📄 অভ্যন্তরীণ অবস্থা
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আহমদ সুকার্নো দেশের রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করে ইসলামি আন্দোলনকে তছনছ করে দেয়। সে কম্যুনিস্টদের প্রতি আসক্ত ছিল। তার সময়ে ইন্দোনেশিয়ার কম্যুনিস্টদের দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পূর্বে ১৩৬৭ হিজরিতে (১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে) গা শিউরে ওঠা ত্রাসের মাধ্যমে জনগণকে আত্মসমর্পণ করার জন্য চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রত্যাশা বিফল করেছেন। মুসলমানরা তাদেরকে দমন করে। কম্যুনিস্ট নেতাদের নাস্তিকতা ও কুফরির কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যাতে উপদেশ গ্রহণকারীর জন্য এটাও উপদেশ হয়। ১৩৮৫ হিজরিতে (১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে) কম্যুনিস্টদের দ্বিতীয় বিপ্লব ঘটে। এতে রাষ্ট্রপতির নিজের সমর্থন ছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনার মাধ্যমে বিপ্লব রোধ করা ও তাদের বিপ্লব থেকে দেশকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়।
সুকার্নো পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। অতঃপর সুহার্তো ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, সে খ্রিষ্টান মিশনের জন্য দরজা খুলে দেয় এবং তাদেরকে ক্ষমতাও দেয়; অথচ ইসলাম প্রচারকদের সে এ সুযোগ দিত না। খ্রিষ্টান মিশনারি, চার্চ ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পাওয়ার জন্য তাদেরকে সম্পদ দিত। এ ক্ষেত্রে ইসলাম প্রচারকদের জন্য সম্পদ বরাদ্দ একেবারেই নগণ্য ছিল। ইসলামের ক্ষেত্রে সুকার্নো ও সুহার্তোর অবস্থান একই। তারা উভয়ই পথভ্রষ্ট অবাঙ্গান জোট থেকে এসেছে। তারা ইসলাম ও হিন্দু ধর্মকে মিশ্রণ করার চেষ্টা করে। মূর্তিপূজারিদের আবাসিক এলাকায় খ্রিষ্টান মিশনারি বেশ সফলতা অর্জন করেছে।