📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রকাশিত ম্যাগাজিন

📄 প্রকাশিত ম্যাগাজিন


ক. ফ্রান্সের অধিবাসী প্রাচ্যপণ্ডিতগণ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে একটি গবেষণা পরিষদ গঠন করেন। ১৮২০ সালে এর আরেকটি সভার আয়োজন করেন এবং তখন থেকে তারা ( المجلة الآسيوية ) 'এশীয় ম্যাগাজিন' প্রকাশ করেন।
খ. ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে প্রাচ্যীয় শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করনের জন্য একটি সংস্থা চালু করা হয়। তৎকালীন রাজার পক্ষ হতে এটা তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এই সংস্থা থেকে একটি পত্রিকা প্রকাশ পেত, যার নাম ( مجلة الجمعية الآسيوية الملكية ) 'এশীয় রাষ্ট্রের গবেষণা ক্রোড়পত্র'।
গ. ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান অধিবাসীগণ একটি সংস্থা ও ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন ( الجمعية الشرقية الأمريكية ) 'প্রাচ্যীয় আমেরিকান ‘সংস্থা’ নামে। একই বছর জার্মানীর পণ্ডিত তাদের জন্য এক বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। অনুরূপ অস্ট্রিয়ান, ইতালিয়ান ও রাশিয়ান নামধারী ইসলাম গবেষকরা আলাদা আলাদা (ইসলাম বিরোধী) ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন।
ঘ. বর্তমান শতাব্দিতে আমেরিকান ইসলামি পণ্ডিতগণ যেসব পত্রিকা প্রকাশ করেন তার অন্যতম হলো (مجلة جمعية الدراسة الشرقية) ‘মধ্যপ্রাচ্য শিক্ষা পরিষদ সাময়িকী’। এটি Ohio এর Gambier শহর থেকে প্রকাশিত হয়। এর শাখা রয়েছে লন্ডন, প্যারিস, লাইপেজিড ও কানাডার টরেন্টো শহরে। সচরাচর এটা প্রকাশিত হয় না। এটি প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণ নিয়ে প্রকাশ করা হয়। কখনো কখনো জটিল দীনি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়। যেমন: এটির একটি বিশেষ অধ্যায় আছে- ‘গ্রন্থাবলি’।
ঙ. সম্প্রতি আমেরিকান ইসলামি পণ্ডিত আপন তত্ত্বাবধানে (مجلة شؤون الشرق الأوسط) ‘মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাময়িকী’ অনুরূপ (مجلة الشرق الأوسط) ‘মধ্যপ্রাচ্য সাময়িকী’ প্রকাশ করছেন। এগুলোতে সাধারণত প্রাচ্যীয় রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণ বেশি প্রাধান্য পায়।
চ. সম্প্রতি মারাত্মক ক্ষতিকর যে পত্রিকা/ম্যাগাজিনটি আমেরিকান ইসলাম বিষয়ক গবেষক ও পণ্ডিতগণ প্রকাশ করেন তা হলো (العالم الإسلامي) বা The Muslim World ম্যাগাজিন। এটি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কট্টর Zweimer প্রকাশ করেন। এখন তা আমেরিকার হার্টফোর্ট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক হলেন কে. ক্র্যাগ৮৭। পত্রিকা টি মিশনারিদের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করে।
ছ. The Muslim World পত্রিকার সমপর্যায়ে ফ্রান্সের ইসলাম বিষয়ক গবেষকগণ বিদ্বেষপূর্ণ মিশনারি পত্রিকা বের করেন, যার নাম হলো The Monde Muslim.

টিকাঃ
৮৭. Albert Kenneth Cragg- তিনি ৮ মার্চ ১৯১৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৩ নভেম্বর ২০১২ সালে ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। ক্রাগ ছিলেন অ্যাংলিকান বিশপ ও পণ্ডিত। তিনি ব্ল্যাকপুল গ্রামার স্কুল ও অক্সফোর্ডের জেসাস কলেজ থেকে অধ্যয়ন করেন। তিনি ক্যান্টারবেরীর সেইন্ট অগাস্টাইন কলেজের আরবি ও ইসলামিক শিক্ষার অধ্যাপক ছিলেন। আলবার্ট ক্রাগ মিসরের অ্যাংলিকান চার্চেও বিশপের দায়িত্ব পালন করেন। তার রচিত বই- The Call of Minaret (১৯৫৬), Sandals at the Mosque: Christian Presence Amid Islam (১৯৫৯), The Event of the Qur'an-Islam in its Scripture (১৯৭১)।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 A. Toynbee এর ইসলাম ও রাসুল সংক্রান্ত কিছু গ্রন্থ

