📄 প্রাচ্যবিদগণের উক্তি
কেন আমাদের পূর্বসূরি ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক প্রকৃত আলেম-ওলামাগণ ওরিয়েন্টালিস্টদের নিয়ে লেখা-গবেষণা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন? কেনই-বা সমালোচনা করেছেন? অযথা কেন তাদের বইগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে বিশ্লেষণ ও সত্য উদঘাটন করার চেষ্টা করেছেন? যদি আমরা এসব প্রশ্নের অতি সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর দেই, তা হলে বলবো-ইসলামের শিকড় উপড়ে ফেলার ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যেই আমাদের সত্যানুসন্ধানী আলেমগণ এ পথ অবলম্বন করেছেন। এছাড়া প্রকৃত সত্যানুসন্ধানের কোন বিকল্প ছিল না।
আরেকটু বিস্তারিত বললে অধৈর্য হবেন না- ওরিয়েন্টালিস্টরা গবেষণা ও অধ্যয়নের সত্যকে গোপন করেছে এমন নয়; বরং তারা ইসলাম ও মুসলিম জাতিকে পরাভূত ও চিরতরে মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। এবং করে যাচ্ছে। আমরা যদি এক নজরে ইসলাম, মুসলিম, নবি, সাহাবা, কুরআন, হাদিস, ইসলামি ইতিহাস ও মুসলিম শাসন সম্পর্কে তাদের মন্তব্য ও বিষোদ্গার দেখে নেই তা হলে নিশ্চতভাবে বলবো, এদের চক্রান্ত রুখে দাঁড়ানো আমাদের ইমানি দায়িত্ব। তাদের প্রতিহত করা একান্ত কর্তব্য। আর সেই দায়িত্ব-কর্তব্যকে আড়াল করতে না পারায় আলেম-ওলামাগণ ওরিয়েন্টালিস্টদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য তাদের গবেষণাপত্রগুলো ঘেঁটে দেখেছেন। আর সাধারণ মুসলিমদের কাছে প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছেন।
এ আলোচনায় আমরা প্রাচ্যীয় পণ্ডিত বা ওরিয়েন্টালিস্টদের মিথ্যার বেশাতি ভরা বিষোদ্গারপূর্ণ মন্তব্যগুলো সংকলন করেছি তাদেরই রচিত বিভিন্ন বই থেকে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মুসলিমদের সর্তক করা। তারা যেন এসব প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের অসম্পূর্ণ মিথ্যাশ্রয়ী গবেষণাপত্র পাঠ করে বিভ্রান্তির শিকার না হন। ষড়যন্ত্র যেন তারা বুঝতে পারে। তাদের অসত্য ও কল্পনাপ্রসূত বক্তব্যগুলোতে যেন দিশেহারা না হয়।
সাধারণ ভাইদের বলবো, আপনারা ইসলাম, ইসলামের ইতিহাস, কুরআন-তাফসির, হাদিস-সিরাত প্রভৃতি নিয়ে পড়তে ও গবেষণা করতে চান, তা হলে কেন একজন অমুসলিমের (ইহুদি-খ্রিস্টান, হিন্দু-মুশরিক প্রভৃত শ্রেণির মানুষ) থেকে জানতে চান? তারা আপনাকে কীভাবে সঠিক তথ্য দিবে? তারা নিজেরাই এ ব্যাপারে অজ্ঞতার শিকার। তারা নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এমন গবেষণায় লিপ্ত হয়েছে। আপনি যদি জানতে চান বা গবেষণা করতে আগ্রহী থাকেন তা হলে-
১. ইসলামের মৌলিক উৎস আল-কুরআনুল কারিম ও মুসলিম মনীষীদের রচিত তাফসির গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করুন। পড়ুন, তাফসিরে কাবির, তাফসিরে রুহুল মাআনি, তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসিরে কুরতুবি ও তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন প্রভৃতি।
