📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 মালি

📄 মালি


ফ্রান্স অধিগ্রহণকালে এটা ফরাসি-সুদান নামে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার পূর্বে ফ্রান্সের অধীনে সেনেগালের সাথে এক হয়ে দেশ গঠন করা হয়।

কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই ঐক্য ভেঙে যায়। ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) মালিকে স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক দেশ ঘোষণা করা হয়। মালিয়ানদের নেতা মোদিবো কিতাকে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট করা হয়। সে রাজনীতিতে পদচ্যুতকরণ ও স্বৈরশাসনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল।

১৩৮৮ হিজরিতে (১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে) তার বিরুদ্ধে সেনাবিদ্রোহ ঘটে। তাকে পরাজিত করে মুসা ট্রাওরেকে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। তার রাজত্বকালে মালি ও বুর্কিনা ফাসো সীমান্তে যুদ্ধের উত্তেজনা বিরাজ করে। ১৪০৬ হিজরিতে (১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে) এদের মধ্যে যুদ্ধ হয়। অতঃপর উভয় দেশ আন্তর্জাতিক শালিসে ঐকমত্যে উপনীত হয় যে, এলাকাকে উভয় দেশের মধ্যে অর্ধেক হারে ভাগ করা হবে। অতঃপর ১৪১১ হিজরিতে (১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে) আহমাদ তোমানি সাওরি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে মুসা ট্রাওরেকে পরাজিত করে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সেনেগাল

📄 সেনেগাল


পূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি যে, ফ্রান্সের অধীনে সেনেগাল ও মালি এক হয়ে মালিরাষ্ট্র গঠন করে। এ দেশ মালি থেকে পৃথক না হওয়া পর্যন্ত ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) সেনেগাল প্রজাতন্ত্র স্বাধীন দেশ ঘোষণা করে লিওবুলাদ সানজুরকে প্রজাতন্ত্রের প্রধানের দায়িত্ব অর্পণ করে। ১৪০১ হিজরিতে (১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে) সে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয় এবং তার প্রধানমন্ত্রী আবদি জুয়ুফের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

তার রাজত্বকালে গাম্বিয়ার সঙ্গে ঐক্যের সংলাপ হয়। অতঃপর সেনেগাল গাম্বিয়ায় অনুপ্রবেশ করলে তাদের মধ্যকার ঐক্যচুক্তি ব্যর্থ হয়ে যায়। ১৪১০ হিজরিতে (১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে) সেনেগাল গাম্বিয়া থেকে তার সৈন্য প্রত্যাহার করে। এমনইভাবে মৌরিতানিয়া ও সেনেগালের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। এ সম্পর্কে আমরা মৌরিতানিয়া সম্পর্কিত অধ্যায়ে আলোকপাত করেছি।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 গাম্বিয়া

📄 গাম্বিয়া


গাম্বিয়া নিয়ে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে সংঘাত হয়। ইংল্যান্ডের কাছে ফ্রান্স নত হলে এ সংঘাত শেষ হয়। দেশটি ১৩৯০ হিজরিতে (১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে) স্বাধীন হয়। এখানে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। দাউদ গাওরা প্রেসিডেন্ট হন ১৪০০ হিজরিতে (১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে)। তখন সেনেগালের নিকট দাবি জানানো হয়, শান্তি রক্ষায় সহায়তার জন্য তারা যেন গাম্বিয়ায় তাদের সৈনিক প্রেরণ করে। ১৪০১ হিজরিতে (১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে) গাম্বিয়ায় একটি বিপ্লব হয়। এতে দাউদ গাওরাকে পরাজিত করা হয়। কাকু সাম্বা সানিয়ানাকে প্রেসিডেন্ট বানানো হয়। সেনেগালের সৈনিকরা গাম্বিয়ায় প্রবেশ করে বিপ্লব চালিয়ে দাউদ গাওরাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে সক্ষম হয়। সেনেগালের সঙ্গে গাম্বিয়াকে মিলিয়ে একক দেশ গঠন করার জন্য একটি পরিকল্পনা গঠন করা হয়। যার নাম হবে সেনেগাম্বিয়া, আবদি জুয়ুফ হবে এর প্রেসিডেন্ট, আর দাউদ গাওরা হবে ভাইস প্রেসিডেন্ট। অতঃপর উভয় নেতার মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিলে ১৪১০ হিজরিতে (১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে) ঐক্য ভেঙে যায়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তানজানিয়া (তানজানিকা)

📄 তানজানিয়া (তানজানিকা)


