📄 গিনি বিসাউ
এ দেশটির কাঁধে নেমে আসে পর্তুগিজ দখলদারির জোয়াল। পর্তুগালের ঔপনিবেশিকরা স্বাভাবিকই নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল মুসলমানরা। মুসলিমদের ওপর হরেক রকমের নিপীড়ন ও নির্যাচন চালানোর ক্ষেত্রে পর্তুগাল ও স্প্যানিশরা সর্বদাই ছিল অগ্রগামী। ইসলামের শত্রুদের নিকট মুসলিম নিধনের ক্ষেত্রে এ দুই দেশের অবস্থান ছিল আদর্শস্বরূপ।
বহু চড়াই-উতরাইয়ের পর গিনি বিসাউ ১৩৯৪ হিজরিতে (১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে) পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দেশের ৬০% লোক মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও পর্তুগিজরা খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে যায়।
📄 বেনিন
ইতিপূর্বে এই দেশের নাম ছিল দাহুমি। একসময় তা ফরাসি উপনিবেশের শিকার হয়। ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) ফ্রান্স থেকে স্বাধীন হয়। ১৩৯৫ হিজরিতে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) তার নতুন নাম হয় বেনিন। দেশের মুসলিম জনসংখ্যা ৬০%, আর খ্রিষ্টানদের জনসংখ্যা ১০%। তবুও এর শাসনক্ষমতা হস্তগত হয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের।
📄 টোগো
দেশটির কর্তৃত্বে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড উভয়ে শরিক ছিল। ১৩৭৯ হিজরিতে (১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) স্বাধীনতা অর্জন করে। মুসলিম জনসংখ্যা ৫৫%। কিন্তু অন্যান্য দেশের মতো ঔপনিবেশিকরা দেশ ছাড়ার সময় এর নেতৃত্ব ছেড়ে যায় খ্রিষ্টানদের হাতে, যাদের সংখ্যা সর্বসাকুল্যে ১৫% হবে। অবশিষ্টরা পৌত্তলিক।
📄 বুর্কিনা ফাসো
দেশটি ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) ফ্রান্স থেকে স্বাধীন হয়। প্রথমে এটাকে আপার ভোল্টা বলা হতো। এরপর ১৪০৪ হিজরিতে (১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে) তার নাম হয় বুর্কিনা ফাসো। এর মুসলিম জনসংখ্যা ৬৫% হওয়া সত্ত্বেও ঔপনিবেশিকরা তার নেতৃত্ব অর্পণ করে যায় খ্রিষ্টানদের হাতে, যা আজ পর্যন্ত বলবৎ। এই অঞ্চলে বেশ কয়েকবার সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। কিন্তু সবগুলোর ফলাফল ছিল একইরকম, শাসনক্ষমতা যথারীতি খ্রিষ্টানদের হাতেই রয়ে যায়, যাদের সংখ্যা হবে মাত্র ১০%-এর মতো।