📄 আরব
এ অঞ্চলে ইসলাম বিজয়ী বেশে প্রবেশ করেছে। খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর শাসনামলে ২২ হিজরি সনে (৬৪৩ খ্রিষ্টাব্দে) সুরাকা বিন আমর আজারবাইজান জয় করেন এবং আবদুর রহমান বিন রবিয়া দাগিস্তানের ডারবেন্ড দিয়ে প্রবেশ করে জয় পূর্ণ করেন। এভাবে ইসলামি আমলে মুসলিমরা আজারবাইজান ও দাগিস্তান আবাদ করে। অতঃপর সুরাকা বিন আমর তার বিজয়াভিযান ককেশাস পর্যন্ত নিয়ে যান। খলিফা উসমান বিন আফফান রা.-এর আমলে আর্মেনিয়া ও কিরগিজ (জর্জিয়া) বিজিত হয়। অতঃপর আর্মেনিয়ার অধিবাসীরা ইসলাম ত্যাগ করলে হাবিব বিন মাসলামার নেতৃত্বে একদল সেনাবাহিনী এসে তাদের পরাস্ত করে।
এ দেশে মুসলমানদের জন্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল না। সেখানে খাজারদের সাথে অনবরত যুদ্ধ চলছিল। ইতিপূর্বে আমরা আলোচনা করেছি, ইসলাম পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত হয়ে চলছে, কিন্তু মধ্যাঞ্চল তখনও অবশিষ্ট রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্মেনিয়া ও কিরগিজ, যেখানে খ্রিষ্টানরা বসবাস করত। মুসলমানদের আনুগত্য থেকে সরে আসার জন্য রোমানরা তাদেরকে উৎসাহ দেয়। তারা প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র এবং সেনাবাহিনী সরবরাহ করতে থাকে। উমাইয়া ও আব্বাসীয় শাসনামলে ৪৬৫ হিজরি (১০৭৩ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে। পরিশেষে ককেশাসের অধিকাংশ অংশেই সেলজুকরা প্রভাব বিস্তার করে।
📄 মোঙ্গল
ককেশাসের সমস্ত অংশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মোঙ্গলীয় শাসন। যা ছিল জোচি বিন চেঙ্গিস খান পরিবারের অধীনে। মোঙ্গলরা ইসলামে প্রবেশ করলেও তারা ছিল এ বিষয়ে আনাড়ি। এজন্য তারা ককেশাসে ইসলাম প্রচারের জন্য কোনো কাজ করেনি। তারা ককেশাস সীমান্তে ইলখানি রাজ্যের সাথে যুদ্ধ করে অনেকাংশই ককেশাসের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়।
📄 অটোমান ও পারস্য
উসমানিরা ককেশাস ও ক্রিমিয়ার ওপর তাদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছিল; বিশেষ করে যখন রাশিয়ান হুমকি তীব্রতর হয় এবং তাতার রাজ্য মুসলমানদেরকে গ্রাস করে তখন উসমানিরা তাদেরকে থামিয়ে দেয়। এদিকে তারা পারস্যের সাথে ককেশাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল আর সাফাভিরা ককেশাসের অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে ফেলেছিল। অতঃপর উসমানিরা সাফাভিদের দখল করা অংশ উদ্ধার করে। সাফাভি শিয়া সম্প্রদায়গুলো কখনো কখনো শিয়া মতবাদ গ্রহণের জন্য জনগণকে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে তারা আজারবাইজানের লোকদেরকে বাধ্য করতে সক্ষম হয়েছিল। অতঃপর উসমানিরা তাদের সাম্রাজ্য থেকে শিয়া মতবাদের উত্থান বন্ধ করে দেয়।
সেখানে এমন কিছু গোত্র ছিল, যারা সার্কাসিয়ান ও অন্যান্য গোত্রের মতো তখনও ইসলামে প্রবেশ করেনি। উসমানি যুগে ককেশাসের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। অতঃপর কুবার্দি, আদিগে, আবখাজ এবং অস্ট্রিন, চেচনিয়ান, ইঙ্গুশগোত্রীয় লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে। আর্মেনিয়ার অধিকাংশ লোক খ্রিষ্টান ছিল। আর ককেশাসের মুসলমানদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল সুন্নি। উসমানিরা তাদের কাছে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছিল। এতে ককেশাসবাসী উসমানিদের প্রতি নমনীয় হয়। তারা উসমানিদেরকে তারা রাশিয়ার খ্রিষ্টান ও পারস্যের শিয়াদের ওপর প্রাধান্য দেয়।
পারসিয়ানরা তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করে। নিজেদের রাজ্য মনে করে তারা ককেশাসের অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে নেয়। একপর্যায়ে উসমানিরা তাদের থেকে তা দখল করে। এ সময়ে রাশিয়ানরা ককেশাসের দিকে নজর দিতে শুরু করে। কারণ, তারা এটাকে তাদের সাথে মিলিয়ে নিতে পারলে পারস্য ও উসমানিদের সামনে এ অঞ্চলটি রুশদের পক্ষে শক্তিশালী একটি দুর্গ হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে যারা তাদের মতাদর্শী ও ধর্মের অনুসারী ছিল এবং যাদেরকে রাশিয়া নিজেদের প্রজা মনে করত তাদেরকে কিরগিজ ও আর্মেনিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। অতঃপর রাশিয়ানরা ককেশাসের মরু অঞ্চলে পৌঁছে তার আশেপাশের এলাকা দখল করে নেয়।
পারসিয়ানরা ককেশাসের অধিকাংশ এলাকা উসমানিদের থেকে উদ্ধার করে। একসময় সাফাভি পারসিকরা দুর্বল হতে শুরু করে। পরে মির মুহাম্মাদ আফগানি সাফাভিদের রাজ্য দখল করতে আরম্ভ করে। রাশিয়ানরা এটাকে সুযোগ মনে করে দাগিস্তান দখল করে নেয়। এ অবস্থা দেখে উসমানিরা দ্রুত আর্মেনিয়া ও জর্জিয়াকে তাদের সাথে সংযুক্ত করে নেয়।
উসমানিরা রাশিয়ার গ্রেট পিটারকে হুমকি দেয় যে, ককেশাসে কোনোপ্রকার আগ্রাসন চালালে তাতে উসমানিদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে। সাফাভিদের শেষ শাসক দ্বিতীয় তাহমাস্প রাশিয়ানদেরকে দাগিস্তান ও শিরভান দিতে বাধ্য হয়। আর উসমানিদের জন্য ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় জর্জিয়া এবং পারস্যের অন্যান্য অংশ। ককেশাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উসমানি, রাশিয়ান ও পারসিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
📄 রাশিয়ান উপনিবেশ
উসমানীয় ও পারসিকদের শক্তি দুর্বল হতে থাকে। ১১৫২ হিজরিতে (১৭৩৯ খ্রিষ্টাব্দে) বেলগ্রেড চুক্তিতে উসমানিরা কাবাদিনো রাজ্যকে স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়। রাশিয়ানরা কাবাদিনো ও ককেশাসের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মিশন সহজ করতে পূর্বোক্ত চুক্তিটি করেছিল। রাশিয়ানরা ককেশাসে হস্তক্ষেপ করে ও তা অধিগ্রহণ করে। পারসিয়ান ও উসমানিদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিটি বিজয়ে ককেশাসে একটি করে নতুন অংশ সংযুক্ত হয়।