📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 জিবুতি

📄 জিবুতি


জিবুতি ছিল ফরাসি ঔপনিবেশিকতার অধীনে, যাকে ফরাসি-সোমালিয়া বলা হতো। তারপর সেটাকে ইফার ও ইসা বলা হয়। এগুলো মূলত দুটি গোত্রের নাম, যারা জিবুতির স্থায়ী বাসিন্দা। ১৩৯৭ হিজরিতে (১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) জিবুতি ফ্রান্স থেকে স্বাধীন হয়। হাসান জুলিদের নিকট তারা নেতৃত্ব সমর্পণ করে। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে নিরপেক্ষ রাজনীতি পলিসি অবলম্বন করে। এ দেশটি আরবলীগের সদস্য।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 কমোরোস (দ্বীপরাষ্ট্র)

📄 কমোরোস (দ্বীপরাষ্ট্র)


এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম বসবাস করত। এখানে ইসলাম প্রবেশ করে দাওয়াতের মাধ্যমে। আরব ও পারস্যের বিভিন্ন দলের হিজরতের মাধ্যমে কমোরোস উপদ্বীপ ফরাসিদের দখলে ছিল। তাদের এ জবরদখল চলতেই থাকে। অবশেষে ১৩৯৫ হিজরিতে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) এটা স্বাধীনতা লাভ করে। মাইয়ুত দ্বীপ ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলকে ফ্রান্স স্বাধীনতা দেয়। কারণ, এখানে ফ্রান্স প্রবাসীদের বড় একটি অংশ আবদ্ধ ছিল। আর আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে কমোরোস উপদ্বীপ যে বিষয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রাখে, তা হলো, এখানে বিশালাকারে ইউরোপীয় ভাড়াটে সৈনিকদের অবস্থান। তারা তাদের আবাসিক এলাকায় রাষ্ট্রের আইনকানুন পরিবর্তনের জন্য এই দ্বীপে কয়েকবার আক্রমণ চালায়।

কমোরোস উপদ্বীপ স্বাধীন হওয়ার পর এখানকার প্রথম নেতা হয় আহমাদ আবদুল্লাহ। তার নেতৃত্ব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। অতঃপর ওই বছরই আলি সোয়াইলির নেতৃত্বে বিপ্লব হয়। এতে আহমাদ আবদুল্লাহকে উৎখাত করে সাইদ মুহাম্মাদ জাফরকে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সমর্পণ করা হয়। অতঃপর ১৩৯৬ হিজরিতে (১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে) আলি মুহাম্মাদ সোয়াইলি সাইদ মুহাম্মাদ জাফরকে পরাজিত করে তার স্থানে নিযুক্ত হয়। তারপর ইউরোপীয় ভাড়াটে সৈনিকরা খেলা শুরু করে। তারা বুব দিনারের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু করে প্রেসিডেন্ট আলি সোয়াইলিকে হত্যা করে আহমাদ আবদুল্লাহকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করে। এটা হয়েছিল ১৩৯৮ হিজরিতে (১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে)। এখানে অধিক পরিমাণে ইউরোপীয় ভাড়াটে সৈনিক থাকার কারণে আফ্রিকায় ঐক্য সংগঠন থেকে কমোরোস উপদ্বীপের সদস্যপদ বাতিল করা হয়।

ইউরোপীয় ভাড়াটে সৈনিকদের তৎপরতায় কমোরোসে আন্দোলন চলতে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা পরাজিত হয়। অতঃপর ১৪১০ হিজরিতে (১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে) কমোরোস প্রেসিডেন্ট আহমাদ আবদুল্লাহ গুপ্তহত্যার শিকার হলে বুব দিনার রাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সাময়িক ক্ষমতা গ্রহণ করে অতঃপর সাইদ মুহাম্মাদ জাওহারকে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে। বুব দিনার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কৌশল অবলম্বন করে। তখন ফরাসিরা এটাকে সুযোগ মনে করে পরিস্থিতি শান্ত করার যুক্তি দিয়ে কমোরোসে প্রবেশ করে। এতে বুব দিনার একদল ভাড়াটে সৈনিক নিয়ে কমোরোসের বাইরে পালিয়ে যায়।

