📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 হাউসা রাজ্য

📄 হাউসা রাজ্য


হাউসা অঞ্চলটি বর্তমানে উত্তর নাইজেরিয়ায় অবস্থিত। এখানে অনেক পৌত্তলিক রাজ্য ছিল। এখানকার কানু রাজ্যের রাজা প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেন। এখানে মুসলমান আলেমগণ এলে তারা রাজা উসমানের কাছে ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তার রাজ্যে ইসলামের প্রসারে কাজ করেন। কানুর রাজাদের মধ্যে যিনি ইসলামের প্রসার বৃদ্ধি করেছিলেন তাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন রাজা উমর।

হাউসা রাজ্যে ইসলামের প্রসার শুরু হয়। পশ্চিম অঞ্চলে মানডানজো সম্প্রদায় দাওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে অবদান রাখে। আর মিশর ও সুদানের দাঈগণ রাজ্যের পূর্ব দিকে এবং মধ্যাঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। ফুলানিরাও এ অঞ্চলগুলোতে ইসলামের প্রসারে অবদান রাখেন।

হাউসা ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত থাকলেও এক রাজ্য অন্য রাজ্যের ওপর কর্তৃত্ব করার ফলস্বরূপ একসময় তা ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে। হাউসা কখনো কখনো তাদের প্রতিবেশি রাজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। সেগুলোর মধ্যে ছিল কুবা, কাতসিনা, জানফারা ও জুবার রাজ্য।

হাউসা রাজ্যে ইসলামের প্রসারে যারা কাজ করেছেন, তাদের অন্যতম হলেন, উসমান দান ফিদো(২১), যিনি জুবারের পৌত্তলিক শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সংকল্প করেছিলেন। জুবারের রাজা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিল। দান ফিদো পৌত্তলিক শাসকের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে সক্ষম হন এবং জুবারের বিস্তৃত রাজ্যকে নিজের কর্তৃত্বে নিয়ে আসেন। তিনি সেখানে ইসলামকে প্রসারিত করেন এবং একত্ববাদকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হাউসা রাজ্যের পৌত্তলিকতার কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে শুরু করেন। দান ফিদো একটি বিশাল রাজ্য গঠন করেন এবং এর সাথে কয়েকটি ইসলামি রাজ্যকেও অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হন। তার পুত্র ও ভাই রাজ্যকে বিভক্ত করার আগ পর্যন্ত তার রাজ্য কখনো দুর্বল হয়নি। দান ফিদো দাওয়াতি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে সেখানে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকরা আসে এবং তা দখল করে নেয়।

টিকাঃ
২১. উসমান দান ফিদো। তিনি ছিলেন মালেকি মাজহাবের একজন আলেম এবং সেনাপতি। তার জন্ম ১৭৫৪ সালে, মৃত্যু ১৮১৭ সালে। তিনি সকোতো সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার উপাধি ছিল আমিরুল মুমিনিন। -সম্পাদক

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 বরনু-কানিম

📄 বরনু-কানিম


বরনু হাউসা রাজ্যের পূর্ব দিকে অবস্থিত। বর্তমানে এটি নাইজেরিয়া সীমান্তকে সংযুক্ত করেছে। কানিম হলো বরনুর পূর্ব দিকে চাদ হ্রদের তীরে অবস্থিত এবং এটি চাদের সাথে সংযুক্ত। বরনু ও কানিমির ইতিহাস পরস্পর সংযুক্ত। কারণ, তারা উভয়েই বেশিরভাগ সময় একই শাসকের অধীনে শাসিত হয়েছিল।

কানিম রাজ্যে যে রাজা প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তিনি হলেন হুমিয়া জাইলামা। তাকে মুহাম্মাদ নামে ডাকা হতো। কানিমে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। এটি একটি শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়, যেটি বরনু ও অন্যান্য রাজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। একসময় এটি নীলনদ ও নাইজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজ্যে পরিণত হয়। অতঃপর কানিম রাজ্য দুর্বল হওয়া শুরু করে এবং রাজ্যের অভ্যন্তর সংঘাতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এতে বুলালা সম্প্রদায় রাজ্যটি দখল করে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং তারা রাজধানীতে প্রবেশ করে। কানিমের শাসকরা বরনুতে পালিয়ে যায় এবং হারানো কানিম রাজ্যকে পুনরায় হস্তগত করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে।

রাজা ইদরিস কানিম পুনর্দখল করতে সক্ষম হন এবং তিনি বুলালাদেরকে তাড়িয়ে দেন। তিনি তার রাজ্যের সীমা বৃদ্ধি করতে শুরু করেন এবং ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য কাজ করতে থাকেন। তার শাসনামলে দলে দলে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল। তার মৃত্যুর পর অনেক রাজা রাজ্য শাসন করেছিলেন। তাদের মধ্যে রাজা আলি বিন উমর প্রসিদ্ধ। অতঃপর রাজারা দুর্বল হতে থাকে এবং তাদের কারণে রাজ্যও দুর্বল হতে থাকে। একসময় রাজ্যটি সংকুচিত হয়ে পড়ে।

