📄 লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (London University)
প্রাচ্যবিদদের মাঝে সর্বপ্রথম যার সাথে আমার সাক্ষাত হয় তিনি হলেন প্রফেসর আন্ডারসন। তিনি হচ্ছেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য অধ্যয়ন Institute এর 'ইসলামি বিশ্বের ব্যক্তি আইন-সংক্রান্ত' বিষয়ক প্রধান। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব বিভাগ হতে পাস করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন তিনি ব্রিটেনের সৈন্যবাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে আরবের মিসরে অবস্থান করেন। (তিনি নিজেই আমাকে বলেছেন) এক বছর ধরে মিসর ও আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি সপ্তাহে কয়েকজন আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেম আরবিভাষার এক ঘণ্টার ক্লাস নিতেন। তিনি সেই ক্লাসের মাধ্যমে আরবিভাষা শিখেছেন।
মিসরের আঞ্চলিক ভাষায়ও অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন সাধারণ মিসরীদের সাথে মিশে। এ সুযোগটা হয়েছিল- যখন তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সৈনিকদের সাথে ছিলেন। আর তিনি ইসলাম বিষয়ক স্টাডি করেছেন মরহুম আহমাদ আমিন, ড. তহা হোসাইন ও শাইখ আহমাদ ইবরাহিম'২১ প্রমুখের কায়রো অবিস্থিত আমেরিকান ভার্সিটিতে দেওয়া সাধারণ আলোচনা থেকে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর (লন্ডনে) ইসলামি বিশ্বের আইন বিষয়ক প্রধান হন। আমি তার ইসলাম বিরোধী বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে চাচ্ছি না। এ ব্যাপারে লন্ডনের ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক মরহুম ড. হামুদ গরাবা১২২ আমাকে অবহিত করেন।
আমি এখানে প্রফেসর আন্ডারসনের একটি ঘটনা বর্ণনা করছি, যা তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি হলো আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে। সে ইসলামি আইন বিভাগে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টরেট সনদ গ্রহণ করতে এসেছে; কিন্তু একটি সুনির্দিষ্ট কারণে তার থিসিস বাতিল করা হয়েছে। আর তা হলো, সে তার থিসিস (গবেষণাপত্র) পেশ করেছে 'ইসলামে নারীর মর্যাদা' বিষয়ে। থিসিসে সে স্পষ্ট দলিল-প্রমাণের আলোকে এ কথা প্রতিপাদিত করেছে যে, ইসলামই নারীকে তার সকল অধিকার পরিপূর্ণ দিয়েছে। আমি তার থিসিস বাতিল করাতে আশ্চর্য বোধ করি।
তখন এই প্রাচ্যবিদকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কীভাবে তার পি এইচ ডি বাতিল করলেন এবং তাকে বিরত রাখলেন? অথচ আপনারা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বাধীন গবেষণার দাবি তোলেন? তখন প্রফেসর আন্ডারসন বললেন, সে বলে, 'ইসলাম নারীকে এটা দিয়েছে, ইসলাম নারীর জন্য ওটা নির্ধারণ করেছে; তবে কি সে (ডক্টরেট প্রার্থী) ইসলামের নাম দিয়ে আনুষ্ঠানিক ও প্রথাগত বক্তব্য দিচ্ছে? সে কি ইমাম আবু হানিফা আর শাফি? যে সে এ রকম বক্তব্য প্রদান করবে, ইসলামের নামে মন্তব্য করবে?
যখন আমরা স্পষ্টত দেখতে পাই, নারীর অধিকার সম্পর্কে ইসলামের পূর্ববর্তী ফকিহদের কোনো উক্তি নেই (তার মত অনুযায়ী), তবে তো অবশ্যই এ লোক ধোঁকায় পরে আছে। আর দাবি করছে, সে ইসলামের ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফা রহ. ও শাফি রহ. এর চেয়ে অনেক বেশি বুঝতে পেরেছে। এ বক্তব্য হলো এমন প্রাচ্যবিদের, যিনি এখনও জীবিত আছেন। তবে আমি জানি না, তিনি এখন লন্ডন ভার্সিটিতে আছেন নাকি অবসরে আছেন।
টিকাঃ
১২১. শাইখ আহমাদ ইবরাহিম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
১২২. ড. হামুদ গরাবা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
📄 স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Edinburgh)
আমি স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। ভার্সিটিতে একজন প্রাচ্যবিদ ইসলামি স্টাডি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ছিলেন সাধারণের পোশাকে একজন পাদ্রী। তার ঘরের দরজায় আপন নামের সাথে ধর্মীয় উপাধী লেখা ছিল।
📄 স্কটল্যান্ডের গ্লাসকো বিশ্ববিদ্যালয় (University of Glasgow)
স্কটল্যান্ডের গ্লাসকো বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার আরবি স্টাডি বিভাগের প্রধান ছিলেন একজন ধর্ম পুরোহিত। বিশ বছর যাবৎ তিনি ফিলিস্তিনের কুদ্স্স এলাকায় মিশনারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবস্থান করেন। এক পর্যায়ে তিনি আরবদের মতো করে কথা বলতে শুরু করলেন। এই সাক্ষাতে তিনি আমাকে জানিয়েছেন। এ ছাড়াও আমি ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে লেবাননের হামদুন শহরে অনুষ্ঠিত 'মাসিহ ইসলামি' কনফারেন্সে যোগদান করি।
📄 অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (Oxford University)
ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে একজন ইহুদি নাগরিককে ইসলামি ও আরবি স্টাডি বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত দেখতে পেলাম। তিনি আরবিভাষায় ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে কষ্ট করে কথা বলছেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লিবিয়াতে ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যমের হয়ে কর্মরত ছিলেন। পরে ইংল্যান্ডে আসেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যায়ে উল্লিখিত বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য। এখানে আমি প্রাচ্যবিষয়ক অধ্যয়নকারীদের সিলেবাস দেখে আশ্চর্য হই। আল্লামা যমাখশারির তাফসিরে কাশশাফ (যদিও এর ইবারতের বিশ্লেষণ অতটা সুন্দর নয়), হাদিসের মধ্যে বুখারি-মুসলিম ও ফিকহের মৌলিক কিতাবগুলো পড়ানো হয়- হানাফি-হামবলি মাযহাবের কিতাব থেকে। আমি তাকে এই স্টাডির তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এর তথ্যসূত্র হলো Gold Ziher, D. S. Margoliouth, J. Schacht এর মত কট্টর, ভ্রান্তবাদি প্রাচ্যবিদদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ভ্রান্তবাদি গবেষণামূলক গ্রন্থাবলি।