📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইরিত্রিয়া

📄 ইরিত্রিয়া


ইথিওপিয়ান খ্রিষ্টান নেতাদের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পর ইথিওপিয়া থেকে ইরিত্রিয়ার স্বাধীনতা অর্জনের কারণে অনেক মুসলিম দেশ আনন্দিত হয়। কিন্তু ইরিত্রিয়ার স্বাধীনতা অর্জনকে ইসরাইল ও আমেরিকা কীভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, তা তখন অনেক মুসলিম দেশের কাছেই অস্পষ্ট থাকে। অবশ্য সময় তাদের এসব অস্পষ্টতার উত্তর প্রদান করে। (২৬)

ইরিত্রিয়া হঠাৎ করেই তার উপকূলীয় এলাকা ইয়ামেনের হানিশ দ্বীপপুঞ্জে আক্রমণ করে বসে। এতে আমেরিকা ও ইহুদিদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইরিত্রিয়াকে তারা মুসলিম ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ সৃষ্টির জন্যই নির্বাচন করেছে। ইরিত্রিয়াকে ব্যবহার করে তাদের এ ছক মূলত ইথিওপিয়ার খ্রিষ্ট-মুসলিম দ্বন্দ্বে সহযোগিতার চেয়েও মারাত্মক ছিল।

কারণ, সেখানে ছিল মুসলিম-অমুসলিমের স্বাভাবিক সংঘাত, অথচ এখানে হচ্ছে মুসলিম-মুসলিম ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ। স্বভাবতই এই প্রকারের সংঘর্ষ প্রথম প্রকার থেকে বহুগুণ অনিষ্টকর। তদুপরি আমেরিকা ও ইসরাইলের তৎপরতাও এ অঞ্চলে বৃদ্ধি পায়। ইসরাইলের অনেক সৈনিক হানিশ দ্বীপপুঞ্জের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ইয়ামেনের সাথে যুদ্ধের জন্য ইরিত্রিয়াকে তারা ভারী অস্ত্র সরবরাহ করে। অথচ এ সীমালঙ্ঘন দেখে আমেরিকা বা জাতিসংঘ কেউই কোনোরূপ সমালোচনা করেনি। বরং এ দ্বীপপুঞ্জের ক্ষেত্রে প্রদত্ত আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার জন্য ইয়ামেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। ইরিত্রিয়ার মাধ্যমে ইসরাইল-আমেরিকার নীলনকশা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি আরও জোরালো প্রমাণ যে, সুদানের বিদ্রোহীদের প্রতি ইরিত্রিয়া সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং সুদানকে যুদ্ধ-সংঘাতের নাট্যশালায় পরিণত করে।

উল্লেখ্য, উল্লিখিত পরিস্থিতিতে আফওয়ারকির শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলে হরকতুল জিহাদ ও স্বাধীনতাফ্রন্ট নামের সংগঠনদ্বয়。

টিকাঃ
২৬. ইহুদি ও খ্রিষ্টানবিশ্ব ইরিত্রিয়ার ওপর অমুসলিম শাসক চাপিয়ে দেয়। এটাকে কেমন যেন স্বাধীনতার শর্তস্বরূপ রাখা হয়। ইসিয়াস আফওয়ারকি শাসনক্ষমতায় বসেই দেশে আন্তর্জাতিক ক্রুসেডীয় মিশন বাস্তবায়ন করতে শুরু করেন। অথচ এখানকার মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৭০%। ইসিয়াস অনেক মুসলিম অঞ্চলকে খ্রিষ্টান প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত করেন। তার নবগঠিত সরকারের বারোজন মন্ত্রীর মধ্যে নয়জনকেই নির্বাচন করা হয় খ্রিষ্টান, আর তিনজন মাত্র মুসলমান। ইরিত্রিয়ায় আরবীয় ইসলামি চেতনা নিষ্ক্রিয় করতে কাজ শুরু করেন। আরব লীগের সাথে ইরিত্রিয়ার সংযুক্তি বর্জন করেন। তিগ্রিনিয়া ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়। আরবি ভাষাকে কোণঠাসা করা হয়, অথচ দেশে সেই ভাষার প্রচলন ছিল খুব বেশি। সে সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইসলামি ব্যক্তিকে গুপ্তহত্যা করা হয়, অনেককে গ্রেফতার করা হয়। আফওয়ারকি ইসরাইলের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ার প্রতি মনোযোগ দেন। তিনি অনেক ইসলামি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। অনেক ইসলামি সংগঠনের কার্যক্রমে বাধ সাধেন। অথচ খ্রিষ্টান মিশনারি কার্যবিস্তারের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় দেশের মুসলমানদের ওপর লিবারেশন ফ্রন্টের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়। অনেক গ্রামগঞ্জে গিয়ে তারা সীমালঙ্ঘন করতে থাকে। পাঁচশতেরও বেশি মুসলিম যুবতীকে বন্দি করে নিয়ে যায়। বাচ্চাদের অপহরণ করে। এ ছাড়াও আরও জঘন্য সব কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে, যা কেবল ইসলাম ও মুসলমানের শত্রুদের দ্বারাই সম্ভব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00