📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উপনিবেশিকতার বিরোধিতা

📄 উপনিবেশিকতার বিরোধিতা


আফ্রিকার ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে যখন এর অস্তিত্ব মহাদেশকে কলুষিত করে। এ প্রতিরোধ মহাদেশের নাগরিকদের ওপর ইউরোপীয়দের অত্যাচার ও নিপীড়ন কেবল বৃদ্ধিই করে যায়। তখন মুসলমানদের জন্য ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাটা গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় ছিল। এতে আফ্রিকার অন্যান্য নাগরিকরাও তাদের অনুসরণ করে। যেমন এশিয়ায় স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছিল। এর প্রভাব আফ্রিকায়ও পৌঁছে। তারা আফ্রিকা স্বাধীন করতে চেষ্টা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রদের পরাজয় আফ্রিকা আন্দোলনে বিরাট প্রভাব ফেলে। আর ঔপনিবেশিকদের প্রভাবও তাদের থেকে দূরীভূত হয়। আফ্রিকায় ঔপনিবেশিকতার প্রতিরোধে প্রসিদ্ধ আন্দোলন হলো তানজানিয়ায় জার্মানদের দখলের বিরুদ্ধে মুসলিম নেতা বুশিরি বিন সালিনের আন্দোলন। যা ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিল। এতে তারা কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দীর্ঘ যুদ্ধের পর জার্মানরা বুশিরিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। এমনইভাবে আফ্রিকার আন্দোলনসমূহের মধ্যে মাহদি সোমালের আন্দোলনও প্রসিদ্ধ, যা সুদানে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল এবং ইংরেজ ঔপনিবেশিকদের নির্মূল করেছিল।

সোমালিয়ায় তারা এর পুনরাবৃত্তি করতে ইচ্ছা করে। তাদের সাথে প্রথমদিকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা যুদ্ধ করে, যারা মানুষকে খ্রিষ্টবাদ গ্রহণ করতে বাধ্য করত, এরপর ঔপনিবেশিকতার দিকেও তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। মাহদি আন্দোলনের বিদ্রোহীরা ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একপর্যায়ে তার বাহিনীর মধ্যে বিশ্বাসঘাতক বের হয়ে আসে, যাদেরকে ইংরেজরা আকর্ষণ করতে ও লোভ দেখাতে পেরেছিল। এতে মাহদির বিদ্রোহ আন্দোলন দুর্বল হয়ে যায় এবং সৈনিকরা বিপর্যস্ত হওয়ার পর মাহদি ইনতেকাল করে।

ঔপনিবেশিকতা দমনে অসংখ্য আন্দোলন সংগঠিত হয়। কঠিন প্রতিরোধ ঔপনিবেশিকদেরকে আফ্রিকা থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। এরপর সেখানকার কোনো কোনো দ্বীপ ও ছোট ছোট অঞ্চলেই কেবল কিছু ঔপনিবেশিকতা বাকি থেকে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00