📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 ড. তহা হোসাইন ও তার চিন্তাগত দাসত্ব

📄 ড. তহা হোসাইন ও তার চিন্তাগত দাসত্ব


আমাদের মাঝে কিছু কিছু মানুষ প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল ও আস্থাবান। তাদের (ইসলামি জ্ঞানচর্চায়) শ্রমদানে তারা উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এরকম প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের প্রশংসাকারীদের একজন হলেন ড. তহা হোসাইন, যিনি প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের প্রথম সারির করার জন্য সফর করেন। ১৯৩৬ সালে হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন ও ইসলামি স্টাডির উপর ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে আযহার ইউনিভার্সিটির পরিচালক হিসাবে নিয়োগ লাভ করেন। ড. মুহাম্মাদ বাহি রহ. এর প্রচেষ্টার ফলে আযহার ভার্সিটিতে আধুনিক জ্ঞানের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৬২ সালে আযহার ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। ড. বাহি আধুনিকতার পক্ষে কাজ করতেন। তবে আলি আবদুর রাজ্জাক ও তহা হোসাইনের মত অন্ধভাবে ইউরোপের অনুসরণ করাকে তিনি পছন্দ করতেন না। তিনি কালমার্কস ও লেলিনবাদের অসরতা প্রমাণ করেন। তিনি অসংখ্য গ্রন্থ ও গবেষণাপত্র রচনা করেছেন। তার রচনাগুলোতে ইসলামের সুস্পষ্ট মতামত ও আধুনিক চিন্তাধারা ফুটে ওঠেছে। তার অন্যতম গ্রন্থ হলো-
الدين والدولة من توجيه القرآن الكريم الإسلام في الواقع الأيدولوجي المعاصر, منهج القرآن في تطوير المجتمع, تهافت الفكر المادي التاريخي الإسلام في حياة المسلم, من مفاهيم القرآن في العقيدة والشريعة الفكر الإسلامي الحديث وصلته بالاستعمار الغربي وحياتي في رحاب الأزهر، الاخاء الدين ومجمع الأديان وموقف الإسلام
আল্লাহ তাআলা তাঁর পরিশ্রমকে কবুল করুন এবং আমাদেরকে তার পথনির্দেশনা গ্রহণের তাওফিক দান করুন।
'ছাত্র। সমকালীন সাহিত্যে তার অবদান স্মরণীয়। তিনি তার বই 'আল-আদাবুল জাহিলি' এর ভূমিকায় বলেন, প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের মত যাদের ইতিহাস, সাহিত্য ও নানা ভাষা প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞান নেই তাদেরকে কীভাবে একজন আরবিভাষা সাহিত্যের অধ্যাপক হিসাবে গণ্য করা যায়।
সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভূগোল ও ইউথোপিয়া, ইবরানি ও সিরিয়ান ভাষার উপর পারদর্শিতা অর্জন করেন। এ সময়গুলোতে তিনি আযহারের বিভিন্ন ক্লাস, নানা ক্লাবের ভাষা চর্চা, ধর্মীয় আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করতেন। এভাবে তিনি ১৯১৪ পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় লিপ্ত থাকেন। এ বছর তিনি ডক্টরেট অর্জন করেন। তবে এক পার্লামেন্ট সদস্য তার উপর ধর্মীয় রীতি-নীতি ভঙ্গের আপত্তি তোলেন। ১৯১৪ সালে তিনি সাহিত্য বিষয়ক পড়া-শুনার জন্য ফ্রান্সে পাড়ি জমান। ১৯১৫ সাল পর্যন্ত সাহিত্যের নানা বিষয় নিয়ে স্টাডি করেন। তার শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মুহাম্মদ জাদুর রব, সাইয়েদ আল-মুরসিফী আল-মারাগী, মুহাম্মাদ বুখাইত, শাইখ আতা, শাইখ মুহাম্মাদ আবদুহু, আহমাদ যাকি ও আহমাদ কামাল পাশা। আরো অন্যান্য আরব মনীষীদের কাছ থেকে শিক্ষা-দীক্ষা অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি ওরিয়েন্টালিস্টদের থেকেও শিক্ষার খড়ি নিয়েছেন। তাদের অন্যতম হলেন, ভূগোল বিষয়ক অধ্যাপক জুওয়াইদি, জ্যোতির্বিদ্যা অর্জন করেন কারনক নিলিনোর কাছে, সেমিটিক জাতির ভাষা শিক্ষা লাভ করেন লেটম্যানের হাতে, ইসলামি দর্শন লাভ করেন অধ্যাপক সালতানার কাছে, মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাস-সংস্কৃতি বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করেন মিলোনীর কাছে, অধ্যাপক মাসিনিয়োনের কাছে দর্শনের দিক্ষা লাভ করেন এবং কালিম্যান এর কাছে ফ্রান্সের সাহিত্য চর্চা করেন। এছাড়া তিনি ফ্রান্সের অনেক অধ্যাপকের কাছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। ১৯১৯ সালে এসে ড. তহা হোসাইন ইজিপ্ট ভার্সিটিতে ইউনানি ও রোমানি ইতিহাসের অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯২৫ সালে আরবিসাহিত্য বিভাগে অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব লাভ করেন। সাংবাদিক হিসাবেও তিনি বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। 'কাওকাবুশ শরক' নামের একটি পত্রিকায় তিনি তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়া 'জারিদাতুল ওয়াদি' পত্রিকাও তার অধীনে ছিল। ১৯৫০ সালে মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন এবং ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ড. তহা হোসাইন অসংখ্য দেশি বিদেশি ভার্সিটিতে বিভিন্ন ফেকালটিতে দায়িত্ব পালন করেন। তার রচনাবলির
الفتنة الكبرى عثمان, الفتنة الكبرى علي وبنوه في الشعر الجاهلي, الأيام, دعاء الكروان, شجرة البؤس, المعذبون في الأرض على هامش السيرة, حديث الأربعاء, من حديث الشعر والنثر, مستقبل الثقافة في مصر, أديب, مرآة الإسلام, الشيخان, الوعد الحق, جنة الشوك ومع أبي العلاء في سجنه وغيرها গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
অথবা প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের সাথে তাকে তুলনা করা যায়? এখন তো জ্ঞান (ইলম) তাদের কাছেই অনুসন্ধান করতে হবে। আর তাদের কাছেই প্রকৃত জ্ঞান অন্বেষণ করা উচিত। যদি তা করি তাহলে আমরা নিজেদের পারে দাঁড়ানোর সুযোগ পাব। নিজেদের ডানা দিয়ে উড়তে পারব। আর আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবো জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সাহিত্যের অতীত যুগ, যার মাধ্যমে তারা আমাদের ওপর বিজয় ও প্রাধান্য লাভ করেছে। কোনো সন্দেহ নেই যে, ড. তহা হোসাইনের এ মন্তব্য চিন্তাগত দাসত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। ইতিপূর্বে আমরা আমাদের চিন্তা ও গবেষণাগত উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য এ পথ বহুবার অতিক্রম করেছি। এসব দাসত্বমূলক ধ্যান-ধারণা ড. তহা হোসাইনের কিতাব 'আল আদাবুল জাহিলি'-তে অনেক বেশি বিদ্যমান। যদিও তার কিতাবটি নির্ভেজালভাবে ইসলাম ও আরব বিদ্বেষী পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের অতি কথনকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য রচিত।
তার স্বরচিত বইটিতে যাদের আদর্শিক দৃষ্টি-ভঙ্গিতে উজ্জীবিত হয়ে লিখেছেন তাদের অন্যতম হলেন, D. S. Margoliouth, তিনি তার কিতাবে ড. এস. মার্জুলুইথ-এর মতামত একপেশে নকল করেছেন। এসব মতামতকে নিজের দিকেই সম্বোধন করেছেন। তার বইয়ে নতুন কোনো চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন নেই। আর জ্ঞানগত কোনো আলোচনার ফলাফলও নেই। তিনি নিজের মত করে বইটি লিখেছেন।

