📄 মোগাদিসু
আমরা যখন মোগাদিসুর কথা বলি তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য করা হয় দক্ষিণ সোমালিয়াকে। অনেক আরব দক্ষিণ সোমালিয়ায় হিজরত করে মোগাদিসু ও বারাওয়া শহর গঠন করেছে। পূর্ব আফ্রিকায় বড় বড় বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে এবং চতুষ্পার্শ্বে উদ্ভূত রাজ্যের মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদে এর স্বাধীনতা বজায় রেখেছে।
সোমালিয়ার আল-আবজাল গোত্র মোগাদিসু নিয়ন্ত্রণে এসেছিল সেখানে একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার পর। রাজ্যটির প্রতিষ্ঠাতা শাইখ উমর জালুলার পরিবার এর শাসনক্ষমতা পরিচালনা করে। তারা উসমানি শাসকদের সাথে ভালো সম্পর্ক রেখে শাসনকাজ চালায়। তারা উসমানিদের আনুগত্য করে এবং রাজাদের সাহায্য করতে থাকে। পর্তুগিজরা মোগাদিসুতে আক্রমণ করলে উসমানি, আরব ও মোগাদিসুরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মোগাদিসুর অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব চলাকালে ঔপনিবেশিক হুমকিতে এখানকার অধিবাসীরা বিপদ্গ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে মোগাদিসু জানজিবার রাজ্যের কাছে খ্রিষ্টান শত্রুদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি যানজ রাজ্যে প্রবেশে সাহায্য করতে দ্রুত এগিয়ে যান। এমনইভাবে ইসমাইল দক্ষিণ সোমালিয়ার বৃহত্তর অংশে প্রভাব বিস্তার করেন।
ইংরেজরা যখন মিশর দখল করেছিল তখন সোমালিয়া বিভক্ত হতে শুরু করে। তখন মোগাদিসু ও দক্ষিণ সোমালিয়া ইতালিয়ানদেরকে দেওয়া হয়েছিল।
📄 যানজ রাজ্য
আরব থেকে অনেক লোক হিজরত করে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে আসে এবং অনেক শহর ও রাজত্ব গড়ে তোলে; যেমনইভাবে পারসিকরা করেছিল। কালওয়া নামে পারসিকদের গড়া একটি শহর ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে একটি। মুসলমানদের অধিকাংশ রাজত্ব আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে সাফালা অঞ্চল পর্যন্ত গড়ে ওঠে এবং এখানে ইসলাম প্রসারিত হয়। এখানকার অধিবাসীরা সহজেই তা গ্রহণ করে নেয়। সুলাইমান বিন আলি দক্ষিণ মোগাদিসু থেকে সাফালা পর্যন্ত রাজ্যগুলোকে একত্র করেন এবং জানজিবার ও বাম্বা দ্বীপদ্বয় যানজ দ্বীপের সাথে সংযুক্ত করে যানজ রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
এ রাজত্ব কয়েক শতাব্দী ধরে চলছিল এবং এর শাসন আফ্রিকার মধ্যে বিস্তৃত হয়েছিল, এর সাথে ইসলামও প্রসারিত হয়েছে। এরপর রাজ্য বিভক্ত হতে শুরু করে। মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ পর্তুগিজরা তা দখল করে নেয়। অতঃপর পর্তুগিজরা তাদের অভ্যাস অনুযায়ী মুসলমানদের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ হত্যাযজ্ঞ চালায়। তার কিছুদিন পর পর্তুগিজরাও দুর্বল হয়ে যায় এবং তাদের দখলদারির প্রভাব কমতে থাকে। আরব উপদ্বীপে উসমানিদের সমর্থনে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করতে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উসমানিরা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ভারত ও পূর্ব আফ্রিকান দখলে রাখা পর্তুগিজদের পিছু অনুসরণ করতে থাকে। পূর্ব আফ্রিকার মুসলমানরা পর্তুগিজদের তাড়াতে তাদের সাহায্য কামনা করে। ওমানিরা যানজ রাজ্য থেকে পর্তুগিজ জাতিকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছিল। এখানকার অধিবাসীরা তাদেরকে সাদরে সম্ভাষণ জানালে যানজ রাজ্য ওমানের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তাই যানজ রাজ্যে ইসলাম বৃদ্ধি ও প্রসারিত হতে থাকে।
ওমানে আবু সাইদরা শাসন করতে আসেন। তখন ওমানের প্রতিষ্ঠাতা সাইদ বিন সুলতান রাষ্ট্র গঠন করে মাস্কাটের পরিবর্তে জানজিবারে রাজধানী স্থানান্তরিত করায় যানজ রাজ্য সম্প্রসারিত হয়ে গৌরব ও সম্মানের শীর্ষে পৌঁছে। আফ্রিকাতেও সম্প্রসারিত হয়েছিল। ফলে এর সীমা কঙ্গো, উগান্ডা, রুডেসিয়া (জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে) পর্যন্ত পৌঁছে। অতঃপর তিনি বিজিত এলাকায় ইসলাম সম্প্রসারণে কার্যক্রম গ্রহণ করেন। যানজ রাজ্য আফ্রিকার পণ্য সংগ্রহ করে বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করে।
আবু সাইদের মৃত্যুর পর এ রাষ্ট্র আফ্রিকা ও এশিয়ায় দুটি রাজ্যে বিভক্ত হয়ে যায়, এর মধ্যে একটি হলো যানজ রাজ্য। এর প্রসিদ্ধ শাসক হলেন বারগাশ বিন সাইদ। যিনি মুরজিবি নেতার যুগে ক্ষমতায় এসে যানজ রাজ্যের প্রভাব বিস্তার করে কঙ্গোতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেখানে ইসলাম প্রসারে তিনি কাজ করেন। তার শাসনামলে ইউরোপিয়ান দখলদাররা আফ্রিকায় আক্রমণ করতে শুরু করে। ইংরেজ ও বেলজিয়াম মুরজিবিদের উৎখাত করতে এবং নিজেদের ঔপনিবেশিকতা কায়েম করতে পরস্পরকে সহযোগিতা করে। পরে মুরজিবি ও ঔপনিবেশিক জোটের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। ফলে ঔপনিবেশিক জোট কঙ্গো থেকে মুরজিবিকে হটাতে সক্ষম হয়।
যানজ রাজ্যে ঔপনিবেশিকতা ছড়াতে শুরু করে। পুরো যানজ রাজ্যই জার্মান ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যায়। ইংল্যান্ড যে অংশ দখলে নেয় তা বর্তমানে কেনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে আর জার্মানি যে অংশ নেয় তা বর্তমানে তানজানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে। তারা প্রথমদিকে আফ্রিকা উপকূলে কেবল সংকীর্ণ ও অচল এলাকা ব্যতীত আবু সাইদদের জন্য কিছুই ছেড়ে দেয়নি। তারপর ইংরেজরা যানজ রাজ্যের বাকি অংশ দখল করে নেয়। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা পরাজয়বরণ করলে তানজানিয়ায় ইংরেজদের দখলদারি পূর্ণতা লাভ করে।