📄 A. Toynbee এর ইসলাম ও রাসুল সংক্রান্ত কিছু গ্রন্থ


১. حياة محمد এটির গ্রন্থাকার।
২. الإسلام বইটির গ্রন্থকার A. Geom.
৩. دين الشريعة বইটির গ্রন্থকার D.M. Donaldson.
৪. تاريخ شارح الكبير - বইটির গ্রন্থকার Bishop Turpin.
৫. الإسلام - H. Lammens এর ফ্রেন্সী ভাষার এ বইটি গ্রন্থ।
৬. الإسلام - আকিদা সংক্রান্ত গ্রন্থ। ইংরেজি ভাষায় এটি প্রথম প্রকাশি হয়। গ্রন্থকার S.M. Zweimer.
৭. دعوة المؤتنة ‘মিনারের ধ্বনি’। ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থটি রচনা করেন K. Cragg.
৮. الإسلام اليوم ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থটি রচনা করেন A.J. Arberry.
৯. ترجمة القرآن - বইটি ইংরেজি ভাষায় A.J. Arberry গ্রন্থনা করেন।
১০. তারিখ মাতায়েব তাফসিরুল ইসলামী - বইটি সর্বপ্রথম জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়। পরে আরবিভাষায় অনুবাদ করা হয়। গ্রন্থকার Gold Ziher.
১১. তারিখুল আরব - বইটি আরবি ও ইংরেজি ভাষায় একাধিকবার মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে। বইটির গ্রন্থকার Ph. Hitti.
১২. আল ইয়াহুদিয়া ফিল ইসলাম - ‘ইসলামে ইহুদিবাদ’। বইটি প্রথমে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। ইবরাহিম পাশা এটি রচনা করেন।
১৩. আকিদাতুল ইসলাম - ‘ইসলামি বিশ্বাস’। A.J. Wensink এর রচনায় ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে।
১৪. আল হারব ওয়াস সালাম ফিল ইসলাম - ‘ইসলামে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও শান্তি’। ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থটি রচনা করেন মাজিদ কুদুরি ইরাকি।
১৫. তাত্তরুল উলুমিল কালাম ওয়াল ফিকহ ওয়াল নাজরীয়াতুদ্দস্তুরিয়া ফিল ইসলাম - ইলমে কালামের ক্রমবিকাশ এবং ইসলামে সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি’। ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থটি রচনা করেন D.B. Macdonald.
১৬. আল মানসুর আল হাল্লাজ আসসুফি আশশহিদ ফিল ইসলাম - ‘সুফি মানসুর হাল্লাজ ইসলামের অন্যতম শহিদ’। ফ্রান্স ভাষায় বইটি L. Massignon প্রকাশ করেন।
১৭. আল ইত্তিজাহাত আল মুহাদ্দিসাহ ফিল ইসলাম - ‘ইসলাম ধর্মে আধুনিকতার দিক-দর্শন’। প্রথমে এটি ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হয়। পরে আরবি ভাষায় রূপান্তর করা হয়। বইটি H. A. R. Gibb রচনা করেন।
১৮. তারিকুল ইসলাম - বইটি প্রথমে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা হয়। পরে আরবিতে অনুবাদ করা হয়। বইটি প্রাচ্যবিদদের একটি বিশেষ গ্রুপ সংকলন করেন। H.A.R. Gibb তাদের অন্যতম ছিলেন।
১৯. আততাসাউফ ফিল ইসলাম - ‘ইসলাম ধর্মে আধ্যাত্মিকতা’। প্রথমে ইংরেজি ভাষায় এবং পরে আরবিভাষায় প্রকাশ করা হয়। এর গ্রন্থকার ছিলেন R. A. Nicholson.
২০. مصادر تاريخ القرآن - 'কুরআনের ঐতিহাসিক উৎস'। ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থটি রচনা করেন Arthur Jeffry.
২১. أصول الاسلام في بيئة مسيحية - 'খ্রিস্টীয় দৃষ্টভূমিতে ইসলামি মূলনীতি'। ইংরেজি ভাষায় R. Bell গ্রন্থটি রচনা করেন।
২২. مقدمة القرآن - 'আল কুরআরনের ভূমিকা'। গ্রন্থটি R. Bell ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন।
২৩. التطورات المبكرة في الإسلام - 'ইসলামের ক্রমবিকাশ'। ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থটি রচনা করেন D. S. Margoliouth.
২৪. محمد ومطلع الإسلام - 'মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামি জাগরণ'। এটিও ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন D. S. Margoliouth.
২৫. الإسلام - বইটি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন D. S. Margoliouth.
২৬. الجامعة الاسلامية - বইটি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন D. S. Margoliouth.
২৭. نظرة الي الاسلام - 'ইসলামের ওপর এক নজর'। ইংরেজি ভাষায় রচিত গ্রন্থটি আরেক ব্যাটম্যান লিখেছেন।
২৮. سلام العصور الوسطى - 'মধ্যযুগের ইসলাম'। G. Von Grunebaum বইটি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন।
২৯. G. Von Grunebaum এর রচনাসমগ্র ইংরেজি ভাষায় ইসলাম নামে প্রকাশিত হয়েছে।
৩০. الأعياد المحمدية - 'মুহাম্মাদী উৎসব'। এই বইটিও G. Von Grunebaum এর লেখা।
৩১. الوحدة والتنوع في الحضارة الإسلامى - 'ইসলামি সভ্যতার মিল-অমিল'। ইংরেজি ভাষায় বইটি লেখা হয়। এটিও তাঁর লেখা।
পর্যালোচনা। ইংরেজি ভাষার এ বইটিও তার লেখা। من دراسات في تاريخ الثقافة الإسلامية ٥٢.
হাওলাত - 'সমকালীন ইসলামি বিশ্লেষণ في شرح الإسلام المعاصر .59 নিয়ে বিতর্ক'। একই লেখকের লেখা রচনাসমগ্র ইংরেজি ভাষায় এই নামে প্রকাশ করা হয়।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 নবিজি কুরআন-হাদিস সাহিত্যের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন

