📄 পাঠকের সহায়ক গ্রন্থাবলি
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের বিভ্রান্তি হতে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমরা আরো কিছু বই দেখতে পারি। কিছু বইয়ের তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলো-
১- الإسلام والمستشرقون لأبي علي الندوي.
২- ظاهرة إنتشار الإسلام وموقف بعض المستشرقين منها لمحمد فتح الله الزيادي.
৩- اسلام ওয়াল মুসলিমুন বাইনা আহকাদ আত-তাবশীর ওয়া দ্বিলাল আল-ইস্তেশরাক লিদ-ডাক্তর আব্দুর রহমান উমাইরা।
৪- আর-রদ্দু আলাল মুস্তাশরিক আল-ইয়াহুদি গোল্ড যিহির ফি মাতানাতিহি আলাল কিরাআতি আল-কুরআনিয়া লিদ-ডাক্তর মুহাম্মদ হাসান হাসান জাবাল।
৫- দিফা আন আস-সুন্নাহ- ওয়ার্দু আশ-শুবহাতিল মুস্তাশরিকিন ওয়াল কিতাব আল-মুআসসিরিন ওয়া বায়ান আশ-শুবহাতিল ওয়ারিদাহ আলা আস-সুন্নাহ কাদিমান ওয়া হাদিসান ওয়া রাদ্দান ইলমিয়ান ওয়া সহীহান লিদ-ডাক্তর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আবি শুবাহ।
৬- আল-ইস্তেশরাক ফি আস-সিরাহ আন-নবুওয়িয়াহ লিআব্দিল্লাহ মুহাম্মদ আল-আমিন আন-নুইম।
৭- আল-ইস্তেশরাক ওয়াল খলিফাহ আল-ফিকরিয়াহ লিস-সিরাইল হাযারীয় লিদ-ডাক্তর মাহমুদ হামদি জাকজুক।
৮- ইসলামিয়াত ওর মাগরিবি মুস্তাশরিকিন ওয়া মুসলিমুন মুসান্নিফিন লিশ-শায়খ আল-উস্তাদ আল-কবির আবি আল-হাসান আলা আন-নাদউই।
৯- ইস্তেশরাক ওয়াল মুস্তাশরিকুন লিদ-ডাক্তর মুস্তাফা আস-সিবাঈ।
১০- আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরী আল-ইসলামী লিদ-ডাক্তর আল-মাযকুর।
১১- আনওয়ার আল-কাশীফাহ লিমা ফি কিতাব আদওয়া আলা আস-সুন্নাহ মিন আল-খাতাল ওয়াত-তাদলিল ওয়াল মুজাঝাফাহ লিল আল্লামা আব্দুর রহমান বিন ইয়াহিয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানী।
১২- দিরাসাত ফি আল-হাদিস আন-নবুওয়ী ওয়া তারিখ তাদউইহি লিদ-ডাক্তর আল-আজমি।
১৩- আল-ইস্তেশরাক ওয়া মাকানাতুহু বাইন আল-মাজাহিব আল-ফিকরিয়া আল-মুআসসিরাহ লিদ-ডাক্তর মাজিদ সালাহ মুতাবিকাই।
১৪- আর-রাসুল ফি আদ-দিরাসাত আল-ইস্তেশরাকিয়াত আল-মুনাসসিফাহ লি মুহাম্মদ শরীফ আশ-শায়বানি।
১৫- জুহুদ আল-ইস্তেশরাক আর-রুসি ফি মাজাল আস-সুন্নাহ ওয়াস-সিরাহ লিদ-ডাক্তর সুলাইমান বিন মুহাম্মদ আল-জার আল্লাহ।
١٦- مجموعة بحوث حول القرآن في الدراسات الإستشراقية.
١٧- الإستشراق وموقفه من السنة النبوية للأستاذ الدكتور فالح بن محمد بن فالح الصغير .
١٨ - إستشراق - المصدر مشكاة الإسلامية.
19- أثر المملكة العربية السعودية الدائر في الإهتمام بالدراسات الإستشراقية خلال ربع قرن للدكتور مازن بن صلاح مطبقاني.
٢٠ - دفع شبهات المستشرقين للأستاذ أحمد محمد بوقرين.
٢١ - المستشرقون والتنصير لعلي بن إبراهيم الحمد النملة.
٢٢ - ترجمة معاني القرآن الكريم والمستشرقون للأستاذ للدكتور محمد مهر علية
٢ - مزاعم المستشرقين حول القرآن الكريم للأستاذ الدكتور محمد مهر على
٢٤ - مناهج المسشرقين في ترجمان معاني القرآن الكريم.
