📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার দ্বন্দ্ব

📄 আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার দ্বন্দ্ব


আজারবাইজানের নাগারনো কারাবাখ প্রদেশের কারণে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মাঝে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়েছিল। কারণ, সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা ছিল আর্মেনিয়ান, তারা দাবি করে যে, এর অধিকাংশ ভূমি আরমেনিয়ার সাথে সংযুক্ত। সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষদিকে দুই রাজ্যের মধ্যে প্রচুর সংঘর্ষ হয়। এ সুযোগে আর্মেনিয়ায় রাশিয়ানদের আগমন ঘটে। প্রজাতন্ত্রদুটি স্বাধীন হওয়ার পর তাদের মাঝে সীমানার দৈর্ঘ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ লেগে যায়।

রাশিয়া আর্মেনিয়াকে সহযোগিতা করে। বিশেষ করে আর্মেনিয়ার প্রতি স্থায়ী পক্ষপাতের কারণেই আজারবাইজান রাশিয়ার কমনওয়েলথে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিল। আর্মেনিয়া আজারবাইজানের বিরুদ্ধে বিশাল বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। কারণ, রাশিয়া তাদেরকে আধুনিক অস্ত্র ও অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল এবং তাদের সাথে এ নিয়ে একটি যৌথপ্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আর্মেনিয়নরা নাখচিভান অঞ্চলটি দখল করে নেয়। তারা আজারবাইজানের ১০%-এরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, যে অংশ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

অতঃপর রাশিয়ানদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আজারবাইজান কমনওয়েলথে যোগ দিতে বাধ্য হয়। আর্মেনিয়ানরা রাজনীতিতে পরিচ্ছন্নভাবে নীতিমালা করতে ইচ্ছা করে এবং ওই সমস্ত ভূমি থেকে মুসলমানদের তাড়িয়ে দেয়, যা আজারবাইজান থেকে তারা দখল করেছে।

আর্মেনিয়ানরা আজারবাইজানে কী করছে, বিশ্ব সব দেখেও চুপ করে থাকে। জাতিসংঘ আর্মেনিয়াকে তাদের বাহিনী আজারবাইজান থেকে প্রত্যাহার করার আবেদন জানায়, কিন্তু তারা তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি। রাশিয়া আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় দেশে আরও বেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ পাওয়া এবং আজারবাইজানের পেট্রোলের খনিতে দখলদারি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করে দেয়। তবে উভয় দেশের মধ্যে পরিস্থিতি স্থির থাকা সত্ত্বেও আজারবাইজানে দখল করা অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়ানরা সৈন্য প্রত্যাহার করেনি। এ সমস্ত লক্ষণ দুই দেশের মধ্যে আবারও যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে তোলে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00