📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দারফুর

📄 দারফুর


হিজরতকারী আরব গোত্রগুলোর এখানকার নাগরিকদের সাথে মিলেমিশে বসবাসের মাধ্যমে এখানে ইসলামের প্রসার ঘটে। মূল অধিবাসীরা আরবদের দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত হতে থাকে। এভাবে তাদের অধিকাংশ লোক ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে এবং আরবি ভাষারও প্রসার হতে থাকে। আরবের প্রসিদ্ধ গোত্রের মধ্যে যারা দারফুরে হিজরত করে তারা তিউনিসের তানজুর গোত্র। তাদের মধ্যে আহমাদ নামক এক ব্যক্তি দাওয়াত দিয়ে পৌত্তলিক রাজার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাজা তাকে পছন্দ করলেন, তাকে কাছে টানলেন এবং তার হাতে দেশ চালানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি দেশে সংশোধনী, ঐক্যবদ্ধতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসেন। তিনি পৌত্তলিক রাজার কন্যাকে বিবাহ করেন রাজার মৃত্যুকালে কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। ফলে আহমাদ উত্তরাধিকারীভাবে রাজ্যের রাজা হলেন। তার সুলাইমান নামে এক পুত্রসন্তান হয়, যিনি তার পিতার মৃত্যুর পরে রাজ্যের রাজত্ব লাভ করেন। এমনইভাবেই দারফুর ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এরপর লাগাতার এখানে মুসলিম শাসকদের রাজত্ব চলতে থাকে। অতঃপর মুহাম্মাদ আলির শাসনকালে জুবাইর পাশা এ দেশে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় এবং এ অঞ্চলকে মিশরের সাথে যুক্ত করে পরে এটার সাথে সোমালিয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে। দারফুরে (মিশরীয় ও ইংরেজদের) দ্বৈত আক্রমণ হতে থাকে। অতঃপর আহমাদ পরিবারের সদস্য আলি বিন দিনার ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন করে। সুদান সরকার ইংরেজদের অনুগত ছিল। পরে আলি বিন দিনার ও সুদান সরকারের মাঝে যুদ্ধ হয়, এতে সরকার বিজয়ী হলে দারফুরকে দখল করে নেয়。

টিকাঃ
২২. দারফুর: সুদানের একটি অঞ্চল। কয়েকশ বছর ধরে এখানে সুলতানাতের শাসন বিদ্যমান। অঞ্চলটি তিনটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ নিয়ে গঠিত। এই তিনটি প্রদেশ হচ্ছে: পশ্চিম দারফুর, দক্ষিণ দারফুর এবং উত্তর দারফুর এবং এগুলো ট্রানজিশনাল দারফুর রিজিওনাল অথরিটি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ২০০৩ সাল থেকে যুদ্ধের কারণে অঞ্চলটিতে চরম মানবিক বিপর্যয় বিদ্যমান। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 কুরদফান

📄 কুরদফান


ফাতিমি শাসনের অবসান হওয়ার পর মিশর থেকে অনেকে চলে আসে এবং অনেক আরব গোত্র কুর্দফানে হিজরত করে। মুহাম্মাদ আলির পরিবারের শাসনামলে কুর্দফান মিশরীয় শাসনাধীন হয়। সেখানে ইসলামের প্রসারে মিশরীয়দের জন্য বড় ভূমিকা পালন করতে হয়েছিল। সেখানে অনেক দাঈর আগমন ঘটে। তাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন মুহাম্মাদ উসমান আল মিরঘানি। তিনি সেখানকার অনেক মানুষকে সফলভাবে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে পেরেছিলেন। সেখান থেকে মাহদি আন্দোলন শুরু হয়। যা সুদানে প্রবেশ করে কিন্তু ইংরেজরা তা থামিয়ে দেয় এবং মিশরীয় ইংরেজ দ্বৈত শাসনের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়।

টিকাঃ
২০. মধ্য সুদানে অবস্থিত একটি এলাকা। এর আয়তন তিন লক্ষ আশি হাজার বর্গকিলোমিটার। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আল-বাজ্জা

📄 আল-বাজ্জা


এটি পূর্ব সুদানে অবস্থিত। আবদুল্লাহ বিন আবু সারাহ এটা জয়ের জন্য চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু রাস্তার কণ্টকাকীর্ণতা ও পানি সংকট এর বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া এখানকার বাসিন্দারা কর প্রদানেও সম্মত হয়ে যায়। তবে আব্বাসি শাসনামলে মুসলমানদের সাথে করা চুক্তি ভেঙে দিয়েছিল, ফলে মুসলমানদের সাথে তাদের যুদ্ধ বেধে যায়। প্রত্যেকবারই মুসলমানরা বিজয় লাভ করে এবং বাজ্জা অধিবাসীদের থেকে বশ্যতার স্বীকারোক্তিমূলক চুক্তি সম্পাদন করে। কিন্তু এ সম্প্রদায় বারবার বিদ্রোহ করে এবং মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করে। আরব গোত্রগুলো বাজ্জাতে হিজরত করে জনগণের সাথে মিশে যায় এবং তথায় প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। বাজ্জা ছিল ফুনজ রাজ্যের অধীনে। যা মাগরা ও আলওয়াজুড়ে বিদ্যমান ছিল। মুহাম্মাদ আলি পরিবারের শাসনামলে এগুলো মিশরের সাথে যুক্ত হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ফুনজ রাজ্য