٢٥ - الإستشراق المازن مطبقاني.
উল্লিখিত বইগুলোর মধ্যে কিছু বই তো পাঠকের হাতের নাগালে আছে। আবার কিছু বই মাকতাবায়ে শামেলাতে পাওয়া যাবে। আর ওলামায়ে কিরামের সাথে আলোচনা করে সময় উপযোগী বইয়ের খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।
বইটির ভূমিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ইংরেজি রেফারেন্স দেখা ও প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের সংক্ষিপ্ত জীবনী বের করার দায়িত্বটা ছিল আমার সহধর্মিনীর উপর। তার সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। আমার কাছে সে আল-কুরআনে বর্ণিত 'হুন্না লিবাসুল লাকুম' এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আল্লাহ তার খেদমত কবুল করুন এবং দুনিয়া-আখেরাতে উত্তম জাযা দান করুন।
বইটি পাঠকের সামনে উপস্থাপন করতে আরো অনেকে অনেকভাবে সহযোগিতা করেছেন। লেখক, অনুবাদক ও গ্রন্থসম্পাদক সালমান মোহাম্মদ বইটির বানান সংশোধন ও ভাষা সম্পাদনার কঠিন কাজটুকু করে দিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিত্ব, উন্নত প্রকাশনা ও জ্ঞান-গবেষণার বিশ্বস্ত বাহক মাকতাবাতুল আফনানের স্বত্বাধিকারী আবদুল হালিম নোমানি আল-আযহারিকে একটু আলাদা করে স্মরণ না করলেই নয়; তার রুচিশীল উচ্চ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বইটি আজ প্রকাশের মুখ দেখতে পেয়েছে। তার উন্নত চিন্তা আর নিরলস প্রচেষ্টায় যেন 'মাকতাবাতুল আফনান' সমকালীন প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আরো অসংখ্য প্রামাণ্যগ্রন্থে সমৃদ্ধ হয়— এই কামনা রইল।
আমার প্রতিটি বই প্রকাশের মুহূর্তে আমার জীবনের হাতেখড়ি যারা দিয়েছেন— আমার উসতায ও মুরুব্বিদের প্রতি মন থেকে কৃতজ্ঞতার দোয়া বেরিয়ে আসে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিশেষ সহযোগিতার ফলেই আমার এ লেখালেখির ধারা অব্যাহত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদের দুনিয়া-আখেরাতে সর্বপ্রকার কল্যাণ দান করুন। সকল ধরনের অকল্যাণ থেকে হিফাজত করুন।
আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের শ্রম-কষ্ট কবুল করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তার জাযা দান করুন। আমাদের সবাইকে ওরিয়েন্টালিস্টদের ব্যাপারে করণীয় ও বর্জনীয় বুঝার এবং ইসলামের সঠিক আকিদা-বিশ্বাস অনুধাবন করার ক্ষেত্রে বইটি আল্লাহ কবুল করুন, আমিন।
দোয়াপ্রার্থী
শামসুদ্দিন ইয়াসিন
shamsuddineasin@gmail.com
১৪ শাওয়াল ১৪৩৫
১১ আগস্ট ২০১৪
টিকাঃ
৬৩. ২০১৪ সালে বইটির অনুবাদের কাজ শেষ করা হয়। বিভিন্ন কারণে ছাপানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এই সুবাদে দ্বিতীয়বার বইটি সম্পাদনা করা হলো। ০৭ জুলাই ২০১৭, ১৩ যি-কাদাহ ১৪৩৮ হিজরি।
📄 আরবি গ্রন্থের প্রকাশকের বক্তব্য
الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا وعلى أله وصحبه
সকল প্রশংসা বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর। দুরুদ-সালাত ও বরকত বারি বর্ষিত হোক মহামানব বিশ্বনবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আপনজন, পরিবার ও বিশ্বস্ত সহচর সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর উপর।
অত্যন্ত আফসোসের বিষয়! আজ লজ্জাবনত মস্তকে মুসলিম জাতি তাদের গৌরবময় মতাদর্শের সম্মুখে নির্জীব দাঁড়িয়ে আছে। তারা ভেবে পাচ্ছে না, সাহাবা, তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়িগণের চূড়ান্ত আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত দীন-ইসলামকে অধুনা অন্ধকারচ্ছন্ন ইতিহাসের সম্মুখে সঠিক ও যথাযথ মর্যাদায় তারা কীভাবে সমাসীন করবে!
