📄 এক. মৌলিক বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করা
মুসলিমদের নবি (হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআন-হাদিস, আইন-জীবনব্যবস্থা, ফিক্হ তথা মৌলিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করা। এতে তাদের দুটি লক্ষ অর্জিত হয়। ১. ধর্মীয় ২. ঔপনিবেশিক।
📄 দুই. মুসলিমদের সভ্যতা-সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানা এবং সন্দেহের বেড়াজাল সৃষ্টি করা
তারা দাবি করে, এই ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি রোমানদের হতে গৃহীত। আরব এবং মুসলিমগণ তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতির আদলেই প্রতিষ্ঠিত। তাতে কোন নব্য আবিষ্কারক চিন্তা-ভাবনা এবং প্রেরণাদায়ক কোন সভ্যতা নেই; বরং তাদের সভ্যতার সর্বত্র রয়েছে ত্রুটি-বিচ্যুতি। যদিও তারা ইসলামি সভ্যতার কোন একটি দিকের প্রশংসা করে (যদিও তা কম); তথাপি অসংখ্য অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটি সাথে সাথে উল্লেখ করে। (ফলে পূর্বের প্রশংসনীয় দিকটি হালকা হয় ও গ্রহণযোগ্যতা হারায়)।
📄 তিন. মুসলিমদের গবেষণালব্ধ রচনার প্রতি বিদ্রূপ মন্তব্য করা
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ মৌলিকত্ব, আকিদা-বিশ্বাস প্রভৃতির ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করে থাকেন, যাতে ঔপনিবেশিকতার ভীত মজবুত হয় এবং মুসলিমদের মাঝে তাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুসলিমরা 'তাদের সভ্যতার দাসে পরিণত হবে। তাদের সভ্যতাই মুসলিমদেরকে প্রাচ্যীয় ভাবধারার প্রতি টেনে নিয়ে যাবে। আর তাদের মাঝে বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রতিবাদী শক্তি থাকবে না।
📄 চার. ইসলাম-পূর্ব জাতীয়তাবাদ ও গোত্রীয় বিদ্বেষ পুনরুজ্জীবিত করা
ইসলাম-পূর্ব জাতীয়তাবাদ ও গোত্রীয় বিদ্বেষ পুনর্জীবিত করে পৃথিবীর মুসলিম প্রধান অঞ্চলগুলোতে ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ দুর্বল করা, মুসলিমদের মাঝে মতনৈক্যের বীজ বপন করা ও আঞ্চলিকতাকে উসকে দেয়া প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের অন্যতম কাজ। আর অনুরূপ কু-কর্ম তারা আরবদেশগুলোতে চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে কোনো বিষয়ে মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে। এক্ষেত্রে তারা তাবেদারী সর্বশক্তি ব্যয় করছে। একতা ও ঐক্যবদ্ধতা হতে নিবৃত রাখার জন্য ইতিহাসকে নতুন রূপে বিকৃত সাধন করছে। ব্যক্তি জীবনের ঘটনাকে পুঁজি করে নতুন ইতিহাস রচনার চিন্তা করছে, যাতে আরবদের এক ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত রাখা যায় এবং জনগণের মাঝে সত্য ও কল্যাণকর বিষয় বুঝার ব্যাপারে অন্তরায় সৃষ্টি করা যায়।