টিকাঃ
৬৭ ড. মুহাম্মাদ আল-বাহি জন্ম ৩ আগস্ট ১৯০৫, মৃত ১০ সেপ্টেমবর ১৯৮২। তিনি মিসরের আল-বুহাইরা বিভাগের শুবরা থানার আসমানিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। দশ বছরে কুরআন হিফজ করেন এবং এগার বছর বয়সে দুসুক নামক এলাকাতে তাজবিদের উপর দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি ইস্কান্দারিয়াতে আল-আযহারের ইনিস্টিটিউটে ইন্টার সম্পন্ন করেন। তিনি ইন্টারে প্রথম স্থান অধিকার করেন। মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ১৯৩১ সালে। ১৯৩১ সালে জার্মানিতে দর্শনশাস্ত্রের উপর অধ্যয়ন নগ্ন হামলা-৫
৬৮.তহা ইবনে হোসাইন ইবনে আলি ইবনে সালামা। তিনি জুমার দিন ১৫ নভেম্বর ১৮৮৯ সালে মিসরের আলমিনয়া বিভাগে জন্ম গ্রহণ করেন। আর ২৮ অক্টোবর ১৯৭৩ সালে ৮৩ বছর বয়সে কায়রোতে মৃত্যু বরণ করেন। ড. তহা হোসাইন একজন সু-সাহিত্যিক, সমালোচক ও ইতিহাসবিদ ছিলেন। তাকে আরবি কবিদের গুরু বলা হত। ড. তহা হোসাইন খুবই অল্প বয়সে আরবিভাষা, গণিত, কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজের পণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি এ সময় থেকে বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভায় উপস্থিত হতেন। বিশেষ করে তিনি আনতারা ইবনে শাদ্দাদ ও আবু যাইদ আল-হিলালীর সন্ধ্যার মজলিসে উপস্থিত হতেন। ১৯০২ সালে দীনি বিষয়গুলো শিক্ষা লাভ করার জন্য আযহারে ভর্তি হন। তার আরবি জ্ঞান আরো অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইজিপ্ট ইউনিভার্সিটিতে তিনিই প্রথম ছাত্রদের মাঝে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ ভার্সিটিতে তিনি আধুনিক জ্ঞান, ইসলামি সভ্যতা-