তারা (মুসলিমগণ) এখন যেই অবস্থানে ঘুরপাক খাচ্ছে তা একজন বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাসের অধিকারী ব্যক্তি সত্তার জন্য কোনো অবস্থাতেই সমীচীন নয়। এটা নেহায়াত পরিতাপ-পরিহাসের চূড়ান্ত বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
কেন এই অবস্থা? যেমনটি অনুমিত হয়, এর কারণ হলো আমাদের সোনালি মতাদর্শ এখন কিছু বিকৃত সাধনকারী দুষ্কর্মাদের খপ্পরে পড়ে কৌতুকে পরিণত হয়েছে। এসব লোক ইতিহাসকে কোনো আমানতাদারীতা ছাড়াই সংকলন করেছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো, মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত ইতিহাসের বিকৃতি সাধন করে কুৎসা রটানো, কার্যকরী ইসলামি মিশন বাস্তবায়নের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করা ও মানবসভ্যতার কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি করা।
আমরা আগে যে ইতিহাস পড়েছি, তা-ই এখন আমাদের সন্তানরা শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং সকল ভার্সিটিতে তা-ই পড়ানো হয়। আমরা স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি, এ হিংস্র প্রচারাভিযানের তৎপরতা ও প্রাচ্যের ইতিহাস নির্ভরতার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া আমাদের মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে কতটুকু ক্রিয়াশীল হচ্ছে। আমাদের সন্তানরা সেই বিকৃত ইতিহাসকে বাস্তবায়ন ও তার সামঞ্জস্য বিধান করার জন্য রাত জেগে নিরলসভাবে কাজ করছে।
তাদের প্রতিপালন করছে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ। শিশু বাচ্চার ন্যায় তাদের দুগ্ধপান করাচ্ছে আর জ্ঞান মস্তিষ্কে (ইসলাম বিরোধী) বিষ ঢেলে দিচ্ছে। তারা আপন নেতৃত্ব ও আনুগত্যের চাবিকাঠি তাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন তাদের (প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের) চাহিদা অনুপাতে তারা কথা বলে। তাদের কাছে যা প্রগতি ও সভ্যতার আজ্ঞাবহ তা-ই সমাজে বাস্তবায়ন করে। এভাবেই তারা প্রকারন্তরে আপন গুপ্ত বিদ্বেষকে ছড়িয়ে দিচ্ছে মুসলিম সমাজে (যার ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত ভয়াবহ। যার কিছুটা আমরা এখন কথিত ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করছি)।
এক্ষেত্রে আরব দেশে উসমানি খিলাফতের কথাই যদি ধরি, তা হলে আমরা অতি আশ্চর্যের সাথে দেখতে পাই, তাদের দৃষ্টিতে তুর্কি মুসলিমগণ ছিলেন আমাদের শোষিত অঞ্চলগুলোর জন্য দখলদার ভোগবাদী উপনিবেশ। তাদের মাঝে ইসলামি ঝান্ডাকে উড্ডীনকারী আকিদা-বিশ্বাসগত এমন কোন সম্পর্ক ছিল না; তবে যা ছিল তা যৎসামান্য। উসমানিরা তাদের লোভনীয় ঔপনিবেশিকতা ও ভোগবাদিতার যথার্থ বাস্তবায়ন করেছে।
ঐ প্রাচ্যীয় পণ্ডিত আমাদের সম্মুখে ইসলামি সভ্যতার এক অলিকচিত্র উপস্থাপন করছে, যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের ঐ প্রয়াস একমাত্র ইসলামি সভ্যতাকে (Islamic Civilization) হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য, মানবসভ্যতাকে অগ্রসর ও সমৃদ্ধকারী ইসলামি সভ্যতাকে খাটো করে উপস্থাপন করার জন্য। এর ফলে একনিষ্ঠ মুসলিমদের অন্তরে হীনতা ও বিদ্বেষ জন্ম নেয় এবং ইসলামকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করে।
