📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 ৪. রাজনৈতিক কারণ

📄 ৪. রাজনৈতিক কারণ


রাজনৈতিক অভিসন্ধি প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের বিকৃত গবেষণার আরেক কারণ। আমাদের যুগের সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত, ইসলামি রাষ্ট্রগুলোকে গ্রাস করা পশ্চিমা পণ্ডিতদের টার্গেট। প্রতিটি পশ্চিমা দূতাবাসের দূতগণ এসব দেশের সংস্কৃতি ও ভাষা (আরবি, বাংলা ও উর্দু) কে আত্মস্থ করে, যাতে তারা বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ ও একান্ত আলাপ করতে সক্ষম হয়, এবং যাতে তারা বুঝতে পারে তাদের চিন্তা-চেতনা। অর্থাৎ তারা কি একনিষ্ঠ ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক, নাকি স্বার্থলোভী পশ্চিমাপন্থি, ভোগবাদি, সেকুলারপন্থি। নগ্ন হামলা-৬
তাদের অনুকূলে হলে তাকে দিয়ে স্বার্থসিদ্ধ করে। পশ্চিমাদের চিন্তাধারা অনুযায়ী তাদেরকে রাজনৈতিক মতাদর্শের ওপর উদ্বুদ্ধ করে।
অতীতে দিবালোকের মতো আমাদের নিকট এই সম্পর্কের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। ঐসব পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতগণ (যারা ইসলাম স্টাডি ও আরবিভাষা চর্চা করত) ইসলামি ও আরবরাষ্ট্রগুলোর মাঝে পরস্পর বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য ষড়যন্ত্রের জাল ছড়াত। দীর্ঘ পর্যালোচনা আর গবেষণার পর ঐসব দেশের অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এবং নানান অর্থবহ উপদেশের মাধ্যমে তারা অন্য ইসলামি রাষ্ট্র ও আরবদেশগুলোর মাঝে বিভেদ ও বিচ্ছেদ ঘটাত। তারা সাধারণ রাজনৈতিক নীতি-নির্ধারকদের মধ্যকার দুর্বলতার দিকগুলো উপলব্ধি করত; যার মাধ্যমে তাদের ঔপনিবেশিকতা ও স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলোর ব্যাপারে ব্যাপক জনপ্রিয়তার খবর জানতে ও বুঝতে পারত।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 ৫. শিক্ষাগত কারণ

📄 ৫. শিক্ষাগত কারণ


প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের খুব অল্প সংখ্যক গবেষকই আছেন যাদের স্টাডি নানান জাতি, তাদের ধর্মমত, সংস্কৃতি ও ভাষা প্রভৃতি নিয়ে এবং খোলা মনে আলোচনার জন্য। এসব গবেষকের খুব কম সংখ্যকই ইসলামি জ্ঞান-ভাণ্ডারের অভিজ্ঞতা অর্জনে ভ্রান্তির শিকার হন; বরং তারা অতি সহজেই সঠিক বিষয়টি বুঝতে পারেন। কেননা, ষড়যন্ত্র বা বিকৃতি সাধনের কোনো পরিকল্পনা তাদের (আগে থেকে) থাকে না।
ফলে ঐসব প্রাচ্যীয় মনীষীদের আলোচনা-গবেষণাগুলো সত্যাশ্রয়ী হয় এবং অন্যান্য গবেষকদের থেকে (তুলনামূলক) ত্রুটি মুক্ত হয়; বরং তাদের কেউ কেউ তো ইসলামের নির্দেশিত পথ অনুকরণ করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
নিশ্চিতভাবে একথা বলা চলে, তারা প্রচুর সম্পদ-সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন। (তাদের নিষ্ঠা ও আমানতদারিতার কারণে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের মতবাদের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়) এর কারণ হলো, তাদের আলোচনা-গবেষণাগুলো ছিল প্রবৃত্তির দাসত্ব হতে মুক্ত। গতানুগতিক চিন্তা ধারার ছিল না। ধর্মীয় মিশনারি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাধারণ সমালোচক প্রমুখের কোন প্রভাব প্রতিফলিত হয়নি। যে কারণে তাদের গবেষণার কোনো লাভ ও অর্জন অন্যরা দেখেনি। এ ক্ষুদ্র দলটিই মধ্যপন্থি প্রাচ্যীয় মনীষীদের অন্তর্ভুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00