📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 গ. পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষামূলক একনিষ্ঠ গবেষণা

📄 গ. পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষামূলক একনিষ্ঠ গবেষণা


পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষামূলক একনিষ্ঠ গবেষণা কোনো কোনো প্রাচ্যীয় মনীষীদের কতিপয় ইসলামি গবেষণায় ওঠে এসেছে; তবে এর সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। গবেষণা ও পর্যালোচনায় তাদের সততা থাকলেও তারা ভুল-ভ্রান্তি আর সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ব্যাপারে নিরাপদ ছিলেন না। এর বহুবিদ কারণ থাকতে পারে। যেমন-
১. আরবিভাষার রীতি-নীতি সম্পর্কে অজ্ঞতা,
২. প্রকৃত ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা,
৩. তারা ইসলামি সমাজব্যবস্থাকে তাদের কল্পনা প্রস্তুত বিকৃত সমাজব্যবস্থার মত ভাবতে ভালবাসে। তারা ভুলে গেছে উভয় ব্যবস্থার মাঝে প্রাকৃতিক, আত্মিক ও সমকালীন এমন কিছু ব্যবধান রয়েছে, যা তাদের অধ্যাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট ইতিহাস এবং তাদের বাস্তব জীবনের ইতিহাস-ভিন্নতাকে স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
তবে অন্য তিন গ্রুপ থেকে এই দলটি একটু নিরাপদ ও ক্ষতির সম্ভাবনায় ক্ষীণ। সত্য বিষয়টি তাদের কাছে প্রকাশিত হলে তা তারা গ্রহণ করেন। তাদের মাঝে কেউ কেউ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে অধ্যয়ন করেন। সত্যকে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে ফলাফল প্রকাশ করেন; কিন্তু তারপরও তারা পূর্ববর্তী দুই গ্রুপের রোষানলে পতিত হন। কারণ, অন্য প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ তাদের সমালোচনা করে বিভিন্নভাবে। বলা হয়, তারা গবেষণার নীতি হতে বিচ্যুত হয়েছেন অথবা স্বীয় গবেষণা বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত করেছেন কিংবা মুসলিমদের সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহী ও তাদের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এ ধরনের মতামত দিয়েছেন।
যেমন, তারা সমালোচনার পাত্র বানিয়েছেন টমাস আরনোল্ডকে। তিনি তাঁর রচিত (الدعوة الي الإسلام) ‘ইসলামের আহ্বান’ গ্রন্থে মুসলিমদের পক্ষে ন্যায়ভিত্তিক আলোচনা করেছিলেন। এই বইটিতে প্রত্যেক যুগে মুসলিমগণ অমুসলিমদের সাথে যে উদার আচরণ করেছেন এবং বিপরীতে অমুসলিমগণ মুসলিমদের সাথে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন তার বিবরণ তুলে ধরেছেন। এগুলো তিনি রেফারেন্সসহ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন। ইসলামি উদারতার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত এই বইটি। এ কারণে বিদ্বেষী প্রাচ্যীয় পণ্ডিত, ধর্ম প্রচারক ও মিশনারিগণ তার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, এ গ্রন্থকার মুসলিমদের প্রতি আসক্ত ও অতি উৎসাহী হয়ে এমনটি লিখেছেন। অথচ লেখক প্রতিটি ঘটনা ও আলোচনার বর্ণনা উৎস-গ্রন্থের টীকাসহ উল্লেখ করেছেন।
এরকম আরেক জন মধ্যপন্থি পাশ্চাত্যগবেষক ছিলেন ফ্রান্সের শিল্পী ড্যানিয়া, যিনি আলজেরিয়ায় বসবাস করতেন। তিনি ইসলামের পরশে অভিভূত হন এবং ইসলাম গ্রহণ করে ‘নাসিরুদ্দিন ড্যানিয়া’ নাম ধারণ করেন। তিনি আলজেরিয়ার এক আলেমের সঙ্গে যৌথভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইসলাম সম্পর্কিত তার একক গ্রন্থের নাম (أشعة خاصة بنور الإسلام) ‘ইসলামের আলোতে আলোকিত’। তিনি এতে ইসলাম ও রাসুলের ওপর তার জাতীর (খ্রিস্টানদের) অত্যাচার ও নিপিড়নের লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেছেন। তিনি ফ্রান্সে ইনতেকাল করেন। তার কফিন আলজেরিয়াতে আনা হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়।

টিকাঃ
৮২. বইটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে- সম্পাদক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00