📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের অধ্যপনার সূচনা
অধ্যাপক সালিম মুবারক এই ইসতিশরাকী অধ্যাপনার সূচনা সম্পর্কে বলেন,
وقد نشأت منذ أكثر من ألف سنة في العالم الغربي، ومازالت موجودة حتى يومنا هذا
পাশ্চাত্য বিশ্বের এক হাজার বছরেরও অনেক আগে থেকেই এই প্রাচ্যীয় অধ্যয়নের সূচনা হয়েছে। আর আমাদের পর্যন্ত এ ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আল্লামা মুস্তফা মুরাদ-এর অভিমত
এই বইয়ে আল্লামা মুস্তফা আস-সিবায়ি রহ. বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কেউ জানে না সর্বপ্রথম প্রাচ্যের কোন্ লোকটি ইসলামি বিষয়গুলো নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন এবং এ-ও জানা নেই, তা কোন্ সময়ে শুরু হয়েছিল। তবে এ কথা তো জোর দিয়ে বলা যায়- কতিপয় পশ্চিমা ধর্মযাজক স্পেনের গৌরবময় সোনালি যুগে সেখানে আসেন। তখনকার সে-সব মাদরাসায় তারা সু-শিক্ষা, সভ্যতার জ্ঞান লাভ করেন। তারা কুরআনুল নগ্ন হামলা-২
📄 প্রাচ্যবিদদের ইসলামি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ
এভাবে চলে আসে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ। এসময় ইসলামি বিশ্বের উপর ইউরোপ ও পাশ্চাত্য গোষ্ঠী ঔপনিবেশিকতার ও সম্পদ-সম্পত্তির উপর আগ্রাসন সূচনা করে। তখন পাশ্চাত্যের বড় এক জামাত ইসলামি বিষয়গুলো অধ্যয়নে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করে। এ লক্ষ্যে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে নানা পত্র-পত্রিকা প্রকাশ হতে থাকে। আরবি ও ইসলামি দেশগুলোর আরবি পাণ্ডুলিপিগুলোতে (مخطوطات) তারা পরিবর্তন সাধন করেন। অজ্ঞ ও মূর্খ আরবদের হতে তারা তা সংগ্রহ করে। অথবা গোলযোগপূর্ণ প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে সাধারণ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি তারা চুরি করত। এগুলো তারা নিজ দেশের লাইব্রেরিগুলোতে নিয়ে যেত। যখন তারা আরবি পাণ্ডুলিপির এক বিশাল ও বিরল স্তূপ জমা করলেন; তখন তা ইউরোপের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে পাঠাতে থাকেন।
১৯০০ খ্রিস্টাব্দে এর পরিমাণ দাঁড়িয়ে ছিল- দুইশ পঞ্চাশ হাজার ভলিয়ম। এ সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর ১৯০০ শতাব্দির একেবারে শেষ ভাগে ১৮৭৩ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের সর্বপ্রথম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। আর এ রকম অসংখ্য অগণিত কনফারেন্স তারা ধর্ম, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে করছেন। 8
টিকাঃ
৪. প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের নগ্ন হামলা।
📄 শাইখ আবদুল মালিক দামাত বারাকাতুহুম-এর প্রদেয় সংজ্ঞা
শায়খ আবদুল মালিক দামাত বারাকাতুহুম মুসতাশরিক ও ইসতিশরাকের পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে বলেন, পাশ্চাত্যের যে লোকেরা প্রাচ্যের অর্থাৎ মাশরিকের (প্রাচ্যের) ইসলামি মিরাস ও তাহযিবকে তাদের অধ্যয়ন ও চিন্তা-ভাবনার বিষয়বস্তু হিসাবে গ্রহণ করেছে, তাদেরকে মুসতাশরিক বলে। আর তাদের পেশার পারিভাষিক নাম হলো ইসতিশরাক।
তিনি বলেন, এদের গবেষণা কখনো শুধু গবেষণার জন্যেই হয়ে থাকে। তবে তাদের অধিকাংশ লোকেরই উদ্দেশ্য থাকে খিস্ট্রধর্ম; বরং বলুন, সেন্টপলের ধর্মীয় মতবাদের সমর্থন দেওয়া এবং ইসলামের ক্ষতি সাধন করা।
📄 পাঠকের সহায়ক গ্রন্থাবলি
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের বিভ্রান্তি হতে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমরা আরো কিছু বই দেখতে পারি। কিছু বইয়ের তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলো-
১- الإسلام والمستشرقون لأبي علي الندوي.