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 অধ্যাপক আহমদ আমিন ও পাশ্চাত্য চিন্তাধারা

📄 অধ্যাপক আহমদ আমিন ও পাশ্চাত্য চিন্তাধারা


পাশ্চাত্য চিন্তা-ধারার সাথে সমন্বয়কারী আরেক আরব ব্যক্তিত্ব হলেন অধ্যাপক আহমদ আমিন। ৬৯ তার নিজ বই 'ফাজরুল ইসলাম' ও 'দুহাল ইসলাম' গ্রন্থদ্বয়ে একই চিন্তার পথিক হয়েছেন। আমি (السنة ومكانتها في التشريع الاسلامی )ইসলামি আইনে হাদিসের অবস্থান)-গ্রন্থে হাদিস পরিচ্ছেদে 'ফাজরুল ইসলাম' গ্রন্থের পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের ঐসকল চোরাই মতামত উল্লেখ করেছি, যেগুলো আহমদ আমিন তাদের দিকে সম্বোধন না করে, নিজের ভাষা বলে চালিয়েছেন।

টিকাঃ
৬৯. আহমাদ আমিন একজন চিন্তাবিদ, গবেষক ও সাহিত্যিক। তিনি ১৮৮৭ কায়রোতে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে ইনতিকাল করেন। তিনি আযহার ইউনিভার্সিটিতে পাঠ গ্রহণ করেন এবং আইন বিষয়ক পড়ালেখা সম্পন্ন করেন। ইজিন্ট ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ক ডিপার্টমেন্টে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে তিনি কায়রো ইউনিভার্সিটির সাহিত্য বিভাগের ডিন হিসাবে নিযুক্ত হন এবং ভাষা একাডেমির সদস্য পদ লাভ করেন। তার অসংখ্য রচনাবলি, প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও গবেষণাপত্র রয়েছে। তার নিবন্ধগুলো 'আর-রিসালা' ও 'আস-সিকাফা' পত্রিকায় প্রকাশ পেত। পরবর্তীতে 'ফাইদুল খাতির' ও 'যুয়ামাউল উসলাহ' নামে একত্রে ছাপা হয়।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 ড. আবদুল কাদির ও গোল্ড যিহার

📄 ড. আবদুল কাদির ও গোল্ড যিহার


পাশ্চাত্যের মতাদর্শে বিশ্বাসী ড. আলি হাসান আবদুল কাদির এর نظرة عامة في تاريخ الفقه الاسلامی )ইসলামি আইনের ইতিহাস নিয়ে পর্যালোচনা) গ্রন্থে একই বক্তব্য ফুটে ওঠেছে। তার উক্ত গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় ৭. العقيدة والشريعة في الدراسات الإسلامية -এর সঙ্গে ইসলাম গ্রন্থদ্বয়ের সমন্বয়ে রচিত। ড. তহা হোসাইন ও আহমাদ আমিন ও ড. তহা হোসাইন ও আহমাদ আমিনের মত তিনিও আপন পাশ্চাত্যের উসতাদদের মতামতকে নিজের মতামত হিসেবে চালিয়ে দেন। তাদের নাম উল্লেখ করেন না।
আমি যতটুকু জানি ড. আলি হাসান আবদুল কাদির বর্তমানে ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তার সাথে একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা ভাল মনে করছি। এতে রয়েছে এক বিশেষ উপদেশ। এই ঘটনার কারণেই পরবর্তীতে السنة ومكانتها في التشريع الاسلامی ঘটনা বর্ণনা করার আগে আমি তার অনুগ্রহ, চারিত্রিক ভাল শিষ্টাচার প্রভৃতি স্বীকার করছি, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