তানজানিয়া জার্মানির উপনিবেশ ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের পরাজয়ের পর এখানে ইংরেজদের উপনিবেশ তৈরি হয়। এদিকে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের সরু সেক্টরও জানজিবার রাজ্য দুই উপদ্বীপ তথা জানজিবার ও বুম্বার ভূখণ্ড ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও ইতালির মধ্যে বণ্টিত হয়ে যায়। পরিশেষে তার রাজত্বের অধীনে মাত্র দুটি উপদ্বীপ তথা জানজিবার ও বুম্বা বাকি থাকে। অতঃপর ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) জানজিবারের সমস্ত রাজ্য ইংরেজদের হাতে ফিরে আসে। তারপর ১৩৮১ হিজরিতে (১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে) ইংল্যান্ড তানজানিয়াকে স্বাধীনতা দান করে। সেটা ব্রিটেশ কমনওয়েলথের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

জানজিবারকে ১৩৮৩ হিজরিতে (১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে) স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এর বাদশাহ ছিল জুলিমশিদ বিন আবদুল্লাহ খলিফা। তার যুগে জানজিবারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি খেলা শুরু করে। মুসলমান, আরব ও আফ্রিকানদের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে ১৩৮৩ হিজরিতে জানজিবারে আবিদ কুরমির সেনা বিপ্লব ঘটে। বাদশাহ জুলিমশিদ পরাজিত হয়। এতে প্রায় ষোলো হাজারের অধিক আরব নিহত হয়। কেননা ক্ষমতা ছিল আফ্রিকানদের অধীনে। আরবরা উপদ্বীপ দখল করে রেখেছিল, ফলে ক্ষমতা প্রয়োগ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এতে মুসলমানদের চুয়ান্ন হাজার লোক নিহত হয়েছিল। আবিদ কুরমি তানজানিয়ার সরকারের সাথে একাত্মতা পোষণ করে। তার সঙ্গে একটি দেশ হওয়া নিয়ে পরস্পরে চুক্তি করে, যার নাম হবে তানজানিয়া। এতে ক্ষমতা থাকবে জুলিয়াস নাইরের হাতে। প্রেসিডেন্ট হবে জুলিয়াস নাইরে এবং আবিদ কুরমি হবে ভাইস প্রেসিডেন্ট।

আল্লাহ তাআলা আবিদ কুরমি থেকে প্রতিশোধ নিলেন, যে ভেবেছিল তার কর্মের মাধ্যমে সে দেশে উচ্চপদ হাসিল করবে। কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল যে, ইসলামের শত্রুরা এক কথায় অটল থাকে না। বিশেষ করে যদি সেই শত্রু নামধারী মুসলিম হয়। শত্রুরা দেখল, তার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে; অথচ দেশে তার বেঁচে থাকাটা ইসলামি প্রভাব সৃষ্টি করবে। তাই ১৩৯৪ হিজরিতে (১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে) তাকে গুপ্তহত্যা করা হয়। এরপর আবুদ জাম্বি জানজিবার উপদ্বীপের শাসক নিযুক্ত হয়। জানজিবার সম্প্রদায় জানজিবার ও তানজানিয়ার ঐক্য মেনে নিতে রাজি হয়নি। কেননা, ক্ষমতা ছিল খ্রিষ্টানদের হাতে; অথচ জানজিবার ও তানজানিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দা ছিল মুসলমান। খ্রিষ্টান শাসন তানজানিয়ায় মুসলমানদের জঘন্য কষ্ট ও সীমাহীন শান্তি প্রদান করেছিল।

১৩৯৯ হিজরিতে (১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে) উগান্ডার জাতীয় ফ্রন্ট মুসলিম প্রেসিডেন্ট ইদি আমিনকে পরাস্ত করার সময় তানজানিয়ান সেনাবাহিনী তাদেরকে সাহায্য করেছিল। আবুদ জাম্বি ১৪০৩ হিজরিতে (১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে) তার পদ থেকে সরে দাঁড়ায়। তারপর ১৪০৩ হিজরিতে আলি হাসান মুভিনাইকে গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। সে একই সময় তানজানিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে। তারপর ১৪০৫ হিজরিতে (১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে) জুলিয়াস নিরির পর সে তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হয়। তারপর ১৪০৭ হিজরিতে (১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে) তানজানিয়া মুজাম্বিক সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে সৈনিক প্রেরণ করে সহায়তা করে। তারপর ১৪০৮ হিজরিতে (১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে) সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় এবং ১৪০৬ হিজরিতে (১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে) উগান্ডার ক্ষমতা দখলকারী মুসিভিনিকে সমর্থন দেয়। তখন তানজানিয়ায় মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৬২% আর খ্রিষ্টান ছিল ২৭% ও পৌত্তলিক ছিল ১১%। আর জানজিবারে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ৯০%।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00