📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 আরবি গ্রন্থের প্রকাশকের বক্তব্য

📄 আরবি গ্রন্থের প্রকাশকের বক্তব্য


الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا وعلى أله وصحبه
সকল প্রশংসা বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর। দুরুদ-সালাত ও বরকত বারি বর্ষিত হোক মহামানব বিশ্বনবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আপনজন, পরিবার ও বিশ্বস্ত সহচর সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর উপর।
অত্যন্ত আফসোসের বিষয়! আজ লজ্জাবনত মস্তকে মুসলিম জাতি তাদের গৌরবময় মতাদর্শের সম্মুখে নির্জীব দাঁড়িয়ে আছে। তারা ভেবে পাচ্ছে না, সাহাবা, তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়িগণের চূড়ান্ত আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত দীন-ইসলামকে অধুনা অন্ধকারচ্ছন্ন ইতিহাসের সম্মুখে সঠিক ও যথাযথ মর্যাদায় তারা কীভাবে সমাসীন করবে!
তারা (মুসলিমগণ) এখন যেই অবস্থানে ঘুরপাক খাচ্ছে তা একজন বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাসের অধিকারী ব্যক্তি সত্তার জন্য কোনো অবস্থাতেই সমীচীন নয়। এটা নেহায়াত পরিতাপ-পরিহাসের চূড়ান্ত বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
কেন এই অবস্থা? যেমনটি অনুমিত হয়, এর কারণ হলো আমাদের সোনালি মতাদর্শ এখন কিছু বিকৃত সাধনকারী দুষ্কর্মাদের খপ্পরে পড়ে কৌতুকে পরিণত হয়েছে। এসব লোক ইতিহাসকে কোনো আমানতাদারীতা ছাড়াই সংকলন করেছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো, মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত ইতিহাসের বিকৃতি সাধন করে কুৎসা রটানো, কার্যকরী ইসলামি মিশন বাস্তবায়নের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করা ও মানবসভ্যতার কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি করা।
আমরা আগে যে ইতিহাস পড়েছি, তা-ই এখন আমাদের সন্তানরা শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং সকল ভার্সিটিতে তা-ই পড়ানো হয়। আমরা স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি, এ হিংস্র প্রচারাভিযানের তৎপরতা ও প্রাচ্যের ইতিহাস নির্ভরতার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া আমাদের মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে কতটুকু ক্রিয়াশীল হচ্ছে। আমাদের সন্তানরা সেই বিকৃত ইতিহাসকে বাস্তবায়ন ও তার সামঞ্জস্য বিধান করার জন্য রাত জেগে নিরলসভাবে কাজ করছে।
তাদের প্রতিপালন করছে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ। শিশু বাচ্চার ন্যায় তাদের দুগ্ধপান করাচ্ছে আর জ্ঞান মস্তিষ্কে (ইসলাম বিরোধী) বিষ ঢেলে দিচ্ছে। তারা আপন নেতৃত্ব ও আনুগত্যের চাবিকাঠি তাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন তাদের (প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের) চাহিদা অনুপাতে তারা কথা বলে। তাদের কাছে যা প্রগতি ও সভ্যতার আজ্ঞাবহ তা-ই সমাজে বাস্তবায়ন করে। এভাবেই তারা প্রকারন্তরে আপন গুপ্ত বিদ্বেষকে ছড়িয়ে দিচ্ছে মুসলিম সমাজে (যার ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত ভয়াবহ। যার কিছুটা আমরা এখন কথিত ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করছি)।
এক্ষেত্রে আরব দেশে উসমানি খিলাফতের কথাই যদি ধরি, তা হলে আমরা অতি আশ্চর্যের সাথে দেখতে পাই, তাদের দৃষ্টিতে তুর্কি মুসলিমগণ ছিলেন আমাদের শোষিত অঞ্চলগুলোর জন্য দখলদার ভোগবাদী উপনিবেশ। তাদের মাঝে ইসলামি ঝান্ডাকে উড্ডীনকারী আকিদা-বিশ্বাসগত এমন কোন সম্পর্ক ছিল না; তবে যা ছিল তা যৎসামান্য। উসমানিরা তাদের লোভনীয় ঔপনিবেশিকতা ও ভোগবাদিতার যথার্থ বাস্তবায়ন করেছে।
ঐ প্রাচ্যীয় পণ্ডিত আমাদের সম্মুখে ইসলামি সভ্যতার এক অলিকচিত্র উপস্থাপন করছে, যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের ঐ প্রয়াস একমাত্র ইসলামি সভ্যতাকে (Islamic Civilization) হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য, মানবসভ্যতাকে অগ্রসর ও সমৃদ্ধকারী ইসলামি সভ্যতাকে খাটো করে উপস্থাপন করার জন্য। এর ফলে একনিষ্ঠ মুসলিমদের অন্তরে হীনতা ও বিদ্বেষ জন্ম নেয় এবং ইসলামকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করে।
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ শুধু ইসলামি ইতিহাস অধ্যয়ন ও তার বিকৃতি সাধন, কুৎসা রটানোর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা ইসলামি শিক্ষার সকল দিক তথা তাফসির, হাদিস ও ফিকহ (ইসলামি আইন) প্রভৃতির উপরও নগ্ন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো তারা মূল (نصوص) আয়াত ও হাদিসের মাঝে পরিবর্তন সাধন করে, কখনো আবার মূল আয়াত বা হাদিসের ভাষ্যের বিকৃতি সাধন করে। এটা তখনই করে যখন তাহরিফ তথা আয়াত-হাদিসকে পরিবর্তন করতে না পারে বা সুযোগ না পায়।
আরো আফসোসের বিষয় হলো, তাদের রচিত ইসলাম ও মুসলিম বিষয়ক কুরআন, হাদিস, ফিক্স, আদব (সাহিত্য), সভ্যতা, সংস্কৃতি, জনগণ প্রভৃতি গ্রন্থগুলোকে এখন বিভিন্ন ইনস্টিটিউট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেবাসভুক্ত করা হয়েছে এবং এগুলো মৌলিক গ্রন্থ হিসাবে পরিগণিত হয়েছে। সকল চিন্তা-ভাবনার উৎস ও সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি মনে করা হয় ঐসব গ্রন্থকেই।
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের ঐসব মনগড়া গবেষণার প্রতিবাদে ধর্মীয় আত্মমর্যাদাবোধ উপলব্ধিকারী, কুরআন-হাদিসের ধারক-বাহক বিদগ্ধ আলেমগণ তাদের অলিক জল্পনা-কল্পনার জবাব দিয়েছেন এবং অনর্থক বিতর্ক সৃষ্টিকারী বিষয়ের সুষ্ঠু সমাধান ও জনগণের সম্মুখে প্রকৃত অনুসন্ধানী তথ্য উদ্ঘাটন করে সেসব মনগড়া গবেষণার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন।
এই পুস্তিকাটি যদিও কলেবরে ছোট, কিন্তু ব্যাপক অর্থবহ। এটি আমার সম্মানিত পিতা শায়খ মুসতফা আস সিবায়ি রহ. এর রচিত ও সংকলিত। এই বিষয়ের প্রকৃত গুরুত্ব, ভয়াবহ প্রভাব উপলব্ধি করে তিনি এতে আরো বিস্তারিত আলোচনা করতে চেয়েছেন।
এ কিতাবের বেশকিছু সূচি বা আলোচনা (حضارة الاسلام) ইসলামি সভ্যতা ও السنة ومكانتها في التشريع (ইসলামি আইন ব্যবস্থায় হাদিসের অবস্থান) প্রকাশিত হয়েছে। শ্রদ্ধেয় পিতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পূর্বেই তাঁর মৃত্যুদূত এসে হঠাৎ কড়াঘাত করল। ফলে ইসলামি দাওয়াতের এ কাজের দায়িত্ব এখন এসে বর্তালো দীন দরদি, কর্মঠ, আত্মমর্যাদার অধিকারী আলেম সমাজের ওপর (তারাই সঠিক জবাব প্রদানে গ্রহণযোগ্য ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা রাখি)।
আল্লাহ তাআলা শ্রদ্ধেয় পিতাকে প্রসারিত অনুগ্রহে ধন্য করুন। আর রহমত ও সন্তুষ্টির মেঘালয়ের বৃষ্টি তার ওপর বর্ষণ করুন। ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ হতে তাকে উত্তম জাযা প্রদান করুন।
وأخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
হাসান ইবনে মুসতফা আস-সিবায়ি
১৪১৮ হিজরি
১৯৯৮ ইসায়ি

