📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 ইবনে হাজার আসকালানির ব্যাখ্যা

📄 ইবনে হাজার আসকালানির ব্যাখ্যা


আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি রহ. ১১৫ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন,
والراعي هو الحافظ المؤتمن الملتزم صلاح ما اؤتمن على حفظه فهو مطلوب بالعدل فيه والقيام بمصالحه.
আল্লাহ রাব্বুল রক্ষক, আমানতদার। তার কাছে যা গচ্ছিত রাখা হয়েছে তা নিরাপদ ও সংরক্ষিত রাখতে সে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সুতরাং সেই আমানত ন্যায়-নিষ্ঠভাবেই প্রত্যাশিত। ১১৬
বুখারির অন্য এক হাদিসের মাঝে الرعية শব্দের প্রয়োগ মুসলিমদের ক্ষেত্রেও করা হয়েছে। যেমন-
وَمَا مِنْ وَالِ يَلِي رَعِيَّةٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ، فَيَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌ لَهُمْ إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ.
যে তত্ত্বাবধায়ক কোন মুসলিম প্রজাদের দায়িত্ব পেল আর তাদের সাথে প্রতারণাকারীরূপে থেকেই মৃত্যু বরণ করল, তাহলে আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দিবেন। ১১৭
প্রাচ্যবিদ প্রকলামেন এসব আলোচনা হতে কীভাবে চোখ বুঝে থাকলেন? আর নিজে নিজে এ দাবি করা বৈধ মনে করলেন যে, মুসলিমগণ অনারবদের বকরির পালের মত মনে করে। তারা তাদের উপর الرعية শব্দটি এককভাবে ব্যবহার করে। এ কথার কোনো বর্ণনাসূত্র বা সনদ নেই; তবে হ্যাঁ, এ শব্দটি বকরিপালের জন্যও ব্যবহার করা হয়। অভিধানের একাধিক অর্থও স্পষ্ট। তবে الرعية শব্দের ব্যবহার অনারবদের জন্য (যেমনটি প্রকলামেন দাবি করেন) নির্দিষ্ট করার কোনো যৌক্তিকতা নেই; বরং এটা সূত্রহীন কাল্পনিক মন্তব্য। এটা সন্দেহবশত ঘটে যাওয়া কোনো বিষয় নয়। অবশ্যই কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ও কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় এমনটি করা হয়েছে।

টিকাঃ
১১৫. শিহাবুদ্দিন আবুল ফদল আহমাদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে কিনানি মিসরি আসকালানি রহ.। তবে তিনি ইবনে হাজার আসকালানি নামে বেশি প্রসিদ্ধ। ২২ শায়াবান ৭৭৩ হিজরিতে মিসরে জন্ম গ্রহণ করেন। ৭৬ বছর বয়সে ৮৫২ হিজরিতে তিনি ইনতেকাল করেন। মিসরের রাজধানী কায়রোতে তাকে দাফন করা হয়। বর্তমানে বাসাতিন নামক স্থানে তার মাকবারা রয়েছে। তার জীবনের অমর কীর্তি সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল রাবি'।
১১৬. ফাতহুল বারি, খণ্ড ১৩, পৃ. ৯৬।
১১৭. সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৬৪৫ ও হযরত মাআকাল ইবনে ইয়াসার রাদি, থেকে বর্ণিত। এছাড়াও সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২০৮, সুনানে দারেমি, হাদিস নং ২৭১০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১৯৮৪২, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৪৫৮৭, সুনানে কুবরা বায়হাকি, হাদিস নং ১৫৩০০ ও মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং ৩৭০৩০ হাদিসটি বর্ণনা করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00