📘 ইসলামের উপর প্রাচ্যীয় পন্ডিতদের নগ্ন হামলা > 📄 দ্বিতীয় শ্রেণির গবেষণা ও গবেষক

📄 দ্বিতীয় শ্রেণির গবেষণা ও গবেষক


ওরিয়েন্টালিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণি তথা সত্যানুসন্ধানী গবেষণা ও গবেষকদের আলোচনা এখানে করবো। এ শ্রেণির ওরিয়েন্টালিস্টগণ বিশেষ কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে ইসলাম নিয়ে গবেষণা করেন না। তারা মূলত নিজ আগ্রহে ইসলাম নিয়ে গবেষণা করেন। লোক মুখে ইসলাম, নবি, কুরআন, হাদিস, ইসলামি ইতিহাস, ইসলামি সভ্যতা ও আরব প্রভৃতি নিয়ে নানা কথা, সমালোচনা শোনেন; কিন্তু বাস্তববাদী ও সত্যানুসন্ধানী হওয়ার দরুন তারা কান কথায় বিশ্বাস না করে মূল উৎস থেকে ইসলামকে বুঝার চেষ্টা করেন। কুরআন-হাদিস, ফিক্‌হ ও ইতিহাস নিয়ে স্টাডি করেন।
এ ধরনের ওরিয়েন্টালিস্টদের সংখ্যা যদিও এক সময় তুলনামূলক কম ছিল, কিন্তু এ সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইউরোপের সাধারণ মানুষ এখন ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রহী। তাই ইসলাম, কুরআন-হাদিস ও ইসলামের নবি নিয়ে ভাবনা নতুন করে শুরু হয়েছে; তবে এক্ষেত্রে তারা সঠিক গবেষণা ও পর্যালোচনা করতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে তারা সত্যানুসন্ধানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। অসত্য তথ্যের ভিক্তিতে সত্যানুসন্ধান করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কেন তারা সত্যের অনুসন্ধান করতে পারছেন না তা আমরা বিশ্লেষণ করবো।
আমাদের পর্যালোচনা হিসাবে যেসব কারণে উপরিউক্ত ওরিয়েন্টালিস্টগণ বিভ্রান্তির শিকার হন তা হলো-
১. সঠিক উপাত্ত-উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ না করা। ওরিয়েন্টালিস্টদের একটি বিশাল অংশ ইসলামের সঠিক উৎস কি তাই জানে না। ইসলাম ধর্ম কোন্ নীতি-আদর্শের মাধ্যমে পরিচালিত তা তাদের অজানা। এজন্য তারা প্রায়ই সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির শিকার হন।
২. বিদ্বেষী ওরিয়েন্টালিস্টদের গবেষণাপত্র নির্ভর স্টাডি বিভ্রান্ত হওয়ার অন্যতম উপকরণ। সত্যানুসন্ধানী ওরিয়েন্টালিস্টদের বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, তারা ইসলাম বিরোধী ওরিয়েন্টালিস্টদের ভ্রান্ত ও বিকৃত ইসলামি গ্রন্থগুলো আপন স্টাডির মূল উপজীব্য বিষয় হিসাবে গ্রহণ করেন। ফলে সত্য তথ্যগুলো তাদের দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা ইসলামের মৌলবাণী থেকে দূরে অবস্থান করেন।
৩. কুরআন-হাদিসের মৌলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা বিভ্রান্তির অন্যতম কারণ। ইসলাম একটি শাশ্বত ধর্ম। এটি মানবতার ধর্ম। প্রলয় দিবস পর্যন্ত এ ধর্ম মানব জীবনব্যবস্থা হিসাবে অবধারিত থাকবে। প্রয়োজন বোধে নানা প্রকার আইন প্রণয়ন ও সংস্করণ দরকার হবে। আর এগুলো করা হবে কুরআন-হাদিসের মৌলিক নীতির আলোকে, যাকে ইসলামি শরিয়ার ভাষায় বলা হয় উসুলে ফিক্‌হ্ন।
৪. ভাষার অন্তরায় সৃষ্টি হওয়া। ওরিয়েন্টালিস্টদের শতকরা নিরানব্বই ভাগই আরবিভাষা সম্পর্কে জ্ঞাত নন। অন্য দিকে কুরআন-হাদিসের মর্মবাণী বুঝার জন্য আরবিভাষার বিষয়টি প্রথমে চলে আসে। আরবিভাষার জ্ঞানের মাধ্যমে কুরআন-হাদিস ও ফিক্হ থেকে সঠিক আকিদা-বিশ্বাস, জীবন-চলাচল ও রীতি-নীতি জানা সম্ভব হবে; কিন্তু যখন ভাষাজ্ঞানে অজ্ঞতা বা দুর্বলতা থাকবে, তখন প্রকৃত আলোচনা ও সঠিক বিশ্লেষণ অজানা থেকে যাবে। ফলে যে উদ্দেশ্যে গবেষণা করা হচ্ছে তা ফলপ্রসূ হবে না। বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে যাবে। পথের দিশা নয়, বরং পথহারা হবে।
৫. ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা সামগ্রিকভাবে ওরিয়েন্টালিস্টদের ভ্রষ্টতার অন্যতম কারণ হলো, তারা তাদের সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে ভুল ইনফরমেশন ও অপপ্রচারের শিকার হন। তাদের কাছে ইসলামের ভিন্ন ইমেজ তৈরি করা হয়। প্রকৃত ইসলাম তাদের থেকে আড়ালে থেকে যায়। ফলে ইসলাম হয়ে যায় তাদের কল্পিত একটি রূপ। যার মাঝে ভাল কিছু তারা দেখতে পায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00