📄 তৃতীয়ত : হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করা
বিদগ্ধ আলেমগণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে হাদিসকে বিশুদ্ধরূপে গ্রহণ করেছেন তার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করা প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের অন্যতম কাজ। তারা যুক্তি হিসেবে জাল হাদিস ও দুর্বল হাদিসকে উপস্থাপন করে। অথচ তারা জানে না আমাদের শীর্ষ আলেমগণ সহিহ হাদিসকে দুর্বল হাদিস থেকে বাছাই করার জন্য সর্বাত্মক পরিশ্রম করেছেন। অনুসন্ধান আর গবেষণার ক্ষেত্রে তারা এমন সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন যার এক দশমাংশও তাদের (খ্রিস্টান ও ইহুদি) ধর্মের কথিত বাইবেলের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখা হয়নি। আমি এ সম্পর্কে চূড়ান্ত! আলোচনা করেছি সম্প্রতি প্রকাশিত গাযায় السنۃ ومکانتھا فی التشريع আল ইসলামী গ্রন্থে।
তাদের এ ধোঁকা ও শঠতাপূর্ণ আলোচনার মূল কারণ হলো তারা আমাদের ধর্মীয় আলেম ব্যক্তিবর্গ যে হাদিসভাণ্ডারকে সম্বল হিসাবে গ্রহণ করেছেন তাকে একটি চিন্তা প্রসূত ভাবনা আর অনর্থক আইন হিসেবে মনে করা। তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করে। তাদের দাবি হলো, এ কথা কোনোভাবেই যুক্তি সঙ্গত নয় যে, ইসলামি সকল আইন-কানুন উম্মি নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কর্তৃক রচিত; বরং এটা প্রথম তিন শতাব্দীর মুসলিমদের আমলের সমষ্টি। সুতরাং তাদের মৌলিক বিশ্বাস হলো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করা। আর এর থেকেই তাদের সকল বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের উৎপত্তি।
📄 চতুর্থত : ইসলামি আইনের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করা
ইসলামের যে বিশাল সমৃদ্ধ আইনি ভাণ্ডার রয়েছে তার সমপরিমাণ কোনো যুগের কোনো জাতির কাছে সংকলিত নেই। এ বিশাল আইনি পর্যালোচনার গুরুত্ব ও মহত্ত্ব তাদের কাছে নিষ্প্রভ হয়ে গেছে, যখন তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের উপরই বিশ্বাস স্থাপন করে না। তারা এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এ পন্থা অবলম্বন করল যে, এই সমৃদ্ধ আইনিকাঠামো রোমানদের থেকে ধার করা, অর্থাৎ এটা পাশ্চাত্যের জীবনধারা থেকে গ্রহণ করা একটি জীবনব্যবস্থা। আমাদের বিদগ্ধ আলেমগণ তাদের এ নোংরা দাবির অসারতা প্রমাণ করেছেন। তারা এটা প্রমাণ করেছেন যে, ইসলামি ফিকহ তথা জীবনব্যবব্যবস্থা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আলাদা জীবনব্যবস্থা, যা কারো থেকে ধার করা নয়। আলেমদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা বিদ্বেষীদের নির্বাক ও লা- জাওয়াব করেছে। আর সত্যানুসন্ধানি ব্যক্তিদের পরিতুষ্ট করেছে।
📄 পঞ্চমত : আরবিভাষার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করা
তারা আরবিভাষার ভাষা শৈলী ও পরিপক্কতার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করে। তাদের মতে আমাদের উপর তাদের সাহিত্যের কর্তৃত্ব ও অনুগ্রহের ছায়া প্রদান করছে। তারা আরবি সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে জোরালো সন্দেহ পোষণ করে। তারা আরবি সাহিত্যের অনুর্বরতা ও নিষ্প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে, যাতে আমরা তাদের কথিত (পশ্চিমা) সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হই এবং তা গ্রহণ করি। আর এটা হলো সৈন্যবাহিনী দিয়ে ঔপনিবেশকতার মত সাহিত্যের ঔপনিবেশিকতা। উপরেল্লিখিত এসব কদর্যপূর্ণ ভ্রান্ত গবেষণাকে লক্ষ করেই তারা ইসলাম স্টাডি করে থাকে। তাদের অধিকাংশের চিন্তা-চেতনা এমনই।৮১
টিকাঃ
৮১ তবে কিছু মনীষী সত্যের অনুসন্ধানী ছিলেন। অবশ্যই তারা সে পথ গ্রহণ করেছেন। বইয়ের ভূমিকাতে তাদের আলোচনা করা হয়েছে- অনুবাদক।