📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের ইতিহাস

📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের ইতিহাস


সুনির্দিষ্টভাবে কেউ জানে না সর্বপ্রথম প্রাচ্যের কোন লোকটি ইসলামি বিষয়গুলো অধ্যয়ন করেছেন এবং এ-ও জানা নেই তা কখন শুরু হয়েছিল, তবে একথা তো জোর দিয়ে বলা যায়, কতিপয় পশ্চিমা ধর্মযাজক স্পেনের গৌরবময় সোনালি যুগে সেখানে আসেন। তখনকার সে-সব মাদরাসায় তারা সুশিক্ষা, সভ্যতার জ্ঞান লাভ করেন। তারা কুরআনুল কারিম ও আরবিভাষার ধর্মীয় অনেক গ্রন্থ নিজ ভাষায় অনুবাদ করেন। তারা মুসলিম বিদগ্ধ আলেমদের ছাত্রত্ব গ্রহণ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এ শাখার অন্যতম হলো দর্শন, চিকিৎসা ও গণিতশাস্ত্র।
তাদের প্রথম ব্যক্তি হলেন ফ্রান্সের Jerbert, যিনি ৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে রোমে অবস্থান করার জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করেন। তিনি স্পেনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে নিজ দেশে ফিরে যান। Pierrele Aènèrè 1092-1156 এবং Gerard de Grèmone 1114-1187 খ্রিস্টাব্দে আসেন।
তারা নিজ দিশে ফিরে যাবার পর আরবসভ্যতার ও আরব মহাজ্ঞানী আলেমদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের প্রচার-প্রসার করতে থাকেন। তারপর তারা আরবদের মাদরাসার মতো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি প্রস্তর করেন। বিভিন্ন গবেষণাকেন্দ্র আর একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে, তারা আরবদের গ্রন্থগুলো ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করে পাঠদান শুরু করলেন।
তখনকার সময় ল্যাটিন ভাষায়ই ছিল ইউরোপের একমাত্র ভাষা। প্রাচ্যীয় তৎকালীন ভার্সিটিগুলো আরবদের গ্রন্থের ওপর নির্ভর করে স্থায়ীত্ব পেয়ে গেল। ছয় শতাব্দি পর্যন্ত অধ্যয়নের জন্য আরবি গ্রন্থগুলোই উৎসমূল হিসেবে পরিগণিত হত। এ দীর্ঘ সময় এমন কোন মুহূর্ত অতিবাহিত হয়নি যখন মানুষ ইসলাম, আরবিভাষা, কুরআন অনুবাদ, কতিপয় গবেষণালব্ধ আরবিগ্রন্থ ও সাহিত্যের বই পাঠ গ্রহণ করেনি।
এভাবে চলে আসে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ। এ সময় ইসলামি বিশ্বের ওপর ইউরোপ ও পাশ্চাত্যগোষ্ঠী ঔনিবেশিকতা ও সম্পদ-সম্পত্তির ওপর আগ্রাসন সূচনা করে। তখন পাশ্চাত্যের বড় এক জামাত ইসলামি বিষয়গুলো অধ্যয়নে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করে। এ লক্ষ্যে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে নানা পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করতে থাকে। আরবি ও ইসলামি দেশগুলোর আরবি পাণ্ডুলিপিগুলোতে তারা পরিবর্তন সাধন করেন। তারা অজ্ঞ ও মুর্খ আরবদের কাছ থেকে তা সংগ্রহ করে। অথবা গোলযোগপূর্ণ প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে সাধারণ লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি তারা চুরি করতো। এগুলো তারা নিজ দেশের লাইব্রেরিগুলোতে নিয়ে যেতো। যখন তারা আরবি পাণ্ডুলিপির এক বিশাল ও বিরল স্তূপ জমা করলেন তখন তা ইউরোপের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে পাঠাতে থাকেন।
১৯০০ খ্রিস্টাব্দে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল দুইশ পঞ্চাশ হাজার ভলিয়ম। এ সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর ১৯০০ শতাব্দীর একেবারে শেষ ভাগে ১৮৭৩ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের সর্বপ্রথম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। আর এ রকম অসংখ্য অগণিত কনফারেন্স তারা ধর্ম ও সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে আজ অব্দি করছে।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের কর্মক্ষেত্র

📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের কর্মক্ষেত্র


প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের প্রথম পর্যায়ে অধ্যয়নের বিষয় ছিল আরবিভাষা ও ইসলাম। মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের ঔপনিবেশিকতার পরিধি বৃদ্ধি পাবার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সকল ধর্মতত্ত্ব, সংস্কৃতি, ভৌগলিক ম্যাপ, প্রসিদ্ধ ভাষা ও অনুকরণ-অনুসরণ প্রভৃতি বিষয় তারা স্টাডি করেছে। যদিও তাদের কাজের একটি অংশ জুড়ে আছে ইসলাম ধর্ম, সাহিত্য ও ইসলামি সংস্কৃতি। বর্তমানে প্রাচ্যবিদদের কাছে এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীনি ও রাজনৈতিক বিষয়ে দৃষ্টি রাখার জন্য তাদেরকে প্রাচ্য বিষয়ক অধ্যয়নকে উৎসাহিত করে। ৭৭

টিকাঃ
৭৭. একটু পরেই এ নিয়ে আলোচনা হবে- অনুবাদক।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের গ্রন্থ-পত্রিকা পরিচিতি

📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের গ্রন্থ-পত্রিকা পরিচিতি


প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের লক্ষ-উদ্দেশ্য, তাদের শ্রেণিবিন্যাস, তাদের উপায়-উপকরণ প্রভৃতি বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হলো। আমরা পাঠকের অবগতির জন্য প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত বিশেষ কিছু পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিনের বর্ণনা এখানে উল্লেখ করবো। এগুলো তাদের ঔপনিবেশিক দেশগুলোতে প্রকাশ পায়। ৮৬

টিকাঃ
৮৬. প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের নামের সংকলন, প্রসিদ্ধ পত্রিকা-ম্যাগাজিন ও গ্রন্থ প্রভৃতির আলোচনা ড. মুহাম্মাদ আল বাহায়ী-এর প্রদত্ত লেকচার المبشرون والمستشرقون وموقفهم من الإسلام থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রকাশিত ম্যাগাজিন

📄 প্রকাশিত ম্যাগাজিন


ক. ফ্রান্সের অধিবাসী প্রাচ্যপণ্ডিতগণ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে একটি গবেষণা পরিষদ গঠন করেন। ১৮২০ সালে এর আরেকটি সভার আয়োজন করেন এবং তখন থেকে তারা ( المجلة الآسيوية ) 'এশীয় ম্যাগাজিন' প্রকাশ করেন।
খ. ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে প্রাচ্যীয় শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করনের জন্য একটি সংস্থা চালু করা হয়। তৎকালীন রাজার পক্ষ হতে এটা তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এই সংস্থা থেকে একটি পত্রিকা প্রকাশ পেত, যার নাম ( مجلة الجمعية الآسيوية الملكية ) 'এশীয় রাষ্ট্রের গবেষণা ক্রোড়পত্র'।
গ. ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান অধিবাসীগণ একটি সংস্থা ও ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন ( الجمعية الشرقية الأمريكية ) 'প্রাচ্যীয় আমেরিকান ‘সংস্থা’ নামে। একই বছর জার্মানীর পণ্ডিত তাদের জন্য এক বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। অনুরূপ অস্ট্রিয়ান, ইতালিয়ান ও রাশিয়ান নামধারী ইসলাম গবেষকরা আলাদা আলাদা (ইসলাম বিরোধী) ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন।
ঘ. বর্তমান শতাব্দিতে আমেরিকান ইসলামি পণ্ডিতগণ যেসব পত্রিকা প্রকাশ করেন তার অন্যতম হলো (مجلة جمعية الدراسة الشرقية) ‘মধ্যপ্রাচ্য শিক্ষা পরিষদ সাময়িকী’। এটি Ohio এর Gambier শহর থেকে প্রকাশিত হয়। এর শাখা রয়েছে লন্ডন, প্যারিস, লাইপেজিড ও কানাডার টরেন্টো শহরে। সচরাচর এটা প্রকাশিত হয় না। এটি প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণ নিয়ে প্রকাশ করা হয়। কখনো কখনো জটিল দীনি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়। যেমন: এটির একটি বিশেষ অধ্যায় আছে- ‘গ্রন্থাবলি’।
ঙ. সম্প্রতি আমেরিকান ইসলামি পণ্ডিত আপন তত্ত্বাবধানে (مجلة شؤون الشرق الأوسط) ‘মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাময়িকী’ অনুরূপ (مجلة الشرق الأوسط) ‘মধ্যপ্রাচ্য সাময়িকী’ প্রকাশ করছেন। এগুলোতে সাধারণত প্রাচ্যীয় রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণ বেশি প্রাধান্য পায়।
চ. সম্প্রতি মারাত্মক ক্ষতিকর যে পত্রিকা/ম্যাগাজিনটি আমেরিকান ইসলাম বিষয়ক গবেষক ও পণ্ডিতগণ প্রকাশ করেন তা হলো (العالم الإسلامي) বা The Muslim World ম্যাগাজিন। এটি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কট্টর Zweimer প্রকাশ করেন। এখন তা আমেরিকার হার্টফোর্ট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক হলেন কে. ক্র্যাগ৮৭। পত্রিকা টি মিশনারিদের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করে।
ছ. The Muslim World পত্রিকার সমপর্যায়ে ফ্রান্সের ইসলাম বিষয়ক গবেষকগণ বিদ্বেষপূর্ণ মিশনারি পত্রিকা বের করেন, যার নাম হলো The Monde Muslim.

টিকাঃ
৮৭. Albert Kenneth Cragg- তিনি ৮ মার্চ ১৯১৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৩ নভেম্বর ২০১২ সালে ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। ক্রাগ ছিলেন অ্যাংলিকান বিশপ ও পণ্ডিত। তিনি ব্ল্যাকপুল গ্রামার স্কুল ও অক্সফোর্ডের জেসাস কলেজ থেকে অধ্যয়ন করেন। তিনি ক্যান্টারবেরীর সেইন্ট অগাস্টাইন কলেজের আরবি ও ইসলামিক শিক্ষার অধ্যাপক ছিলেন। আলবার্ট ক্রাগ মিসরের অ্যাংলিকান চার্চেও বিশপের দায়িত্ব পালন করেন। তার রচিত বই- The Call of Minaret (১৯৫৬), Sandals at the Mosque: Christian Presence Amid Islam (১৯৫৯), The Event of the Qur'an-Islam in its Scripture (১৯৭১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00