📄 নবিজি কুরআন-হাদিস সাহিত্যের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন


৪. ডি. এস. মার্গউলিথ (D. S. Margoluth) প্রাচ্যবিদ উইলিয়াম মুর১৮ (W. Muir) থেকে বর্ণনা করেছেন, আরবদের গ্রাম্য ব্যক্তিরা সাহিত্য ও ভাষা চর্চার প্রতি খুব বেশি গুরুত্বারোপ করতো। হতে পারে নবি মুহাম্মাদও এই বিষয়ে অধ্যয়ন ও চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি এতে বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন- এটা অসম্ভব কিছু নয়। (অর্থাৎ ভাষা সাহিত্যের শিক্ষা অর্জন করেই বর্তমান কুরআন- হাদিসের রূপ তিনি দান করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।
ডব্লিউ মুরের বক্তব্যে ঐসব প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের গবেষণার একটি মাপকাঠি আমাদের সম্মুখে ফুটে উঠেছে। তিনি অতি উৎসাহ ও উদ্দীপনাকে এ বিষয়ে কাজে লাগিয়েছেন। কেননা, এ কথা সকলেই জানত আরবগণ ভাষাসাহিত্য আলাদাভাবে শিক্ষা করত না। এমনকি তাদের এ রকম কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানও ছিল না, যার শিক্ষকগণ সাহিত্যের আলাদা মৌলিক নীতিমালা ও বিশ্লেষণ তৈরি করবেন। আর নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে এ রকম কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায় না। তা ছাড়া এমন কোনো উদ্ধৃতি (Text)-ও নেই, যার দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হবে; বরং এ কথাই সর্বজন স্বীকৃত ও প্রতিপাদিত যে, নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে এবং কুরআনুল কারিম অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন প্রকার গদ্য-পদ্য ও রচনা-আবৃত্তির বর্ণনা পাওয়া যায় না।১১৯
প্রাচ্যের গবেষণায় কর্মরত গবেষকদের পর্যালোচনা ও সমালোচনায় ভিন্ন আরেকটি জিনিস ফুটে উঠেছে; তা হলো- সমালোচনা। কারণ, ঘটনার বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে তারা সীমালঙ্ঘনের আশ্রয় নিয়ে থাকেন। কল্পিত পাঠ্য নিয়েই তারা অধ্যয়ন করতে থাকেন, যার কোনো বর্ণনাসূত্র বা সনদ নেই। এটি একমাত্র কাল্পনিক ও আধিপত্যবাদিতা ছাড়া কিছুই নয়।

