এ রকম গবেষণাপত্রগুলো 'গবেষণামূলক বিশ্লেষণ' হিসেবে স্থির করার পূর্বে আপনাদের জীবদ্দশায় সংশোধনের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।...
বর্তমানে এই প্রাচ্যবিদ কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর। তার ইসলামি আইনের ইতিহাস সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ রয়েছে। Gold Ziher এর-নীতির অনুসরণে এতে রয়েছে সর্বপ্রকার কুৎসা ও অপপ্রচার ও গভীর ষড়যন্ত্র।
টিকাঃ
১২৩. আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের ইবনে আল-আওয়ام আল-আসাদি আল-কুরাইশি রাদি.। তার মা ছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদি. এর মেয়ে আসমা বিনতে আবি বকর রাদি.। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমনের পর প্রথম হিজরিতে সর্বপ্রথম মুসলিমদের মাঝে তিনি ভূমিষ্ট হন। উমাইয়াদের সাথে ইবনে যুবাইরের খিলাফত নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। তিনি উমাইয়া খিলাফতকে সমর্থন করেননি, বরং তার বিপরীতে মক্কা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে খিলাফতের ঘোষণা প্রদান করেন। ৭৩ হিজরিতে খলিফা আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ানের নির্দেশে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি মক্কায় আক্রমণ করে কাবার হারামে তাকে শহিদ করে।