২. ইসলামের দ্বিতীয় মৌলিক উৎস মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস পাঠ করুন। পড়ুন, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সহিহ ইবনে হিব্বান, সহিহ মুসতাদরাকে হাকিম, সুনানে তিরমিযি, সুনানে নাসায়ি, সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে দারেমি, মুআত্তা মালেক, মুআত্তা মুহাম্মাদ, মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে আবু ইয়ালা, মুসনাদে ইসহাক রাহওয়াই, মুসনাদে আবু হানিফা, মুসনাদে শাফি, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, কিতাবুল আসার মুহাম্মাদ, কিতাবুল হুজ্জাহ মুহাম্মাদ ও মুয়জাম কাবির, সাগির ও আওসাত তবারানি প্রভৃতি।
৩. ইসলামের ইতিহাস জানতে চান- তা হলে ইসলামের পুরাতন ইতিহাসের গ্রন্থ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, তারিখে বাগদাদ, তারিখে কামিল, তারিখে দামিশক, সিয়ারু আলিমিন নুবালা ও রাসুলের সিরাত সংক্রান্ত ইতিহাস, বর্ণনাসূত্র ও তথ্য নির্ভর বইগুলো পাঠ করুন।
৪. ইসলামি আইন পাঠ করার জন্য ফিকহের গ্রন্থগুলো দেখুন। পড়ুন, আল-হিদায়া, ফাতওয়ায়ে আলমগিরিয়া, মাবসুত সারাখসি, রদ্দুল মুহতার, বাহরুর রায়েক, আল-ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবাআ, ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু ও মউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ।
৫. এছাড়া কুরআন-হাদিস ও ফিকহ বুঝার জন্য রয়েছে মৌলিক নীতি বা উসুল। আর কুরআন-হাদিস ও ফিক্হ-এর প্রত্যেকটি বিষয়ে আলাদা মান নির্ণয়ক, স্থায়ী ও গতিশীল উসুল বা মূলনীতি সংকলিত রয়েছে। এসব উসুলের মাধ্যমে আপনি প্রকৃত গবেষণার পথ খুঁজে পাবেন। কুরআন- হাদিস ও ফিকহের ব্যাখ্যা করার পদ্ধতি ও নতুন বিষয়গুলোর সমাধানের পথ দেখাবে।
৬. এছাড়া আরো কিছু সহায়ক বিষয়, যা একজন গবেষককে প্রকৃত গবেষণা ও সত্য তথ্য পেতে সহায়তা করে। তা হলো ভাষাজ্ঞান। ইসলামি জীবনব্যবস্থাকে গবেষণা করতে গেলে কুরআন-হাদিসের কথা চলে আসে। আর করআন-হাদিসের ভাষা আরবি। তা ছাড়া কুরআন- হাদিস নির্ভর যত জ্ঞান চর্চা করা হয়, তার সব মৌলিক গ্রন্থগুলো আরবি ভাষায় লেখা। তাই ইসলামি গবেষণা মানেই হলো আরবিভাষার চর্চা। এ কারণে ইসলামি গবেষণা ও সত্য বুঝার জন্য আরবিভাষা অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।
অন্যের করা অনুবাদ থেকে বুঝা আর নিজে সরাসরি আরবিভাষা থেকে বুঝা ও তথ্য সংগ্রহ করা এক নয়। সঠিক মর্ম উদঘাটনে মূল ভাষার প্রয়োজনীয়তার বিকল্প নেই। প্রাচীন-বর্তমান পৃথিবীর ওরিয়েন্টালিস্টদের ভুল বুঝা বা অপ-প্রচারে লিপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণও এটা। কারণ তারা নিজের থেকে বুঝে না। বরং কারো মনগড়া অনুবাদ ও ব্যাখ্যা পাঠ বা শ্রবণ করে ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের পথে পা বাড়ায় ও অন্যদের বিভ্রান্ত করেন। তাই অনুবাদ পরিহার করে সঠিকভাবে আরবিভাষার চর্চা করে ইসলাম, কুরআন-হাদিস, ইতিহাস ও আইন প্রভৃতি নিয়ে মন্তব্য করার অনুরোধ থাকল। মৌলিক গ্রন্থের বিকল্প নেই। মৌলিক গ্রন্থের মাধ্যমে প্রকৃত গবেষণা করা সম্ভব।