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ শুধু ইসলামি ইতিহাস অধ্যয়ন ও তার বিকৃতি সাধন, কুৎসা রটানোর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা ইসলামি শিক্ষার সকল দিক তথা তাফসির, হাদিস ও ফিকহ (ইসলামি আইন) প্রভৃতির উপরও নগ্ন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো তারা মূল (نصوص) আয়াত ও হাদিসের মাঝে পরিবর্তন সাধন করে, কখনো আবার মূল আয়াত বা হাদিসের ভাষ্যের বিকৃতি সাধন করে। এটা তখনই করে যখন তাহরিফ তথা আয়াত-হাদিসকে পরিবর্তন করতে না পারে বা সুযোগ না পায়।
আরো আফসোসের বিষয় হলো, তাদের রচিত ইসলাম ও মুসলিম বিষয়ক কুরআন, হাদিস, ফিক্স, আদব (সাহিত্য), সভ্যতা, সংস্কৃতি, জনগণ প্রভৃতি গ্রন্থগুলোকে এখন বিভিন্ন ইনস্টিটিউট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেবাসভুক্ত করা হয়েছে এবং এগুলো মৌলিক গ্রন্থ হিসাবে পরিগণিত হয়েছে। সকল চিন্তা-ভাবনার উৎস ও সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি মনে করা হয় ঐসব গ্রন্থকেই।
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের ঐসব মনগড়া গবেষণার প্রতিবাদে ধর্মীয় আত্মমর্যাদাবোধ উপলব্ধিকারী, কুরআন-হাদিসের ধারক-বাহক বিদগ্ধ আলেমগণ তাদের অলিক জল্পনা-কল্পনার জবাব দিয়েছেন এবং অনর্থক বিতর্ক সৃষ্টিকারী বিষয়ের সুষ্ঠু সমাধান ও জনগণের সম্মুখে প্রকৃত অনুসন্ধানী তথ্য উদ্ঘাটন করে সেসব মনগড়া গবেষণার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন।
এই পুস্তিকাটি যদিও কলেবরে ছোট, কিন্তু ব্যাপক অর্থবহ। এটি আমার সম্মানিত পিতা শায়খ মুসতফা আস সিবায়ি রহ. এর রচিত ও সংকলিত। এই বিষয়ের প্রকৃত গুরুত্ব, ভয়াবহ প্রভাব উপলব্ধি করে তিনি এতে আরো বিস্তারিত আলোচনা করতে চেয়েছেন।
এ কিতাবের বেশকিছু সূচি বা আলোচনা (حضارة الاسلام) ইসলামি সভ্যতা ও السنة ومكانتها في التشريع (ইসলামি আইন ব্যবস্থায় হাদিসের অবস্থান) প্রকাশিত হয়েছে। শ্রদ্ধেয় পিতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পূর্বেই তাঁর মৃত্যুদূত এসে হঠাৎ কড়াঘাত করল। ফলে ইসলামি দাওয়াতের এ কাজের দায়িত্ব এখন এসে বর্তালো দীন দরদি, কর্মঠ, আত্মমর্যাদার অধিকারী আলেম সমাজের ওপর (তারাই সঠিক জবাব প্রদানে গ্রহণযোগ্য ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা রাখি)।
আল্লাহ তাআলা শ্রদ্ধেয় পিতাকে প্রসারিত অনুগ্রহে ধন্য করুন। আর রহমত ও সন্তুষ্টির মেঘালয়ের বৃষ্টি তার ওপর বর্ষণ করুন। ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ হতে তাকে উত্তম জাযা প্রদান করুন।
وأخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
হাসান ইবনে মুসতফা আস-সিবায়ি
১৪১৮ হিজরি
১৯৯৮ ইসায়ি
টিকাঃ
৬৪. تحریف হলো এক বিষয়ের আয়াত অন্য বিষয়ে প্রয়োগ করা। অথবা অর্থের মৌলিক বিকৃতি সাধন করা। অনুরূপ অর্থ হাদিসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৬৫. হাসান মুসতাফা আস-সিবায়ি বলেন, ১৯৬৮ সালে কুয়েতের 'মাকতাবাতু দারিল বয়ান' 'ইসতিশরাক ওয়াল মুসতাশরিকুন' কিতাবটি আমাদের অবহিত করা ছাড়াই ছেপেছে। হাপানোর বিষয়টি আমাদের জানার অধিকার ছিল এবং আমরা প্রকাশকদের কাছে এ প্রত্যাশা করেছিলাম। কেননা, ভাল মানসিকতার অধিকারী ও সুন্দরের প্রত্যাশী ব্যক্তির এ ধরনের সংবাদে কোন ক্ষতি সাধিত হয় না; বরং তাঁরা এ রকম উদ্যোগে আনন্দিত হয়ে থাকেন।
৬৬. হাসান ইবনে মুসতাফা আস-সিবায়ি, তিনি ড. মুসতফা আস-সিবায়ি রহ.-এর পুত্র।
📄 গ্রন্থকারের ভূমিকা
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের প্রতি উদার দৃষ্টি ঠিক নয়