📄 ফুনজ রাজ্য


নীলাভ নীলনদ (২৪) শ্বেত নীলনদের সাথে মিলিত হওয়ার আগে দক্ষিণ নুবিয়া রাজ্যের সীমান্তে মাগরা ও আলওয়া নামে দুটি খ্রিষ্টান রাজ্য ছিল। যখন মিশরে ইসলামের আগমন ঘটে তখন ওই রাজ্যদ্বয় এবং মুসলমানদের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। তারপর একটি শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আলবাকত চুক্তি নামে পরিচিত। এতে উত্তর ও দক্ষিণ উপত্যকার মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিময়-সমঝোতা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মাগরা রাজ্য মামলুক শাসনকালে চুক্তি ভঙ্গ করে মামলুকদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদের সাহায্য গ্রহণ করে। জাহের বাইবার্স বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে অভিযান চালায়, সেখানে মামলুক রাজা নির্ধারণ করা হয়। এখানে অনেক আরব গোত্র হিজরত করে এবং দেশের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা ব্যবহার করে ইসলাম প্রচার করতে থাকে। ফলে আরব গোত্রের হাতে ক্ষমতা আসে।

অনেক মুসলিম এবং আরব আলওয়ায় হিজরত করার পরও মুসলমানদের হাতে নিয়ন্ত্রণ আসতে অনেক সময় লেগেছে। অতঃপর আবির্ভাব ঘটে ফুনজের, যারা উমাইয়া বংশোদ্ভূত ফুনজ গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত এবং আবদালাতের, যারা কাসিম বংশোদ্ভূত আবদুল্লাহ জেমার সাথে সাথে সম্পৃক্ত। তারা এটাকে বৃহৎ কেন্দ্রীয় ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, যা ফুনজ রাজ্য নামে পরিচিত। ফুনজরা আবাদালাতকে মাগরা অঞ্চলে শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করে, আর ফুনজ রাজত্ব করে আলওয়া অঞ্চলে। ফুনজ রাজ্য প্রশস্ত করতে থাকে এবং এতে বাজ্জা ও কুর্দফানের অধিকাংশ ভূমি শামিল করতে সক্ষম হয়। হাবশি খ্রিষ্টান ও তাদের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফুনজ বিজয় লাভ করে। আর ফুনজ রাজ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়, যা পরে মুহাম্মাদ আলির পরিবারের শাসনকালে মিশরের সাথে যুক্ত হয়েছিল। অতঃপর ইংরেজরা এসে সব দখল করে নেয়।

টিকাঃ
২৪. নীলনদ: আফ্রিকা মহাদেশের দীর্ঘতম নদ। বিশ্বের দীর্ঘতম নদও বলা হয় একে। যদিও ব্রাজিল দীর্ঘতম হিসেবে অ্যামাজন নদীকে দাবি করে। নীলনদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৬৫০ কি. মি.। আফ্রিকায় মোট এগারোটি দেশ তথা তানজানিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, কঙ্গো, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও মিশরে প্রবাহিত হচ্ছে নীলনদের পানি। তবে বিশাল মরুভূমি অঞ্চল সুদান ও মিশরের পানির মূল উৎস এই নদ বিধায় এ দুটি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে নীলনদের নাম অধিক উচ্চারিত হয়। নীলনদের দুটি উপনদ রয়েছে: শ্বেত নীলনদ ও নীলাভ নীলনদ। শ্বেত নীলনদ দীর্ঘতম। এর উৎপত্তি আফ্রিকার মধ্যভাগের হ্রদ অঞ্চল থেকে এবং নীলাভ নীলনদের উৎপত্তি টানা হ্রদ থেকে যা ইথিওপিয়ায় অবস্থিত। সুদানের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে শ্বেত নীলনদ এবং পূর্বাঞ্চল দিয়ে নীলাভ নীলনদ প্রবাহিত হয়ে সুদানের রাজধানী খার্তুমে এসে মিলিত হয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চল দিয়ে মিশরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। মিশরের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে নীলনদ দেশটির উত্তরাঞ্চলে নদী মোহনায় বিশাল ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে। নীলনদের সম্পূর্ণ প্রবাহ মানচিত্র লিংক: https://bit.ly/3kgnTkC -সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00