টিকাঃ
৬৪. تحریف হলো এক বিষয়ের আয়াত অন্য বিষয়ে প্রয়োগ করা। অথবা অর্থের মৌলিক বিকৃতি সাধন করা। অনুরূপ অর্থ হাদিসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৬৫. হাসান মুসতাফা আস-সিবায়ি বলেন, ১৯৬৮ সালে কুয়েতের 'মাকতাবাতু দারিল বয়ান' 'ইসতিশরাক ওয়াল মুসতাশরিকুন' কিতাবটি আমাদের অবহিত করা ছাড়াই ছেপেছে। হাপানোর বিষয়টি আমাদের জানার অধিকার ছিল এবং আমরা প্রকাশকদের কাছে এ প্রত্যাশা করেছিলাম। কেননা, ভাল মানসিকতার অধিকারী ও সুন্দরের প্রত্যাশী ব্যক্তির এ ধরনের সংবাদে কোন ক্ষতি সাধিত হয় না; বরং তাঁরা এ রকম উদ্যোগে আনন্দিত হয়ে থাকেন।
৬৬. হাসান ইবনে মুসতাফা আস-সিবায়ি, তিনি ড. মুসতফা আস-সিবায়ি রহ.-এর পুত্র।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 গ্রন্থকারের ভূমিকা