টিকাঃ
১১৮. উইলিয়াম মুর, জন্ম ২৭ এপ্রিল ১৮১৯ সালে এবং মৃত্যু ১১ জুলাই ১৯০৫ সালে। তিনি স্কটিশ ওরিয়েন্টালিস্ট।
১১৯. তা হলে কীভাবে তিনি লোকালয়ে এসে ভাষা-সাহিত্যে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন- এ কথা প্রমাণিত হয়? এর সাথে মিলিয়ে বলা হচ্ছে, কুরআন-হাদিসের উৎপত্তি-ও সেই ভাষা-সাহিত্য থেকে, নাউযুবিল্লাহ! এ কথা মিথ্যার পূজারি ও বিশেষ এজেন্টরাই শুধু বলতে পারে- অনুবাদক।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রত্যেক দেশেই কিছু আঞ্চলিক ভিন্নতা রয়েছে

📄 প্রত্যেক দেশেই কিছু আঞ্চলিক ভিন্নতা রয়েছে


তাদের বিভ্রাটপূর্ণ গবেষণার নীতিমালায় আরেকটি সমস্যা চোখে পড়ে, তা হলো, তারা (প্রাচ্যীয় পণ্ডিতরা) ভাবে যে, আরব ও প্রাচ্যের চিন্তা-ভাবনা, অভ্যাস-স্বভাব, আখলাক-চরিত্র পশ্চিমা ও ইউরোপিয়নদের ধ্যান-ধারণা, কথিত নীতি-নৈতিকতার মতই হবে। তারা এটা কোনোভাবেই স্বীকার করতে চায় না যে, প্রত্যেক পরিবেশের একটি আলাদা মাপকাঠি আছে। আছে আগ্রহ ও অভ্যাস-চরিত্র।
ফ্রান্সের মুসলিম প্রাচ্যবিদ নাসির উদ্দিন ড্যানিয়া প্রাচ্যবিদদের কথিত নীতিমালা, গবেষণা পদ্ধতি, বিভিন্ন বস্তুর হুকুম (নির্দেশনা প্রদানে) নির্ধারণে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের যাচাই-বাছাই করার মাপকাঠি (যা থেকে তারা একই বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধপূর্ণ সমালোচনা করেন) প্রভৃতির ব্যাপারে খুব সুন্দর কথাই বলেছেন। তারা সকলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ও ইসলামের আত্মপ্রকাশ ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ইউরোপের ধ্যান-ধারণার বিচারে বিচার করে থাকেন। এতে করে তারা প্রকৃত বিষয় (ইসলামের প্রকৃত গবেষণা) হতে অনেক দূরবর্তী ভ্রষ্টতার মাঝে পড়ে যান। কেননা, এটা তো সেই জিনিস নয়, যা তারা ভাবছেন। কেননা, ইউরোপে বর্তমানের মতাদর্শ প্রাচ্যের আল্লাহ প্রেরিত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাস ও জীবনব্যবস্থার আলোকে হওয়া সম্ভব নয়।
ড্যানিয়া বলেন, প্রাচ্যবিদগণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিরাতের সমালোচনা করার জন্য ইউরোপীয় নীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কয়েক শতাব্দি ধরে তারা বিশ্লেষণ করছেন ও তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের অনুকূলে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। এক পর্যায়ে তারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাতের যেসব বিষয় মুসলিমগণ একমত পোষণ করেছেন তার মাঝে ফাটল সৃষ্টি করেন। আর এই দীর্ঘ ও সুপ্ত বিশ্লেষণ আর গবেষণার ফলে আজ মহানবির বিশুদ্ধ সিরাতের উপর।
আঘাত হানা তাদের পক্ষে সম্ভব হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু এখন কি তাদের পক্ষে কিছুটা সম্ভব হয়েছে?
