📄 রাসুল ও হাদিস সম্পর্কে মিথ্যাচার
১. ফ্রান্সের প্রাচ্যীয় পণ্ডিত বারিহ বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মি ছিলেন না। তিনি সুরা আলে ইমরানের ৭৫ নং আয়াতের তাফসিরে এ কথা উল্লেখ করেছেন। ১৬
২. কারল ব্রোকলামান (১৮৬৮-১৯৫৬) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবদ্দশায় কতিপয় ইহুদি-নাসারাদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন, অর্থাৎ ইসলামের বাণীগুলো ইহুদি-নাসারাদের ধর্মগ্রন্থ হতে সংকলিত। ১৭
৩. কারল ব্রোকলামান (১৮৬৮-১৯৫৬) বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্প্রদায় এতটা শিরক-ভ্রষ্টতায় মত্ত ছিল যে, ফলে তার মাথায় নতুন ধর্মের ধারণা ভর করেছে।১৮
৪. প্রাচ্যীয় বুডলি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধর্মযাজক বুহাইরার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতেন।১৯
৫. প্রাচ্যীয় অধ্যাপক রির্ভোস বলাশির (১৯০০-১৯৭৩ খ্রি.) বলেন, রাসুল মদিনাতে আসার পর অহির সংরক্ষণ ও লেখালেখির সূচনা হয়েছে।২০
৬. স্যার হ্যামিলটন আর এ গিব (১৮৯৫ খ্রি.) বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার তৎকালীন সমাজের প্রয়োজনে সৃষ্ট। তিনি স্বীয় গ্রন্থ 'মাযহাব আল-মহাম্মাদীতে বলেন, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।
৭. গোল্ড যিহার (১৮৫০-১৯২১ খ্রি.) বলেন, ভ্রমণকালে রাসুল ইহুদি-নাসারাদের সাক্ষাত লাভ করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে মক্কার চারিত্রিক জীব ও ধর্মীয় অন্ধকার নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন। এভাবে চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে উক্ত বিষয়ের গভীরতায় পৌঁছান। এক পর্যায়ে তিনি মক্কার স্বাভাবিক জীবনের বিপরীতে দাঁড়ান। ব্যক্তিগত ব্যবসার কাজে গিয়ে ইহুদি-খ্রিস্টানদের থেকে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন, যার মাধ্যমে তিনি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ধাবিত হন।২১
গোল্ড যিহার-ই প্রথম প্রাচ্যীয় পণ্ডিত, যিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহের বীজ বপন করার চেষ্টা করেন। তার মতে হাদিস দুশত বছর অলিখিত ও অরক্ষিত ছিল এবং তৃতীয় শতাব্দীতে গিয়ে হাদিস সংকলন করা হয়। আর এগুলো রাসুলের বাণী নয়, বরং অন্যদের কথার সংকলন।
তার ধারণা-
ক. অসংখ্য হাদিস এমন রয়েছে, যার সম্পর্কে আমাদের জানা নেই যে, তা রাসুল বলেছেন কিনা?
খ. রাসুলের কোন হাদিস-ই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে, এটি একবারে সহিহ-বিশুদ্ধ!