টিকাঃ
৭০. আলি হাসান আবদুল কাদির একজন ইসলামি স্কলার। জার্মান থেকে ডক্টরেট লাভ করেন। তিনি আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্হ বিভাগের একজন অধ্যাপক। তার আলোচনা ও লেখালেখি ওরিয়েন্টালিস্টদের মতামত দিয়ে পূর্ণ থাকত। প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের তিনি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতেন। পরবর্তীতে অধ্যপনার জন্য তিনি লন্ডন চলে যান।
৭১. গোল্ড যিহার, তিনি হাঙ্গেরির ওরিয়েন্টালিস্ট। ২২ জুন ১৮৫০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। মৃত্যু ১৩ নভেম্বর ১৯২১। তিনি বোদাপেস্ট, বার্লিন, লিবজিগ ও লেইডেন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন দেশে অধ্যাপনার কাজ করেন। অবশেষে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেন। আমাদের এ বইয়ে বহুবার তার আলোচনা আসবে। এই প্রাচ্যবিদ অনেক প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের হাতে খড়ি দিয়েছেন। তার উপস্থাপিত ভুল তথ্য দিয়ে অতীত ও বর্তমানের প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ ইসলাম সম্পর্কে বিষোদ্গার করছেন। অবশ্য অনেক প্রাচ্যবিদ এখন আর গোল্ড যিহারের সমালোচনা গ্রহণ করেন না বলে দাবি করছেন। তাদের মতেও গোল্ড যিহার সত্যিকারের ন্যায়-নীতিবান সমালোচক ছিলেন না।
৭২. Muhammedanische Studies Halle Ges Islamic Intreduction to Thecnology and law

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 জার্মানে অধ্যয়নকালে ইসলাম বুঝেছেন

📄 জার্মানে অধ্যয়নকালে ইসলাম বুঝেছেন


১৯৩৯ সালে আমরা যখন কুল্লিয়ায়ে শারইয়্যাহ-এর ফিকহ, মূলনীতি ও আইনের ইতিহাস বিষয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে অনার্স করছিলাম ঘটনাটি তখনকার ছিল। শাইখ আল-মারাগি রহ.৭৩ এর যামানা; তখন ড. আলি হাসান আবদুল কাদেরকে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি আমাদের ইসলামি আইনের ক্লাস নিতেন। তিনি নগদে জার্মান হতে অধ্যয়ন শেষ করেছেন। তার অধ্যাপনার বিভাগটি ইতিহাসের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের মতই। তিনি সেখানে চার বছর ছিলেন এবং দর্শনে ডক্টরেট অর্জন করেছেন।
তিনি আমাদের প্রথম যে ক্লাসটি নিয়েছেন তার সূচনা করেছেন এভাবে—ইসলামি আইনের ইতিহাস বিশ্লেষণে আজ আমি তোমাদের লেকচার দিব, তবে একটু ভিন্ন রকম। এমন গবেষণামূলক ভঙ্গিতে যা আযহারের যুগে কোন দিন হয়নি। আমি তোমাদের কাছে স্বীকার করছি, আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌদ্দ বছর লেখাপড়া করেছি। অথচ ইসলাম বুঝতে সক্ষম হইনি, তবে জার্মানিতে অধ্যয়নকালে আমি ইসলামকে প্রকৃত অর্থে বুঝতে পেরেছি।
তার এ ধরনের বক্তব্যে আমি হতবাক হলাম। আমরা তখন ছাত্র। আমরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলাম তাহলে তো ভালই, যদি বিষয়টি সত্যিই হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই আমরা অধ্যাপকের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবো; হতে পারে তিনি উল্লেখযোগ্য ও মান সম্পন্ন এমন কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যা তিনি আমাদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করবেন, আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে যা অনুপস্থিত।
তার সম্মুখে থাকা বড় একটি গ্রন্থের অনুবাদ করে হাদিসে নববির প্রসঙ্গে ক্লাসের সূচনা করলেন। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি এটি গোল্ড যিহারের রচিত গ্রন্থ। ৭৪ তিনি এই বই এর কথাগুলোই নকল করতেন। আর বলতেন, এটাই প্রকৃত গবেষণাধর্মী জ্ঞান। তার ক্লাস এভাবে চলতে থাকে। আমরা ছাত্ররা কোনো কোনো বিষয় তার সাথে বিতর্কে জড়াতাম যে, এটা সঠিক নয়। আর তিনি স্বভাবতই গোল্ড যিহারের বই-এর বর্ণিত কোনো বিষয়ের বিরোধিতা করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করতেন।

টিকাঃ
৭৩. শায়খ আল-মারাগী রহ. এর পূর্ণাঙ্গ নাম হলো, মুহাম্মাদ মুসতাফা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল মুনয়িম আলা-মারাগী আল-হোমাইনী। জন্ম ১৮৮১ সালে এবং মৃত্যু ১৯৪৫ সালে। তিনি আযহার ইউভার্সিটি থেকে লেখা-পড়া সম্পন্ন করেন এবং মিসরের ইসলামি শরিয়ার কাযি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শায়খুল আযহারের দায়িত্ব প্রথম বার গ্রহণ করেন ১৯২৮ সালে। ১৯৩০ সালে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পুনরায় তিনি ১৯৩৫ সাল থেকে আমৃত্যু ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00