(ড. মুসতফা আস-সিবায়ি বলেন) এর জবাবে আমরা বলতে পারি, প্রাচ্যবিদগণ তেমন নতুন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম হননি; বরং আমরা যখন ঐ সকল ব্যক্তিদের নতুন মতামতের দিকে গভীর দৃষ্টিতে (ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জাপান, বেলজিয়াম ও হল্যান্ড প্রভৃতি দেশের প্রাচ্যবিদের দিকে) তাকাই, তখন তাদের গবেষণাকৃত বিষয়গুলো মিশ্রিত অন্ধত্বের মতো কিছু গবেষণা বলে মনে হয়। আর আপনি লক্ষ করবেন (তাদের গবেষিত বিষয়ে) একটি বিষয়কে প্রমাণিত ও প্রতিপাদিত করলে অন্যজন তা প্রত্যাখ্যান করেন। অনুরূপ একজন একটা বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করলে অন্যজন তা প্রমাণ করেন (এভাবেই তাদের গবেষণা চলতে থাকে)।
এরপর ড্যানিয়া তাদের পরস্পর-বিরোধপূর্ণ বেশ কিছু মন্তব্যের উদাহরণ পেশ করেন। আর তার আলোচনা শেষ করেন এই বলে— যদি আমরা প্রাচ্যবিদদের গবেষিত বিরোধপূর্ণ আলোচনার একটি অনুসন্ধানি রিপোর্ট তৈরি করি, তা হলে অনেক দীর্ঘ সূত্রিতার সূচনা হবে। কোনটা আসল কথা বা আসল বক্তব্য তা অবহিত হতে পারব না। তাই আমাদের সম্মুখে আরবদের রচিত সংকলিত সিরাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা গ্রহণ করবো (এতেই আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় সমাধান পেয়ে যাবো)।
আর যেসব (অধুনা) সংকলক দাবি করছেন যে, তারা নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন বৃত্তান্ত তথা সিরাতকে অতি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে আগ্রহী, তবে তারা কোনো কোনো বিষয় একমত হতে পারছেন না; যদিও তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়। তারা যেসব বিষয় আপত্তি তুলেছেন এবং স্বীকার করেছেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী তারা বিশ্লেষণ প্রকাশে চেষ্টা করেছেন, তারা কেউ গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি, আর কখনো পারবেও না।
টমাস, ইসকান্দার ও তরস্ফুতের মত ব্যক্তিরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাত নিয়ে আলোচনা করা এবং তার রূপ-রেখা তৈরি করা কোনো সম্ভবপর কাজ নয়। এসব নামধারী গবেষক ব্যক্তিরা প্রথমে নিজেদের মত করে (স্বজাতির চিন্তা-চেতনা, স্বভাব-চরিত্র প্রভৃতি বিষয়ে) ভাবেন, এরপর তারা তাদের নিজেদের মত করে বুঝতে সক্ষম হন। সেভাবেই পূর্ববর্তীদের জীবন-আদর্শ রচনা করেন (যেমন: নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী তারা রচনা করেছেন)। তারা (যাদের জীবনী লেখা হচ্ছে) তাদের দেশ, সমাজ, পরিবেশ প্রভৃতির পার্থক্যের দিকে ভ্রূক্ষেপ করেন না।
আরেকটি বিষয় হলো, ঐসকল প্রাচ্যবিদগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যান। তাদের একান্ত করণীয় হলো, পূর্ব থেকে জন্ম নেয়া সকল মন্দ প্রবৃত্তির দরজা বন্ধ করতে হবে, যা তাদের পাশ্চাত্য চিন্তাধারা থেকে বদ্ধমূল হয়েছে। বিশেষত প্রাচ্যের সেই আরবদের ক্ষেত্রে যাদের জীবনবৃত্তান্ত তারা রচনা করতে চাচ্ছেন, তাতে মহান ব্যক্তিত্বের সঠিক জীবনী অনুসন্ধানের মাঝে আড়াল সৃষ্টি করে। এই ছোট্ট নোটটি স্মরণ না রাখার ফলে তারা প্রতিটি পদক্ষেপে ভ্রান্তি আর সন্দেহের মাঝে পতিত হন। ১২০

টিকাঃ
১২০. মুকাদ্দামাতু হাদিরিল আলামিল ইসলামি, আমির সাকিব আরসালান, খণ্ড ০১, পৃ. ৩৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00