২- ظاهرة إنتشار الإسلام وموقف بعض المستشرقين منها لمحمد فتح الله الزيادي.
৩- اسلام ওয়াল মুসলিমুন বাইনা আহকাদ আত-তাবশীর ওয়া দ্বিলাল আল-ইস্তেশরাক লিদ-ডাক্তর আব্দুর রহমান উমাইরা।
৪- আর-রদ্দু আলাল মুস্তাশরিক আল-ইয়াহুদি গোল্ড যিহির ফি মাতানাতিহি আলাল কিরাআতি আল-কুরআনিয়া লিদ-ডাক্তর মুহাম্মদ হাসান হাসান জাবাল।
৫- দিফা আন আস-সুন্নাহ- ওয়ার্দু আশ-শুবহাতিল মুস্তাশরিকিন ওয়াল কিতাব আল-মুআসসিরিন ওয়া বায়ান আশ-শুবহাতিল ওয়ারিদাহ আলা আস-সুন্নাহ কাদিমান ওয়া হাদিসান ওয়া রাদ্দান ইলমিয়ান ওয়া সহীহান লিদ-ডাক্তর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আবি শুবাহ।
৬- আল-ইস্তেশরাক ফি আস-সিরাহ আন-নবুওয়িয়াহ লিআব্দিল্লাহ মুহাম্মদ আল-আমিন আন-নুইম।
৭- আল-ইস্তেশরাক ওয়াল খলিফাহ আল-ফিকরিয়াহ লিস-সিরাইল হাযারীয় লিদ-ডাক্তর মাহমুদ হামদি জাকজুক।
৮- ইসলামিয়াত ওর মাগরিবি মুস্তাশরিকিন ওয়া মুসলিমুন মুসান্নিফিন লিশ-শায়খ আল-উস্তাদ আল-কবির আবি আল-হাসান আলা আন-নাদউই।
৯- ইস্তেশরাক ওয়াল মুস্তাশরিকুন লিদ-ডাক্তর মুস্তাফা আস-সিবাঈ।
১০- আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরী আল-ইসলামী লিদ-ডাক্তর আল-মাযকুর।
১১- আনওয়ার আল-কাশীফাহ লিমা ফি কিতাব আদওয়া আলা আস-সুন্নাহ মিন আল-খাতাল ওয়াত-তাদলিল ওয়াল মুজাঝাফাহ লিল আল্লামা আব্দুর রহমান বিন ইয়াহিয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানী।
১২- দিরাসাত ফি আল-হাদিস আন-নবুওয়ী ওয়া তারিখ তাদউইহি লিদ-ডাক্তর আল-আজমি।
১৩- আল-ইস্তেশরাক ওয়া মাকানাতুহু বাইন আল-মাজাহিব আল-ফিকরিয়া আল-মুআসসিরাহ লিদ-ডাক্তর মাজিদ সালাহ মুতাবিকাই।
১৪- আর-রাসুল ফি আদ-দিরাসাত আল-ইস্তেশরাকিয়াত আল-মুনাসসিফাহ লি মুহাম্মদ শরীফ আশ-শায়বানি।
১৫- জুহুদ আল-ইস্তেশরাক আর-রুসি ফি মাজাল আস-সুন্নাহ ওয়াস-সিরাহ লিদ-ডাক্তর সুলাইমান বিন মুহাম্মদ আল-জার আল্লাহ।
١٦- مجموعة بحوث حول القرآن في الدراسات الإستشراقية.
١٧- الإستشراق وموقفه من السنة النبوية للأستاذ الدكتور فالح بن محمد بن فالح الصغير .
١٨ - إستشراق - المصدر مشكاة الإسلامية.