উসমান দান ফিদো এসে বরনুকে একত্র করেন। অতঃপর আমির মুহাম্মাদ আমিন কানিমির আবির্ভাব হয় এবং তিনি রাজ্যটি স্বাধীন করতে সক্ষম হন। তিনি রাজা ইদরিসের আমলে অধিকৃত ভূমিগুলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন এবং তা ইদরিসের আমলের সমান হয়ে যায়। কানিমি বংশের অনেক রাজা এরপর শাসন করেছিলেন। একসময় রাজ্যটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন রাবাহ জুবাইরি সুদানি আসেন এবং দেশটিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। বলা বাহুল্য, রাবাহ ছিলেন জুবাইরের সেনাধ্যক্ষদের একজন, যিনি মিশরীয় শাসনের অধীনে সুদান বিজয়ের জন্য প্রসিদ্ধ।

রাবাহ সুদান থেকে পশ্চিম দিকে যাত্রা করে বাগরিমি, কানিম ও বরনু সাম্রাজ্য বিজয় করেন এবং কানিম পরিবারের দেশ পরিচালনার ইতি টানেন। রাবেহ দেশ শাসন করতে থাকেন। অতঃপর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকরা আসে। বরনুদের সাথে উসমানিদের যোগাযোগ ছিল। তারা তাদেরকে আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা সাহায্য করত, যা তাদের দেশ গঠনে বিশাল অবদান রাখে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 বাগরিমি

📄 বাগরিমি


বাগরিমি কানিমের দক্ষিণ দিকে বর্তমানে মধ্য আফ্রিকার চাদ প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত। এটি ছিল একটি পৌত্তলিক রাজ্য। ব্যবসা ও দাওয়াতের মাধ্যমে সেখানে ইসলাম পৌঁছেছে। পৌত্তলিক রাজা মালোর আমলে সেখানে ইসলাম বিস্তার লাভ করে। তার ভাই আবদুল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। আবদুল্লাহ বাগরিমি অধিকার করতে সক্ষম হন। তিনি ইসলামের প্রচার ও প্রসারে কাজ শুরু করেছিলেন এবং আশপাশের অনেক অঞ্চলকে তার রাজ্যের সাথে সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাগরিমি রাজ্য বরনুর রাজা ইদরিসকে জিজিয়া দিত। রাজা ইদরিসের মৃত্যুর পর বাগরিমি রাজ্য জিজিয়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। রাজা আবদুর রহমান জাওরানজের আমলে বাগরিমি দুর্বল হয়ে পড়ে। ওয়াদাইয়ের রাজা আবদুল করিম সাবুন সুযোগ পেয়ে বাগরিমি দখল করে নেন। অতঃপর ওয়াদাই রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বাগরিমি রাজ্য তাদের থেকে স্বাধীন হতে সক্ষম হয়। এরপর রাবাহ জুবাইরি বাগরিমিকে তার নিজ রাজ্যের সাথে সংযুক্ত করে নেন। বাগরিমির রাজা ফরাসিদের সাথে রাবাহ জুবাইরির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। রাবাহ পরাজিত হয় এবং ফরাসিরা বাগরিমিকে দখল করে নেয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ওয়াদাই

📄 ওয়াদাই


ওয়াদাই বাগরিমির পূর্ব দিকে অবস্থিত। এটি বর্তমানে চাদ প্রজাতন্ত্রের একটি অংশ। জাগাওয়া নামে এক মুসলিম গোত্র ওয়াদাইতে আসে। অতঃপর তানজুর ও অদাই গোত্র দখল করে। তারাও নুবিয়ান মুসলিম কিন্তু তারা ইসলাম প্রচারে যত্নবান ছিল না। অতঃপর আবদুল কারিম সালিহ আবির্ভূত হলেন তিনি ইসলাম প্রসারে কর্মসূচি গ্রহণপূর্বক চারপাশের সৈন্যদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে তানজুরের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন। পূর্বের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন আবদুল কারিম সাবুন, তিনি বাগ্রিমিকে যুক্ত করেছিলেন। অতঃপর বাগ্রিমি ওয়াদাই থেকে স্বাধীন হয়েছিল। রাবাহ জুবাইর ক্ষমতায় আসার পর আবার বাগ্রিমিকে ওয়াদাইয়ের সাথে যুক্ত করা হলো। কিন্তু ফরাসিরা রাবাহকে পরাজিত করতে সক্ষম হয় এবং পরে ফরাসিরাই দখলদার হয়ে পড়ে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00