📄 গ্রন্থকারের ভূমিকা


بسم الله الرحمن الرحيم
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের প্রতি উদার দৃষ্টি ঠিক নয়
প্রাচ্যীয় পণ্ডিত ও তাদের অধ্যয়ন এমন এক আলোচিত বিষয়, যার ব্যাপারে প্রকৃত ইসলামি গবেষকদের তেমন কেউ ব্যাপকহারে প্রাথমিক ইতিহাস, লক্ষ-উদ্দেশ্য, ভাল-মন্দ, নানা গ্রুপ, ক্রিয়া-কর্ম, (যে সকল গবেষণায় তারা সফলতা অর্জন করেছেন, আর যে সকল গবেষণায় তারা বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন এবং আপন বিষয়, আলোচনা ও সংকলনে ভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন) প্রভৃতি নিয়ে গবেষণা করেননি।
তবে যারা এ বিষয়ে লিখেছেন তাদের আলোচনা প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের অনর্থক উচ্ছ্বসিত প্রশংসা হতে খালি নয়। যেমন: অধ্যাপক নাজিব আকিকির 'আল-মুসতাশরিকুন' বইটি। আর কতিপয় লেখক খুব সংক্ষিপ্তভাবে তাদের মিশনারি ও ঔপনিবেশিক তৎপরতা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেছেন।
তবে প্রাচ্যীয় পণ্ডিত ও তাদের বিকৃত গবেষণার প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানী যথার্থ মূল্যবান আলোচনা করেছেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব, ইসলামি সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিভাগের মহাপরিচালক ড. মুহাম্মাদ আল-বাহি রহ.৬৭। একদা তিনি আযহারের এক সেমিনারকক্ষে উক্ত বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন।

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক সীমালঙ্ঘনের নামান্তর

📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক সীমালঙ্ঘনের নামান্তর


প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের গবেষণার প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক সীমালঙ্ঘনের নামান্তর। এ প্রবণতা তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে বিদ্বেষ পোষণ করতে ও তার প্রচার করতে। আহমাদ ফানরেস শাদইয়াক তার গ্রন্থ যাইলুল ফারিয়া-তে বলেন, এই সকল প্রাচ্যীয় পণ্ডিত কোন শায়খের কাছ থেকে ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা করেন নাই। ধর্মীয় ব্যাপারে তারা অনধিকার চর্চা করছেন। এ ব্যাপারে তারা লাফিয়ে লাফিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।
কেউ যদি ধর্মীয় ব্যাপারে সামান্য কোনো জ্ঞান চর্চা করেনও, তবে তা অবশ্যই মিশনারি পাদ্রীদের কাছ থেকে করেছেন। এসব পাদ্রীগণ মাথায় কল্পিত, ভ্রান্ত চিন্তা অনুপ্রবেশ ঘটান। সেভাবে আমি কিছু জানতে পেরেছি অথচ সে কিছুই জানে না। তাদের কেউ যদি প্রাচ্যের কোন একটি ভাষায় ক্লাস করায় অথবা কিছু অনুবাদ করে, তবে তা অন্ধকারে পথ চলার মত। কোথাও যদি কোনো সন্দেহ দেখা দেয়, তা হলে তাদের নিজেদের ইচ্ছে মতো জোড়াতালি দেয়া শুরু করেন। যেখানে সন্দেহ ও বিশ্বাস উভয়টা নিয়ে দোদুল্যমান থাকেন। শেষ পর্যন্ত তারা একটা অনুমান করেন অথবা ধারণা করেন। পরে প্রত্যাখ্যাত বিষয়কে প্রাধান্য দেয় এবং অনুত্তমকে উত্তম বানায়।
প্রকৃত কথা হলো, প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের ইসলামি বিষয়গুলোর উপর গবেষণা করার ক্ষেত্রে তাদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা অথবা অনর্থক বিদ্বেষ পোষণ করা কোনটাই সত্যের মানদণ্ডে ঠিক নয়। আর আমরা এমন এক মুসলিম জাতি, যাদেরকে ধর্মীয় ব্যাপারে ন্যায়-নীতি অবলম্বন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি পরম শত্রুর সাথেও।
আল্লাহর বাণী- وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَنْ صَلُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَنْ تَعْتَدُوا وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
আর কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন অন্যায় করতে উদ্বুদ্ধ না করে। তোমরা ইনসাফ কর, কেননা এটাই খোদাভীতির অধিক উপযোগী ও নিকটবর্তী।
মুসতাফা আস-সিবায়ি

📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের ইতিহাস

📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের ইতিহাস


সুনির্দিষ্টভাবে কেউ জানে না সর্বপ্রথম প্রাচ্যের কোন লোকটি ইসলামি বিষয়গুলো অধ্যয়ন করেছেন এবং এ-ও জানা নেই তা কখন শুরু হয়েছিল, তবে একথা তো জোর দিয়ে বলা যায়, কতিপয় পশ্চিমা ধর্মযাজক স্পেনের গৌরবময় সোনালি যুগে সেখানে আসেন। তখনকার সে-সব মাদরাসায় তারা সুশিক্ষা, সভ্যতার জ্ঞান লাভ করেন। তারা কুরআনুল কারিম ও আরবিভাষার ধর্মীয় অনেক গ্রন্থ নিজ ভাষায় অনুবাদ করেন। তারা মুসলিম বিদগ্ধ আলেমদের ছাত্রত্ব গ্রহণ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এ শাখার অন্যতম হলো দর্শন, চিকিৎসা ও গণিতশাস্ত্র।
তাদের প্রথম ব্যক্তি হলেন ফ্রান্সের Jerbert, যিনি ৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে রোমে অবস্থান করার জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করেন। তিনি স্পেনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে নিজ দেশে ফিরে যান। Pierrele Aènèrè 1092-1156 এবং Gerard de Grèmone 1114-1187 খ্রিস্টাব্দে আসেন।
তারা নিজ দিশে ফিরে যাবার পর আরবসভ্যতার ও আরব মহাজ্ঞানী আলেমদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের প্রচার-প্রসার করতে থাকেন। তারপর তারা আরবদের মাদরাসার মতো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি প্রস্তর করেন। বিভিন্ন গবেষণাকেন্দ্র আর একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে, তারা আরবদের গ্রন্থগুলো ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করে পাঠদান শুরু করলেন।
তখনকার সময় ল্যাটিন ভাষায়ই ছিল ইউরোপের একমাত্র ভাষা। প্রাচ্যীয় তৎকালীন ভার্সিটিগুলো আরবদের গ্রন্থের ওপর নির্ভর করে স্থায়ীত্ব পেয়ে গেল। ছয় শতাব্দি পর্যন্ত অধ্যয়নের জন্য আরবি গ্রন্থগুলোই উৎসমূল হিসেবে পরিগণিত হত। এ দীর্ঘ সময় এমন কোন মুহূর্ত অতিবাহিত হয়নি যখন মানুষ ইসলাম, আরবিভাষা, কুরআন অনুবাদ, কতিপয় গবেষণালব্ধ আরবিগ্রন্থ ও সাহিত্যের বই পাঠ গ্রহণ করেনি।
এভাবে চলে আসে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ। এ সময় ইসলামি বিশ্বের ওপর ইউরোপ ও পাশ্চাত্যগোষ্ঠী ঔনিবেশিকতা ও সম্পদ-সম্পত্তির ওপর আগ্রাসন সূচনা করে। তখন পাশ্চাত্যের বড় এক জামাত ইসলামি বিষয়গুলো অধ্যয়নে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করে। এ লক্ষ্যে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে নানা পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করতে থাকে। আরবি ও ইসলামি দেশগুলোর আরবি পাণ্ডুলিপিগুলোতে তারা পরিবর্তন সাধন করেন। তারা অজ্ঞ ও মুর্খ আরবদের কাছ থেকে তা সংগ্রহ করে। অথবা গোলযোগপূর্ণ প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে সাধারণ লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি তারা চুরি করতো। এগুলো তারা নিজ দেশের লাইব্রেরিগুলোতে নিয়ে যেতো। যখন তারা আরবি পাণ্ডুলিপির এক বিশাল ও বিরল স্তূপ জমা করলেন তখন তা ইউরোপের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে পাঠাতে থাকেন।
১৯০০ খ্রিস্টাব্দে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল দুইশ পঞ্চাশ হাজার ভলিয়ম। এ সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর ১৯০০ শতাব্দীর একেবারে শেষ ভাগে ১৮৭৩ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের সর্বপ্রথম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। আর এ রকম অসংখ্য অগণিত কনফারেন্স তারা ধর্ম ও সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে আজ অব্দি করছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00