📄 ৫. নামি-দামি পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রেরণ
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ তাদের স্থানীয় পত্রিকা-ম্যাগাজিনগুলোতে প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে। আমাদের দেশে (মিসরে-সিরিয়াতে) এসব ম্যাগাজিন স্বল্প মূল্যে সংগ্রহ করা যায়। এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য আলোচনা করেছেন ড. উমর ফররুখ ও মুসতফা আল-খালিদি। তাদের রচিত মিশনারি ও উপনিবেশিকতা (التبشير والإستعمار في العرب) গ্রন্থে"। সে গ্রন্থে প্রাচ্যীয় ইসলামগবেষক ও মিশনারিদের ঔপনিবেশিক সেবার একটি খণ্ডচিত্র এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে— মিশনারি বা প্রাচ্যীয় ধর্ম-প্রচারকগণ এই মর্মে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, তারা অন্যান্য ইসলামি দেশের তুলনায় ব্যাপকভাবে মিসরীয় সংবাদ মাধ্যম ও পত্র-পত্রিকা থেকে খ্রিস্টধর্ম প্রচার-প্রসারের জন্য অধিক সুবিধা ভোগ করছেন। আর এ রকম অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ মিসরীয় পত্রিকাগুলোতে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রবন্ধ-নিবন্ধ অর্থের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়; তবে কখনো বিনামূল্যেও তাদের লেখা প্রকাশ করা হয়।
টিকাঃ
৮৩. উমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ফররুখ রহ.। তিনি ১৯০৬ সালে লেবাননের রাজধানী বাইরুতে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তিনি লেবাননে আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা শেষে জার্মানি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি আরবির পাশাপাশি ফরাসি, জার্মানি ও ইংরেজি ভাষা আয়ত্ব করেন। তিনি পশ্চিমাদের ভার্সিটিগুলোতে অধ্যয়ন করলেও তাদের সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করতেন না। উপযুক্ত স্থানে তাদের অপপ্রচার ও অপকর্মের জবাব দিতেন। তার রচনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো, الأسرة والتشريع الإسلامي و تجديد في المسلمين لا في الإسلام وغيرهما
৮৪.ড. মুসতফা খালিদি ১৮৯৫ সালে লেবাননের রাজধানী বাইরুতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত সিরিয়ার অধিবাসী। খালিদী বংশগতভাবে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদি. এর সাথে সম্পৃক্ত। প্রাথমিক শিক্ষা তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে আরবিভাষা ও কুরআনে কারিমের শিক্ষা গ্রহণ করেন। Church of Scotland বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। পরে আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে মেডিক্যাল বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। এ সময় তিনি উসমানি খিলাফতের সৈন্য ইউনিটে ভর্তি হন এবং সেখানেই মেডিক্যালের পড়ালেখা শেষ করেন। তিনি বাইরুতে গাইনী চিকিৎসক হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। এ বিষয়ের উপর তিনি চূড়ান্ত গবেষণা করেন। তার অসংখ্য রচনাবলি রয়েছে। অন্যতম হলো, Muslim Lebanon Today ১৯৫৩ সালে বইটি প্রকাশ করার কারণে তৎকালীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তাকে বিচারের মুখামুখী করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
৮৫. এই গ্রন্থটি একজন আধুনিকমনা মুসলিমের অবশ্যই পাঠ করা উচিত। পাঠক চাহিদার কারণে বাইরুতে দু'বার বইটি প্রকাশিত হয়। মুসলিম রাষ্ট্র সিরিয়াতে পশ্চিমাদের কিছু এজেন্টের কারণে বইটি প্রকাশে বাধা প্রাপ্ত হয়।
📄 ৬. কনফারেন্সের আয়োজন
ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের বিকৃতি ও ধ্বংস সাধনের লক্ষ্যে তাদের কর্মপরিকল্পনার জন্য বিশেষ কনফারেন্স ও সেমিনারের আয়োজন করে। সর্বপ্রথম এ জাতীয় সেমিনার আয়োজন করা হয় ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে। এখনো এসব অব্যাহত আছে।
📄 ৭. তথাকথিত বিশ্বকোষ
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ دائرة المعارف الإسلامية নামে ইসলামি বিশ্বকোষের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন। এটি সফলভাবে অসংখ্য ভাষায় প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তার নতুন এডিশন প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। আমি (ড. মুসতফা আস-সিবায়ি) যখন ১৯৫৬ সালে অক্সফোর্ড গমন করি তখন বিশ্বকোষের সেক্রেটারির মাধ্যমে এর প্রথম অংশের দ্বিতীয় এডিশন সম্পর্কে অবগত হই। এখন এটির আরবি সংস্করণের কাজ শুরু হয়েছে। এমনকি এ পর্যন্ত তেরোটি ভলিয়ম প্রকাশও পেয়েছে। এ বিশ্বকোষে যারা কাজ করছেন তারা ছিলেন প্রাচ্যীয় নামকরা পণ্ডিত। তারা ছিলেন চরম ইসলাম বিদ্বেষী।
তাদের এ কর্মটি ঘিয়ের মাবো বিষ দিয়ে ষড়যন্ত্রের নামান্তর। ইসলাম ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে ভ্রান্ত মতবাদ দিয়ে পূর্ণ করা; তবে দুঃখের বিষয় হলো আমাদের রক্ষণশীল অনেক গবেষক বক্তব্য উপস্থাপনের সময় তথাকথিত বিশ্বকোষ দিয়ে উদ্ধৃতি দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। ঐ বিশ্বকোষ দিয়ে উদ্ধৃতি দিতে না পারলে তাদের কাছে আপন গবেষণা অসম্পূর্ণ মনে হয়। এটা ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রকাশ্য অজ্ঞতা বলা চলে।