এরপর প্রেসিডেন্ট সাইদ মুহাম্মাদ জাওহার ঘোষণা করে যে, সে কমোরোসের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ মজবুত করার জন্য ফরাসি সৈনিকদের সেখানে থাকার অনুমতি দেবে। অথচ কমোরোস উপদ্বীপ আরবলিগের অন্তর্ভুক্ত হতে চায়। কিন্তু আরবলিগ তাদের অন্তর্ভুক্তি ১৪১৭ হিজরির (১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) পূর্বে গ্রহণ করেনি। বর্তমানে কমোরোস উপদ্বীপ তাদের ইতিহাসে অনেকবার বিভক্ত ও স্বাধীন দেশ হওয়ার চেষ্টার পর নতুন আরেকটি কঠিন সময় পার করছে। এখানে সমস্ত আন্দোলনের ইউরোপীয় ভাড়াটে সৈনিকরা অংশ নিয়েছিল। তাদেরমধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল ফ্রান্সের ভাড়াটে সৈনিকরা। তারা ১৪১৮ হিজরির (১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের) আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 চাদ

📄 চাদ


এটা আফ্রিকার অন্তর্গত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশ। দেশটি ফ্রান্সের দখলের ছিল। অবশেষে দেশে খ্রিষ্টানরা ক্ষমতার লাগام সমর্পণ করার পর ১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) স্বাধীনতা লাভ করে। প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হয় ফরানসু তিম্বাল বায়ি। সে ছিল খ্রিষ্টান। দেশে খ্রিষ্টানদের পরিসংখ্যান ৫%-এর বেশি না হওয়া সত্ত্বেও চাদ প্রশাসন গঠন করা হয় এভাবে যে, মুসলমানরা অর্ধেক এবং খ্রিষ্টান ও মূর্তিপূজারিরা অর্ধেক। অথচ মুসলমানদের সংখ্যা হচ্ছে ৮৫%, মূর্তিপূজারিদের সংখ্যা ১০% এবং খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ৫%। এতে মুসলমানদের অধিকার খর্ব করা হয়। আর ফরাসি সেনাশক্তি দেশে খ্রিষ্টীয় শাসনের পৃষ্ঠপোষকতা করে। এটা এ কারণে হয়েছিল যে, চাদে ফরাসি সামরিক ঘাঁটি থাকার ব্যাপারে খ্রিষ্টানরা চুক্তিবদ্ধ হয়!

প্রাথমিক অবস্থায় দেশের পরিস্থিতি শান্ত ছিল। অতঃপর খ্রিষ্টানদের বিদ্বেষ শুরু হয়। তাদের অল্পে তুষ্টি বিলীন হয়ে আসল রূপ প্রকাশ পায়। এটা তখন হয়, যখন ইহুদি রাষ্ট্রদূত চাদের প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং ১৩৮১ হিজরিতে (১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে) তারা তাকে অভ্যর্থনা জানায়। এতে মুসলমানদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। এর কারণ হলো ইহুদিরাই একমাত্র মুসলমানদের শত্রু এবং অতীত ইতিহাসে ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর তাদের শত্রুতা সবসময় অব্যাহত ছিল। ফলে মন্ত্রী ও মুসলিম রাজনীতিবিদগণ ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে দেশে আমন্ত্রণ জানাতে বিরোধিতা করে। তারা নেতাকে জানিয়ে দেয় যে, তাদের মতের যেন বিরোধিতা না করা হয়।

এদিকে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত মুসলমানদের শাসানোর অঙ্গীকার করে। বাস্তবেও চাদের প্রেসিডেন্ট মন্ত্রীদের মধ্যে পরিবর্তন করে মুসলমান মন্ত্রীদের বহিষ্কার করতে শুরু করে। তাদের স্থানে অমুসলিমদের নিযুক্ত করে। মুসলিম মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের বন্দি করে। কিছু নেতা ও মন্ত্রীকে দেশান্তর করে। ফলে দেশবাসী তাদের গভীর নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। অবশেষে ১৩৮৫ হিজরিতে (১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে) তারা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।