19- أثر المملكة العربية السعودية الدائر في الإهتمام بالدراسات الإستشراقية خلال ربع قرن للدكتور مازن بن صلاح مطبقاني.
٢٠ - دفع شبهات المستشرقين للأستاذ أحمد محمد بوقرين.
٢١ - المستشرقون والتنصير لعلي بن إبراهيم الحمد النملة.
٢٢ - ترجمة معاني القرآن الكريم والمستشرقون للأستاذ للدكتور محمد مهر علية
٢ - مزاعم المستشرقين حول القرآن الكريم للأستاذ الدكتور محمد مهر على
٢٤ - مناهج المسشرقين في ترجمان معاني القرآن الكريم.
٢٥ - الإستشراق المازن مطبقاني.
উল্লিখিত বইগুলোর মধ্যে কিছু বই তো পাঠকের হাতের নাগালে আছে। আবার কিছু বই মাকতাবায়ে শামেলাতে পাওয়া যাবে। আর ওলামায়ে কিরামের সাথে আলোচনা করে সময় উপযোগী বইয়ের খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।
বইটির ভূমিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ইংরেজি রেফারেন্স দেখা ও প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের সংক্ষিপ্ত জীবনী বের করার দায়িত্বটা ছিল আমার সহধর্মিনীর উপর। তার সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। আমার কাছে সে আল-কুরআনে বর্ণিত 'হুন্না লিবাসুল লাকুম' এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আল্লাহ তার খেদমত কবুল করুন এবং দুনিয়া-আখেরাতে উত্তম জাযা দান করুন।
বইটি পাঠকের সামনে উপস্থাপন করতে আরো অনেকে অনেকভাবে সহযোগিতা করেছেন। লেখক, অনুবাদক ও গ্রন্থসম্পাদক সালমান মোহাম্মদ বইটির বানান সংশোধন ও ভাষা সম্পাদনার কঠিন কাজটুকু করে দিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিত্ব, উন্নত প্রকাশনা ও জ্ঞান-গবেষণার বিশ্বস্ত বাহক মাকতাবাতুল আফনানের স্বত্বাধিকারী আবদুল হালিম নোমানি আল-আযহারিকে একটু আলাদা করে স্মরণ না করলেই নয়; তার রুচিশীল উচ্চ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বইটি আজ প্রকাশের মুখ দেখতে পেয়েছে। তার উন্নত চিন্তা আর নিরলস প্রচেষ্টায় যেন 'মাকতাবাতুল আফনান' সমকালীন প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আরো অসংখ্য প্রামাণ্যগ্রন্থে সমৃদ্ধ হয়— এই কামনা রইল।
আমার প্রতিটি বই প্রকাশের মুহূর্তে আমার জীবনের হাতেখড়ি যারা দিয়েছেন— আমার উসতায ও মুরুব্বিদের প্রতি মন থেকে কৃতজ্ঞতার দোয়া বেরিয়ে আসে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিশেষ সহযোগিতার ফলেই আমার এ লেখালেখির ধারা অব্যাহত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদের দুনিয়া-আখেরাতে সর্বপ্রকার কল্যাণ দান করুন। সকল ধরনের অকল্যাণ থেকে হিফাজত করুন।
আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের শ্রম-কষ্ট কবুল করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তার জাযা দান করুন। আমাদের সবাইকে ওরিয়েন্টালিস্টদের ব্যাপারে করণীয় ও বর্জনীয় বুঝার এবং ইসলামের সঠিক আকিদা-বিশ্বাস অনুধাবন করার ক্ষেত্রে বইটি আল্লাহ কবুল করুন, আমিন।
দোয়াপ্রার্থী
শামসুদ্দিন ইয়াসিন
shamsuddineasin@gmail.com
১৪ শাওয়াল ১৪৩৫
১১ আগস্ট ২০১৪
টিকাঃ
৬৩. ২০১৪ সালে বইটির অনুবাদের কাজ শেষ করা হয়। বিভিন্ন কারণে ছাপানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এই সুবাদে দ্বিতীয়বার বইটি সম্পাদনা করা হলো। ০৭ জুলাই ২০১৭, ১৩ যি-কাদাহ ১৪৩৮ হিজরি।