📄 মালি রাজ্য
ঘানা থেকে ভেঙে মালি প্রতিষ্ঠিত হয়। ঘানা ছিল পৌত্তলিক রাজ্য। সেখানে ইসলামের আগমন ঘটে উত্তর দিক থেকে এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানরা পৌঁছে যায় সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে, যেখানকার পৌত্তলিক রাজারা তাদেরকে উপদেষ্টা এবং প্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে। অতঃপর পশ্চিম দিক থেকে সেখানে মুজাহিদরা আসেন, এ দেশকে বিজয় করেন এবং বড় আকারে ইসলামের প্রসার ঘটান। এরপর শুরু হয় মুজাহিদদের দেশ দখল করা; যে কারণে অধিকাংশ গোত্র স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুরু করে। এতে ঘানার ভূতপূর্ব রাজারা পুনরায় শাসন ক্ষমতায় ফিরতে সক্ষম হয়। কিন্তু এবারে ইসলাম দেশকে নেতৃত্ব দেয় এবং অধিকাংশ রাজা মুসলমান হয়ে যান। এরপর শুরু হয় নওমুসলমান মানডিংগো সম্প্রদায়ের প্রভাব, যা ঘানার সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। এমনকি তারা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং মালি রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা সানডিয়ানার আমলে সম্প্রসারিত হওয়া শুরু হয়। তিনি তার রাজ্যকে উত্তরে সাহারা মরুভূমি এবং দক্ষিণে আটলান্টিক মহাসাগর, পূর্বে নাইজেরিয়ার উত্তর অংশ থেকে পশ্চিমে এটলাস পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত করতে সক্ষম হন। রাজা সানডিয়ানা হজ পালন করেন এবং তার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ইসলাম প্রচারে কাজ শুরু করেন।
রাজা সানডিয়ানার পর তার পুত্র মানসা মুসা(১৯) মসনদে বসেন, যিনি তার পিতার মতো রাজ্য সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখেন। তিনি নাইজার নদীর তীরে এবং পশ্চিমে টকুলার রাজ্যের পাশে অবস্থিত মুসলিম সানগাই রাজ্যকে নিজ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি ইসলাম প্রচারের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখেন। তার সময়ে ইসলাম নাইজেরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। মালি খনিজসম্পদের কারণে ধনী রাষ্ট্র ছিল। যেমন স্বর্ণ, যার মজুদ ছিল রাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লবণের ব্যাপকতা ছিল উত্তরাঞ্চলে। মানসা মুসার ভাই সুলাইমান মুসা মারা যাওয়ার পর রাজ্যটি দুর্বল হয়ে পড়ে। রাজ্যটির ভাঙন শুরু হয়, বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং এর অধিকাংশ অঞ্চল স্বাধীন হয়ে যায়। রাজ্যটি এতই সংকুচিত হয়ে যায় যে মালির উৎপত্তিস্থল নাজাবা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। ইউরোপীয় উপনিবেশিকরা পরবর্তী সময়ে এটিও দখল করে নেয়।
টিকাঃ
১৯. মানসা মুসা। তিনি ছিলেন বর্তমান মালির শাসক। মানসা মুসাকে বলা হয় সর্বকালের ধনীদের একজন। ২০১৫ সালে টাইম ম্যাগাজিন ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ১০ জনের তালিকা করে। এতে সর্বকালের সেরা ধনী বলা হয় মানসা মুসাকে। ১৩০৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ক্ষমতায় বসেন। আল্লামা মাকরিজির বর্ণনামতে, মানসা মুসা হজ করেন ৬২৪ হিজরিতে। তার এই হজের সফরই ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে। সফরের শুরুতেই তিনি পৌঁছেন মিশরে। সেখানে তখন আল-মালিকুন নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের শাসন চলছিল। মানসা মুসার আগমনের সংবাদ শুনে সুলতান তাকে অভ্যর্থনা জানান। সুলতান তার নিজের কেল্লায় মানসা মুসাকে অবস্থান করার অনুরোধ করেন। প্রথম যেদিন মানসা মুসা সুলতানের দরবারে উপস্থিত হন তাঁকে বলা হয় দরবারের রীতি মেনে সুলতানের সামনে মাটি চুম্বন করতে। তখন মানসা মুসা বলেন, 'আমি