চাদ লিবারেশন জাতীয় ফ্রন্ট গঠন করে সুদানে তাদের ক্যাম্প স্থাপন করে। ১৩৮৭ হিজরিতে (১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে) বিদ্রোহের আগুন আরও প্রজ্বলিত হয়। এবার তারা চাদ লিবারেশন জাতীয় ফ্রন্টের নেতৃত্বে দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এদিকে ফরাসিরা চাদ নেতাকে আন্দোলনে প্রকাশ্যে সহায়তা করে। অপরদিকে লিবিয়া বিদ্রোহীদের সহায়তা করে। চাদ লিবারেশন জাতীয় ফ্রন্ট দপ্তর আলজেরিয়াতে স্থানান্তর করা হয়।

১৩৯১ হিজরিতে (১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে) আহমাদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে আন্দোলন ব্যর্থ হয়। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সে নিজেই আত্মহত্যা করে। চাদ অভিযোগ করল যে, এ আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতা করছে লিবিয়া। এরপর লিবিয়া চাদের বিপ্লবে জোরালো ভূমিকা রাখে এবং বিদ্রোহীদের সহায়তা করার জন্য ১৩৯৩ হিজরিতে (১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে) তারা চাদের আওজু সেক্টর দখল করে। ১৩৯৫ সালে (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) খ্রিষ্টান স্টাফ প্রধান আবদুল কাদির কামুগার নেতৃত্বে সেনাবিপ্লব ঘটে। এতে চাদের প্রেসিডেন্ট ফ্রাস্কোইস টম্বালবয়ে নিহত হয়। খ্রিষ্টান ফেলিক্স মালুমকে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করা হয়।

জাতীয় স্বার্থে খার্তুমে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তারা ফেলিক্স মালুমকে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট এবং হুসাইন হাবরিকে প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতি দিয়ে ফয়সালা করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। চাদ লিবারেশন জাতীয় ফ্রন্ট গোকুনি ওয়েদির নেতৃত্বে চাদের বিশাল অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। যাকে লিবিয়া সহায়তা করেছিল। এটা হয়েছিল ১৩৯৮ হিজরিতে (১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে)। এরপর চাদে প্রশাসন পূর্ণরূপে ধসে পড়ে। হুসাইন হাবরি বাহিনী রাজধানী এনজামেনা প্রবেশ করে। ফেলিক্স মালুম দেশের বাইরে পালিয়ে যায়। তদ্রুপ গোকুনি ওয়েদি রাজধানী এনজামেনাতে প্রবেশ করে। তারপর হুসাইন হাবরি ও গোকুনি ওয়েদির মধ্যে সংলাপ হয়। দেশ শান্ত করার জন্য কয়েক দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু অল্প কিছু সময় ছাড়া এ ঐক্য কার্যকর হয়নি। তারপর পুনরায় দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৪০০ হিজরিতে (১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে) ফ্রান্স চাদ থেকে নিজেদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। বিশেষ করে মুসলমানদের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার পর যুদ্ধের অগ্নি আরও প্রজ্বলিত করার জন্য।

১৪০০ হিজরিতে (১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে) লিবিয়া গোকুনি সরকারের সাথে একটি মিত্রতার চুক্তি করে। গোকুনি ওয়েদি ও হুসাইন হাবরির মধ্যকার চলমান যুদ্ধে লিবিয়ার সৈনিকরা প্রকাশ্যে অংশ নেয়। গোকুনি ওয়েদি বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং হুসাইন হাবরি সুদান সীমান্তে চলে যায়। লিবিয়ার সাথে তাদের বিরোধ থাকার কারণে মিশর ও সুদান হুসাইন হাবরিকে সহায়তা করে। চাদ ও লিবিয়ার মধ্যে ঐক্য স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু গোকুনি তা প্রত্যাখ্যান করে এবং লিবিয়াকে চাদ ছাড়ার দাবি জানায়। লিবিয়া তার দাবিকে স্বাগত জানায় এবং ১৪০২ হিজরিতে (১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে) নিজেদের সৈনিক প্রত্যাহার করে।

লিবিয়ার প্রত্যাহারে হুসাইন হাবরি লাভবান হয় এবং ওই বছরই রাজধানী এনজামেনা প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। নিজের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে এবং প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হয়। আর গোকুনি দেশ থেকে পলায়ন করে। লিবিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। তখন দক্ষিণাঞ্চল শাসন করছিল আবদুল কাদির কানমের অনুগত সৈনিকরা। সে সময় গৃহযুদ্ধের অগ্নি প্রজ্বলিত হতে থাকে এবং পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