প্রাচ্যীয় পণ্ডিত ও তাদের অধ্যয়ন এমন এক আলোচিত বিষয়, যার ব্যাপারে প্রকৃত ইসলামি গবেষকদের তেমন কেউ ব্যাপকহারে প্রাথমিক ইতিহাস, লক্ষ-উদ্দেশ্য, ভাল-মন্দ, নানা গ্রুপ, ক্রিয়া-কর্ম, (যে সকল গবেষণায় তারা সফলতা অর্জন করেছেন, আর যে সকল গবেষণায় তারা বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন এবং আপন বিষয়, আলোচনা ও সংকলনে ভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন) প্রভৃতি নিয়ে গবেষণা করেননি।
তবে যারা এ বিষয়ে লিখেছেন তাদের আলোচনা প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের অনর্থক উচ্ছ্বসিত প্রশংসা হতে খালি নয়। যেমন: অধ্যাপক নাজিব আকিকির 'আল-মুসতাশরিকুন' বইটি। আর কতিপয় লেখক খুব সংক্ষিপ্তভাবে তাদের মিশনারি ও ঔপনিবেশিক তৎপরতা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেছেন।
তবে প্রাচ্যীয় পণ্ডিত ও তাদের বিকৃত গবেষণার প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানী যথার্থ মূল্যবান আলোচনা করেছেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব, ইসলামি সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিভাগের মহাপরিচালক ড. মুহাম্মাদ আল-বাহি রহ.৬৭। একদা তিনি আযহারের এক সেমিনারকক্ষে উক্ত বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন।
📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক সীমালঙ্ঘনের নামান্তর
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের গবেষণার প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক সীমালঙ্ঘনের নামান্তর। এ প্রবণতা তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে বিদ্বেষ পোষণ করতে ও তার প্রচার করতে। আহমাদ ফানরেস শাদইয়াক তার গ্রন্থ যাইলুল ফারিয়া-তে বলেন, এই সকল প্রাচ্যীয় পণ্ডিত কোন শায়খের কাছ থেকে ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা করেন নাই। ধর্মীয় ব্যাপারে তারা অনধিকার চর্চা করছেন। এ ব্যাপারে তারা লাফিয়ে লাফিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।
কেউ যদি ধর্মীয় ব্যাপারে সামান্য কোনো জ্ঞান চর্চা করেনও, তবে তা অবশ্যই মিশনারি পাদ্রীদের কাছ থেকে করেছেন। এসব পাদ্রীগণ মাথায় কল্পিত, ভ্রান্ত চিন্তা অনুপ্রবেশ ঘটান। সেভাবে আমি কিছু জানতে পেরেছি অথচ সে কিছুই জানে না। তাদের কেউ যদি প্রাচ্যের কোন একটি ভাষায় ক্লাস করায় অথবা কিছু অনুবাদ করে, তবে তা অন্ধকারে পথ চলার মত। কোথাও যদি কোনো সন্দেহ দেখা দেয়, তা হলে তাদের নিজেদের ইচ্ছে মতো জোড়াতালি দেয়া শুরু করেন। যেখানে সন্দেহ ও বিশ্বাস উভয়টা নিয়ে দোদুল্যমান থাকেন। শেষ পর্যন্ত তারা একটা অনুমান করেন অথবা ধারণা করেন। পরে প্রত্যাখ্যাত বিষয়কে প্রাধান্য দেয় এবং অনুত্তমকে উত্তম বানায়।
প্রকৃত কথা হলো, প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের ইসলামি বিষয়গুলোর উপর গবেষণা করার ক্ষেত্রে তাদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা অথবা অনর্থক বিদ্বেষ পোষণ করা কোনটাই সত্যের মানদণ্ডে ঠিক নয়। আর আমরা এমন এক মুসলিম জাতি, যাদেরকে ধর্মীয় ব্যাপারে ন্যায়-নীতি অবলম্বন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি পরম শত্রুর সাথেও।
আল্লাহর বাণী- وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَنْ صَلُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَنْ تَعْتَدُوا وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
আর কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন অন্যায় করতে উদ্বুদ্ধ না করে। তোমরা ইনসাফ কর, কেননা এটাই খোদাভীতির অধিক উপযোগী ও নিকটবর্তী।
মুসতাফা আস-সিবায়ি