শুধু আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সামনেই মাথা নিচু করি।' সুলতান এ কথায় প্রভাবিত হন। তিনি মানসা মুসাকে খুব সম্মানের সাথে রাখেন। তাকে অনেক উপহার দেন। মানসা মুসার বিশাল কাফেলার আগমনে মিশরের অর্থনীতিও প্রভাবিত হয়। একদিকে তাঁর স্বর্ণ বিতরণের কারণে সোনার দাম কমে যাচ্ছিল, আবার তার কাফেলার কাছে জিনিসপত্র বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা খুব লাভবান হচ্ছিল। এ সময় সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা বেশ মুনাফা লুটে নেয়। তারা এক দিনার মূল্যের কাপড় ৪৬ দিনারে বিক্রি করতে থাকে। এরপর মানসা মুসা পৌঁছলেন মক্কায়। সেখানেও তিনি প্রচুর দান করেন। তবে মক্কার আবহাওয়া তার কাফেলার সদস্যদের জন্য সহনীয় হয়নি। তার কাফেলার এক-তৃতীয়াংশ সদস্যই এই সফরে মারা যায়। মানসা মুসা ছিলেন প্রজাবান্ধব শাসক। সাম্রাজ্যের উন্নতিতে তিনি প্রচুর কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন। হজের সফর থেকে ফেরার সময় তিনি আন্দালুসের কবি আবু ইসহাক ইবরাহিম সাহেলিকে সাথে নিয়ে আসেন। তিনি নিজের রাজ্যে প্রচুর মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণ করেন। থিমবুকতু শহরেও একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে তা মাদরাসায় রূপান্তরিত হয়। তারও পরে এটি ইউনিভার্সিটি অব শাংকোর নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। বর্তমানে এর কার্যক্রম খুবই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। আটলান্টিকের তীর থেকে তিম্বাকতু পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মাইল এলাকায় মানসা মুসা রাজত্ব করেছিলেন। সুদানের অমুসলিম গোত্রগুলোর সাথে বারবার তাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে। শত্রুপক্ষের সেনারা বন্দি হলে তাদের পাঠানো হতো স্বর্ণের খনিতে। শ্রমিক হিসেবে। ২৫ বছরের শাসন শেষে ১৩৩৭ খ্রিষ্টাব্দে মানসা মুসা মারা যান। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আযযাহাবুল মাসবুক ফি যিকরি মান হাজ্জা মিনাল খুলাফায়ি ওয়ালমুলুক, পৃ-১৪০, আল্লামা মাকরিজি। মাসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার, ৪/৫৮, শিহাবুদ্দিন উমারি। আদ-দুরারুল কামিনাহ, ৪/৩৮৩, ইবনু হাজার আসকালানি। The Encyclopaedia Of Islam, part-6, page-422 (E J Brill, 1991) - সম্পাদক
📄 সানগাই রাজ্য
এটি ছিল একটি পৌত্তলিক রাজ্য। এর একজন রাজা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এটিকে ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করেন। এই রাজ্যের সাথে কানজাবা রাজ্যের প্রায়ই যুদ্ধ হতো, যেটি শাসন করত মানডানজো সম্প্রদায়, যারা পরবর্তী সময়ে মালি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। শুরুর দিকে সানগাই রাজ্যের প্রাধান্য ছিল। পরবর্তী সময়ে মালি রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর পূর্ববর্তী পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়। সে সানগাইকে নিজেদের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে সানগাই রাজার দুই পুত্রকে বন্দি করে। অতঃপর মালি রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সানগাই রাজার দুই পুত্র পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তারা সানগাইতে ফিরে আসে। সানগাইয়ের যুবকেরা তাদের নিকট জড়ো হয় এবং মালির সাথে যুদ্ধ শুরু করে। তারা তাদের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হতে সক্ষম হয়, এমনকি মালির বিশাল অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সানগাই রাজ্য প্রসারিত হয়েছিল, এটি নাইজার নদীর চারদিকের