ফ্রান্স হুসাইন হাবরিকে সহায়তা করে যখন লিবিয়া গোকুনি ওয়েদিকে সহায়তা করে। খ্রিষ্টদেশগুলো আফ্রিকায় একে অপরকে সাহায্য করে। আর বিশ্বের খ্রিষ্টানরা আবদুল কাদির কানমের সঙ্গ দেয়। যুদ্ধে বিশ্বের অস্ত্র-ব্যবসায়ীরা প্রচুর অর্থসম্পদ অর্জনের মাধ্যমে ফায়েদা ভোগ করে। চাদের অভ্যন্তরে ফরাসি ও লিবিয়ানদের মধ্যে অনেক সংঘাত হয়।

অতঃপর লিবিয়ার সৈনিকরা দুর্বল হতে থাকে। অধিকাংশ অঞ্চল গোকুনির নিকট হস্তান্তর করে। চাদের হুসাইন হাবরির অনুগত সৈনিকরা লিবিয়ার সৈনিকদের থেকে আউজু শহর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অনেক লিবীয় সৈনিক বন্দি হয়। কিন্তু লিবিয়া তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। লিবিয়া ও চাদের মধ্যকার যুদ্ধ থাকার কারণে জাতিসংঘ আউজুতে ক্ষমতা প্রয়োগ প্রত্যাখ্যান করে। এ বিষয়টি আফ্রিকার ঐক্যফ্রন্টের নিকট ছেড়ে দেয়। চাদের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। চাদের চিফ অব স্টাফ ইদরিস দিবি ও মুসতাশার হুসাইন হাবরি বিদ্রোহ করে। ওই সময় হুসাইন হাবরি লিবীয় বন্দিদের থেকে সুবিধা ভোগ করতে কাজ করে। লিবিয়া লিবারেশন জাতীয় ফ্রন্ট তথা বিরোধীদের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য। যাতে লিবিয়া নিষ্কৃতি পায়। যার নেতৃত্বে ছিল মুহাম্মাদ মুকরিফ।

ইদরিস দিবি প্রথমে সুদান তারপর লিবিয়ায় পলায়ন করে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সে তাকে হুসাইন হাবরির বিরুদ্ধে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারপর হুসাইন হাবরি ও ফ্রান্সের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। দেশের পূর্বাঞ্চলে জাতীয় ফ্রন্ট নেতা ইদরিস দিবির সাথে হুসাইন হাবরির যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু ইদরিস দিবির কাছে সে পরাজয় বরণ করে। ইদরিস দিবি রাজধানী এনজামেনায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। হুসাইন হাবরি দেশের বাইরে পালিয়ে যায়।

এদিকে গোকুনি ওয়েদি নতুন প্রশাসনের সামনে নতি স্বীকার করে নিয়ে লিবীয় বন্দিদের মুক্তি দেয়। দেশে শান্তি ফিরে আসতে শুরু করে। কিন্তু এরপর আবারও বিদ্রোহ শুরু হয় এবং ১৪১২ হিজরিতে (১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে) নতুন করে দুটি বিপ্লব সংঘটিত হতে বসে। তবে উভয়টি অকৃতকার্য হয়। দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তারা দাবি করে যে, সৈনিকরা তাদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। অনুরূপ উত্তরাঞ্চলে কিছু বিদ্রোহ দেখা দেয়, হুসাইন হাবরির অনুগতদের পরিচালনায়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 নাইজার

📄 নাইজার


১৩৮০ হিজরিতে (১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে) নাইজার ফ্রান্স থেকে স্বাধীন হয়। হামানি দেওয়ারি দেশের প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হয়। সে দশ বছরেরও বেশি সময় এ পদে বহাল থাকে। অতঃপর তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সেনা বিদ্রোহ হয় এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান কাউনতাশিকে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করা হয়। তার যুগে ফ্রান্স নাইজার থেকে তাদের অবশিষ্ট সৈনিক প্রত্যাহার করে। ১৪০৮ হিজরিতে (১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে) নাইজারি প্রেসিডেন্ট অসুস্থতায় ইনতেকাল করে। তারপর সাইবুর ওপর নাইজারের নেতৃত্ব অর্পিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00