📄 ১. ইসলামি স্টাডি ও বিষোদ্গার
পরবর্তীতে গোপনীয়তা ও মারমুখী পথ পরিহার করে ষড়যন্ত্রকারীরা প্রকাশ্যে আসার পথ খুঁজতে থাকেন। আবিস্কার করা হলো নতুন পদ্ধতি। নিজেদের আধুনিক নাম দিলেন ওরিয়েন্টালিস্ট বা প্রাচ্যবিদ। নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রাখলেন। আরব দেশগুলোতে এসে তারা ইসলামি বিষয়গুলো নিয়ে পড়ালেখা বা স্টাডি শুরু করলেন।
📄 ২. ইসলামি পাণ্ডুলিপি পাচার
ওরিয়ান্টালিস্টার আরবি ও ইসলামি পাণ্ডুলিপির উপর শকুনী দৃষ্টি বসালেন, আর আস্তে আস্তে নিজ নিজ দেশে পাচার করতে থাকেন মুল্যবান সব পাণ্ডুলিপি। কোন কোন সময় মূল পাণ্ডুলিপি অন্যায়ভাবে পাচার করেছেন। আবার কখনো বৈধ পন্থায় কপি করে নিয়েছেন। এভাবে পশ্চিমাদের দেশে ইসলামি পুরাতন পাণ্ডুলিপির সংগ্রহশালা তৈরী হলো। কিছু পাণ্ডুলিপি তারা নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা ও ভূমিকাসহ প্রকাশ করতে লাগলো। অনেক ইসলামি গবেষণাপত্র তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি ও প্রকাশ করতে সক্ষম হন।
📄 ৩. ইসলামি স্টাডির নামে ফ্যাকালাটি খোলা
ওরিয়েন্টালিস্টদের গবেষণা আরো ত্বরান্বিত হয়। পুরাতন ভার্সিটিগুলোতে ইসলামি স্টাডির নামে আলাদা ডিপার্টমেন্ট খোলে। ইউরোপ ও পশ্চিমাদের কোন কোন ভার্সিটিতে আরো অগ্রসর হয়ে কুরআন, হাদিস, ফিকহ, ইতিহাস ও আরবিভাষা প্রভৃতি দিয়ে আলাদা আলাদা ডিপার্টেমেন্ট খোলা হয়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে ইসলামের প্রতি তাদের উদার মনোভাব ও গবেষণা করে ইসলামকে বুঝার একটি বাস্তব নমুনা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্যপূর্ণ গবেষণা আরো শানিত হয়। তারা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছালো যে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহসটুকু আমাদের অনেকে হারিয়ে ফেললো। কারণ, মুসলিমদের অনেকেই ঐসব ওরিয়েন্টালিস্টদের অন্ধভক্ত ও অনুসারী বনে গিয়েছিল। তাদের বিপরীতে কোন প্রকার সমালোচনা শুনতে তারা নারাজ। প্রাচ্যবিদগণ এতে প্রশংসনীয় মর্যাদায় সমাসীন হয়। মুসলিমদের মাঝে ওরিয়েন্টালিস্টদের একটি অবস্থান তৈরি করতে তারা সক্ষম হয়। তাদের ইসলামি স্টাডি চলতে থাকে।
তাদের তৈরী ইসলামি ফ্যাকাল্টি ও ভার্সিটি থেকে নানা গবেষণাপত্র ও বিশ্বকোষ প্রকাশ পেতে থাকে। এসব গবেষণাপত্র ইসলামি এনসাইক্লোপিডিয়া, ইসলামি হিস্টোরি, ইসলামি লিটারেচার, অ্যারাবিক ল্যাংগুয়েজ ও ইসলামি সুফিজম প্রভৃতি নামে মুসলিমদের হাতে আসতে থাকে। এগুলো মুসলিমদের ভার্সিটির সিলেবাস হিসাবে জায়গা করে নিল। আবার কোনটা সামনে রেখে মুসলিম দেশের ইসলামি স্টাডির বই লেখা হলো। নতুন নামে ইসলামি স্টাডির বই ছাপানো হলেও তা ছিল ওরিয়েন্টালিস্টদের মন্তব্য ও মতবাদ প্রচারের নতুন লেবেল। কারণ, ইসলামি স্টাডি বইগুলোর রেফারেন্সবুক ছিল তথাকথিত এনসাইক্লোপিডিয়া ও অন্যান্য ওরিয়েন্টালিস্টদের গ্রন্থাবলি।
ওরিয়েন্টালিস্টদের গোপন অভিসন্ধি আরো কয়েক ধাপ সফল হলো, যখন মুসলিম ছাত্রগণ ইসলামিক ল, ইসলামিক হিস্টোরি ও ইসলামি স্টাডির উপর ডিগ্রি নেওয়ার জন্য তাদের নির্মিত ভার্সিটিগুলোতে ভর্তি হন এবং ডিগ্রি লাভ করেন। নিজেকে প্রকৃত শিক্ষিত মনে করেন। দেশে এসে গর্বের সঙ্গে আপন ডিগ্রির কথা প্রচার করেন। আর প্রাচ্যবিদদের লেখা বিভ্রান্তিকর বিশ্লেষণ দিয়ে ইসলামি ভাব-ধারার তুলনা করেন। নিজেদের অজান্তে তারাও এক প্রকার ওরিয়েন্টালিস্ট হয়ে যান।
📄 ৪. ইসলামি দেশে প্রফেসর ও গবেষক হিসাবে নিয়োগ লাভ
ওরিয়েন্টালিস্টদের অন্য আরেকটি টার্গেট হলো, ইসলামি স্টাডি করে তারা মুসলিম দেশগুলোর ইসলামি স্টাডি বিভাগের অধ্যাপনার দায়িত্ব নেওয়া। এক্ষেত্রে তারা অনেকটা সফল। মুসলিম দেশে সরকারি ও বেসরকারি অনেক ইউনিভার্সিটিতে অমুসলিম ওরিয়েন্টালিস্টেদের অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। ফলে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতগণ সুযোগ বুঝে আপন চিন্তা-ধারা অনুযায়ী বিষ মাখানো ইসলামি জ্ঞান পাঠ দান করতে থাকেন। ইসলাম ও ইসলামি আদর্শকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। আবার কখনো নিজেদের মত করে ইসলামি বিধি-বিধান ও আদর্শ ব্যক্ত করেন। ওরিয়েন্টালিস্টদের প্রথম শ্রেণির আলোচনা এখানে শেষ করছি।