📄 অনুবাদকের বিশ্লেষণমূলক ভূমিকা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের পরিচয়
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করি, ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমাদের সকল প্রকার খারাপ ও পাপ কাজ হতে তাঁর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথহারা করতে পারবে না এবং তিনি যাকে পথহারা করবেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারবে না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। আর সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও সর্বশেষ রাসুল।
مستشرق و إستشراق
আরবি ভাষায় প্রাচ্যীয় পণ্ডিত নামকরণ করা হয়েছে مستشرق করে। এর বহুবচন مستشرقون | এ শব্দটির উৎপত্তি إستشراق শব্দ থেকে, যার মূল হলো شرق । আর شرق শব্দের সাধারণ অর্থ পূর্ব, পুব, প্রাচ্য, প্রাচ্যদেশ, প্রাচ্যজগৎ, সূর্য উদিত হওয়ার স্থান, পূর্বাঞ্চল প্রভৃতি।' আর সেখান থেকে এসেছে
টিকাঃ
১. মুহিত ফিল লুগাহ- ১/১৬২, আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান-৪৯৩, রিয়াদ প্রকাশনী।
📄 প্রাচ্য পণ্ডিতদের অধ্যপনার সূচনা
অধ্যাপক সালিম মুবারক এই ইসতিশরাকী অধ্যাপনার সূচনা সম্পর্কে বলেন,
وقد نشأت منذ أكثر من ألف سنة في العالم الغربي، ومازالت موجودة حتى يومنا هذا
পাশ্চাত্য বিশ্বের এক হাজার বছরেরও অনেক আগে থেকেই এই প্রাচ্যীয় অধ্যয়নের সূচনা হয়েছে। আর আমাদের পর্যন্ত এ ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আল্লামা মুস্তফা মুরাদ-এর অভিমত
এই বইয়ে আল্লামা মুস্তফা আস-সিবায়ি রহ. বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কেউ জানে না সর্বপ্রথম প্রাচ্যের কোন্ লোকটি ইসলামি বিষয়গুলো নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন এবং এ-ও জানা নেই, তা কোন্ সময়ে শুরু হয়েছিল। তবে এ কথা তো জোর দিয়ে বলা যায়- কতিপয় পশ্চিমা ধর্মযাজক স্পেনের গৌরবময় সোনালি যুগে সেখানে আসেন। তখনকার সে-সব মাদরাসায় তারা সু-শিক্ষা, সভ্যতার জ্ঞান লাভ করেন। তারা কুরআনুল নগ্ন হামলা-২
📄 প্রাচ্যবিদদের ইসলামি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ
এভাবে চলে আসে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ। এসময় ইসলামি বিশ্বের উপর ইউরোপ ও পাশ্চাত্য গোষ্ঠী ঔপনিবেশিকতার ও সম্পদ-সম্পত্তির উপর আগ্রাসন সূচনা করে। তখন পাশ্চাত্যের বড় এক জামাত ইসলামি বিষয়গুলো অধ্যয়নে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করে। এ লক্ষ্যে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে নানা পত্র-পত্রিকা প্রকাশ হতে থাকে। আরবি ও ইসলামি দেশগুলোর আরবি পাণ্ডুলিপিগুলোতে (مخطوطات) তারা পরিবর্তন সাধন করেন। অজ্ঞ ও মূর্খ আরবদের হতে তারা তা সংগ্রহ করে। অথবা গোলযোগপূর্ণ প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে সাধারণ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি তারা চুরি করত। এগুলো তারা নিজ দেশের লাইব্রেরিগুলোতে নিয়ে যেত। যখন তারা আরবি পাণ্ডুলিপির এক বিশাল ও বিরল স্তূপ জমা করলেন; তখন তা ইউরোপের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে পাঠাতে থাকেন।
১৯০০ খ্রিস্টাব্দে এর পরিমাণ দাঁড়িয়ে ছিল- দুইশ পঞ্চাশ হাজার ভলিয়ম। এ সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর ১৯০০ শতাব্দির একেবারে শেষ ভাগে ১৮৭৩ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের সর্বপ্রথম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। আর এ রকম অসংখ্য অগণিত কনফারেন্স তারা ধর্ম, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে করছেন। 8
টিকাঃ
৪. প্রাচ্যীয় পণ্ডিতদের নগ্ন হামলা।
📄 শাইখ আবদুল মালিক দামাত বারাকাতুহুম-এর প্রদেয় সংজ্ঞা
শায়খ আবদুল মালিক দামাত বারাকাতুহুম মুসতাশরিক ও ইসতিশরাকের পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে বলেন, পাশ্চাত্যের যে লোকেরা প্রাচ্যের অর্থাৎ মাশরিকের (প্রাচ্যের) ইসলামি মিরাস ও তাহযিবকে তাদের অধ্যয়ন ও চিন্তা-ভাবনার বিষয়বস্তু হিসাবে গ্রহণ করেছে, তাদেরকে মুসতাশরিক বলে। আর তাদের পেশার পারিভাষিক নাম হলো ইসতিশরাক।
তিনি বলেন, এদের গবেষণা কখনো শুধু গবেষণার জন্যেই হয়ে থাকে। তবে তাদের অধিকাংশ লোকেরই উদ্দেশ্য থাকে খিস্ট্রধর্ম; বরং বলুন, সেন্টপলের ধর্মীয় মতবাদের সমর্থন দেওয়া এবং ইসলামের ক্ষতি সাধন করা।