📄 ক্যামেরুন
প্রথমদিকে ফ্রান্সের দখলে ছিল। তারপর ফ্রান্স একে জার্মানির কর্তৃত্বে ছেড়ে দেয়। বিনিময়ে তারা জার্মানির থেকে মরক্কোর কর্তৃত্ব লাভ করে। ১৩৩৭ হিজরির সময় (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে সেখানে মিত্রবাহিনীর সৈনিকেরা প্রবেশ করে এবং ক্যামেরুনকে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড পরস্পরে ভাগাভাগি করে নেয়। এর সিংহভাগ ছিল ফ্রান্সের অধীনে। আর তার পশ্চিমদিকের ছোট একটি অংশ ছিল ইংল্যান্ডের দখলে, যার উত্তরদিকে ছিল নাইজেরিয়া সীমান্ত। তারপর ১৩৭৯ হিজরিতে (১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) ক্যামেরুন স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৩৮১ হিজরিতে (১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে) ইংরেজ অধিকৃত দক্ষিণ ক্যামেরুনও মুক্ত হয় এবং ক্যামেরুনে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন আহমাদ আহিদজু। কিন্তু ১৪০৩ হিজরিতে (১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে) খ্রিষ্টান প্রধানমন্ত্রী পলবিয়াকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ বুঝিয়ে দিয়ে সন্তোষজনক কোনো কারণ ছাড়াই তিনি পদত্যাগ করেন। নতুন রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষমতায় এসে মুসলিম রাজনীতিবিদদের বরখাস্ত করা শুরু করেন। মুসলিম প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তারা নতুন রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করেছে। এমনকি সাবেক রাষ্ট্রপতি আহমাদ আহিদজুকে বিদ্রোহের ছক আঁকার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। তার ব্যাপার গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অবশ্য এই সিদ্ধান্ত আমৃত্যু কারাদণ্ডের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়। এ পরিস্থিতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এ বিষয়টি আহমাদ আহিদজুর নিষ্কলুষতা এবং পলবিয়ারের দুরাচারী মনোভাবের সুস্পষ্ট পরিচয় প্রদান করে।
১৪০৪ হিজরিতে (১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে) কর্নেল সালেহ ইবরাহিম দেশে নতুন শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। কিন্তু পলবিয়ার অনুগত সৈনিকরা এ বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হয়। এরপর পলবিয়া অনেক মুসলিম রাজনীতিবিদকে বরখাস্ত করেন। অভিযোগ আনা হয়, তারা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের পৃষ্ঠপোষক। অনেককে অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে তারা কঠিন শাস্তি ভোগ করে।
আহমাদ আহিদজুর শাসনকালে ইসরাইলের সাথে ক্যামেরুনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। কিন্তু ১৪০৬ হিজরিতে (১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে) খ্রিষ্টান রাষ্ট্রপ্রধান ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন। ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়ার সীমান্তে বেশকিছু সংঘাত ঘটে। কিন্তু তা বেশিদিন অব্যাহত হয়নি, একপর্যায়ে উভয় দেশের মাঝে ভালো সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্যামেরুনে মুসলিম জনসংখ্যা হচ্ছে ৬০%, অথচ খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ১৬%-এর বেশি না। বাকি অংশ পৌত্তলিক গোষ্ঠী। কিন্তু ক্ষমতার বাগডোর খ্রিষ্টানদের হাতেই রয়ে যায়।
📄 গিনি বিসাউ
এ দেশটির কাঁধে নেমে আসে পর্তুগিজ দখলদারির জোয়াল। পর্তুগালের ঔপনিবেশিকরা স্বাভাবিকই নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল মুসলমানরা। মুসলিমদের ওপর হরেক রকমের নিপীড়ন ও নির্যাচন চালানোর ক্ষেত্রে পর্তুগাল ও স্প্যানিশরা সর্বদাই ছিল অগ্রগামী। ইসলামের শত্রুদের নিকট মুসলিম নিধনের ক্ষেত্রে এ দুই দেশের অবস্থান ছিল আদর্শস্বরূপ।
বহু চড়াই-উতরাইয়ের পর গিনি বিসাউ ১৩৯৪ হিজরিতে (১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে) পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দেশের ৬০% লোক মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও পর্তুগিজরা খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে যায়।
📄 বেনিন
ইতিপূর্বে এই দেশের নাম ছিল দাহুমি। একসময় তা ফরাসি উপনিবেশের শিকার হয়। ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) ফ্রান্স থেকে স্বাধীন হয়। ১৩৯৫ হিজরিতে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) তার নতুন নাম হয় বেনিন। দেশের মুসলিম জনসংখ্যা ৬০%, আর খ্রিষ্টানদের জনসংখ্যা ১০%। তবুও এর শাসনক্ষমতা হস্তগত হয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের।
📄 টোগো
দেশটির কর্তৃত্বে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড উভয়ে শরিক ছিল। ১৩৭৯ হিজরিতে (১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) স্বাধীনতা অর্জন করে। মুসলিম জনসংখ্যা ৫৫%। কিন্তু অন্যান্য দেশের মতো ঔপনিবেশিকরা দেশ ছাড়ার সময় এর নেতৃত্ব ছেড়ে যায় খ্রিষ্টানদের হাতে, যাদের সংখ্যা সর্বসাকুল্যে ১৫% হবে। অবশিষ্টরা পৌত্তলিক।