📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 নাইজেরিয়া

📄 নাইজেরিয়া


১৩৮۳ হিজরিতে (১৯৬۳ খ্রিষ্টাব্দে) নাইজেরিয়া ইংল্যান্ড থেকে স্বাধীন হয়। সেটা বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ে একটি ইউনিয়ন হিসেব গঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পূর্বে ক্যামেরুনের একটি অংশ তার সাথে সম্পৃক্ত হয়।

নাইজেরিয়া ছিল ইংরেজদের মিত্র দেশসমূহের একটি। নাইজেরিয়ায় মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৭৫%। খ্রিষ্টান ১৫% আর বাকিরা ছিল পৌত্তলিক। অভ্যাস অনুযায়ী ঔপনিবেশিকরা দেশ ছাড়ার আগে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। ফলে নান্দী এজিকয়ে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হয়। ওই সময়ই সেনাবাহিনীতে খ্রিষ্টান কর্মকর্তারা উচ্চপদে নিযুক্ত ছিল। তাই সেনাবাহিনীও তাদের হাতে ছিল। যদিও প্রধানমন্ত্রী ছিল আবু বকর তাফাওয়া। উপপ্রধান মন্ত্রী ছিল আহমাদ বিলু। তারা উভয়ে মুসলমান ছিল। তারা উভয়ে নাইজেরিয়ায় ইসলামের প্রাণ সঞ্জীবিত করার জন্য এবং ইহুদিদের যেকোনো আক্রমণ ব্যর্থ করার জন্য কাজ করে। এমনকি তারা এ বিষয়টি সভাসদে ঘোষণা করে দেয়।

নাইজেরিয়ায় ইসলামি আওয়াজ স্তব্ধ করার জন্য দেশে আন্তর্জাতিক খ্রিষ্টীয় খেলা শুরু হয়ে যায়। তারা এক নাইজেরিয়ান সেনা কর্মকর্তা চোকো গানসুগুর পৃষ্ঠপোষকতা করে। তার নেতৃত্বে বিদ্রোহ সংঘটিত করে আহমাদ বিলু, আবু বকর তাফাওয়া ও সরকারের অনেক মুসলিম মন্ত্রীকে হত্যা করে। এমনকি যাদেরকে মুসলমানদের সহযোগী সন্দেহ করত তাদেরকেও হত্যা করে। এটা হয়েছিল ১৩৮৫ হিজরিতে (১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে)। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শক্তিশালী করার জন্য চোকো গানসুগু খ্রিষ্টান সেনাপ্রধান জনসন আগাভি ইরানির নিকট আত্মসমর্পণ করে।

উল্লেখ্য যে, উত্তর নাইজেরিয়ার অধিকাংশ বাসিন্দা ছিল মুসলিম। আর পূর্ব নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ছিল বেশি। তারা ইবো গোত্রের লোক ছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা তাদের সহায়তায় কাজ করে। যাতে দেশে তাদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। এ দেশ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় ইংরেজরা তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে যায়।

এমনকি উত্তর নাইজেরিয়ায় বিভিন্ন অঘটন ঘটলে মুসলমানরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারত না। খ্রিষ্টানদের মাধ্যমে গুপ্তহত্যার শিকার হতো। উত্তর নাইজেরিয়ার একজন খ্রিষ্টান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব গাউনের পৃষ্ঠপোষকতায় সেখানে খ্রিষ্টীয় নতুন খেলা শুরু হয়। যেখানে খ্রিষ্টান ছিল সংখ্যালঘু। সে ১৩৮۶ হিজরিতে (১৯۶۶ খ্রিষ্টাব্দে) ক্ষমতায় সমাসীন হয়। এটা হয়েছিল উত্তরাঞ্চলের মুসলমানদের শিথিলতার কারণে। কেননা, রাষ্ট্রপ্রধান মুসলমান থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতা হয়ে যায় খ্রিষ্টানদের। সে বছরই পূর্ব নাইজেরিয়ার সেনাপ্রধান সেখানকার সব মুসলমানকে পূর্ব প্রদেশে একত্র হওয়ার ও উনোতিশা শহরে স্থানান্তরিত হওয়ার নির্দেশ দেয়। এ সময় বিরাট এক গণহত্যা সংঘটিত হয়, যা থেকে অল্পসংখ্যক লোকই মুক্তি পায়।

কালাবার কাতিনা গোত্র তাদেরকে ওই প্রদেশে ভাগিয়ে দেয়। উত্তর প্রদেশের লোকেরা তা জানার পর আন্দোলন করে এবং উত্তর প্রদেশের সেনানিবাসে হামলা করে। অস্ত্রের ওপর তারা দখল নিয়ে উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত ইবো গোত্র থেকে প্রতিশোধ নেয়। আর যারা উনোতিশা শহরে মুসলমানদের গণহত্যা সংঘটিত করেছিল তাদের থেকেও প্রতিশোধ গ্রহণ করে। কিন্তু উত্তরাঞ্চলীয় মুসলমানরা নারী ও শিশু হত্যা করা থেকে বিরত থাকে। তবে তারা কালাবার গোত্রের কাছে যায়নি বা আক্রমণ করেনি।

এদিকে পূর্ব প্রদেশের নেতা চোকো মিকা অজুকো নাইজেরিয়া থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে তার ও সরকারের সৈনিকদের মধ্যে মারাত্মক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। অবশেষে সরকারি সৈনিক বিজয় লাভ করে, আর চোকো মিকা অজুকো দেশ ছেড়ে পলায়ন করে।

১৩۹۵ হিজরিতে (১৩۹۵ খ্রিষ্টাব্দে) নাইজেরিয়ান প্রেসিডেন্ট ইয়াকুব গাউন যখন উগান্ডায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত হয় তখন নাইজেরিয়ার সেনানায়করা মুর্তাজাল্লা রহমত মুহাম্মাদকে দেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করে। সে এক বছর শাসন করে ১৩۹۶ হিজরিতে (১৯۷۶ খ্রিষ্টাব্দে) গুপ্তহত্যার শিকার হয়। ফলে উলসিগান উবাসিনজু সামরিক চীপ অব স্টাপ-এর পদ গ্রহণ করে। ১৩۹۸ হিজরিতে (১৯۷۸ খ্রিষ্টাব্দে) নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শিখোশাগারি আলি বিজয়ী হয়। ১৪০۴ হিজরিতে (১৯৮۳ খ্রিষ্টাব্দে) মুহাম্মাদ বুখারির নেতৃত্বে দেশে সেনা বিপ্লবের পূর্ব পর্যন্ত সে এ পদে বহাল থাকে। মুহাম্মাদ বুখারি ১৪০۵ হিজরি (১৯৮۴ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকে। অতঃপর পোপ নাগিদার নেতৃত্বে দ্বিতীয় সেনা বিদ্রোহ হলে দেশে নতুন নেতার আবির্ভাব ঘটে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 গ্যাবন

📄 গ্যাবন


এটা ফ্রান্সের ঔপনিবেশ ছিল। ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ক্ষমতায় টানা কয়েক বছর খ্রিষ্টানরাই থাকে। অবশেষে ১৩৮৭ হিজরিতে (১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে) উমর বঙ্গ গ্যাবনের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হয়। ১৩৯৩ হিজরিতে (১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে) তার ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করে। তার ইসলাম গ্রহণের ফলে তার পরিবার ও বঙ্গগোত্র ইসলাম গ্রহণ করে। ফলে আরও অনেক গোত্র তাদের ইসলাম গ্রহণ প্রকাশ করে। যেমন: আলবাও, দুনাও ও বুনু। তখন গ্যাবনে মুসলমানদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫%।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00