📄 স্কটল্যান্ডের গ্লাসকো বিশ্ববিদ্যালয় (University of Glasgow)
স্কটল্যান্ডের গ্লাসকো বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার আরবি স্টাডি বিভাগের প্রধান ছিলেন একজন ধর্ম পুরোহিত। বিশ বছর যাবৎ তিনি ফিলিস্তিনের কুদ্স্স এলাকায় মিশনারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবস্থান করেন। এক পর্যায়ে তিনি আরবদের মতো করে কথা বলতে শুরু করলেন। এই সাক্ষাতে তিনি আমাকে জানিয়েছেন। এ ছাড়াও আমি ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে লেবাননের হামদুন শহরে অনুষ্ঠিত 'মাসিহ ইসলামি' কনফারেন্সে যোগদান করি।
📄 অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (Oxford University)
ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে একজন ইহুদি নাগরিককে ইসলামি ও আরবি স্টাডি বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত দেখতে পেলাম। তিনি আরবিভাষায় ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে কষ্ট করে কথা বলছেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লিবিয়াতে ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যমের হয়ে কর্মরত ছিলেন। পরে ইংল্যান্ডে আসেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যায়ে উল্লিখিত বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য। এখানে আমি প্রাচ্যবিষয়ক অধ্যয়নকারীদের সিলেবাস দেখে আশ্চর্য হই। আল্লামা যমাখশারির তাফসিরে কাশশাফ (যদিও এর ইবারতের বিশ্লেষণ অতটা সুন্দর নয়), হাদিসের মধ্যে বুখারি-মুসলিম ও ফিকহের মৌলিক কিতাবগুলো পড়ানো হয়- হানাফি-হামবলি মাযহাবের কিতাব থেকে। আমি তাকে এই স্টাডির তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এর তথ্যসূত্র হলো Gold Ziher, D. S. Margoliouth, J. Schacht এর মত কট্টর, ভ্রান্তবাদি প্রাচ্যবিদদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ভ্রান্তবাদি গবেষণামূলক গ্রন্থাবলি।
📄 ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Cambridge in England)
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম ও আরবিভাষা স্টাডি বিভাগের প্রধান ও প্রসিদ্ধ প্রাচ্যবিদ A. J. Arberry তিনি আরবিভাষায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। তার আলোচনা একটু আগেই অতিবাহিত হয়েছে।
তিনি আমাকে কথার এক পর্যায়ে বলেন, আমরা প্রাচ্যবিদরা ইসলাম বিষয়ক আলোচনা করতে গিয়ে অনেক ভুল-ভ্রান্তির শিকার হই। এজন্য আবশ্যক হলো, এই ময়দানে আমাদের ভাল করে অনুসন্ধানী দৃষ্টি রাখা ও ডুবে থাকা। আর আপনারা আরব মুসলিমগণ, আমাদের থেকে অনেক বেশি গভীরতা ও পাণ্ডিত্য রাখেন এই বিষয়গুলোতে। তার এ বক্তব্য সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার বলে মনে হলো, তবে সঠিক বিশ্বাস রাখার কারণেও এমনটি বলে থাকতে পারেন।
📄 ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় (University of Manchehter in England)
ইংল্যান্ডের প্রফেসর রোবসুন এর সাথে সাক্ষাত হয় ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন তিনি সুনানে আবু দাউদ তার পাণ্ডুলিপির সাথে মিলাচ্ছেন। হাদিসের ইতিহাস নামে তার বেশ কয়েকটি কিতাব রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি জুলুমবাজ প্রাচ্যবিদদের সাথে ঐক্যমত পোষণ করেন। আমি প্রাচ্যীয় স্টাডির আক্রমণাত্মক ও প্রকৃত আলোচনার বহির্ভূত কিছু বিষয় তার সম্মুখে উপস্থাপন করতে আগ্রহী হলাম। এক্ষেত্রে আমি Gold Ziher এর কয়েকটি মন্তব্য উপস্থাপন করলাম এবং তার গবেষণামূলক ও ঐতিহাসিক ভুল-ত্রুটি প্রমাণ করলাম। তখন তিনি এ ব্যাপারে যে উত্তর দিয়েছিলেন তা ছিল নিম্নরূপ-
প্রকাশিত-প্রচারিত ইসলামি উৎসগ্রন্থের ব্যাপারে বর্তমান সময়ের প্রাচ্যবিদগণ গোল্ড যিহার থেকে অধিক অবগত ও সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। ইসলামি গ্রন্থাবলি ও সংকলন হতে স্পষ্টতই বুঝা যায় ইসলামি উৎসগ্রন্থগুলো গোল্ড যিহারের সময় এতো পরিচিত ও প্রসিদ্ধ ছিল না। তখন তাকে বললাম, আমি আশা করছি বর্তমান যুগে আপনাদের গবেষণাপত্রগুলো Gold Ziher ও D. S. Margoliouth ও তাদের সমমনাদের থেকে বেশি ন্যায়-নিষ্ঠ, সত্যের নিকটবর্তী হবে। তিনি বললেন, আমিও অনুরূপ আশা করছি।