গ. হাদিসের বিশাল একটি অংশ প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর ধর্মীয় রাজনৈতিক ও সমাজিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি হয়েছে।
৮. তিনি হাদিসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আবু হোরায়রা ও ইমাম যুহরি রহ.-সহ আরো অন্যান্যদের সমালোচনা করেছেন।২২
৯. জে স্কট (১৯০২ খ্রি.) বলেন, আইন সংক্রান্ত হাদিসগুলো যে রাসুল থেকে বিদ্দদ্ধভাবে বর্ণিত তা নির্ণয় করা অত্যন্ত দুরূহ।২৩
১০. বার্ন কারা ডি (১৮৬৮-১৯৩০ খ্রি.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ধর্মের কতিপয় দার্শনিক গবেষক অথবা তৎকালীন একত্মবাদে বিশ্বাসী লোকদের থেকে শ্রবণ ও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।২৪
১১. ভাষাবিদ বি কাজিমিরস্কি (১৭৮০-১৮৬৫ খ্রি.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধর্মীয় পাগলামীর কারণে মৃগীরোগ ও হিংস্রতায় আক্রান্ত ছিলেন।২৫
১২. ডি. বি. ম্যাকডোনাল্ড (১৮৬৩-১৯৪৩ খ্রি.) বলেন, হাদিসের ঐতিহাসিক কোন ভিত্তি নেই। এটি একটি মনগড়া সংকলন।
টিকাঃ
১৬. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৪।
১৭. প্রাগুক্ত, পৃ. ৩১।
১৮. প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৬।
১৯. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪০।
২০. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৪।
২১. প্রাগুক্ত, পৃ. ৬১।
২২. প্রাগুক্ত, পৃ. ৬২-৭০।
২৩. প্রাগুক্ত, পৃ. ৯১।
২৪. প্রাগুক্ত, পৃ. ১১৫।
২৫. প্রাগুক্ত, পৃ. ১২১।
📄 ইসলামি যুদ্ধ, বিজয় ও শাসন
১. স্যার টমাস ওয়াকার আরনোল্ড (১৮৬৪-১৯৩০ খ্রি.) বলেন, ইসলামি বিজয়গুলোর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও প্রাচুর্য অর্জন।২৬
২. প্রাচ্যীয় পণ্ডিত ইয়াডোর বাজি বলেন, মুসা বিন নুসাইর তরবারির সাহায্যে সারকাসতা (ইউরোপের একটি এলাকার নাম) বিজয় করেছেন।২৭
৩. ইডারস্ট লিভি প্রভেনসাল (১৮৯৩-১৯৫৫ খ্রি.) বলেন, মুসলিমগণ সন্ধির মাধ্যমে এবং স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণকারীদের মাঝে বৈষম্যমূলক আচরণ করে।২৮
৪. তিনি আরো বলেন, আরবরা স্পেন বিজয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ শাসন ব্যবস্থা (জুলুম, নির্যাতন ও হানাহানি) অবলম্বন করেছিল।২৯
৫. কারল ব্রোকলামান (১৮৬৮-১৯৫৬) বলেন, বিজয়ী আরবরা অনারবদের উপর ক্ষমতা বিস্তার করে এবং অনারবদের তাদের অবস্থান থেকে হটিয়ে দিয়েছে।৩০
৬. কে এইচ হেনরিশ (১৮৬৭-১৯৩৩ খ্রি.) বলেন, ইসলাম মধ্যযুগে প্রসারতা লাভ করেছে এবং খ্রিস্টবাদ প্রচারে কঠোর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।৩১
৭. ষষ্ঠদশ বাবা ভ্যাটিক্যান বলেন, ইসলাম একমাত্র তরবারির মাধ্যমে প্রচার-প্রসার লাভ করেছে।৩২
৮. ষষ্ঠদশ বাবা আরো বলেন, ইসলাম মানব বিবেকের উপযোগী নয়।
টিকাঃ
২৬. প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮।
২৭. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৩।
২৮. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮।
২৯. প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০।
৩০. প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৫।
৩১. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৮।
৩২. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৯-৫৩।
৩৩. প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৪।
📄 ইসলামি খিলাফতব্যবস্থা
আরনোল্ড এর মতে, ইসলামি খিলাফত যে-কোন প্রকার সমালোচনা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী ছিল।
📄 রাসুলের সাহাবিদের প্রতি বিষোদ্গার
আরনোল্ডের মতে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াফাতের পর তিনজন সাহাবি ক্ষমতা-সম্পদ ভাগাভাগি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ৩৪
টিকাঃ
৩৪. প্রাগুক্ত, পৃ. ২২১।