সকল ভূমি নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। তারা মাওশা জানজিয়া রাজ্যকে নিজেদের সাথে যুক্ত করে এবং উত্তর নাইজেরিয়া, মানডানজো, ফুলানি, উত্তর দিকে তুওয়ারেখ রাজ্যের কিছু অংশেও প্রবেশ করে। সানগাই রাজ্যটি আসকিয়া মুহাম্মাদের আমলে সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়েছিল। সানগাই রাজ্য সে সময়ে পশ্চিমে মানডানজো এবং ফুলানি থেকে পূর্বে আগাদিস এবং হাউসা রাজ্যের সীমান্ত পর্যন্ত এবং দক্ষিণে মাওশা রাজ্য থেকে উত্তরে কাআজা রাজ্য পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
সানগাই রাজ্যে একের পর এক অনেক রাজা শাসন করেছিলেন। রাজা আসকিয়া নুহ মারাকেশের সাথে যুদ্ধ করার সময় নিহত হন এবং সানগাই সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে। পশ্চিম মারাকেশিরা এর কর্তৃত্ব পায় এবং তাদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সেখানে তারা একটি রাষ্ট্র গঠন করে, যার রাজধানী ছিল তিম্বুকতু(২০)। পরবর্তী সময়ে রাজ্যটি ইউরোপীয় উপনিবেশিক শাসকদের দ্বারা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
টিকাঃ
২০. তিম্বুকতু হলো পশ্চিম আফ্রিকার মালির উত্তর অংশে অবস্থিত একটি বিস্ময়কর শহর। ফরাসি ভাষায় এটি তোম্বৌকৃত নামে অভিহিত। অরফিক আফ্রিকান শহরটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এটি ধারণা করা হয় যে, দ্বাদশ শতকে তুয়ারেগ যাযাবররা এই শহরটির প্রতিষ্ঠা করেন, পরবর্তীকালে এটি লবণ, পরিবহন ও সাহারার স্বর্ণ বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছিল। এখানে প্রচুর মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণ করা হয়েছিল। -সম্পাদক
📄 হাউসা রাজ্য
হাউসা অঞ্চলটি বর্তমানে উত্তর নাইজেরিয়ায় অবস্থিত। এখানে অনেক পৌত্তলিক রাজ্য ছিল। এখানকার কানু রাজ্যের রাজা প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেন। এখানে মুসলমান আলেমগণ এলে তারা রাজা উসমানের কাছে ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তার রাজ্যে ইসলামের প্রসারে কাজ করেন। কানুর রাজাদের মধ্যে যিনি ইসলামের প্রসার বৃদ্ধি করেছিলেন তাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন রাজা উমর।
হাউসা রাজ্যে ইসলামের প্রসার শুরু হয়। পশ্চিম অঞ্চলে মানডানজো সম্প্রদায় দাওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে অবদান রাখে। আর মিশর ও সুদানের দাঈগণ রাজ্যের পূর্ব দিকে এবং মধ্যাঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। ফুলানিরাও এ অঞ্চলগুলোতে ইসলামের প্রসারে অবদান রাখেন।
হাউসা ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত থাকলেও এক রাজ্য অন্য রাজ্যের ওপর কর্তৃত্ব করার ফলস্বরূপ একসময় তা ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে। হাউসা কখনো কখনো তাদের প্রতিবেশি রাজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। সেগুলোর মধ্যে ছিল কুবা, কাতসিনা, জানফারা ও জুবার রাজ্য।
হাউসা রাজ্যে ইসলামের প্রসারে যারা কাজ করেছেন, তাদের অন্যতম হলেন, উসমান দান ফিদো(২১), যিনি জুবারের পৌত্তলিক শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সংকল্প করেছিলেন। জুবারের রাজা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিল। দান ফিদো পৌত্তলিক শাসকের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে সক্ষম হন এবং জুবারের বিস্তৃত রাজ্যকে নিজের কর্তৃত্বে নিয়ে আসেন। তিনি সেখানে ইসলামকে প্রসারিত করেন এবং একত্ববাদকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হাউসা রাজ্যের পৌত্তলিকতার কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে শুরু করেন। দান ফিদো একটি বিশাল রাজ্য গঠন করেন এবং এর সাথে কয়েকটি ইসলামি রাজ্যকেও অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হন। তার পুত্র ও ভাই রাজ্যকে বিভক্ত করার আগ পর্যন্ত তার রাজ্য কখনো দুর্বল হয়নি। দান ফিদো দাওয়াতি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে সেখানে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকরা আসে এবং তা দখল করে নেয়।
টিকাঃ
২১. উসমান দান ফিদো। তিনি ছিলেন মালেকি মাজহাবের একজন আলেম এবং সেনাপতি। তার জন্ম ১৭৫৪ সালে, মৃত্যু ১৮১৭ সালে। তিনি সকোতো সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার উপাধি ছিল আমিরুল মুমিনিন। -সম্পাদক
📄 বরনু-কানিম
বরনু হাউসা রাজ্যের পূর্ব দিকে অবস্থিত। বর্তমানে এটি নাইজেরিয়া সীমান্তকে সংযুক্ত করেছে। কানিম হলো বরনুর পূর্ব দিকে চাদ হ্রদের তীরে অবস্থিত এবং এটি চাদের সাথে সংযুক্ত। বরনু ও কানিমির ইতিহাস পরস্পর সংযুক্ত। কারণ, তারা উভয়েই বেশিরভাগ সময় একই শাসকের অধীনে শাসিত হয়েছিল।
কানিম রাজ্যে যে রাজা প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তিনি হলেন হুমিয়া জাইলামা। তাকে মুহাম্মাদ নামে ডাকা হতো। কানিমে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। এটি একটি শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়, যেটি বরনু ও অন্যান্য রাজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। একসময় এটি নীলনদ ও নাইজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজ্যে পরিণত হয়। অতঃপর কানিম রাজ্য দুর্বল হওয়া শুরু করে এবং রাজ্যের অভ্যন্তর সংঘাতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এতে বুলালা সম্প্রদায় রাজ্যটি দখল করে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং তারা রাজধানীতে প্রবেশ করে। কানিমের শাসকরা বরনুতে পালিয়ে যায় এবং হারানো কানিম রাজ্যকে পুনরায় হস্তগত করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে।
রাজা ইদরিস কানিম পুনর্দখল করতে সক্ষম হন এবং তিনি বুলালাদেরকে তাড়িয়ে দেন। তিনি তার রাজ্যের সীমা বৃদ্ধি করতে শুরু করেন এবং ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য কাজ করতে থাকেন। তার শাসনামলে দলে দলে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল। তার মৃত্যুর পর অনেক রাজা রাজ্য শাসন করেছিলেন। তাদের মধ্যে রাজা আলি বিন উমর প্রসিদ্ধ। অতঃপর রাজারা দুর্বল হতে থাকে এবং তাদের কারণে রাজ্যও দুর্বল হতে থাকে। একসময় রাজ্যটি সংকুচিত হয়ে পড়ে।
উসমান দান ফিদো এসে বরনুকে একত্র করেন। অতঃপর আমির মুহাম্মাদ আমিন কানিমির আবির্ভাব হয় এবং তিনি রাজ্যটি স্বাধীন করতে সক্ষম হন। তিনি রাজা ইদরিসের আমলে অধিকৃত ভূমিগুলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন এবং তা ইদরিসের আমলের সমান হয়ে যায়। কানিমি বংশের অনেক রাজা এরপর শাসন করেছিলেন। একসময় রাজ্যটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন রাবাহ জুবাইরি সুদানি আসেন এবং দেশটিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। বলা বাহুল্য, রাবাহ ছিলেন জুবাইরের সেনাধ্যক্ষদের একজন, যিনি মিশরীয় শাসনের অধীনে সুদান বিজয়ের জন্য প্রসিদ্ধ।
রাবাহ সুদান থেকে পশ্চিম দিকে যাত্রা করে বাগরিমি, কানিম ও বরনু সাম্রাজ্য বিজয় করেন এবং কানিম পরিবারের দেশ পরিচালনার ইতি টানেন। রাবেহ দেশ শাসন করতে থাকেন। অতঃপর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকরা আসে। বরনুদের সাথে উসমানিদের যোগাযোগ ছিল। তারা তাদেরকে আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা সাহায্য করত, যা তাদের দেশ গঠনে বিশাল অবদান রাখে।